শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮

‘দাওয়াতের কাজ হলো শরীর উলামায়ে কেরাম হলেন মাথা’

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১৩, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার ৩৫ তম বছরে প্রথম আরবি ভাষায় আম বয়ান করেছেন জর্ডান মারকাজের আমির শায়খ ওমর আল খতিব। আরবি ভাষাভাষি এ প্রাজ্ঞ আলেম, সারা পৃথিবীতে দাওয়াতি কাজ নিয়ে সফর করছেন।

গতকাল শুক্রবার বাদ এশা ইজতেমা মাঠে অবস্থিত তার নিজ কামরায় বসে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন আওয়ার ইসলামকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলাম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব। সঙ্গে ছিলেন মুহাম্মদপুর মারকাজ মসজিদের শুরা মুফতি মোশাররফ হোসাইন

প্রথমেই বাংলাদেশে তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ আপনার কাছে কেমন লাগছে? বিশেষ করে দাওয়াতের কাজের যে পরিবেশ একে আপনি কিভাবে দেখেন?

তিনি খুব আপ্লুত আবেগঘন এবং উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশে দাওয়াতি কাজের অসাধারণ পরিবেশ রয়েছে। এদেশের মানুষের আখলাক, ঈমান এবং আথিথিপরায়নতা মুগ্ধ হওয়ার মতো।

জর্ডানসহ তার দেশের দাওয়াতি কাজের কারগুজারি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানি, জর্ডানের প্রতিটি অঞ্চলে দাওয়াতি কাজের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। দেশের সরকার উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষের মাঝে দীনি কাজ কর্মের শক্তিশালী প্লাটফরম হলো দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত।

দীর্ঘ ৫৩ বছর পর টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় এবারই প্রথম আরবি ভাষায় আম বয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বয়ানকে উপলক্ষ করে এদেশের আলেম উলামা মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। বিষয়টি আপনি কিভাবে ‍মূল্যায়ন করবেন?

উত্তরে তিনি নিজেকে খুবই বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, বয়ান তো কাকরাইল ও নেজামুদ্দিনের উলামা মাশায়েখগণ করবেন, আমি সেখানে খুবই নগন্য মানুষ। দুর্বল এবং কমজোর। যে দুই কথা বলেছি ও সুযোগ হয়েছে তা সবই আল্লাহর মেহেরবানি। আল্লাহর হুকুম ও দয়া না হলে আমি কিছুই বলতে পারতাম না। যা বলেছি আল্লাহ পাকই বলিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে তাবলিগ এর মারকাজের শুরা সদস্যের উপদেষ্টা মনোনীত হয়েছেন, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

উত্তরে তিনি বলেন, মাথা আর দেহ একসঙ্গে হলেই শরীর বোঝা যায়। মাথা থেকে দেহ আলাদা হয়ে গেলে শরীরে কোনো মূল্যায়ন থাকে না। দাওয়াতের কাজ হলো শরীর উলামায়ে কেরাম হলেন মাথা। যতদিন উলামায়ে কেরামের নেগরানি দাওয়াতের এ কাজের মধ্যে থাকবে ততদিন কাজ ছহিহভাবে পরিচালিত হবে।

আল্লাহর মেহেরবানি, এ উপমহাদেশের স্বর্ণতূল্য সন্তান হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর ইখলাসের বরকতে উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধান এবং আন্তরিকতা পেয়ে আসছে। আগামী দিনও উলামায়ে কেরামের আন্তরিকতা মহব্বত ও দরদ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আলেম উপদেষ্টা কমিটির যোগাযোগ সমন্বয়ের জিম্মাদার মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করন এবং বাংলাদেশের উলামার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

চলমান তাবলিগের সঙ্কট ও মাওলানা সাদের বিষয়ে জানতে চাইলে জর্ডান মারকাজের এ আমির কৌশলি জবাব দিয়ে বলেন, আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. কে যখন বিশেষ একটি উপলক্ষে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তখন অন্যান্য বিবিগণ অনেক কথাই শুনেছেন কিন্তু মুখে রোজার আমল করেছেন, চুপ থেকেছেন।

ওহি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। চলমান সঙ্কটের বিষয়েও মুখে রোজার আমল করছি। উলামায়ে কেরাম আন্তরিকতার সঙ্গে মহব্বতের সঙ্গে সমাধান করবেন, এ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।

তিনি আওয়ার ইসলামের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সকল সাথীকে এখলাস ও লিল্লাহিয়াত দরদওয়ালা অন্তর এবং মহব্বতের সঙ্গে কাজের উপদেশ দেন।

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০১; শায়খ ওমর খতিব