বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

আমাদের সমাজে নারীর সম্মান; কোথায় পেলাম এ ধন?

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ৫, ২০১৮
news-image

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

আমাদের সমাজে কন্যা সন্তান হলো সংসারের ফুল। কন্যা সন্তান ছাড়া সংসার অনেকতটা মরুভুমির মতো। আমি আমার বাবাকে দেখেছিপাঁচজন পুত্র সন্তানের জনক হওয়ার পরেও তার কী মনোকষ্ট।

তারপর এক এক করে আমাদের তিনজন বোন হলো। আমাদের বাবার আনন্দের সীশা রইলো না। এই আমাদের বাংলাদেশ।

বাজার হলো সময়-সভ্যতার মুখ।যে কোনো অঞ্চলের বাজারটা ঘুরে এলেই সেখানাকার মানুষের রুচি চিন্তা ্আগ্রহ ্ও জীবনযাত্রাটা ধরেনেয়া যায়।

আমরা শহরে কী গ্রামে- যেখানেই আমাদের মার্কেটগুলোতে যাই মেয়েদের বাহারী পোশাকে মন ভরে যায়। আর আমার মতো যাদের মেয়ে নেই তাদের তো রীতিমোত অপরাধ বোধ হয়- কেন ছেলের জনক হলাম।মেয়ে৥র জনক হলাৈম না কেন?

আমি লক্ষ্য করেছি, আমার বড় ভায়রার তিন কন্যা। তারা যখন আমাদের বাসায় আসে তখন ঘরটায় যেভাবে প্রাণ থই থই করে অন্য সময় সেটা করে না।

আমাদের এই সমাজে স্কুল পড়ুয়া যে বালকটির একটি ছোট্র বোন আছে তার ভাবসাবও অন্যরকম। ছোট বোনের জন্য চুইনগাম আর সাজুনি কেনায় সে এমন ভাব দেখায় যেন তার মতো ভাগ্যবান এই সমাজে আরেকজন নেই।

আর যার আছে একজন বড় বোন তার তো প্রশ্রয়ের রাজ্য দুটি। তার পাশে দাড়ানোর সাধ্য কার!

দারিদ্রের জলে ভেজা আমাদের এই গরীব দেশে আমাদের শেষ নেই। আর এই আমাদের প্রাণেই আমাদের মেয়সেমাজ। এখানকার সুখ স্বপ্ন উচ্ছাস তাদেরকে ঘিরে।

তারাই এই মাটির প্রাণ। তারা আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। যে কারণে সাত পুরুষের সম্পটদ ধ্বংস হওয়অকে মেনে নিতে পারলেও বোনের প্রতি কারো এক মুহুর্তের বাঁকা নজর আমরা মেনে নিতে পারি না।

ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে দুর্মর ঘৃণা প্রকাশ আমাদের সেই আত্মমর্যাদাবোধের প্রতীক।

কোথায় পেলাম এ ধন?
এই ধন আমরা পেয়েছি আমাদের ধর্ম থেকে। আমাদের ধর্মেই আমাদের শিখিয়েছে, নারী জাগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। হযরত মুহাম্মদ সা. আমাদেরকে যে জীবন-চিন্তা দান করেছেন তাতে নারীর আসন, স্নেহে সম্মানে অনন্য।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীরর গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছে। পবিত্র কুরআনে সূরাতুন নিসা তথা নারীর সূরা নাসক একটি সূরা আছে। পুরুষের নামে স্বতন্ত্র কোনো সূরা নেই।

পুরুষদের এই মর্মে আদেশ করা হয়েছে ‘ওয়াআ’শিরুহুন্না বিল মা’রুফ’ অর্থাত ‘তোমরা মেয়েদের সাথে উত্তম আচণ করো’।

তাই আল্লাহ বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ নারীলর সাথে উত্তম আচরণ করতে বাধ্য এবং আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট।

এই আাদেশ সরাসরি। নারীর কোনো শুভকর্ম কিংবা উত্তম দানের বিপরীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপক কিংবা শুভতার স্বীকুতি স্বরুপ ননং; বরং এই  নির্দেশ ্আল্লাহর পক্ষ থেকে।

নর-নারীর সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টিলীলার সুন্দর প্রাকশ ও সুষমাপূর্ণ বিকাশের জন্যে জারি করেছেন এই হুকুম।পুরুষ জাতি এই হুকুম মানতে বাধ্য।

পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ইসলামকে যারা জানেন এবং মানেন তাদের কাছে এটা দুপুরের সূর্যের মতোই পরিস্কার। ইসলামে নারী কেবল ছকবাঁধা কিছু অধিকার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত নয়।

বরং নারী আমাদের  গৌরবের প্রতীক। আত্মমর্যাদার স্বারক এবং সভ্যতার রক্ষা  প্রাচীর। নারী প্রসঙ্গ তাই আইনের ছক মানে না।

এখানে স্নেহ শ্রদ্ধা ভালোবাসাই প্রধান। বাবার গায়ে যে হাত তুলেছে তাকে ক্ষমা করে দেয়া যতটা সহজ- মাকে ছুঁয়েছে এমন পাপীকে ক্ষমা করা ততটা সহজ নয়।

বোনের প্রতি নিক্ষিপ্ত একটি অমার্জিত বাক্য এক বিশাল জনপদের জন্যে ধ্বংস ডেকে আনতেও কার্পণ্য করে না। এমন উপমা আমাদের দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে অল্প নয়।

তবুও জীবনের ধাপে ধাপে নারীকে কোন চোখে দেখেছে ইসলাম একটু ব্যাখ্যা করে বলছি। পশ্চিমা পতিত সভ্রতার ঢল- জল যেভাবে ঘোলা করেছে তাতে অল্প কথায় অবসরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন রচিত ‘নারীর শত্রু-মিত্র’ বই থেকে অনুলিপি করেছেন শাহনূর শাহীন। পৃষ্ঠা ১৬-১৮।

এসএস/