শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮

আজ ফিরে যাবেন মাওলানা সাদ: মুনাজাত করবেন কে?

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১২, ২০১৮
news-image

শাহনূর শাহীন: টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামীকাল (চলমান) শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগের দিল্লি নিজামুদ্দিনের আমীর মাওলানা সাদ কান্ধালভী’র আগমন উপলক্ষ্যে বুধবার ঢাকা সহ সারাদেশ ছিলো বিক্ষোভে উত্তাল।

ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মাওলানা সাদ’র বাংলাদশে আগমনের খবরে গতকাল দিনভর ঢাকা’র যাত্রাবাড়ীস্থ কাজলা, মিরপুর, মাদানী নগর, বিমানবন্দর ও কিশোরগঞ্জ সহ সারাদেশে বিক্ষোভ করে আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও তাবলিগ সাথীরা।

দিনভর নানা নাটকীয়তার পর মাওলানা সাদ কান্ধালভী বাংলাদশে আগমন করেন। এবং বেলা ১২  টার পর তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

পরে বিমানবন্দর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় মাওলানা সাদকে কাকরাইল মারকাজে নিয়ে আসা হয়।বুধবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কাকরাইলেই আছেন। এ নিয়ে রাত থেকেই বৃহস্পতিবার সারাদিন উৎকন্ঠা বিরাজ করছিলো।

উপদেষ্টা কমিটি সহ ওলামায়ে কেরাম মাওলানা সাদের ইজতেমায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকেন। ওলামায়ে কেরামারে দৃঢ়তা ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে শুক্রবার মাওলানা সাদ’র দিল্লি ফিরে যাওয়া চুড়ান্ত হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছিলেন, মাওলানা সাদ কাকরাইল থেকেই দিল্লি ফিরে যাবেন।

এরপর দুপুর ৩টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তাবলিগের উপদেষ্টা ও শুরা সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে মাওলানা সাদ’র ইজতেমায় অংশ না নেয়ার ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন যাত্রবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার মুহতামিম উপদেষ্টা কমিটির মুরুব্বী মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, মাওলানা সাদ আমাদের কাছে একজন মেহমান। বিদেশি মেহমান এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু আমরা করতে পারি না। তিনি সসম্মানেই কাকরাইলে এসেছেন এবং সেখান থেকেই বিদায় গ্রহণ করবেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজ পড়ানোর কথা ছিলো মাওলানা সাদ কান্ধলভি’র। এরপর তার পছন্দ মতো ফ্লাইটে বাংলাদেশে ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শুক্রবার কাকরাইল মারকাজ মসজিদে জুমার নামাজ পড়ান মাওলানা সাদ। নামাজের পূর্বে তিনি মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ানও করেন মাওলানা সাদ।

বয়ানে তিনি তাবলিগের সাথীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরাম আমাদের মোহসেন। তারা যদি কখনো কোনো কারণে আমাদের ভুল ধরেন তাহলে মনে করতে হবে তারা আমাদের উপর ইহসান করছেন।

ওলামায়ে কেরাম যে কথা বলবেন তাতে আমাদের সংশোধন করবে।এজন্য  তাদের কথা মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্য থেকে আগেও রুজু করেছি এখনো সবার সামনে করছি।

সর্বশেষ আওয়ার ইসলাস বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারে আজ শনিবার বেলা ১১ টায় তিনি বাংলাদেশ থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন।

এদিকে, গতবছর প্রথম পর্বে আথেরী মুনাজাত পরিচালনা করেছিলেন মাওলানা মাওলানা সাদ কান্ধলভী। এবছর তার অনুপস্থিতিতে বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন কে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

এ বিষয়ে মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন,  এবার ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন, তা তাবলিগ জামাতের নেতারাই ঠিক করবেন। এটা একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়।

তবে ধারণা করা হচ্ছে তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা জোবায়ের হোসাইন আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন। গতকাল জুমার নামাজ তিনিই পড়িয়েছিলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জে. জয়নাল আবেদিন, র‌্যাব প্রধান বেনজির আহমেদ, পুলিশের আইজিপি শহিদুল হক,  এডিশনাল জি আিইডি মনিরুজ্জামান, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, এসবির প্রধানে জাবেদ পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ, সেতু সচিব উপস্থিত ছিলেন।

আলেমদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী, মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মারকাজুশ শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়ার মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ, আম্বরশাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, আফতাবনগর মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলী, পীরে কামেল অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল আমিন, আল মানহাল ক্যাডেট মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারী।

এছাড়াও আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব বেঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তাবলিগের শুরার সদস্যদের মধ্য থেকে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম,  মাওলানা আবদুল হামিদ মাছুম, মুহাম্মাদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, মাওলানা আশরাফ আলী ও ইউনুছ শিকদারও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আলেম উলামা ও তাবলিগের শুরার সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময় তাবলিগের কারগুজারি বয়ানে মাওলানা সাদ’র বিতর্কিত কিছু বক্তব্যের কারণে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তাকে প্রথমে সতর্ক কারা হয়। বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ভুলের স্বীকারোক্তির জন্য বলা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের জেরে সৃষ্ট দ্বন্ধে মাওলানা ইব্রাহিম দেওলভি নিজামুদ্দিন ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় সমাধানের জন্য মাওলানা সাদকে আহ্বান করা। কিন্তু তিনি যথাযথ পন্থায় তা না করায় ওলামায়ে কেরাম তাকে বয়কট করেন।

বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামও এই সংকট নিরসনের চেষ্টায় দিল্লির নিজামুদ্দিন ও দেওলভ সফর করেন।

সর্বশেষ কোনো প্রকার চুড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় ওলামায়ে কেরামের নেতুত্বে বাংলাদেশে সরকারের তত্বাবধানে গঠিত তাবিলিগের উপদেষ্টা কমিটি এবারের  ইজতেমায় মাওলানা সাদ’কে  বাংলাদেশে না আনার সিদ্ধান্ত জানান।

পূর্বের খবর…..
কাকরাইল থেকেই বিদায় নিচ্ছেন মাওলানা সাদ

এসএস/