সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

কাতারে আল নূর সেন্টারের আয়োজনে ‘বাংলা ভাষাসন্ধ্যা’

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: মাতৃভাষা চর্চার মহৎ প্রয়াসে এক মনোজ্ঞ বাংলা ভাষাসন্ধ্যার আয়োজন করেছে আলনূর কালচারাল সেন্টার কাতার।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দোহার বিন যায়েদ সেন্টারে সালেহ নুরুন্নবীর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলনূর উপদেষ্টা মীর হোসেন চৌধুরী।

প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান আনওয়ারী।

অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ লেখক-সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নূর মুহাম্মদ, বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক আবু শামা, আলনূর সমাজকল্যাণ পরিচালক পেয়ার মুহাম্মাদ ও সমাজকল্যাণ সহকারী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম।

কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন আলনূর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগীয় পরিচালক অধ্যাপক আমিনুল হক, সংস্কৃতি বিভাগের সদস্য কবি রাকিবুল ইসলাম ও কবি মফিজুর রহমান।

নজরুলের ‘কান্ডারি হুশিয়ার’ কবিতার আরবি অনুবাদ করে শোনান কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাওলানা নাইমুল হক।

ইকবালের ফার্সি কবিতা ‘মহানবীর অবদানের খন্ডচিত্র’ এর বাংলা ভাষ্য উপস্থাপন করেন আলনূর সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মাওলানা ইউসুফ নূর।

শিশুদের বর্ণমালা প্রতিযোগিতা ও কচিকাঁচার আসর পরিচালনা করেন হেনা পারভীন ও লৎফুন নাহার। মহিলা কর্ণারে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মাহমুদা ও মাওলানা সায়েরা মাহমূদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত করেন মাওলানা ইয়াহয়া ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন হাফেজ আব্দুর রহমান মাশরুফ। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মুনাজাত করেন মাওলানা জসিম উদ্দিন মাশরুফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুর রহমান আনওয়ারী বলেন, বাংলা সাহিত্যকর্মের আরবি অনুবাদ দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে।

বাংলা কাব্যের সৌরভ বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে প্রতিভাবান তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সভ্যতা ও সংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তোলার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অনুবাদ ও সাহিত্য বিনিময়।

প্রবাসে এ জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আলনূর কালচারাল সেন্টার প্রশংসার দাবীদার। তিনি আরো বলেন, নূহ (আ) প্রপৌত্র বঙ্গের নামে বাংলা ভাষার নামকরণ হয়।

বাংলা পৃথিবীর প্রাচীনতম সমৃদ্ধ ভাষা। মাতৃভাষায় কথা বলা আমাদের মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার। এর স্বীকৃতি দিয়েছে আল কুরআন ও রাসুলের জীবনাদর্শ। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের এ অধিকার কেড়ে নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে।

ঘটা করে একুশ পালন করলেই বাংলা ভাষার দাবী পুরণ হবে না। সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন ও নবপ্রজন্মকে মাতৃভাষায় দক্ষ করে তোলা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

‘নবী নুহ আ. এর প্রপৌত্র থেকেই বাংলাভাষার প্রচলন ঘটেছিল’