২০১৭-০৫-০৮

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

আদালতে দাঁড়াতেও পারলেন না খালেদা জিয়া

OURISLAM24.COM
news-image

পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আজ আদালতে পৌঁছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। ১১টা ৩৫ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে পৌঁছান তিনি।

গাড়ি থেকে নামার পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুই হাত ধরে হাঁটতে সহায়তা করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও বিশেষ সহকারী সুলতানা কামাল। এ সময় সাহায্যের জন্য কাছে ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ।বোঝাই যাচ্ছিল, খালেদা জিয়ার হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। আর সেখানে জড়ো হওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে আদালতের দিকে এগোচ্ছিলেন।

এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবীর খান জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রচণ্ড পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। তিনি ভালো করে হাঁটতে ও দাঁড়াতে পারছেন না। বসলে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যেই আজকে তাঁকে আদালতে হাজির হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতেও তাঁর অনেক কষ্ট হয়েছে। সঙ্গে সব সময় ওষুধ রাখতে হচ্ছে।বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিএনপির চেয়ারপারসন আদালত কক্ষে পৌঁছান। আইনজীবীরা তাঁকে একটি চেয়ারে বসতে দেন।

বিচারক এজলাসে বসলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা উঠে দাঁড়ান।এ সময় খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় এতটাই কাবু ছিলেন যে, তিনি তখন চেষ্টা করেও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে পারেননি।পরে বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় প্রচণ্ড অসুস্থ। তিনি বসতে-উঠতে বা হাঁটতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তাই তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। এত অসুস্থতা নিয়েও তিনি শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজ আদালতে হাজির হয়েছেন।’ আদালত তখন বলেন, ‘ঠিক আছে।’ এর পর জমির উদ্দিন সরকার আদালতে এ মামলা সাময়িক স্থগিতের জন্য আবেদন জানান।

তিনি জানান, এ মামলার বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইেকার্টে আবেদন করা হয়েছে। সেটি এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিন সপ্তাহের জন্য মামলাটি এখানে শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন করছি। এ অবস্থায়, এখানে এই মামলার শুনানি করা ঠিক হবে না।এ সময় সেখানে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, সানাউল্লাহ মিয়া, জয়নুল আবেদীন, মাসুক আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

সূত্র: এনটিভি