২০১৭-০৬-২৪

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

দুনিয়া থেকেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবি

OURISLAM24.COM
news-image

মাহদী হাসানাত খান

জান্নাত! প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ের চূড়ান্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা! জান্নাত যেন হয় চিরস্থায়ী নিবাস, তাইতো মুসলিমগণ মহান আল্লাহর বিধি-বিধান এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর প্রিয় সুন্নাত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করেন। তবে এই জান্নাত মিলবে, ‘বিচার দিবসে’। ‘মিজান’-এ পূণ্যের ভাগ বেশি হলে। তাইতো মুসলিমগণ সবসময়ই থাকেন আশা আর ভয়ের দোটানার মাঝে। কিন্তু কেউ যদি পার্থিব জীবনেই লাভ করেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জান্নাত’-এর সুসংবাদ! এতো মহা সফলতা! মহা সৌভাগ্য!

বিশেষ ‘দশজন’ সৌভাগ্যবান সাহাবী রা. ছিলেন, যাঁরা তাঁদের বিশেষ আমল এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পার্থিব জীবনেই লাভ করেছিলেন অপরিমিত নেয়ামতের স্থান ‘জান্নাত’-এর সুসংবাদ! সৌভাগ্যবান সাহাবীগণ রা.-কে বলা হয় “আশারায়ে মুবাশশারাহ”। তাঁরা হলেন-

১. হজরত আবু বকর রা.

আবু বকর রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদিনার একটি বাগানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি এসে দরজায় করাঘাত করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাঁর জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ আমি দরজা খুলে দেখলাম, তিনি আবু বকর রা.। আমি তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফরমান অনুসারে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তখন তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন। (বুখারী, হাদীস নং: ৩৪৯০)

পূর্ণ নাম: আবদুল্লাহ বিন আবি কুহাফা (আবু বকর নামে পরিচিত)
উপনাম: খলিফাতুর রাসুল, সিদ্দিক।
জন্মগ্রহণ: অক্টোবর ৫৭৩ সালের দিকে, মক্কার কুরাইশ বংশের “বনু তাইম” গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছেন।
জন্মস্থান:মক্কা, আরব উপদ্বীপ।
পিতার নাম: উসমান আবু কুহাফা।
মাতার নাম: সালমা উম্মুল খাইর।
বংশ:সিদ্দিকি।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ:- আবু বকর রা. সম্পর্কে বলা হয়েছে, অন্যান্য সবার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কিছু মাত্রায় দ্বিধা ছিল, কিন্তু আবু বকর রা. বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান:
আবু বকর রা. ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একজন প্রধান সাহাবি।
ইসলামের প্রথম খলিফা।
প্রথম মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের সম্মান তাঁকে দেওয়া হয়।
এছাড়া তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্বশুর ছিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইনতেকালের পর তিনি খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন এবং মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন।

পবিত্র কুরআনে (সূরা তওবা, আয়াত নং: ৪০) আবু বকর রা.-কে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। হিজরতের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আত্মরক্ষার্থে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেয়ার কারণে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে।

আবু বকর রা. মিরাজের ঘটনা শোনামাত্রই বিশ্বাস করেছিলেন বলে, তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তাই তাঁকে আবু বকর সিদ্দিক নামে সম্বোধন করা হয়।

আবু বকর রা. একজন একনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহযোগিতা করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আবু বকর রা. বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাবুকের যুদ্ধে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ দান করে দেন।

আবু বকর রা. না জেনে দ্বীনের কোনো বিষয়ে কথা বলতে ভয় করতেন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার ওপর কারো এমন অনুগ্রহ নেই, যার বিনিময় আমি দেইনি। তবে শুধু আবু বকর ছাড়া। আমার প্রতি তার এতো অনুগ্রহ, যার বিনিময় আল্লাহ্‌ তায়ালা কেয়ামত দিবসে দেবেন। কারো সম্পদ কখনো আমাকে এতো ফায়দা দেয়নি, যতটুকু দিয়েছে আবু বকর রা.-এর সম্পদ।’ (তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৬১; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।)

শাসনকাল:- ৮ জুন ৬৩২ – ২২ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ।
ইনতেকাল:- ২২ আগস্ট ৬৩৪ (৬১ বছর)
মদিনা, রাশিদুন খিলাফত।

সমাধি: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমাধিস্থলের পাশে।
মসজিদে নববী, মদিনা, সৌদি আরব।

২. উমর ইবনুল খাত্তাব রা.

উমর রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘…এবং উমর জান্নাতি।’ (মুসনাদে আহমদ, ১/১৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৬৫০)

পূর্ণ নাম: উমর ইবনুল খাত্তাব।
উপনাম: আমিরুল মুমিনিন,ফারুক।
জন্মগ্রহণ: ৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, মক্কার কুরাইশ বংশের ‘বনু আদি’ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
জন্মস্থান: মক্কা, আরব উপদ্বীপ।
পিতার নাম: খাত্তাব ইবনে নুফায়েল।
মাতার নাম: হানতামাহ বিনতে হিশাম।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: উমর রা. ৬১৬ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান:
উমর রা. ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা।
প্রধান সাহাবিদের অন্যতম।
আবু বকর রা. ইনতেকালের পর তিনি দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন।

উমর রা. ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়।
‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

উমর রা.-এর ইসলাম গ্রহণের পর, প্রকাশ্যে কাবার সামনে নামাজ আদায় করাতে মুসলিমগণ বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইসলাম গ্রহণের পর গোপনীয়তা পরিহার করে, প্রকাশ্যে তিনি মুসলিমদের নিয়ে বাইরে আসেন এবং কাবা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেদিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে “ফারুক” উপাধি দেন।

উমর রা.-এর অন্তর ও কথা অনুযায়ী ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল।
উমর রা.-এর কাছে যা ইলহাম হত, তা আল্লাহর সিদ্ধান্ত হত।
উমর রা. এমন ব্যক্তিত্ব, শয়তানও তাঁকে ভয় পেতো।
দ্বীনের বিষয়াবলিতে উমর রা. ছিলেন বেশ কঠোর।
মহান আল্লাহর কাছে উমর রা. হলেন সবচে’ প্রিয়।

শাসনকাল:- ২৩ আগস্ট ৬৩৪ – ৩ নভেম্বর ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ।
ইনতেকাল:- ৩ নভেম্বর ৬৪৪ (২৬ জিলহজ ২৩ হিজরি)।

সমাধি:- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমাধিস্থলের পাশে।
মসজিদে নববী, মদিনা, সৌদি আরব।

৩. উসমান ইবনে আফফান রা.

উসমান রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ:
আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বাগানে প্রবেশ করলেন। আমাকে বাগানের দরজায় পাহারা দেওয়ার কথা বললেন। সে সময় একজন লোক এলেন এবং অনুমতি চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাঁকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ তিনি ছিলেন আবু বকর রা.। এরপর উমর রা. এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাঁকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ এরপর উসমান রা. এলেন এবং অনুমতি চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ (বুখারী, হাদীস নং: ৬৭৩০)

পূর্ণ নাম:- উসমান ইবনে আফফান।
উপনাম:- যিননূরাইন (দুই নূরের অধিকারী), আল-গনি (উদার), আমির আল-মুমিনুন।
জন্মগ্রহণ:- ৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ (৪৭ হিজরি )।তিনি কুরাইশ বংশের উমাইয়্যা শাখার সন্তান ছিলেন। তার ঊর্ধ্ব পুরুষ আবদে মান্নাফে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশের সাথে মিলিত হয়েছে।

জন্মস্থান:- তায়েফ, সৌদি আরব।
পিতার নাম:- আফফান ইবন আবি আল-আস।
মাতার নাম:- আরওরা বিনতে কুরাইজ।
বংশ:- কুরাইশ (বনু উমাইয়া)।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ:- হযরত উসমান রা. ‘আস-সাবেকুনাল আওয়ালুন’ (প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণকারী)। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ এর উপরে।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান:
উসমান রা. ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা।
খলিফা হিসেবে তিনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদুনের একজন।
তিনি সেই ৬ জন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম, যাদের ওপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরণ সন্তুষ্ট ছিলেন।
উসমান রা. ‘রুমা’ নামক কূপ খরিদ করে, মুসলমানদের জন্যে ওয়াকফ করেছিলেন।
তিনি মসজিদ নির্মাণ ও প্রশস্ত করেছিলেন।

শাসনকাল:- ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
ইনতেকাল:- ১৭ জুন ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ (১৮ জিলহাজ্জ ৩৫ হিজরি)। ৭৯ বছর। খুলাফায়ে রাশেদিন এর রাজত্বকালে।
সমাধি:- জান্নাতুল বাকি, মদিনা, সৌদি আরব।

৪. আলী ইবনে আবু তালিব রা.

আলী রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘…এবং আলী জান্নাতি’। (মুসনাদে আহমদ ১/১৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৬৫০)

পূর্ণ নাম: আলী ইবনে আবু তালিব।
উপনাম: বিশ্বস্ত দলপতি, আবু আল-হাসান (হাসানের পিতা), আবু তুরাব (ধূলিকণা/মাটির পিতা), আসাদুল্লাহ (আল্লাহর সিংহ)।
জন্মকাল: ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে।
জন্মস্থান: মক্কা।
পিতার নাম: আবদে মানাফ ইবনে আবদুল মুত্তালিব।
মাতার নাম: ফাতিমা বিনতে আসাদ।
বংশ:তিনি মক্কার বিখ্যাত ‘হাশেমি’ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচাত ভাই।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুওয়াতের শুরুতেই হযরত আলী রা. ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন আলী রা.-এর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। বালকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান:
তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে “জুলফিকার” নামক তরবারি উপহার দিয়েছিলেন।

খাইবারের সুরক্ষিত ‘কামুস দুর্গ’ জয় করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন।
হযরত আলী রা. খুলাফায়ে রাশেদিন-এর একজন।
ফায়সালার ক্ষেত্রে আলী রা. ছিলেন সাহাবাদের মাঝে সবচেয়ে অভিজ্ঞ।

৫. তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ রা.

তালহা রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: সাঈদ বিন যায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আবু বকর জান্নাতি। উমর জান্নাতি। উসমান জান্নাতি। তালহা জান্নাতি। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং: ১৫৩৪)

পূর্ণ নাম: তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ
উপনাম: জায়াদ
জন্মকাল:- আনুমানিক ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দ। (৬৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুর সময় তালহার বয়স ছিল চান্দ্র সন অনুযায়ী ৬৪ বছর। ফলে তার জন্মসাল ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ধরা হয়।)
জন্মস্থান:- মক্কা।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান
তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একজন ঘনিষ্ঠ সাহাবি ছিলেন।
উহুদের যুদ্ধ ও জঙ্গে জামালে (উটের যুদ্ধে) অংশগ্রহণের জন্য তিনি অধিক পরিচিত।
দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
ইনতেকাল: ৬৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর।

৬. যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা.

যুবাইর রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ:- সাঈদ বিন যায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আবু বকর এবং উমর জান্নাতি। আলী জান্নাতি। তালহা জান্নাতি এবং যুবারের জান্নাতি…।’ (মুসনাদে আহমদ, ১/১৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৬৫০)

পূর্ণ নাম:- যুবাইর ইবনুল আওয়াম।
উপনাম:- হাওয়ারিয়্যু রাসূলিল্লাহ।
জন্মকাল:- হিজরতের আটাশ বছর পূর্বে।
পিতার নাম:- আওয়াম।
মাতার নাম:- সাফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: প্রথম পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. অন্যতম। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান:
হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. ছিলেন দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত সাবধানী একজন সাহাবী। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাওয়ারী ও সার্বক্ষণিক সঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও খুব কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

দানশীলতা, উদারতা, আমনতদারিতা, পরোপকারিতা ইত্যাদি গুণে তিনি ছিলেন গুণান্বিত।

প্রথম পর্বে যাঁরা ইসলাম কবুল করেছিলেন, তাঁদের সবার মতো হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা.ও কাফির-মুশরিকদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। তাঁর চাচা তাঁকে ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেনি। অবশেষে দ্বীন ও ঈমান রক্ষার তাগিদে জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করেন। তিনি হাবশায় হিজরত করেন। হাবশায় কিছুকাল অবস্থান করেন। অতঃপর ফিরে আসেন মক্কায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর, তিনিও মদিনায় হিজরত করেন। মক্কায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হজরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. এবং তালহা রা.-এর মাঝে দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. অল্প বয়সে ইসলাম গ্রহণ করলেও ইসলামের জন্য নিজ জীবনকে বাজি রাখতে তিনি ছিলেন অগ্রগামী।

দুঃসাহসী একজন মর্দে মুজাহিদ ছিলেন হযরত যুবাইর রা.।
বদর যুদ্ধে তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। শত্রু পক্ষের কাছে ‘যুবাইর’ নামটাই ছিল মারাত্মক ত্রাস সৃষ্টিকারী। তিনি যে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সে সব ক্ষেত্রে শত্রুদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছেন।

শাহাদাত বরণ:- হযরত যুবাইর. রা-এর শাহাদাতের সনটি ছিল হিজরী ৩৬।
সমাধি: শাহাদাতের পর তাঁর লাশ ‘আসা সিবা’ উপত্যকায় দাফন করা হয়।

৭. আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.

আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘…এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ জান্নাতি।’ (মুসনাদে আহমদ ১/১৮৮; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৪৯)

নাম: তার মূল নাম ছিল ‘আবদুল আমর’ বা ‘আবদুল কাবা’। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখেন ‘আবদুর রহমান’। ডাক নাম ‘আবু মুহাম্মাদ’।

জন্মকাল:- আনুমানিক ৫৮০ সালে।
জন্মস্থান:- মক্কা।
পিতার নাম:- নাম আওফ।
মাতার নাম:- শেফা।
বংশ:- তাঁর পিতা-মাতা উভয়েই ছিলেন ‘যোহরী’ নামক গোত্রের।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: আবু বকর রা., আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-কে ইসলামের বিষয়ে বলেন এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এখান থেকেই হযরত আবু বকর রা.-এর দাওয়াতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেদমতে হাজির হন এবং ইসলাম কবুল করেন। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রথম ৮ জন ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান
আবদুর রহমান রা.-এর বিচক্ষণতার জন্য, তাঁর সিদ্ধান্তের কারণে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা থেকেও মুসলিম সমাজ রক্ষা পেয়েছে। যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে।
তিনি মদিনাবাসীর জন্যে বেশ খরচ করতেন।
রাসূল পরিবারের সাথে তাঁর ছিল সুসম্পর্ক।
তিনি ছিলেন দুনিয়া বিরাগী।
ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যক্তি।

ইনতেকাল:- আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. ৩৩ হিজরি মোতাবেক ৬৫৩-৬৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
সমাধি:- বর্তমান জর্ডানের আম্মানে তাঁকে দাফন করা হয়।

৮. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.

সা’দ রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘…এবং সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি। (মুসনাদে আহমদ, ১/১৮৭)

পূর্ণ নাম:- তাঁর নাম সা’দ। ডাকনাম আবু ইসহাক। পরবর্তীতে তিনি সা’দ ইবন আবি ওয়াকক্কাস নামে পরিচিত হন।
জন্মকাল:- আনুমানিক ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দ।
জন্মস্থান:- মক্কা, আরব।
পিতার নাম:- আবু ওয়াক্কাস মালেক।
মাতার নাম:- হামনা।
বংশ:- তিনি ‘যোহরী’ গোত্রের লোক ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাতা আমিনাও এ ‘যোহরী’ গোত্রের ছিলেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: সা’দ রা. মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইসলাম কবুল করেন। প্রথম খলীফা হযরত সিদ্দীকে আকবর রা.-এর দাওয়াত পেয়ে সা’দ রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট হাজির হন এবং ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। তিনি ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭তম ব্যক্তি।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান
৬৩৬ সালে পারস্য বিজয়ের নেতৃত্ব ও শাসনের জন্য তিনি অধিক পরিচিত। ৬১৬ ও ৬৫১ সালে তাঁকে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে চীন পাঠানো হয়েছিল।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ হচ্ছে বদরের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে হযরত সা’দ রা. অসম্ভব সাহসিকতার সাথে লড়াই করেন।
ওহুদের যুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে যে সমস্ত সৈনিক সাহাবা নবীজীকে হেফাজত করার জন্য তাঁকে ঘিরে ব্যূহ রচনা করেছিলেন, নিজেদের জানকে বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, হযরত সা’দ রা. ছিলেন তাঁদেরই একজন।

হযরত সা’দ রা. অত্যন্ত মর্যাদাবান একজন সাহাবা ছিলেন। খোলাফায়ে রাশেদাসহ অন্যান্য সাহাবারাও তাঁকে অত্যন্ত সমীহ করে চলতেন।
বিলাল রা.-এর অনুপস্থিতিতে তিন বার হযরত সা’দ রা. আযান দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
তিনি প্রথম সৌভাগ্যবান, যিনি আল্লাহর রাস্তায় তীর চালিয়েছেন।
সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. উহুদ যুদ্ধের বাঘ।

পদমর্যাদা:- কমান্ডার
তিসফুনের গভর্নর (৬৩৭-৬৩৮)
বসরার গভর্নর (৬৩৮-৬৪৪), (৬৪৫-৬৪৬)।

নেতৃত্বসমূহ: মুসলিমদের পারস্য বিজয়।

ইনতেকাল:- পঁচাশি বছর বয়সে মদীনা থেকে দশমাইল দূরবর্তী আকীক উপত্যকায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইনতেকালের সময়টা ছিল আনুমানিক ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দ, হিজরী ৫৫ সন।

মদীনার সে সময়কার গভর্নর ‘মারওয়ান’ তাঁর নামাযে জানাজা পড়ান। মৃত্যুকালে হযরত সা’দ রা.-এর অছিয়ত মুতাবেক, বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকালীন পরিহিত পুরানো জুব্বাটি দিয়েই তাঁর কাফন তৈরী করা হয়।

সমাধি: মদিনা, সৌদি আরব।

৯. সাঈদ ইবনে যায়িদ রা.

সাঈদ ইবনে যায়িদ রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘…এবং সাঈদ ইবনে যায়িদ জান্নাতি।’ (আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৬৪৯; তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৭৪৮; মুসনাদে আহমদ ১/১৮৯)

পূর্ণ নাম:- নাম তাঁর ‘সাঈদ’। ডাকনাম ‘আবুল আওয়ার’।
জন্মগ্রহণ:- আগস্ট ৫৯৩-৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে।
জন্মস্থান:- মক্কা।
পিতার নাম:- যায়িদ।
মাতার নাম:- ফাতিমা বিনতে বাজা।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ:- ইসলাম প্রচারের প্রথম ভাগে যাঁরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, সাঈদ ইবনে জায়িদ রা. তাঁদেরই একজন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান
ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তিনি ছিলেন হানিফ অর্থাৎ তৎকালীন পৌত্তলিকতা থেকে বিরত থাকা। একেশ্বরবাদী যারা ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মপদ্ধতি ঐতিহ্যগতভাবে তখনো সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় ধরে রেখেছিল এবং তাঁর পূর্বসূরিও হানিফ ছিলেন।
সাঈদ ইবনে যায়িদ রা. ছিলেন একজন বীর মুজাহিদ।
তিনি ছিলেন ‘মুসতাজাবুদ দা’ওয়াহ’ অর্থাৎ তিনি দোয়া করলে, মহান আল্লাহ্‌ কবুলই করতেন।
ইনতেকাল:- আগস্ট ৬৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। (বয়স প্রায় ৮০ বছর)।
সমাধি: মদিনা, সৌদি আরব।

১০. আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা.

আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ: আবদুর রহমান বিন আউফ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আবু বকর জান্নাতি। ……আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতি।’ (মুসনাদে আহমদ ১/১৮৭; আবু দাউদ ৪৬৫০)

পূর্ণ নাম: আবু উবাইদা আমর ইবনে আবদিল্লাহ ইবনুল জাররাহ। “আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ” বলে অধিক পরিচিত। তিনি তাঁর আব্বা আবদুল্লাহ’র নামে পরিচিত না হয়ে, দাদার নামে অর্থাৎ ইবনুল জাররাহ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

উপনাম:- আমিনুল উম্মাহ (উম্মাহর তত্ত্বাবধায়ক)।
ডাক নাম:- আবু উবাইদাহ নামেই খ্যাত হন।
জন্মকাল:- আনুমানিক ৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে।
জন্মস্থান:- মক্কা, আরব।
পিতার নাম:- আবদুল্লাহ।
বংশ:- তিনি কুরাইশের বনু আল হারিস ইবনে ফিহর গোত্রের সদস্য ছিলেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ: হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম প্রচারের শুরুতে নিজের কাছের সঙ্গীদের প্রথম ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। এসময় আবু উবাইদা রা. ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম ধর্মে তাঁর কতিপয় অবদান

হযরত আবু উবাইদা রা. সেই ব্যক্তি, যিনি ইসলামের জন্য আপন মুশরিক পিতাকে হত্যা করেন।

হযরত আবু উবাইদা রা. প্রায়ই পরকালের ভয়ে কান্নাকাটি করতেন।

ওহুদের যুদ্ধে যে দশজন সাহাবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্পাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘিরে ব্যূহ রচনা করেছিলেন, যাঁরা তাঁদের জান বাজি রেখে আল্লাহর নবীর হেফাজতের চেষ্টা করেছিলেন, উবাইদা রা. তাঁদেরই একজন। যুদ্ধ শেষে যখন দেখা গেলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি চেহারা মোবারক যখম হয়েছে, দু’টি দাঁত শহীদ হয়েছে এবং লৌহবর্মের দু’টি বেড়ি গণ্ডদেশে ঢুকে গিয়েছে, তখন হযরত আবু বকর রা. এ দৃশ্য দেখে ছুটে এসে বেড়ি দু’টি দ্রুত খোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু উবাইদাহ তাঁকে বাধা দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাতে কষ্ট না পান, তাই তিনি দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে সাবধানে বেড়ি বের করে আনলেন। কিন্তু বেড়ি দুটো মারাত্মকভাবে ঢুকে যাওয়ার কারণে উবাইদা রা.-এর দুটো দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি এ প্রেম-ভালোবাসা দেখে হযরত আবু বকর রা. বললেন, ‘আবু উবাইদা! সর্বোত্তম দাঁত ভাঙ্গা ব্যক্তি!’

তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
রাসূলের নির্ভরযোগ্য সাহাবী।
তিনি ছিলেন রাসূলের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ।
পদমর্যাদা:- রাশিদুন সেনাবাহিনীর সেনাপতি (৬৩৪-৬৩৮)।
নেতৃত্বসমূহ:- লেভান্টের গভর্নর (৬৩৪-৬৩৮)।
যুদ্ধ/সংগ্রাম:- “মুসলিম-কুরাইশ যুদ্ধ
মুসলিমদের সিরিয়া বিজয়।

ইনতেকাল: আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে, হিজরী পঞ্চাশ সনে, সত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। হযরত সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস তাঁর গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা করেন। আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা) তাঁর জানাযার নামায পড়ান।
সমাধি: জর্ডান উপত্যকা, জর্ডান।

একজন হিন্দুস্তানি সাহাবি