সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা চান শীর্ষ ৩ আলেম

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮
news-image

কাউসার লাবীব: বাংলা পৃথিবীর একমাত্র ভাষা যার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে দিতে হয়েছিল বুকের তাজা রক্ত আর কিছু তাজা প্রাণ। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগানে রাজপথ উত্তাল করে আপন  করে নিই আমাদের এই ভাষাকে।

এ ইতিহাস আজ  থেকে প্রায় অর্ধ্বশতাব্দী আগের। কিন্তু তা আজো আমাদের মনে সজীব হয়ে আছে। সেই প্রেরণায় আমরা আবারো প্রাণের ভাষাকে উজ্জ্বল করতে চাই। চাই জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে দেখতে।

এ দাবি আবেগ থেকে নয়, বাঙালির অধিকার থেকেই। কেননা-

‘বাংলাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করা হোক’ এ দাবিতে আজ বাংলাভাষী সবাই এক কাতারে এসে দাড়িয়েছে। এমনকি জাতির কর্ণধার ওলামায়ে কেরামও এ দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে পিছিয়ে নেই।

‘বাংলাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করা হোক’ এ দাবিতে একাত্ততা প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান এবং প্রেক্ষাপট শুধুমাত্র জনসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার দাপ্তরিক ব্যবহার অনেক দেশে বিস্তৃত না হলেও এর ঐতিহাসিক এবং দাপ্তরিক গুরত্ব অনেক।

তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তুতির পাশাপাশি ভাষাটিকে নিরাপত্তা পরিষদের ভাষা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করা উচিৎ।

৭ম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলা ভাষা হিন্দি থেকে অনেক এগিয়ে, কারণ ভারতের ২২টি ভাষা দাপ্তরিক ও হিন্দি কেবলমাত্র তাদেরই একটি, রাষ্ট্রভাষা নয়।

অপরদিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং বিশ্বের মোট ৩টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় পর্তুগিজ ও মালয় ভাষা এগিয়ে থাকলেও এই দুটি ভাষা বাংলার মত কোন মহিমান্বিত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নেই।

তিনি বলেন, আমি আশা করব জাতিসংঘ অচিরেই বাঙালিদের  প্রাণের দাবির প্রতি সচেতন দৃষ্টি দিবে।

এবিষয়ে গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর পিন্সিপাল, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির, মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন,

‘বাংলাকে জাতি সংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার হোক’ এ দাবি আমাদের প্রাণের। নিজের মাতৃভাষার সম্মান আকাশচুম্বি হোক এটা প্রত্যেকটা বাঙালি তাদের অন্তরে পোষণ করে। তবে এ দাবি আদায় করতে হলে আমাদের কিছু উদ্যোগ হাতে নিতে হবে।

জাতিসংঘের ভাষা হিসেবে স্থান পেয়েছে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে চারটি ভাষা এবং ইংরেজি ভাষা রয়েছে আমেরিকা ও ব্রিটেনের জন্য। আর আফ্রিকার অনেক দেশেই দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবি ব্যবহৃত হয়।

এখন এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যদি বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি উত্থাপন করে তবে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এশিয়ার ৫৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন তীব্র করতে হবে।

এছাড়া ২২টি আরব দেশের সমর্থন বাংলাদেশের প্রতি আনাটা কঠিন হবে না কারণ আরবি ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্থান পেয়েছে এবং আরব দেশের সঙ্গে মুসলমান হিসেবে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এখন শুধু দেখার বিষয়, এ বিষযে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ কতটা জোরালো হয় এবং জাতিসংঘের বাকি সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে সমর্থন করে কিনা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলার প্রচলন আছে।

তাই আমরা যদি এশিয়া থেকে ভারতকেও আমাদের এই দাবি আদায়ে সঙ্গে পাই তবে এই প্রস্তাবটি আরও দৃঢ় হবে।

খ্যাতিমান আলেমেদীন, লেখক, গবেষক ও শো্লাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন,

জাতিসংঘের বৈঠকে কথপোকথনের জন্যে এবং সকল আনুষ্ঠানিক নথিপত্র লেখার ক্ষেত্রে কেবল ৬ টি ভাষাই ব্যবহৃত হয়। এই ভাষাগুলো হলো-

আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবি, অক্সফোর্ড বানানে ব্রিটিশ ইংরেজি, ফরাসি, ম্যান্ডারিন (সরলীকৃত চিনা বর্ণমালা), রুশ এবং স্প্যানিশ ভাষা।

ইংরেজি, ফরাসি, রুশ এবং ম্যান্ডারিন ১৯৪৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

নিরাপত্তা পরিষদের ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাকে ওই বছরেরই ২৪ জুন থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ জানুয়ারি নিরাপত্তা পরিষদের ভাষা হিসেবে স্থান পায় রুশ এবং স্প্যানিশ ভাষা।

১৯৭৪ সাল থেকে চিনা ম্যান্ডারিন ভাষাও নিরাপত্তা পরিষদের ভাষা হিসেবে স্বীকৃত হয়।

আরবি ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের ষষ্ঠ দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৮২ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে নিরাপত্তা পরিষদের ভাষা হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে বাঙালি হিসেবে আমাদের দূর্ভাগ্য এখনো আমাদের প্রাণের ভাষাকে আমরা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করতে পারিনি। অথচ বাংলা অন্যান্য ছয়টি ভাষা থেকে মান, ব্যাপ্তি ও প্রভাব কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নেই।

তাই বাংলাকে যদি জাতিসংঘ তাদের দাপ্তরিক ভাষা করে নেয়, তাহলে শুধু বাংলা ভাষাকেই সম্মান দেওয়া হবে না। বরং জাতিসংঘেরও ইনসাফের পরিচয় দেওয়া হবে।

এক আরব যোদ্ধা; ৩ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন যিনি