সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

সৌদির গ্রান্ড মুফতির ক্ষমতা কতটুকু? কে এই শায়খ আবদুল আজিজ

OURISLAM24.COM
মার্চ ১৩, ২০১৮
news-image

আবদুল্লাহ তামিম

প্রধান মুফতির পদ যেভাবে এলো: সৌদি আরবের প্রধান মুফতির পদটি দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্বধারী। স্বয়ং বাদশাহ উক্ত পদে একজনকে নিয়োগ প্রদান করেন। পদাধিকার বলে প্রধান মুফতি দেশের ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির স্থায়ী সদস্য হন।

প্রধান মুফতি সৌদি আরবের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। তার প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন আইনি ও সামাজিক বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা। সৌদি আরবের আদালত ব্যবস্থা তার এই ফতোয়ার দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।

১৯৫৩ সালে বাদশাহ আব্দুল আজিজ সৌদি আরবের জন্য প্রধান মুফতির পদ সৃষ্টি করেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আশ-শেখ কে এ পদে নিয়োগ দেন। তিনিই প্রথম প্রধান মুফতি।

সাধারণত আশ-শেখ বংশ থেকেই প্রধান মুফতি নির্বাচিত হয়ে থাকে। এ বংশটিতেই মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

তবে ইবনে বায এ বংশের সদস্য না হয়েও প্রধান মুফতি হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে বাদশাহ ফয়সাল প্রধান মুফতির পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং এর পরিবর্তে বিচারপতি মন্ত্রক চালু করেন।

এরপর ১৯৯৩ সালে ইবনে বাযকে প্রধান মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে আবার পদটি চালু হয়।

ইবনে বাযের মৃত্যুর পর বাদশাহ ফাহাদ বর্তমান মুফতি আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শাইখকে নিযুক্ত করেন।

এ পর্যন্ত যারা এ সম্মানিত পদে ছিলেন

মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আশ-শেখঃ ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত। ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত কেউ এ পদে ছিলো না।

আবদুল আজিজ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায: ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯। আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শাইখ ১৯৯৯-চলমান প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শাইখের পরিচয়

‘আবদুল্লাহ্ ‘আযীয ইবনে’ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ‘আবদুল্লাহ আশ-শেখ।
জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৪৩। একজন মুসলিম পণ্ডিত ও ইসলামিক আইন বিশারদ।

বর্তমান সৌদি আরবের প্রধান মুফতি।গ্র্যান্ড মুফতি হিসাবে তিনি ইসলামি গবেষণা এবং ইস্যুতে ফতোয়া জন্য স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রাথমিক জীবন

আবদুল আজিজ আল শেখ সৌদি আরবের আশ-শেখ পরিবারের সদস্য। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে তিনি আবদুল আজিজ ইবনে বাযের নেতৃত্বে রাজা ফাহাদের আদেশে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি নিযুক্ত হন।

এ পর্যন্ত যেসব ঐতিহাসিক ফতোয়া দিয়েছেন তিনি

গ্র্যান্ড মুফতি ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে একটি ফতোয়া জারি করেছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলা ‘বড় অপরাধ’ এবং বোমা হামলাকারিরা ‘ফাঁসির অপরাধী’ যারা তাদের কর্মের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপিত হবে।

শেখ আত্মঘাতী বোমাবাজদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা নিজেদের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তারা নিজেদেরও ধ্বংস করে সামাজকেও ধ্বংস করে।

আগস্ট ২০১৪ এর শেষের দিকে, তিনি ইসলামিক স্টেট অফ (আইএস) ও লেভান্ট ও আল-কায়দার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘চরমপন্থী ও জঙ্গি চিন্তাধারা এবং সন্ত্রাসবাদ যা পৃথিবীতে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তার করে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করে, ইসলামের এরা কোনো অংশ নয়, বরং ইসলামের এক নম্বর শত্রু, এবং মুসলমানরাই তাদের প্রথম শিকার।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, মিনা দুর্যোগ বিপর্যয়ের ১ দিন পর, যে ঘটনায় কমপক্ষে ১,৩৯৯ বিদেশী (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অনুযায়ী) মুসলমান নিহত হওয়ার পর, শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ প্রকাশ্যে বলেন, ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন নায়েফ (যিনি দেশেরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মক্কা নিরাপত্তাপ্রধান), ‘এ ঘটনার জন্য তিনি দায়ী নন’, এবং ‘যেগুলি মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার জন্য আপনি তাদের জন্য দায়ী নন।

ভাগ্য শুধু অনিবার্য।তাঁর কথা অনুযায়ী, সৌদি আরবের জনসাধারণের সম্ভাব্য সমালোচনা থেকে গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ বিন নায়েফকে রক্ষা করেছেন, যা পরবর্তিতে ৮০০ মৃত্যুর চেয়ে কম সংখ্যক মিনা ট্রাজেডি জন্য সরকারি মৃত্যু সংখ্যা নির্ধারণ করার পথ করে দেয়।

আসছে মাহে রমজানুল মোবারক বিশেষ সংখ্যা

জানুয়ারি ২০১৬ এ, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময়, (যেখানে তিনি দৈনন্দিন ধর্মীয় বিষয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ফতোয়া দেন), আইন জারি করেন যে ইসলামে দাবা নিষিদ্ধ ছিল কারণ এটি জুয়া খেলা, যা সময় এবং অর্থের অপচয় এবং যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটির খেলোয়ারদের মধ্যে থাকে ঘৃণা এবং শত্রুতা।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে গ্র্যান্ড মুফতির বলেন, ইরানিরা মুসলমান নয় এবং ‘যাদুকরদের সন্তান’।

বর্তমানে সৌদির প্রধান মুফতি হিসেবে তিনি অনেক সম্মানের মর্য়াদায় সমাসিন রয়েছেন। তার পরামর্শের সৌদি মজলিশে শূরা তাদের কার্য পরিচালনা করে থাকে।

সূত্র: লাইফ অব সৌদি আরাবিয়া, উইকিপিডিয়া

আরও পড়ুন: শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসের বেতন কতো?