সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

এক নজরে বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানী

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: বর্তমান বিশ্বের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন, মুফাক্কিরে ইসলাম,শাইখুল ইসলাম, জাস্টিস আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী ।

বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ছিলেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের বিচারপতি,এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরয়ীহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন।

বিশ্বনন্দিত মুসলিম স্কলার : আল্লামা জাস্টিজ তকি উসমানি বর্তমান বিশ্বের একজন প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদিস, ইসলামি ফিকহ, তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তিনি বর্তমানে ইসলামি অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন।

তিনি বিখ্যাত তাফসিরগ্রন্থ “মাআরিফুল কুরআন”এর রচয়িতা মুফতি শফি উসমানির সন্তান এবং বিখ্যাত দুই ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা রফী উসমানি ও মাওলানা ওয়ালী রাজী’র ভাই।
জন্ম : মাওলানা তকি উসমানি ৫ শাওয়াল ১৩৬২ হিজরী মুতাবেক ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে তাঁর পরিবার হিজরত (স্থানান্তরিত) করে পাকিস্তান গমন করে। মাওলানা তকি উসমানি পাঁচ ভাইবোনের মাঝে দ্বিতীয়। তাঁর বংশধারা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উসমান রা.-এর সাথে মিলিত হয়েছে।

শিক্ষাজীবন : পরিবারে মায়ের কাছেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। মার কাছেই তিনি উর্দু ও ফার্সি ভাষার প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে আট বছর বয়সে তিনি দারুল উলুম করাচিতে ভর্তি হন। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকেই দরসে নেযামি সিলেবাসের সর্বোচ্চ স্তর দাওরা হাদিস সমাপন করেন। দাওরা হাদিসের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় তিনি সর্বকালের সেরা নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এরপর তিনি তাঁর পিতা মুফতি শফি উসমানির তত্ত্বাবধানে ইসলামি ফিকহে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল উলুম করাচী থেকে ফিক্হ ও ফতোয়ার ওপর তাখাস্সুস (পি.এইচ.ডির সমমানের ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি এবং রাজনীতি বিজ্ঞানে বি.কম এবং ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি পাশ করেন।

এছাড়া তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রিও অর্জন করেন।তিনি শায়খ হাসান মাশাত, মুফতি মুহাম্মদ শফি উসমানি, মাওলানা ইদ্রীস কান্দলভী, মুফতি রশীদ আহমাদ লুধিয়ানভী এবং শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনার ইজাযত (অনুমতি) গ্রহণ করেন।

তাসাওউফ : তাসওউফের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেওবন্দের আলেমদের ধারা অনুসারে তিনি আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর খলিফা শায়খ ডা. আব্দুল হাই আরিফীর হাত বাইআত (শীষ্যত্ব) হন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ডা. আব্দুল হাই আরিফী মৃত্যুবরণ করেন। তখন তিনি আশরাফ আলী থানভি রহ.-এর আরেক খলিফা মাসীহুল্লাহ খান থেকে বাইআত গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন : ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে দাওরা হাদিস সমাপনের পর থেকেই তিনি দারুল উলুম করাচিতে অধ্যাপনা করে আসছেন। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের মে মাস পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়া এ্যাপ্লাইট বেঞ্চের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। “মিজান ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলামি ব্যাংকিং চালু করেন। তকি উসমানি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (ওআইসির একটি শাখা সংস্থা) এর একজন স্থায়ী সদস্য। ৯ বছর তিনি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।

২০০৪ সালের মার্চ মাসে মাওলানা তকি উসমানিকে দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থনীতি সংস্থার বার্ষিক অনূষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রি ইসলামি অর্থনীতিতে তাঁর অবদান ও অর্জনের কারণে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে। প্রতি সপ্তাহের রবিবার তিনি করাচীর দারুল উলুম মাদরাসায় তাযকিয়াহ তথা আত্মশুদ্ধি সম্পর্কে বয়ান করেন।

বর্তমানে তিনি দারুল উলুম করাচীতে সহীহ বুখারী,ফিকহ এবং ইসলামি অর্থনীতির দরস (কোন বিষয়ে পরামর্শ বা বক্তব্য প্রদান করা) দেন। ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট যুলফিকার আলী ভুট্টোর আমলে পাকিস্তান ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি কর্তৃক কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করার ব্যাপারে আলিমদের মধ্য হতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে হদ্দ,ক্বিসাস এবং দিয়ত সম্পর্কিত আইন প্রণয়নে তিনি অগ্রবর্তি ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি উর্দূ মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ এবং ১৯৯০ সাল থেকে ইংরেজি মাসিক পত্রিকা আল-বালাগ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সম্পাদক পদে আছেন।ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে বহু প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি আরবি, উর্দূ এবং ইংরেজি ভাষায় ষাটের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা। তার রচিত অধিকাংশ বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে।

বর্তমান ব্যস্ততা : দারুল উলূম করাচির শায়খুল হাদিস ও নায়েবে মুহতামিম, চেয়্যারম্যন, আন্তর্জাতিক স্ট্যার্ন্ডাড শরীয়াহ কাউন্সিল, ইসলামিক অর্থনৈতিক একাউন্টিং ও পরিদর্শন সংস্থা, বাহরাইন। স্থায়ী সদস্য, আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি , জেদ্দা ( ও আই সির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান), চেয়্যারম্যন, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনোমিকস, পাকিস্তান (1991 থেকে)

রচনাবলী 1. The Authority of Sunnah. 2. The Rules of I’tikaf. 3. What is Christianity? 4. Easy Good Deeds. 5. Perform Salaah Correctly. 6. The Language of the Friday Khutba. 7. Discourse on the Islamic Way of Life. 8. Sayings of Prophet Muhammad. 9. The Legal Status of Following a Madhhab. 10. Spiritual Discourses. 11. Islamic Months. 12. Radiant Prayers. 13. Qur’anic Sciences. 14. Islam and Modernism. 15. Contemporary Fatawa

উর্দু রচনাবলী : ইসলাম আউর সিয়াসী নাযরিয়্যাহ (ইসলাম ও রাজনৈতিক মতবাদসমূহ)। তাবসেরে (গ্রন্থ সমালোচনা)। জাহানে দীদাহ। দুনিয়া মেরে আগে। সফর দর সফর। তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন। আসান নেকিয়া। ইনআমুল বারি। ইসলাম আওর জিদাদ পসন্দি। ইসলাহি খুতুবাত। ইসলাহি মাজালিস। ইসলাম আওর সিয়াসাতে হাযেরা। আহকামে ই’তিকাফ। ইসলাম আওর জাদিদ মুআশারাত ওয়া তিজারাত। আকারিরে দেওবন্দ কিয়া হ্যায় ইত্যাদি।

আল্লামা তাকি উসমানীর এ বিচারপতি হওয়ার পেচনে অবদান কার? কে তিনি?কি তাঁর পরিচয়? আসুন জানি।

তিনি হলেন আমাদের বাংলাদের উলামায়ে কেরামের মাথার তাজ, তওবার রাজনীতির প্রবর্তক, আমিরে শরীয়ত মুজাহিদে মিল্লাত মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.।

আল্লামা তাকি উসমানী লিখিত গ্রন্থ ‘নুকুশে রাফতাগা’ কিতাবে তার বিচারপতি হওয়ার ঘটনা এভাবে লিখেছেন, বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মত আমি বাংলাদেশ সফরে আসি।তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউল হক রহ.।

বাংলাদেশে আসার পর আমীরে শরীয়ত হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.এর সাথে নূরিয়া মাদরাসায় দেখা হয়।আমি হযরাতের খেদমতে একদিন একরাত থাকি।যাওয়ার সময় হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.আমার হাতে একটি পত্র প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের নামে দিলেন।আমি পত্রখানা পড়লাম। দেখলাম আমার ব্যাপারে কিছু কথা লেখা হয়েছে।

পত্রখানা পড়ে আমি হযরাতের খেদমতে আদবের সাথে নিবেদন করলাম, হযরত শেষের লাইনটা কেটে দিলে ভাল হত।

হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. বললেন, যেভাবে আছে সেভাবে থাকতে দাও।
আমি যা বলি তাই করো।পাকিস্তান পৌছার পর পত্রখানা প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক এর হাতে দিও।

এরপর আল্লামা তাকি উসমানী  লিখেন, হযরাতের এ পত্রদ্বারাই আমাকে প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতা এবং বিচারপতি বানানো হয়।

আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধা,ভালবাসার সাথে স্মরণ করছি হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক রহ.কে।তারা আজ এ ক্ষণস্থায়ী পৃথীবিতে নেই।চলে গেছেন চিরস্থায়ী বাড়ীতে।না ফেরার দেশে।

আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন উভয় জনকে তাঁর জান্নাতের সম্মানিত মেহমান হিসাবে কবুল করে নেন।

এইচজে