সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

জান্নাতে যেতে চাইলে সন্তানকে মাদরাসায় দিন: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৮
news-image

আবদুল্লাহ তামিম: সন্তান জান্নাতের খুশবু। জান্নাক পেতে হলে সন্তানকে মুহাব্বত করতে হবে। কারণ সন্তানের ঘ্রাণই জান্নাতের সুবাস।

উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর বায়তুল আমান জামে মসজিদে মাওলানা আহমাদ আলীর সন্তান ৯ মাসে হাফেজ হওয়ায় শুকারানা মাহফিলে বয়ান কালে এ কথা বলেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।

তিনি আরো বলেন, আজকাল আমাদের দেশের মানুষ গলা উঁচিয়ে বলে এখনো কী সেই যুগ আছে যে সন্তানদের জান্নাতের কথা শিক্ষা দিতে হবে। অথচ আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি ইউরোপ জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ আধুনিক পৃথিবীর বিধর্মীরা তাদের সন্তানদের ইসলামের শিক্ষার জন্য দীনিয়্যাত পড়াচ্ছে। আর আমরা মুসলিমরা আমাদের ধর্ম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

আজ মানুষের এমন অবস্থা, বাসে ওঠলে কেউ সুন্দরী নারীর পাশে বসার জন্য আফসোস করে আর কেউ কবিরা গোনাহের ভয়ে তার পাশের সিট থেকে ওঠে আসে। আমরা কোনটাকে ভালো বলবো।

আজকে ইংল্যান্ড-জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে এসে মানুষ বাংলাদেশের আদলে মাদরাসা গড়ার পরিকল্পনা করছে। আর একদল মানুষ বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে আঙ্গুল উঠাচ্ছে। দুঃখ হয় তাদের জন্য। তারা বুঝতেই পারছে না তাদের কী করা উচিৎ। তারা আক্ষেপ করে বলছে মাদরাসাগুলোতে কী পড়াচ্ছে এগুলো।

আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সা.কে জিজ্ঞেস করলো হাশরের মাঠে উলঙ্গ অবস্থায় ওঠা সম্পর্কে। রাসূল সা. হাশরের মাঠে সবাই এমনভাবে ছুটতে থাকবে যে কেউ অন্যের দিকে তাকনোর সুযোগই পাবে না।এমন কঠিন মুহূর্তে আপনার সন্তান এসে যদি বলে এটা আমার বাবা তাকে জান্নাতে যেতে দাও কেমন লাগবে? তাই বলি জান্নাতে যেতে চাইলে আপনার সন্তানকে সেই শিক্ষাই দেয়া দরকার যার মাধ্যমে আপনি জান্নাতে যেতে পারবেন।

আজকাল আমরা আমোদের সন্তানদের জীবনের শুরুতেই জন্মদিন পালন করি। অথচ ইসলামি শরিয়তে এই সমস্ত দিন পালনের কোনো বিধান নেই। তাহলে এই সন্তান থেকে আমরা কী আশা করতে পারি।

আমরা মাওলানা আহমাদ আলীর ছেলে মুহাম্মদের হিফজ শেষ করা উপলক্ষ্যে এখানে শুকরানা মাহফিলে এসেছি এটা অত্যান্ত মহতি একটি অনুষ্ঠান। আজ এই অনুষ্ঠানে এসেছেন দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা নোমান কাসেমী।

মূলত এই শুকরানা মাহফিল আমাদের আকবিররাও করেছেন। কাসেম নানুতবী রহ. তার সন্তান আহমাদ আলী রহ. তার সন্তান কারী তাইয়্যেব রহ. হাফেজ হওয়ায় এই মাহফিল করেছিলেন।

কারী তাইয়্যেব  রহ. এর বাবা অসিয়ত করেছিলেন যেনো প্রতিদিন তিনি বাবার জন্য কুরআন তেলোয়াত করেন। কারী তাইয়্যেব রহ. বলেন, আমি শয্যাসায়ী হয়েও বাবার জন্য একপাড়া ও মায়ের জন্য এক পাড়া কুরআন তেলোয়াত করতে ভুলিনি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।