সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

‘মুসলিম দেশের শাসক ও একটা শ্রেণি ইসলামি মিডিয়াকে ভয় পায়’

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮
news-image

আলেম ওলামায়ে কেরাম আমাদের সেরতাজ। তারা আমাদের প্রেম বিলান, জ্ঞান বিলান, আমাদের শেখান কল্যাণের বাণী। তাদের সহযোগিতায় দীন চিনি, ধর্ম চিনি, ভুলি হতাশার গ্লানী।তাদের ছোঁয়ায় আমরা পরিচিত হই সিরাতে মুস্তাকিমের সঙ্গে, তাদের দিকনির্দেশনায় আমরা রাঙি আল্লাহর রঙ্গে।

কিছু কিছু ওলামায়ে কেরাম শুধু নিজ দেশ ও দেশের জনগণকে প্রভু প্রেমে রাঙালেও আত্মত্যাগী ওলামায়ে কেরামের একদল পুরো বিশ্বকে রাঙাতে কার্পণ্য কিংবা অলসতার করেননি কিংবা করছেন না।

এই প্রেরণা থেকেই কখনো তারা মাতৃভুমির মায়া ত্যাগ করে ছুটে চলেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ার জলস্রোতে, কখনো আফ্রিকার গহীন অরণ্যে ভালবাসার মিনার গড়তে  কখনো আরবের মরুতে ফুল ফোটাতে, কখনো আমেরিকার উচ্চবিলাসী জীবনে সভ্যতার আলো জ্বালাতে।

আজ আমরা এমন একজন মানুসের সঙ্গে কথা বলবো। তার মনের আকুতি আবেগ আর ভালবাসার কথা জানবো যিনি প্রায় দুই যোগ আগে দীনের আলো বিলাতে নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন ১১.১৮৪ কি.মি দূরে সেই আমেরিকায়।

সেখানে তিনি হেরার আলো ছড়ানোর মাঝে খুঁজে নেন মায়ের ভালবাসা, ইসলামি সভ্যতা বিস্তারের মাঝে নেন বাবার আদর, মানুষকে জান্নাতের পথিক হতে সহযোগিতা করে খুঁজে নেন ভাইয়ের পরশ আর নারীর গায়ে পর্দার আভা দিয়ে খুঁজে নেন বোনের অকৃত্রিম মমতা।

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি শায়খ মাওলানা জামাল  উদ্দীন। যিনি শরিয়াহ বোর্ড অব নিউ ইয়র্কের চেয়ারম্যান, বায়তুল হামদ ইনস্টিটিউট আমেরিকার শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল।

আজ আমরা তার শৈশব থেকে নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার গল্প, তার চিন্তা-চেতনা থেকে নিয়ে শিক্ষা-সংস্কৃতির নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশার  কথাসহ অনেককিছুই তার নিজের মুখ থেকে জেনে আসবো।

কথপোকথনে শায়েখকে সঙ্গ দিয়েছেন আওয়ার ইসলাম প্রতিবেদক কাউসার লাবীব

শায়খ আপনি কেমন আছেন? দীর্ঘদিন ধরে তো আমেরিকায় থাকছেন হঠাৎ বাংলাদেশে এসে আবহাওয়ার সঙ্গে মেলাতে কষ্ট হচ্ছে না?

আমার জন্ম এখানে। এখানে মিশে আছে আমার নাড়ির বন্ধন। আমি বেড়ে উঠেছি এখানেই। তাছাড়া জীবনের সিংহ ভাগ তো আমি দেশেই কাটিয়েছি। তাই প্রিয় মাতৃভূমির আবহাওয়া আমার জন্য কোনোসময়ই প্রতিকূল হয় না।

দেশে বেড়ে ওঠার কথা বলছিলেন।তো এবার আমরা দেশে আপনার বেড়ে ওঠা ও  লেখাপড়ার হাতেখড়ির গল্প শুনতে চাই।

আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয় পাঁচবছর বয়স থেকে। পাঁচবছর বয়সে আমি মক্তবে ভর্তি  হই। এরপর ময়মনসিংহ শামগঞ্জ এক মাদরাসায় হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করি। এরপর ময়মনসিংহ বড় মসজিদ মাদরাসায় হিফজ শোনাই।

হিফজ শেষ করে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কারি যাকারিয়া রহ. এর ছাত্র কারি জকিউদ্দীনের কাছে একবছর কেরাতে সাবআ পড়ি।

এরপর ময়মনসিংহ কালসিন্দুর আইনুল উলুম মাদরাসায় মিযান জামাত থেকে মেশকাত জামাত পর্যন্ত পড়াশোনা করি। আমাদের মজবুত ও কঠিন কিতাবগুলো যেমন- কাফিয়া, শরহে জামি, হেদায়া, বায়জাবি দুইবার করে পড়ানো হয়েছে।

এরপর জামাতে মেশকাত শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য হাটহাজারী মাদরাসায় গিয়ে দাওরায় ভর্তি হই। দাওরার পর সেখানে তাফসিরে দাওরা ও ফুনুনে পড়াশোনা করি।

এভাবে তিন বছর আমি হাটহাজারী মাদরাসায় পড়াশো করি এবং সেখান থেকেই আমার ঊনিশ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের ইতি টানি।

আপনি যেহেতু হাটহাজারি মাদরাসায় পড়েছেন  আর তৎকালীন সময়ে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখের সমাগম ছিল সেখানে। কোনো পীর-বুযুর্গের হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন?

আমি ছাত্র যমানাতেই আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ তানজিমুল আশদাদের লেখক মাওলানা আবুল হাসান রহ. এর খেদমতে ছিলাম।

এরপর আমি মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর কাছে বায়াত গ্রহণ করি এবং তার মৃত্যুর পর আমি তার স্থালাভিষিক্ত মাওলানা আবদুল কাইয়ুম রহ. এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করি।

আপনার পীর সম্পর্কে  যদি কিছু বলতেন!

আমার পীর ও মুর্শেদ মাওলানা আবদুল কাইয়ম রহ. ছিলেন অনন্য একব্যক্তি। তার ইলেমে যেমন গভীরতা ছিল, তেমনি তার  ইমান ও আমলে ছিল পূর্ণতা। তিনি নিজে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যের ওপর নির্ভর করে জীবন চালানোকে তিনি পছন্দ করতেন না।

তার কাছে হাদিসের সনদ নেওয়ার শর্ত ছিল নিজে হালাল উপার্জন করতে হবে। নিজের পায়ে নিজে দাড়ানোর বিষয়ে তিনি আমাদের খুব তাগিদ দিতেন।

এছাড়া তার ইমানি ও আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল প্রখর। একবার আমি তার সঙ্গে হাত মেলানোর পর প্রায় তিনদিন আমার হাত সিরসির করেছিল।

আপনার শিক্ষকজীবন সম্পর্কে কিছু শুনতে চাই!

হাটহাজারি মাদরাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করার পর আমার খেদমত হয় ময়মনসিংহ ঘোষগাও মাদরাসায়। সেখানে মাত্র দুই মাস শিক্ষকতা করার কালসিন্দুর আইনুল উলুম মাদরাসার কর্তৃপক্ষ আমাকে জোর করে এই মাদরাসা থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের মাদরাসায় নিয়ে যায়।

এরপর বালিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা দৌলত আলীর মেয়েকে বিয়ে করার পর তিনি আমাকে তার আরেক জামাতা বর্তমান দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির, মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের মাদরাসা জামিয়া মাদানিয়াতে যাত্রাবাড়ীতে  শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

তখন যাত্রাবাড়ী মাদরাসা এমন ছিল না। কয়েকটা ভাঙ্গা ঘরে মাদরাসা ছিল। আর যেতে হতো কাঁদাপানি পাড় হয়ে। এরপর কোনো এক আরবি শায়েখ মাদরাসার এ অবস্থা দেখে বিশাল অনুদান দেন এবং তখন থেকেই মাদরাসা উন্নত হওয়া শুরু হয়।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান যাত্রাবাড়ী মাদরাসার সঙ্গে ইসলামিয়া মাদরাসারও দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আমাকে সেখান থেকে তার নায়েব হিসেবে  ইসলামিয়া মাদরাসায় পাঠায়।

এরপর ইসলামিয়াতে আমি দুই বছর শিক্ষকতা করার পর আবার যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় ফিরে আসি। এরপর টিকাটুলি ও ওয়ারীতে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর আমেরিকা চলে যাই।

ঠিক কত সালে আমেরিকায় যান এবং কীভাবে? আর এখন সেখানে কী কী খেদমতে আছেন?

আমি ওয়ারী মসজিদে ইমাম থাকাকালীন কাকরাইলে আমেরিকা থেকে একদল প্রতিনিধি আসে। তারা তাদের দেশে মাদরাসা করার জন্য একজন আলেম চায়।

তখন কাকরাইলের মুরব্বিগণ আমার নাম বলেন। কেননা সেই ছাত্রজীবন থেকেই দাওয়াত ও তাবলিগের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। আবার আব্বা মাওলানা ইউসুফ সাহেবের সঙ্গে সময় লাগিয়েছেন। আমি তাবলিগের সঙ্গে তাই যুক্ত ছিলাম নিবিড়ভাবে।

আমেরিকান প্রতিনিধিদল যখন আমাকে তাদের দেশে যেতে বলেন তখন আমি বিপাকে পড়ে যাই, যাবো কি যাবো না? কেননা তাদের দেশের পরিবেশ ইমান আমলের জন্য কতটা উপযোগী হবে তা নিযে আমি চিন্তা ফিকির করতে থাকি।

তারপর মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে ও ইস্তেখারা করে ১৯৯৩ সালে আমেরিকায় যাই।

আমেরিকায় যাওয়ার পর বর্তমান সেদেশের তাবলিগের মার্কায নিউ জার্সির যে মসজিদ সেখানে ইমামের দায়িত্ব পালন করি।

কিন্তু শুধু ইমামতি আমার ভাল লাগলো না। আমি ইচ্ছা করি একটা মাদরাসা করার । মসজিদ কমিটিকে বলি আমার ইচ্ছার কথা। কিন্তু তারা ভাবে আমি মসজিদে যদি মাদরাসা করি তাহলে মসজিদের স্বত্ব দাবি করে বসতে পারি। তাই তারা আমাকে অনুমতি দেয়নি।

তারপর আমি অন্যখানে গিয়ে নিজে মাদরাসা করি। যে মাদরাসায় সেদেশীয় শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্ররা আলেম, মুহাদ্দিস হয়ে বের হওয়ারও শিক্ষা অর্জন করতে পারে।

এখন আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাদরাসায় বালিকা এবং পুরুষের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মেয়েদের হেফজ ও কিতাব বিভাগের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

আমি যখন আমেরিকায় যাই তখন সেখানে ততবেশি মাদরাসা ছিল না। কিন্তু এখন অনেক মাদরাসা শুধু আমাদের শহরেই ১৮টি এবং পুরো দেশে ছয়শোর মতো মাদরাসা রয়েছে। আর এ মাদরাসাগুলো শিক্ষার মানের দিক দিয়ে সেদেশে প্রথম সাড়িতে রয়েছে।

প্রতি বছর মাদরাসাগুলো থেকে আলেম হাফেজ বের হচ্ছে। পুরো দেশে দীনের খেদমত করছে।

এছাড়া আমি বর্তমানে বায়তুল হামদ ইনস্টিটিউ আমেরিকার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস এবং শরিয়াহ বোর্ড অফ নিউ ইয়র্কের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছি।

আমেরিকায় মানুষ কতটা দীনমুখী? ইসলামকে কি সে দেশের সাধারণ জনগণ ভালো চোখে দেখে?

আমেরিকার সাধারণ জনগণ ধর্মকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এমনকি সরকারিভাবেও নিয়ম আছে যেন কোনো ধর্মকে কেউ কূটুক্তি না করে। করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া যায়।

তাদের দেশের টাকার মধ্যে পর্যন্ত লেখা আছ “IN GOD WE TRUST” ( আমরা স্রষ্টায় বিশ্বাসী )

nullRelated image

আমেরিকায় আমরা জুব্বা পাগড়ি পরেই বাইরে বের হই।সবসময় সুন্নতি লেবাসে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তো আমি যখন আমেরিকায় প্রথম যাই তখন দেখতাম সুন্নতি লেবাসধারী মুসলমানদের তারা দেখলে একে অপরকে ইশারা করে দেখাতো ।

তারা পরস্পর বলাবলি করতো আজ আমরা একজন ধর্মপরায়ণ লোক দেখেছি, সুতরাং আমাাদের আজকের দিনটি শুভ।

সাইয়েদ আসআদ মাদানি রহ. একবার বিমানবন্দরে নামাজ পড়তে ছিলেন। তার নামাজের দৃশ্য দেখে মানুষজন শ্রদ্ধাসরূপ তাদের গাড়ি দাড় করিয়ে তাকে দেখতে ছিলেন।

তারা ব্যক্তি হিসেবে খুবই সম্ভ্রান্ত। কেননা তারা আমাদের মতো আরো দ্বারা শোষিত হয়নি। শোষিত মানুষ সঙ্কিত থাকে বেশি। আরেকজনকে বিশ্বাস করতে ও সম্মান করতে তাদের অনেক চিন্তা ফিকির করতে হয়, ‘যদি আমার কোনো ঝামেলায় পড়ে যায়’ ।

সবমিলিয়ে তারা মানুষজনকে অনেক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করে । ধর্মপরায়ণ মানুষকে তারা ভালো চোখে দেখে। সেদেশের সাধারণ জনগণের এ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করার জন্যই কিছু অপশক্তি ওয়ান ইলেভেন ঘটিয়েছিল। কিন্তু তারা তাতে তেমন সফল হয়নি। এখন আবার সাধারণ জনগণের অবস্থা ঠিক আগের মতো।

তাই তো আপনারা দেখতে পান, ‘আমেরিকানরা এখন দলেদলে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে আশ্রয় নিচ্ছে।

ইসলামি  শিক্ষা থাকার কারণে সেদেশে মাদরাসাগুলোকে কি সরকারিভাবে কোনো হেনস্তার স্বীকার হতে হয়?

না। ইসলামি শিক্ষা থাকার কারণে বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় না। সেদেশে শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে  একটি নিয়ম রয়েছে,

ধর্মীয়গুরু তৈরির জন্য কিছু স্কুল তাদের ছাত্রদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারবে। সে স্কুলগুলোকে তারা বলে বাইবেল স্কুল। আমরা সেই বাইবেল স্কুলের জন্য যে নিয়ম-কানুন করা আছে তা মেনে চলি। আমাদের শতভাগ ছাত্ররা সরকারী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভালো রেজাল্ট করে।

তাছাড়া যারা বাইবেল স্কুলের নিয়ম মেনে চলে না, তাদেরকেও সরকারিভাবে তেমন চাপ প্রয়োগ করা হয় না, যদি তারা দেশের  মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলে থাকে।

সেদেশে তিন ধরনের মাদরাসা শিক্ষা বিদ্যমান-

এক. যেখানে শুধু ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়। অনেকটা আমাদের কওমি মাদরাসার মতো।

দুই. যেখানে জাগতিক শিক্ষাটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।তবে ইসলামি শিক্ষা রাখা হয়েছে নাম মাত্র।

তিন. যেখানে জাগতিক ও ধর্মী শিক্ষা দুটোকেই সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়। যে মাদরাসাগুলোর প্রবর্তন আলহামদুলিল্লাহ আমরা করেছি।

আমেরিকান সরকার এইতিন ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থাকেই চলতে দিচ্ছে। কাউকে বাধা দিচ্ছে না।

বাংলাদেশে প্রচলিত বর্তমান মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও সিলেবাসে কী পরিবর্তন আনা দরকার বলে আপনি মনে করেন? যদি করেন তাহলে কেমন পরিবর্তন আশা করেন? ও কেন? আর না চাইলে কেন পরিবর্তন চান না?

আগের যুগে  ইসলামি শিক্ষায়  পড়াশোনা করে শিক্ষিত হয়ে ছাত্ররা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছে। তিব্বে নববিকে  এখনো ডাক্তাররা ফেলে দিতে পারেনি। সমীহ করতে বাধ্য। সে তিব্বে নববি পড়ে ছাত্ররা গর্বের সঙ্গে ডাক্তারি (হেকিমি) করেছে।

মাদরাসায় পড়ে ছাত্ররা  আইনজীবির দায়িত্ব পালন করেছ। অনেককিছু আবিষ্কার করেছে।

কিন্তু আজ আমাদের দেশে প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা মূলধারার মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে অনেক দূরে।

তারা ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যে জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থা ছিল তা বাদ দিয়ে দিয়েছে। তাই আজ মাদরাসার ছাত্ররা এখানে পড়ে বাস্তব জগত সম্পর্কে অনেকটা অজ্ঞ থেকে যায়। যা আলেম ওলামায়ে কেরামের আত্মমর্যাদাকে সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তাই এখন থেকেই আমাদের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আমাদেরকে যুক্ত হতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আদি সম্মান।কেন আমরা পিছিয়ে থাকবো?

আমাদের মূলধারার মাদরাসা শিক্ষাসিলেবাস যতটা মজবুত, পৃথিবীর আর কোনো শিক্ষাসিলেবাস  এতোটা পূর্ণাঙ্গ ও মজবুত নয়।

আমাদের সালাফ ও আকাবিরের প্রণিত সিলেবাসকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি। তাহলে আমাদের থেকে জাগতিক ও ইসলামিক উভয় শিক্ষার ব্যপারেই চলমান দৈন্যতা দূর হবে ইনশাআল্লাহ।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে শিক্ষক ট্রেনিং ও  মাদরাসার পরিবেশের প্রতি কতটা যত্নশীল হওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

কোনো একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে মজবুত করতে দরকার পাজ্ঞ শিক্ষক। অনেক ভালো ছাত্রও অনেক সময় ভালো পড়াতে পারে না। তাই শিক্ষাজীবনের পরে তাদের শিক্ষাপ্রদানের নিয়মকানুন শেখানোর জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা অপরিহার্য।

আমাদের মাদরাসা শিক্ষায় এই ব্যবস্থাটি এখন অপ্রতুল। আগে একজন ছাত্র লেখাপড়া শেষ করার পর একজন প্রাজ্ঞ মুরব্বির সোহবতে থাকতো। তার কাছ থেকে শিখতো কীভাবে মানুষের মাঝে ইলেম বিলাতে হয়? কিন্তু এটি আজ নাই।

আর পরিবেশের কথা বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। তবে কথা লম্বা না করে বলবো, বাইরের দেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের দিকে ধীরে ধীরে আমাদের নজর দিতে হবে।

আমাদের মাদরাসাগুলো এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি। চাইলে পরিবেশকে উন্নত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাছাড়া যে মাদরাসাগুলো বড় আছে, যাদের সঞ্চয়ে রয়েছে অনেক টাকা, তারা ছোটো মাদরাসাগুলোকে হেল্প করতে পারে।

আর মাদরাসার পরিবেশ ও  শিক্ষা সিলেবাস যদি আমরা উন্নত করতে পারি।তাহলে সর্বসাধারণকে মাদরাসার দিকে ঝুকানোটা অতি সহজ হয়ে যাবে।

এবার এটু ভিন্ন প্রসঙ্গ, বাংলাদেশের প্রচলিত ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো কাঙ্খিত সফলতায় পৌছতে পারছে না কেন? কোন পথ অবলম্বন করলে তারা এ পথে সফলতার দ্বার ছুতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

দেখুন! আমি রাজনৈতিক অঙ্গনের লোক নই, তারপরও যেহেতু আপনি প্রশ্ন করেছেন তাই বলছি,

প্রথমত আমাদের মাঝে  ঐক্যের অভাব। দ্বিতীয়ত  ইমানের দূর্বলতা। তৃতীয়ত আমরা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারাটাকে পৌছাতে পারি না।তাই রাজনৈতিক ময়দানে আমরা সফলতা পাচ্ছি তবে কাঙ্খিত সফলতা পাচ্ছি না।

যদি রাজনৈতিক ময়দানে কাঙ্খিত সফলতা চাই, তাহলে আমাদের মাঝে একতার বলয় গড়ে তুলত হবে। সাধারণ মানুষ এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আমাদের বুঝাতে হবে যদি বাস্তবিকভাবেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নামকে উজ্জ্বল করতে চান, তাহলে ইসলামি চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ রাজনীতির বিকল্প নেই।

আমাদের মনে রাখতে হবে শুধু ওলামায়ে কেরাম  মিলেই দেশে ইসলামি রাজনীতির বিপ্লব ঘটানো সম্ভব নয়। সঙ্গে অবশ্যই সাধারণ জনগণ ও বর্তমান রাজনৈতিক ময়দানের লোকজনকে নিয়ে নিতে হবে।

আর আমাদের সঙ্গে তাদেরকে তখনই নিতে পারব, যখন শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ভালোকিছুর সাক্ষর রাখতে পারব। আমাদের শিক্ষাচেতনা যখন তারা বুঝতে পারবে তখন তারা আমাদের রাজনীতিটাকেও ইতিবাচকভাবে নিতে শিখবে।

বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমাণ ইসলামি ভাবধারার মিডিয়া গড়ে উঠছে না।এর কারণ কী?

শুধু বাংলাদেশে না, সারা বিশ্বেই ইসলামিক মিডিয়ার খড়া। কেননা আমাদের ইসলামি দেশেগুলোর শাসক ও একশ্রেণির জনগণ ইসলামি মিডিয়াকে তাদের জন্য হুমকি মনে করে।দেখেননি সৌদি সরকার আল জাজিরা নিয়ে কী করেছে?

আমি আমাদের সরকার ও ওইশ্রেণির জনগণকে অনুরোধ করব, তারা  যেন দেশে ইসলামি মিডিয়া গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সহযোগিতা করে।কেননা  ইসলামিক মিডিয়া সত্যের বার্তা বাহক।

দেশে গড়ে ওঠা অনেক ইসলামিক মিডিয়া পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।ইতোপুর্বে অনেক নাম করার পরও কিছু মিডিয়া শুধু আর্থিক সঙ্কটের কারণে বন্ধ গিয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসা যায় কীভাবে?

মিডিয়া সম্পর্কে আমার বিস্তর ধারণা না থাকলেও এটা বুঝি, একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে যথেষ্ট পরিমাণ সাপোর্ট হয়।কেননা আমি আমেরিকায় প্রতিষ্ঠান চালাই।

আমাদের মিডিয়াগুলোকে সাপোর্ট অর্জন করতে হলে প্রথমে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পাত্র হতে হবে। যখন তারা আমাদের মিডিয়াগুলো থেকে কিছু আশা করবে কিছু পাবে, তখন তারা  এই মিডিয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্ঠা করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ওলামায়ে কেরাম পরিচালিত চ্যানেল ইসলাম ও রেডিও ইসলাম কিন্তু সাধারণ জনগণই বাঁচিয়ে রেখেছে।এরকারণ হলো সেদেশের মানুষ এই মিডিয়াগুলো থেকে প্রত্যাশার অনেক কিছু পায়।

আমাদের মিডিয়াগুলো যদি সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌছতে পারে, পারে তাদের ভালবাসা অর্জন করতে , তাহলে আমার বিশ্বাস ইসলামি মিডিয়াগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ভাবতে হবে না।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ

আপনাকেও ধন্যবাদ

‘লন্ডনের মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা আলেমের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারও হচ্ছে’