শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

‘সমালোচনা নামক ব্যাধিকে দূর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র’

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডকটম আয়োজিত অনলাইন মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সম্মেলনে আলোচক হিসেবে এসেছিলেন নতুন ডাকের সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক শাকিল আদনান। অনুষ্ঠানে তিনি মিডিয়া ও মিডিয়ার সম্ভাবনা, সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিটি বিষয়ে আলোচনা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ সে আলোচনা তুলে ধরেছেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক কাউসার লাবীব

প্রথমেই আওয়ার ইসলামকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি সময় উপযোগী সম্মেলন আয়োজন করার জন্য।আশা করি এমন মানসম্মত সম্মেলন উপহার দেওয়ার ধারাহিকতা আওয়ার ইসলাম রক্ষা করবে।

আমরা অনেকেই সমালোচনাকে প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখি বা দেখছি। কিন্তু আজ নতুনভাবে উঁকি দেওয়া এ সমস্যা কী আসলেই খুব বড় সমস্যা?

মাদরাসায় বাংলা চর্চা নিষিদ্ধ, কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে ছাত্র বহিষ্কার , শিক্ষার্থীর আসবাব পত্র চেক করে বই বাজেয়াপ্ত করা, তাকে হেনস্থা করা ইত্যাদি সমস্যার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরে আসিনি।

ওই সমস্যাগুলোকে যদি আমরা ডিঙ্গিয়ে আসতে পারি, তাহলে সমালোচনা নামক এ ব্যাধিকেও আমরা দূর করতে পারবো। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শাকিল আদনান বলেন, সমালোচনার এ সমস্যাটি দুই কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

এক. অল্প বয়সী ছেলেমেয়ে বা কম শিক্ষিত ও কম বু্দ্ধিমান কিছু লোক নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যুক্ত হচ্ছে। আর এসেই বুঝুক আর না বুঝুক নিজের একটি মত ও দলকে শ্রেষ্ঠ মনে করছে। তার দৃষ্টিতে বিরোধীদের সমালোচনায় মেতে উঠছে।

দুই. আমাদের সামাজিক আর শিক্ষাঙ্গন থেকে ছেলেমেয়েগুলো বিদ্যার ঝুলি পরিপূর্ণ করলেও বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করার অনুভবশক্তি হারাচ্ছে দিনদিন।

তাই কখন কার কীভাবে কথা বলতে হবে? কাকে কীভাবে সম্মান দেখাতে হবে? কার কথার সমালোচনা কীভাবে করতে হবে? তা জানি না বা জানার আগ্রহও নেই।

তাই আমাদের মনে একে অপরের বিরুদ্ধে জন্ম হচ্ছে গোড়ামি এবং বিদ্বেষ। আর এ থেকেই প্রতিবাদ, সংশোধন বা সমালোচনার ভাষা উঠছে অশ্রাব্য। তাই সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গন থেকেই আমাদের শ্রদ্ধাবোধ শিখতে হবে শেখাতে হবে।

তিনি বলেন, আমি সমালোচনাকে আমাদের পথচলার অন্তরায় বা বাধা বলে মনে করি না। আমাদের পথচলার অন্তরায় হলো ভালো কন্টেন্ট। আমরা যা করছি তার মান একেবারে ভালো বলা মুশকিল। আমাদের কাজের মান বাড়াতে হবে। কাজের মান যদি হয় অটুট, তাহলে আমাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

একুশে বইমেলায় প্রকাশিত সব বই দেখতে ও কিনতে ক্লিক করুন

পাঠককে আমাদের এমন কিছু কন্টেন্ট উপহার দিতে হবে, যা দেখে তারা আমাদের পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে না। থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। আমাদের কাজগুলো মনযোগ দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করবে।

তাদের ভালোবাসার কথা, পাওয়া না পাওয়ার কথা জানাবে। তবে এর জন্য অবশ্যই আমাদের কন্টেন্টের বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের একটা লক্ষ্য থাকা দরকার, আমরা কারো সমালোচনা বা বাধায় থমকে দাঁড়াব না। এগিয়ে চলব দূর্বার গতীতে। আর কী করব? কী করব? না ভেবে যা আমার জন্য উপযুক্ত ওই বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।

ওই ক্ষেত্রেই নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে শীশাঢালা প্রাচীর গড়ে তুলব যেন বিরোধীদের বাধা আমার থেকে থাকে দূর বহুদূর।

মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ.কে একবার আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, হুজুর আমরা কোন বিষয়ে কাজ শুরু করব বা কী করলে ভাল হয়?

তিনি বলেছিলেন, তুমি করবে কত? কত কাজই তো আছে, তুমি কয়টা করতে পারবে? তার চেয়ে ভালো, কী করব? কী করব? না ভেবে যে কোনো একটা শুরু করে দাও। আর উদ্যমতার সঙ্গে চালিয়ে যাও। দশ বছর পরে দেখবে ইনশাআল্লাহ সফলতা তোমাকে ছুঁয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, যে যেখানে আছেন, সেখান থেকে কাজ করে যান এবং উন্নত ও মানসম্পন্ন কন্টেন্টে কাজ করে যান। ইনশাআল্লাহ সমালোচনা আপনার অন্তরায় হবে না।

নিজের গতিতে এগিয়ে চলুন। শুদ্ধতার খোঁজে চলুন। সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

‘আসুন নিজেদের শক্তি ক্ষয় না করে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই’