২০১৭-১০-২৩

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে সরকারকে জোর কূটনীতি চালানোর আহবান জমিয়তের

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সাথে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এক বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকের রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় দলীয় নেতৃবৃন্দ আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর কাছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে জমিয়তের পক্ষ থেকে লাগাতার ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

জমিয়ত মহাসচিব গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে দলীয় ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি জোরালো কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে সরকারের প্রতিও আহবান জানান।

২২ অক্টোবর রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পয্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে বৈঠকে জমিয়ত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি মাওলানা জহিরুল হক ভূঁইয়া, মাওলানা ওবায়দুল্লাহফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলামআফেন্দী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান, ফজলুল করীমকাসেমী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (মানিক নগর), অর্থ-সম্পাদক মুফতী মুনিরহোসাইন কাসেমী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা সলিম উল্লাহ, মুফতীজিহাদুল ইসলাম খুলনা প্রমুখ।

বৈঠকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুরু থেকেই দলীয় ত্রাণ বিতরণ এবং টিউবওয়েল স্থাপনসহ মসজিদ, মাদরাসা নির্মাণ কাজের তদারকিতে থাকা জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্মমহাসচিবমাওলানা বাহা উদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী তাদের কায্যক্রম সম্পর্কে জমিয়ত মহাসচিবের কাছে রিপোর্ট করেন।

জমিয়ত মহাসচিব গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আশ্রয়প্রার্থী বিপদগ্রস্থ মজলুম মানুষদের প্রতি ত্রাণবিতরণসহ সহযোগিতামূলক তৎপরতায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আলেম সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম মানবতার ধর্ম। দলমত নির্বিশেষে যে কোন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইসলাম মুসলমানদেরকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে। তদুপুরি মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই।

তিনি আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানগণ তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মানবিক চাহিদা পুরণে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসী ও সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বৈঠক থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারারসহকারী পরিচালক মাওলানা নাজমুল হাসান, জমিয়তের কেন্দ্রিয় নেতা ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারারমুহাদ্দিস মুফতী জাকির হোসাইনসহ ৪ সদস্যের একটি ত্রাণবিতরণ সমন্বয় টিম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

বৈঠকে জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রোহিঙ্গা সংকটকে পুঁজি করে বিভিন্ন আধিপত্যবাদি ও আগ্রাসী শক্তি নানা অপতৎপরতা চালাতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জমিয়তের নেতা-কর্মীসহ দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককে সতর্ক থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে সাহায্য-সহযোগিতার নামে বিভিন্ন এনজিও গোষ্ঠীর তৎপরতা গভীর পয্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এনজিও শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করেছে। সাহায্য ও শিক্ষার আড়ালে এনজিওগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঈমানহারা ও ধর্মান্তকরণসহ দেশবিরোধী কোন উস্কানী দিচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

জমিয়ত মহাসচিব গত কিছু দিন আগে রোহিঙ্গাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে ২১ দফা দাবিনামা পেশকেও গভীর ষড়যন্ত্রের আলামত আখ্যা দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্তব্য, গভীর তদন্তের মাধ্যমে এসব দাবীনামা প্রচারের পেছনের হোতাদেরকে খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।

বৈঠকে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রোহিঙ্গা ইস্যুকে দেশ ও জাতীর জন্য গভীর সংকট বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ রাখাইনে তাদের নিজ আবাসভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকাররের উপর তীব্র চাপ তৈরি করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান।

রোহিঙ্গা ইস্যুসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও দীর্ঘ বৈঠকে জমিয়তে উলামের সাংগঠনিক তৎপরতাকে দেশব্যাপী আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। জমিয়ত মহাসচিব ইসলাম, দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে বিরামহীন গতিতে কাজ করার জন্য জমিয়ত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

‘জমিয়ত সঠিক নিয়মেই চলছে; দলীয় ফোরাম ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে না’