সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮

‘অামাদের মারছে কেন? শুধু এইটুকু বল- কেন মারা হচ্ছে?’

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮
news-image

আশিকুর রহমান
কবি ও গল্পকার

মৃতপ্রায় শিশুটি বারবার জিজ্ঞেস করছে বাবার কাছে- ‘অামাদের মারছে কেন? শুধু এইটুকু বল- কেন মারা হচ্ছে?’ হলুদ ঠোঁটগুলো কাঁপছিলো। চোখ দিয়ে রক্তের মতো জল ঝরছিলো। তারপর পুরো শরীরে কাঁপুনি এলো। তারপর প্রশ্ন শুধু প্রশ্নই র’য়ে গেলো। বাবা দু’টো চুমু খেলেন কপালে। বুকের সাথে জড়িয়ে গগনবিদারী চিৎকার দিলেন। অাকাশের দিকে মুখ তোলে দু’টো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন- ‘অামরা মুসলমান। এজন্যেই অামাদের নিঃশেষ করে দেয়া হচ্ছে।’

ততক্ষণে শিশুর মায়ের জ্ঞান ফিরে এলে- প্রথমেই জানতে চাইলেন, শিশুর খবর। বাবা কিছু বলছেন না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। শিশুর মা বোঝে নিলেন। স্বচ্ছজল নেমে এলো চোখে। খানিক পরে, তিনিও অাপন শিশুর মতো চোখের পাতাগুলো এক করে নিলেন। বাবার এক উরুতে শিশুর মরদেহ, অন্য উরুতে প্রিয়তমার মসৃণমৃত লাশ। তাজা রক্তস্নাত অবয়ব। পায়ের গোড়ালি দিয়ে তখনো নির্গত হচ্ছে রক্ত। বাবা এখন অার কাঁদছেন না। বাবার চোখ দু’টো খুঁজছে শুধুই অাল্লাহর সাহায্য।

একটু ভাবেন তো! এই দৃশ্যপট বাহ্যত কেমন হতে পারে! বেঁচে থাকার অার কোনো সাধ অাহ্লাদ থাকতে পারে কী! তারা শুধু মুসলমান, এটাই অপরাধ? তারা নিরস্ত্র, এটাই অপরাধ? তারা অপসংস্কৃতিতে অনভ্যস্ত, এটাই অপরাধ? যারা ধর্মের উপরে মানবতাকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন- তাদের কাছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অাছে? নেই। একবার চিন্তা করুন! সিরিয়ার ভগ্নস্তূপ, ধ্বংসস্তূপ, ভয়াবহ বোমাবর্ষণের এই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। নিজেকে তুলনা করে দেখুন।

যদি বাবা হয়ে থাকুন, তবে সেই হতভাগা বাবার স্থানে নিজেকে ভাবুন। যদি মা হয়ে থাকুন, তবে সেই অবলা সদ্যমৃতা মায়ের স্থানে নিজেকে ভাবুন। সর্বোপরি যদি মানুষ হয়ে থাকুন নিজের জায়গা থেকে যেমন করে হোক প্রতিবাদ করুন, প্রার্থনায় রাখুন সেইসব মাজলুম মানুষদের, যাদের দেহ বুলেটের অাঘাতে শতচ্ছিন্ন, শতচ্ছিদ্র। তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, কোনো কারণ ছাড়াই। তাদের অার্তনাদে ভারি হচ্ছে বাতাস, স্তম্ভিত হচ্ছে অাকাশ। তবু্ও নির্বিকার বিশ্ববিবেক!

অামরা নিজের সন্তানদের উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে শুধু বেঁচে থাকবার জন্যে প্রহর গুনে। অামাদের দিন, দ্বিপ্রহর কাটে অানন্দে উৎসবে, অাকাশচুম্বি সাধে, গানের উচ্চসুরে। তারা অর্ধমৃত দেহে পড়ে থাকে ড্রেনে, মেইনহোলে, ধ্বসে পড়া ইমারতের তলায়।

চূড়ান্ত বিপ্লবের অাশায় প্রতিটি নারী-পুরুষের একটাই কথা- ‘অামাদের স্বজাতি কোথায়? তারা কী অামাদেরকে দেখে না? সুখৈশ্বর্য কী জীবনের সব? যদি তাদের উপরেও চড়াও হয়ে এই জালেমরা?’ কী উত্তর অাছে অামার-অাপনার! কী জবাব দেবো অামরা অাল্লাহর কাছে?