শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮

ওআইসি ভেঙে মুসলিম জাতিসংঘ গঠনের দাবি হেফাজতের

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ২৫, ২০১৬
news-image

hefajot7আওয়ার ইসলাম: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের অতিষ্ঠ হয়ে জীবন বাঁচাতে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে তারা ওআইসি ভেঙে দিয়ে মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করে আরাকানের মুসলমানদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার দাবি জানান।

শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এ দাবি করা হয়।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে সমাবেশে বক্তরা সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের স্বরনার্থী হিসেবে আশ্রয় না দিলে ১০০ বছরেও আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। ভারতের মত আজকেও বর্ডার খুলে দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বরনার্থী হিসেবে আশ্রয় দিন।

হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর যেভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে তাতে বিশ্বের কোনো মুসলমান চুপ থাকতে পারে না। বর্ডার খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় দিন। ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিশ্ব মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আরাকান রাজ্যে তাদের বাসবাসের ব্যবস্থা করুন।

হেফাজত ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী।  বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগরীর সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহসভাপতি মুফতী ফয়জুল্লাহ, অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, মুফতি তৈয়্যেব হোসাইন, মাওলানা মুহিউদ্দীন একরাম, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জসিমুদ্দীন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, ১৯৭১ সালের মক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের স্বরনার্থী হিসেবে আশ্রয় না দিলে ১০০ বছরের আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। ভারতের মত আজকেও বর্ডার খুলে দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বরনার্থী হিসেবে আশ্রয় দিন। তিনি বলেন, কোনো মুসলিম জনপদ আক্রান্ত হলে পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশের ওপর প্রতিবাদ করা জরুরি। শিগগিরই ওআইসি ভেঙে দিয়ে মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করে আরাকানের দের পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহসভাপতি মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, অবিলম্বে এই হত্যাঝঞ্জ বন্ধ করা না হলে, লাখো কালেমাপড়া এই নিরন্ন, নিঃস্ব মুসলমানের জন্য,অসংখ্য মুসলিম মা-বোনের জন্য টেকনাফ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করতে বাধ্য হবো। একজন মুসলিম মেয়ের আর্তনাদ শুনে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মতো শাসক হিন্দুস্তানে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন তেমনিভাবে মুসলমান হিসেবে মুসলমানদের রক্ষার জন্য আমাদেরকে সব কিছু করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার মহাসচিব মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, মিয়ানমার সরকারের বর্বরতা থেকে নারী ও শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না। রাসন্তা, খালে-বিলে, নদীতে মুসলমানদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো বন্ধ করুন। তিনি বলেন, নির্যাতিত এ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি জেলখানা তৈরি করুন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ঘুরে আবার দক্ষিণে গেটে শেষ। এসময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করে।

আরআর

প্রাণভয়ে পালাচ্ছে লাখও মানুষ