রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছরেও জাতি স্বাধীনতার সুফল পায়নি: এটিএম হেমায়েত উদ্দিন

OURISLAM24.COM
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭
news-image

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেছেন, বিজয়ের দীর্ঘ ৪৬ বছর অতিক্রম করলেও মানুষ স্বাধীনতার সুফল আজো পায়নি।

চারিদিকে নৈরাজ্য, মারামারি, হানাহনি, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্র“র নিরাপত্তা নেই। সাধারণ মানুষের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

৭১-এ দেশের জনগণ যে আশা ও চেতনা নিয়ে জীবন দিয়ে পাকিস্তানীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলো তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

গতকাল ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে পুরানা পল্টন হাউজ বিল্ডিং চত্ত্বরে ‘বিজয়ের ৪৬ বছর : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পিছনে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি অবদান। ১৯৪৭ সালে মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলবী রহ.ভারতকে দারুল হারব রাষ্ট্র ঘোষণা না দিলে এদেশ স্বাধীন হতো না। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এসে যারা ধর্মনিরপেক্ষতার ঘোষণা দেয় তারা আসল ইতিহাসকে গোপন করছে।

স্বাধীনতার ঘোষণায় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না উল্লেখ্য করে অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ৭৫ সালে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করেছে। কোন নাস্তিক-বেঈমানদের অবদান ছিল না।

মুক্তিযোদ্ধারা বিসমিল্লাহ বলে এবং আল্লাহু আকবার বলেই গুলি চালিয়েছে। কাজেই ৪৬ বছর পর এসে জাতিকে বিভক্ত করার চক্রান্ত দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতা জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রুখে দাড়াবে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর উল্টর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান, নুরুজ্জামান সরকার, মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মাসউদুর রহমান, ছাত্রনেতা কেএম শরীফুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা ঈমান উদ্দিন প্রমুখ।

বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে আলোচনা সভার ফাকে ফাকে বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর ইসলামী ও দেশাত্মকবোধক সংগীতে দর্শক মাতিয়ে তোলে।

শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত আমাদের সহযোগিতা করছে বলে একদল লোক ভারতকে বন্ধু মনে করে অথচ সেই ভারতই বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতি ৪দিনে বিএসএফকে দিয়ে একজন বাঙ্গালীকে গুলি করে হত্যা করছে। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তে কেনা এদেশের রাজনীতি, ধর্ম, অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সর্বক্ষেত্রে অশান্তি বিরাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, বিজয়ের ৪৬ বছরে ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো দেশকে বিদেশীদের আক্রমনের কেন্দ্রেস্থলে পরিণত করে স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে ইসলামী আইন ও হুকুমত না থাকার কারণে সমাজে জুলুম নির্যাতন, খুনসহ অপরাধ বেড়েই চলছে।

বিজয়ের প্রাপ্তি সম্পর্কে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, আমরা পেয়েছি চোরের খনি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে জনগণ জেনেছে তার দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলই এ চোরেরা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলাম বাদ দিয়ে সেকুলারিজম কায়েম করা, পর্দা উঠিয়ে দেয়া, ইসলামী তাহজীব তামাদ্দুনকে ধ্বংস করতে এদেশ স্বাধীন হয়নি।

এসএস/