রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

যে ৯টি খাতে ভারত-ইরান সমঝোতা

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি ও ৮টি সমঝোতার খাতকে সংক্ষিপ্তভাবে হাজির করা হয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির বৈঠকের পর দিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে দুই দেশের প্রতিনিধি-স্তরের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ৯টি খাতে সমঝোতা হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি এবং  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে ওইসব সমঝোতা সম্পন্ন হয়।

যে যে বিষয়ে সমঝোতা হলো

১. দ্বৈত কর ও আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ:  আয়ের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর ও আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। বিনিয়োগ ও সেবার প্রবাহ বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিগুণ করের বোঝা এড়াতেই এই চুক্তি করা হয়। চুক্তিটিতে ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও ইরানের অর্থমন্ত্রী ড. মাসুন কারবাসিয়ান স্বাক্ষর করেন।

২. ভিসা প্রক্রিয়া সহজকরণ: কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণ সহজ করার জন্য ভিসার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। সুষমা স্বরাজ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ দুই দেশের পক্ষে সমঝোতা স্বাক্ষর করেন।

৩. প্রাযুক্তিক সহায়তা: প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় প্রাযুক্তিক সহায়তা বিনিময়ের বিষয়ে অনুসমর্থন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুকি আরও কার্যকর হবে। ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরানের পক্ষে অর্থমন্ত্রী এতে স্বাক্ষর করেন।

৪. ছাবাহার বন্দর চুক্তি:  ইরান অ্যান্ড ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড নামে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ছাবাহারের ‘শহীদ বেহেস্তি বন্দর’র ফেস-১ এর ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে দেড় বছরের জন্য বন্দরটির বহুমুখী ব্যবহারের জন্য ইজারা দেওয়া হবে। চুক্তিটিতে ভারতের পক্ষে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গাদকারি ও ইরানের পক্ষে সড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আব্বাস আখুন্দি স্বাক্ষর করেছেন।

৫. চিকিৎসা সহযোগিতা চুক্তি:  ওষুধের ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য সহায়তা বাড়ানো হবে। এজন্য চিকিৎসা শিক্ষা, অনুশীলন, ওষুধ ও ওষুধ ছাড়া থেরাপি এর আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে সবধরনের ওষুধের উপকরণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা বাড়ানো হবে। ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখালে ও ইরানের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ঘোলামরেজা আনসারি এতে স্বাক্ষর করেন।

৬.মানব সম্পদে সহযোগিতা:  স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। কৌশলগত, বৈজ্ঞানিক, আর্থিক ও মানব সম্পদ বিষয়ক সহযোগিতা ওই সমঝোতার অন্তর্ভূক্ত থাকবে। ভারতে পররাষ্ট্র সচিব ও ইরানের রাষ্ট্রদূত এই সমঝোতায় সই করেন।

৭. বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা: পারস্পারিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমঝোতা হয়েছে। বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ দল প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের পক্ষে বাণিজ্য সচিব রিতা তিওতিয়া ও ইরানের পক্ষে অর্থপ্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ খাজায়ি স্বাক্ষর করেন।

৮. কৃষি খাতে সহযোগিতা:  কৃষি ও সহায়ক খাতে সহযোগিতার বৃদ্ধির সমঝোতা স্মারক সই। ভারতের পক্ষে কৃষি সচিব এবং ইরানের পক্ষে অর্থপ্রতিমন্ত্রী স্বাক্ষরিত সমঝোতায় কৃষি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য কৃষি গবেষণা ও প্রাযুক্তিক সহায়তা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৯. পোস্টাল সহযোগিতা: দুই দেশের ডাক বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় অভিজ্ঞতা বিনিময়, ই-কমার্স বিষয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়সহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

সমঝোতার পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে হাসান রুহানি দুই দেশের ঐতিহ্যগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। তাকে উদ্ধৃত করে এশিয়ান এজ লিখেছে, ‘ভারত-ইরান সম্পর্ক কেবল বাণিজ্য আর কূটনীতির সম্পর্ক নয়। আমাদের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত আর ঐতিহাসিক।’ নরেন্দ্র মোদি তার বিবৃতিতে ইরানি প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ইরান ও ভারত পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ রুহানির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার তৎপরতায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।