বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

‘নিজেকে দেওবন্দের অনুসারী বলে প্রচার করতে সংকোচবোধ করি’

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ৬, ২০১৮
news-image

জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি শনিবার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো প্রথম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মাওলানা  উমর ফারুক ইবরাহীমী।

আমি নিজেকে ‘দেওবন্দের অনুসারী’ বলে প্রচার করতে সংকোচবোধ করি। কারণ এতে একরকম ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ অনুভব হয়।

‘দেওবন্দের অনুসারী’ শুনলে কেউ কেউ ভুল ধারণার স্বীকার হন। তারা মনে করেন-দেওবন্দি হয়তো কোন ধর্মীয় ফেরকা। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ উম্মত থেকে দূরে সরে ভিন্নপথ, মত আবিস্কার করেছেন। অথচ দারুল উলুম দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার ধারক বাহক উলামায়ে কেরাম নিজ ধর্মীয়বিশ্বাস এবং আমলের ক্ষেত্রে পুরোপুরিভাবে কুরআন-সুন্নাহর সেই মধ্যপন্থা অর্থের প্রবক্তা যেটা চৌদ্দশো বছর ধরে উম্মতে মুহাম্মদি লালন করে আসছেন।

তারা নতুন কোন দল-মত আবিষ্কার করেন নি। বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ উম্মত যে আকিদায় বিশ্বাসী এবং যে আমলের উপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উলামায়ে দেওবন্দ ঠিক একই আকিদা এবং আমলের উপর সুদৃঢ়। তবে কখনো সেই আকিদা, বিশ্বাসকে ধুলো মলিন হতে দেখলে, হেকমত এবং শক্তহাতে সেটা রুখে দেবার চেষ্টা তো অবশ্যই করেছেন।

ফলশ্রুতিতে কতিপয় বিদ্ধেষী অপবাদের সুর তুললো, ‘দেওবন্দি’ একটি ভিন্নরকম ফেরকা। এই বিষয়ের উপর হজরত হাকিমুল ইসলাম মাওলানা কারী তায়্যিব রহ. রচিত ‘উলামায়ে দেওবন্দ কা দীনি রুখ অওর মাসলাকি মেজাজ’ চমৎকার একটি কিতাব।

কিতাবটির ভূমিকায় আমি এই বিষয়টির বিশদ বিবরণ দিয়েছি। এখন শুধু এতটুকুই বলতে চাচ্ছি- উলামায়ে দেওবন্দকে দীনি কাজে নিজের আইডল মনে করাসত্ত্বেও নিজেকে দেওবন্দি বলে পরিচয় দিতে অনেক ভাবতে হয়। কারণ এতে একরকম ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ অনুভব হয়।

তবে জন্মসূত্রে আমি অবশ্যই দেওবন্দি।আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এই সৌভাগ্য আমার হয়েছে, আমার জন্ম সেই শহরে যেখানে দারুল উলুম দেওবন্দ ইলম, ফজল, দৃঢ়তা এবং মহৎকর্মপন্থার এক নজিরবিহীন সুউচ্চ পাহাড় দাঁড় করিয়েছে, যার উপমা হালজামানায় নেই বললেই চলে।

দেওবন্দে আমাদের পুর্বপুরুষরা ‘মিয়াজি’ নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। সে যুগে মিয়াজি একটি উপাধী ছিল। এব্যাপার হজরত আব্বাজান মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ. লিখেছেন, ‘যদ্দুর জানি- শহরে-বন্দরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মক্তবে কুরআনের তালিমের পর উর্দু, ফার্সি এবং জাগতিক শিক্ষারও ব্যাপক রেওয়াজ ছিলো।

[মুফতি তাকি উসমানি ও রাফি উসমানি ওয়াজের কি বিনিময় নেন?]

এসকল মক্তব শিক্ষাদীক্ষায় হালজামানার মডেলস্কুলের চেয়েও অধিক মানসম্মত ছিলো। যারা সেখানে পড়াতেন তাদের ‘মিয়াজি’ বলে ডাকা হতো।তারা সবাই দীনি শিক্ষার পাশাপাশি আমলের লাইনেও বেশ অগ্রগামী ছিলেন।

যেমন- হজরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কি’র শায়েখ, মিয়াজি নূর মুহাম্মদ রহ. এবং মিয়াজি মুন্নু শাহ। তিনি দেওবন্দের একজন সাহেবে কাশফ বুযুর্গ ছিলেন।

আব্বাজান রহ. আরো লিখেছেন- ‘আমাদের বংশের কোন নির্ভরযোগ্য নসবনামা আমার হস্তগত হয়নি। তবে শরিয়তে এ ব্যাপারে ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র’ মজুদ থাকার শর্তারোপও করা হয়নি। তাই বয়োবৃদ্ধদের মুখে শুনা কথাকেই যথেষ্ট মনে করছি।

আমি আমার বংশের বয়োবৃদ্ধদের থেকে বরাবরই শুনে আসছি, আমাদের বংশের বাতিঘর হলেন হজরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু।’

চলবে ইনশাআল্লাহ…

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তরের অনুমতি