২০১৬-০৭-২৭

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সন্তানকে যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?

OURISLAM24.COM
news-image

উম্মে মাবরুহা; ফিচার রাইটার, আওয়ার ইসলামbaby

সন্তান নিয়ে সব মা বাবাই চিন্তিত থাকেন। কিভাবে লালন পালন করবেন এবং অন্যের লালসার হাত থেকে রক্ষা করবেন এই নিয়ে চিন্তার অন্ত থাকে না। এসবের পরও নিজের অজান্তেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তাই প্রত্যেক বাবা মা বা অভিভাবককে তার সন্তান বা পাশের ছোট্ট শিশুকে অন্যের নজর থেকে রুখতে কিছু জিনিস এড়েয় চলতে হবে। জেনে রাখুন প্রয়োজনীয় এ বিষয়গুলো।

১. আপনার মেয়ে শিশুকে অন্য কারো কোলে (এমনকি চাচা-চাচতো ভাই সহ গাইরে মাহরাম যারা) বসা থেকে বিরত রাখুন। তাদের মাঝে লজ্জাবোধ সৃষ্টি করুন।

২. আপনার সন্তানের বয়স দুই বছর পুর্ণ হবার পর তাদের সামনে কাপড় পরা/বদলানো থেকে বিরত থাকুন। এবং ছোট বেলায় যত্র-তত্র উলঙ্গ অবস্থায় যেতে নিষেধ করুন।

৩. কখনো কোন সমবয়সী কিংবা দাদা-দাদি, নানা-নানি শ্রেণির কেউ আপনার সন্তানকে ‘আমার বউ/আমার জামাই’ বলার সুযোগ দেবেন না। এমন মশকরা করা থেকে তাদের সাবধান করে দিন।

৪. আপনার সন্তান যখন বন্ধুদের সাথে খেলতে যায় তখন লক্ষ্য রাখুন তারা কি ধরনের খেলা খেলছে? আমাদের দেশে বাচ্চারা ‘চড়ুই ভাতি’ রান্নার সময় স্বামী-স্ত্রী সাজে এবং পরষ্পর বর-কনে সেজে কিংবা পুতুলদের বিয়ে দিয়ে দুষ্টমির ছলে প্রাপ্তবয়স্কদের মত আচরণ করে। এসব বিষয় পরবর্তীতে যৌন হয়রানিতে রুপ নেয়।

৫. কখনো আপনার বাচ্চাকে জোর করে অন্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কিংবা নারীর কাছে পাঠাবেন না- যদি তারা ওই লোকটির সাথে কথা বলতে অথবা মিশতে সাচ্ছ্যন্দবোধ না করে। এমনকি অন্য কোন ব্যাক্তির প্রতি আপনার সন্তান অতি আগ্রহী হলে তার অতি আগ্রহের কারণ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন।

৬. যদি আপনার এ্যাকটিভ বাচ্চাটি হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যায় তাহলে তাকে প্রশ্ন করে তার কারণ বের করার চেষ্টা করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন হঠাৎ কি কারণে তার মন খারাপ হয়েছে। অনেক সময় তারা যৌন হয়রানির শিকার হলে লজ্জায় অন্যের কাছে প্রকাশ করে না- নিজের কাছে হীনমন্যতায় ভোগে।

৭. সাবধানতার সাথে বয়সন্ধীকালে আপনার সন্তানকে সঠিক যৌন শিক্ষা দেবার চেষ্টা করুন। না হয় বন্ধু-বান্ধব/ সমাজ তাকে ভুলভাবে এ বিষয়টি শিক্ষা দিবে।

৮. সন্তান কোন কার্টুন কিংবা ফিল্ম দেখার আগে আপনি সে কার্টুনটি/ ফিল্মটি সম্পর্কে অবগত হয়ে নিন। জেনে নিন তাতে কুশিক্ষনীয় কিছু আছে কিনা?

৯. কিছু ব্যাক্তি বা বস্তুকে ব্ল্যাক লিস্টে রাখুন- যেটা আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন ব্যবহার ভালো নয় এমন আত্মীয়কে আপনার সন্তানের সংষ্পর্শে আসতে বারণ করুন।

১০. আপনার সন্তানকে প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিবাদ করার জন্য অনুপ্রেরণা দিন। কিভাবে বাজে পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা করবে তার ধারণা দিন।

১১. আপনার সন্তান কোন নির্দিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করলে তা হেলায় উড়িয়ে দিবেন না। তার কথার সত্যতা যাচাই করুন। তাদের বুঝতে দিন সে একা নয়- তার সহায়তা করার জন্য আপনি আছেন। এটি তার আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী করবে।

১২. সব সময় দ্বীনি তালিম দিন। শরিয়তের হুকুম আহকাম, মসনূন দোয়া, কুরআনের আয়াত ইত্যাদি মশক করান।

১৩. সন্তানকে কখনো একা করে রাখবেন না। সব সময় নজরে রাখার চেষ্টা করুন।

এছাড়াও আরো কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকে যা আপনিই আপত্তিকর হিসেবে বুঝতে পারেন এসব থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন। ইনশাআল্লাহ আপনার সন্তান চরিত্রবান হবে এবং যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পাবে।

আরআর