সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮

গুলশান হামলার ‘হোতা’ তামিমসহ ৩ জঙ্গি নিহত

OURISLAM24.COM
আগস্ট ২৭, ২০১৬
news-image

tamim copyআওয়ার ইসলাম: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি জঙ্গি আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলশান হামলার ‘হোতা’ তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।

ফারুক জানান, আজ শনিবার ভোররাত ৪টার পর থেকে পুলিশ ওই বাড়ির আশপাশের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। সকাল ৮টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, সোয়াত ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা। এক ঘণ্টা প্রস্তুতির পর সকাল ৯টার দিকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়।

আইজিপির ভাষ্য

জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর ঘটনাস্থলে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি সংবাদিকদের বলেন, নতুন জেএমবির সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তামিম চৌধুরী। তিনি গুলশান, শোলাকিয়া হামলায় জড়িত ছিলেন। গত ২ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তায় ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে, তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জে বসবাস করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াত এ অভিযান পরিচালনা করে। মূল অভিযান এক ঘণ্টা ধরে চলে।

আইজিপি বলেন, পুলিশের কাছে তামিমের যে ছবি ছিল, সে ছবির সঙ্গে নিহত তিন জঙ্গির একজনের চেহারার মিল রয়েছে। তাই পুলিশ মনে করছে, নিহত ওই ব্যক্তি তামিম চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জঙ্গিরা সেটি না করে, চার থেকে পাঁচটি গ্রেনেড ছুড়ে মারে। তখন পুলিশ পাল্টা আক্রমণ করে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিন জঙ্গি নিহত হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, পুলিশের গুলিতেই তিন জঙ্গি নিহত হয়। ওই আস্তানা থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। তিনি আরো জানান, তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার পর আস্তানা থেকে একটি একেএম ২২ বন্দুক ও দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

গত পয়লা জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।

ওই দিন রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। ওই হামলায় মোট ২৯ জন নিহত হয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা বলে দাবি করেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি জানান, তামিম ও জিয়াকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

গত ২ আগস্ট রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ ঘোষণা দেন।

সূত্র: এনটিভি