রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

মাদরাসা সুপারের ইন্তিকালে এলাকায় শোকের ছায়া

OURISLAM24.COM
জুলাই ১৮, ২০১৬
news-image

downloadযুবায়ের আহমাদ : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল দারুসসালাম দাখিল মাদরাসার তত্বাবধায়ক (সুপারিন্টেন্ডেন্ট) হাফিজ উদ্দিন (৪৭) ১৬ জুলাই শনিবার রাত সাড়ে আটটায় এক মার্মান্তিক নৌডুবিতে ইন্তিকাল করেন। তার মৃত্যুতে তার কর্মস্থল দারুসসালাম দাখিল মাদরাসা ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বর্তমান ও প্রাক্তন হাজার হাজার ছাত্র ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়জন। প্রিয় শিক্ষক হাফিজ উদ্দিনকে অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরিবদায় দেন তারা।

মাওলানা হাফিজ উদ্দিনের বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের ইন্দা গ্রামে। তার পুরো পরিবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিল। সন্ধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ এসে নামেন তারা। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বাড়ির উদ্দেশে জয়কার বারুক বাজার পর্যন্ত এসে কোনো নৌকা না পাওয়ায় হাফিজ উদ্দিন গ্রাম থেকে ইঞ্জিনচালিত মাঝারি একটি ট্রলার নিয়ে তাদেরকে এগিয়ে নিতে আসেন। ঘাট থেকে বাড়ির উদ্দেশে ট্রলার ছাড়ার পরই হাওরে শুরু হয় প্রচণ্ড বাতাস। উথাল-পাথাল ঢেউয়ে দুলতে দুলতে ছোট নৌকাটি এক সময় খাড়া হয়ে ডুবে যায়। নৌকার একটি মাথা কেবল কিছুটা ভেসে থাকে। হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী রোহেনা বেগম (৪০), মেয়ে খাদিজা (২০), ছেলে আনরুল্লাহ (১৮), বাহালুল (১২), আমিনুল (১০), আলা আমিন, তাসনিম (৯) ও চার মাস বয়সী নাতি নাসিরুল্লাহসহ হাফিজ উদ্দিনের পুরো পরিবার আটকা পরে। দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি। একে একে সবাইকে উদ্ধার করে নৌকার ভেসে থাকা ছইয়ের ওপর এনে দাঁড় করান। প্রথমে তিনি ছোট ছেলে তাসনিমকে (৯) আরো নিরাপদে রাখার জন্য তাকে নিয়ে সাঁতার দেন। তাসনিমকে পিঠে নিয়ে হাওরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যে সাঁতরে প্রায় ৪/৫ গজ দূরের একটি বিদ্যুতের টাওয়ারের নিরাপদ উচ্চতায় বসিয়ে রেখে আসেন। কিছুক্ষণ পর অন্যদের এ টাওয়ারে আনতে আবার সাঁতরে নৌকার কাছে যেতে চান তিনি। কিন্তু প্রচণ্ড ঢেউ আর বাতাসে ক্লান্ত হয়ে এক সময় তিনি নিজেই ডুবে যান পানিতে। অন্য সবার জীবন বাঁচলেও হারিয়ে যান তিনি।

প্রায় দুই ঘণ্টা নৌকার ছই আর টাওয়ারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা হাফিজ উদ্দিনের পরিবারের অসহায় আটজন সদস্যের চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে পাশের এক মাছের খামার থেকে একটি ট্রলার গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেলও হাফিজ উদ্দিনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ সকালে পাশের একটি খালে জেলেদের জালে পাওয়া যায় সুপার হাফিজ উদ্দিনের লাশ। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের জয়কা ইউনিয়নের বড়হাওরে এভাবে নিজের জীবনের বিনিময়ে পুরো পরিবারবে বাঁচাতে নিজের জীবন দিয়ে হলেও সত্যিকারের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে বিরল দৃষ্টন্ত স্থাপন করেন তিনি।