২০১৭-১২-২৬

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার ৭ প্রকল্পের উদ্যোগ

OURISLAM24.COM
news-image

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়াতে ৭টি নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সাত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

প্রকল্পগুলো হলো, বিলোনিয়া, ধানুয়া-কামালপুর, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, শেওলা,  ভোমরা,  রামগড়,   বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প।

এছাড়া আরও ১ হাজার ৬৮৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার নতুন পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে বল হয়েছে, সরকার যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প এখনও অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প ও  ৬৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প।

স্থলবন্দরে এক হাজার ৩২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হেভি স্টেকইয়ার্ড, খালি ট্রাক ও আমদানি করা চেসিস রাখার জন্য আলাদা টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। একই স্থলবন্দরে ১৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেনাপোলে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর আওতায় ইতোমধ্যে ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তামাবিল স্থলবন্দর উন্নয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। বেনাপোলে একটি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও একটি আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এটি গত জুনে তা উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্বব্যাংক ও সরকারের নিজস্ব অর্থে শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ৬৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়নে অনুমোদন পাওয়া ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণে সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিট সুবিধা দিলে অথবা মোটরযান চুক্তির আওতায় আগামীতে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে। বাড়বে সম্পর্ক। একইসঙ্গে সরকারি রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় ২৩টি স্থলবন্দর রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির জমির পরিমাণ ২৬১ দশমিক ৭৩৭২ একর। বন্দরগুলোয় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। ১৭ বছর আগে ২০০১ সালের জুনে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। যা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা।