Tag Archives: নির্বাচন

‘নির্বাচন স্থগিতে নতজানু ইসি’র ব্যর্থতা আবারো প্রমাণিত’

আওয়ার ইসলাম: নির্বাচনের মাত্র ৮দিন আগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ৬ মাসের জন্যে হাইকোর্টের মাধ্যমে স্থগিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের অদূরদর্শিতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

এতে করে ঢাকা উত্তর সিটির মতো একই দৃশ্য মঞ্চায়িত হলো।

আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব বলেন, সীমানা জটিলতায় মামলা ইসি’র জানা থাকার কথা। তারপরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন নতজানু ও অথর্ব হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত হওয়া নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতা ও ব্যর্থতা আবারো প্রমাণিত হলো। নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালীর ফলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হলো।

গাজীপুরের নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে এবং প্রার্থীরা যখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সে মুহুর্তে নির্বাচন স্থগিত করা অত্যন্ত জঘন্য হিসেবে দেখছে ভোটাররা।

পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে যে অযোগ্যতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তাতে এই নতজানু, অথর্ব নির্বাচন কমিশন দ্বারা জাতীয় নির্বাচনের আস্থা রাখলেন না।

এদের দিয়ে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কতোটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

‘শোষণ-দুর্নীতিমুক্ত ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে হাতপাখায় ভোট দিন’

-আরআর

সংসদের ২৫ আসনে পরিবর্তন

আবদুল্লাহ তামিম: জাতীয় সংসদের ২৫ আসনে পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা থেকে ২৫টি আসনে চূড়ান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এক বৈঠকে সুনানির বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এ পরিবর্তন আনে আজ নির্বাচন কমিশন ।

আসনগুলো হল- নিলফামারী ৩ ও ৪, রংপুর ১ ও ৩, কুড়িগ্রাম ৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ ১ ও ২, খুলনা ৩ ও ৪, জামালপুর ৪ ও ৫, নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫, সিলেট ২ও ৩, মৌলভীবাজার ২ ও ৪, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ৫ ও ৬, কুমিলা ৬, ৯ ও ১০, নোয়াখালী ৪ ও ৫  জানা যায় নির্বাচন কমিশন সূত্রে ।

এর আগে ২১-২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০টি আসনে বিশেষ সুনানি গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তিত সংসদীয় আসনগুলো বেশির ভাগই ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময়ের সীমানায় ফিরে গেছে। আর বাকি ২৭৬টি আসন দশম নির্বাচনের সময়ের মতো রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন আদমশুমারি রিপোর্টের ভিত্তিতে জনসংখ্যার অনুপাত, প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগলিক অখণ্ডতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদীয় আসেন সীমানা পরিবর্তন করে থাকে।

সে অনুযায়ী এবার আদমশুমারি রিপোর্ট প্রকাশিত না হলেও এমপি ও স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে এসব আসনের সীমানায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে ৪০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার কথা বলে নির্বাচন কমিশন। তবে ওই সময় কমিশনের খসড়া তালিকার ওপর ৬০টি দাবি আপত্তি ও সুপারিশ জমা পড়ে। সেগুলোর উপর শুনানি শেষে সোমবার চূড়ান্তভাবে ২৫টি আসনের সীমানা পরিবর্তন আনলো ইসি।

তবে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ ও সাভারের সীমানা পরির্বতন আনতে চাইলেও সরকারের আপত্তির কারণে তা আনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন- গাজীপুর পুলিশ সুপারের দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি বিএনপির

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুর্ভাবনায় ভারত!

সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
কবি, কলামিস্ট ও সাংবাদিক

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বিশ্বে সর্বাধিক ভাষায় প্রচারিত বিবিসি একটি পরিবেশন করেছে যে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে কিনা ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা দুর্ভাবনায়। আর এই বিষয়ে দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

অবশ্য খবরটি বিবিসির নিজস্ব নয়, ভারতেরই একটি সংস্থার। ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) বরাতে বিবিসি খবরটি পরিবেশন করেছে। সংস্থাটি অন্যতম ভারতীয় থিংক ট্যাংক বলে পরিচিত। উক্ত খবরে বলা হয়েছে, ওআরএফ নিজেদেরকে ‘স্বাধীন’ বললেও ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী রিলায়েন্সের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে একযোগে কাজ করে ওআরএফ। প্রতিবছর নয়াদিল্লিতে ‘রাইসিনা ডায়ালগ’ নামে বহুপাক্ষিক সম্মেলন হয়, ওআরএফ সেটির মূল আয়োজক, আর এতে সহায়তা করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই সম্মেলনে মূলত ভূরাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকরা আলোচনায় অংশ নেন। ভারত সরকারের আঞ্চলিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওআরএফ এখন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে।

ওআরএফ-এর ফেলো মনোজ যোশী ভারতের খুবই সুপরিচিত একজন সাংবাদিক এবং তিনি ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের একজন সদস্য ছিলেন।

অর্থাৎ ওআরএফ খুবই প্রভাবশালী এবং সরকারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এ সংস্থাটির বক্তব্যকে ভারত সরকারের অভিমত বলে মনে করছেন অনেকে। আর সে কারণেই উক্ত বক্তব্যকে এদেশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মনোজ যোশীর বক্তব্যটি ওআরএফ ১৮ এপ্রিল প্রকাশ করেছে। আর সেটা বিবিসি প্রকাশ করেছে ঐদিনই। সংক্ষিপ্তরূপে দেখা যাক, আলোচিত সেই বক্তব্যটি কী?

‘বাংলাদেশ পোলস পোজ অ্যা চ্যালেঞ্জ টু রিজিওনাল স্টেবিলিটি’ শিরোনামের এই লেখায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভাবনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়, তাতে মাত্র ২২% ভোট পড়েছিল। সেই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে এবং সে সময় অনেক সহিংসতা হয়। কাজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশা, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন যেন আগেরবারের চাইতে বিশ্বাসযোগ্য হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারত কিছুটা উদ্বেগের চোখে দেখে। কারণ, ভারত বিএনপির ব্যাপারে সন্দিহান। বিএনপি এর আগে যে দু’ দফা ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিবাদ শেকড় গেড়েছিল এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। আর বাংলাদেশ এই বিষয়টি না দেখার ভান করেছিল।

বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামী জঙ্গিদের তৎপরতা বাড়ছে, এমনকি আত্মঘাতী হামলা পর্যন্ত হয়েছে, সেখানে এই সমস্যা মোকাবেলায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে ভারত। তাই ভারতীয় কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং তৃতীয় দেশগুলোর গুপ্ত সংস্থার তৎপরতা মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাদের একযোগে কাজ করার অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। কারণ, ইসলামী জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনা খুবই সক্রিয়।

আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ যে পরিস্থিতির দিকে বাংলাদেশ যেতে পারে তা হলো সেখানে সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলি দুর্বল হয়ে ইসলামী গোষ্ঠীগুলো সেখানে শক্তিশালী হয়ে ওঠতে পারে (হেফাজতে ইসলাম)। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে সেনা সরকার গঠিত হতে পরে, যেটি দেশটির ইতিহাসে এর আগে কয়েকবার ঘটেছে।

লেখার উপসংহারে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ হয়তো তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থানে আছে, কিন্তু ভবিষ্যতে নতুন ধরনের খুবই সহিংস এক ইসলামী জঙ্গিবাদ দেশটিকে ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলতে পারে।

কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। ভারতও তাই। সর্বোপরি দেশ দু’টি প্রতিবেশী এবং তাদের পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক আছে। এই অবস্থায় ভারত এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোলামেলা ও লিখিতভাবে আলোচনা করতে পারে না। উপরন্তু একটি দেশ অন্য একটি দেশের নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি সমর্থন জানাতে পারে না। তবুও এসবই করছে ভারত। এটাই প্রথম নয়, প্রায়ই তারা এই অন্যায় কাজটি করে থাকে।

কিছুদিন আগে ভারতীয় সাংবাদিকরা এ দেশে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলাদেশ কি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে? প্রধানমন্ত্রীও তার যুৎসই জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশ কার সাথে বন্ধুত্ব করবে, না করবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। দ্বিতীয়ত, চীনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও তাতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এমন স্পষ্ট জবাবের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

বলতে চাচ্ছি, বাংলাদেশ কার সাথে বন্ধুত্ব করবে, আর কার সাথে করবে না তা তার নিজস্ব ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে অন্য কারও মাথা ঘামানো দরকার কী? তাছাড়া তারা যে আমাদের মহান স্বাধীনতার প্রতি মর্যাদা রেখেও কথা বলে না। কিছুদিন আগে আসামের এক বিজেপি এমপি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে দখল করে ভারতের অংশ না করা ভুল ছিল। তার এসব বক্তব্য এ দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার উপর চরম চপেটাঘাত। যাকে বলে প্রভূত্ব খাটানো।

এ দেশের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। শুধুমাত্র বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাহলে কি এ দেশের মানুষ জীবনের বিনিময়ে যে মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তা কি পিন্ডির পরিবর্তে দিল্লির দাসত্ব করার জন্য? না। তা হতেই পারে না। কারণ, এ ভূখন্ডের মানুষ বরাবরই স্বাধীনচেতা। তাই তারা সব সময়ই দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে, তবুও পরাধীনতা মানেনি। ভবিষ্যতেও মানবে না-এটাই চরম সত্য!

মজার বিষয়, মনোজ যোশীর ওই লেখায় ইসলামী মৌলবাদ নিয়ে জুজুর ভয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য মুসলিম জঙ্গিরা বেশি ভয়ংকর, না ভারতের হিন্দু জঙ্গিরা বেশি ভয়ংকর- সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি নয় কি?

[email protected]
২৬ এপ্রিল ২০১৮

নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মানুষ সেনা মোতায়েন প্রত্যাশা করছে: খসরু

আওয়ার ইসলাম: আগামী সংসদ নির্বাচনে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বলেও দাবি করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগঠনের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভায় খসরু এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোনো ধরনের দুর্যোগ উত্তরণে সেনাবাহিনীর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তাহলে একটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ভূমিকা থাকলে ক্ষতি কী?’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারটি সরকারের কাছে এত স্পর্শকাতর হয়ে গেল কেন- তা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এতগুলো নির্বাচন হলো একটিও প্রশ্নবিদ্ধ হলো না। কিন্তু সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। তাহলে তাদের তদারকিতে নির্বাচনের বিষয়টি স্পর্শকাতর হলো কেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বুঝে আসে না আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমস্যা কোথায়?’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

কেএল

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সুফল ভোগ করছেন বিএনপি নেতারাও : ইনু

আওয়ার ইসলাম: খালেদা জিয়ার আমলে শুধু হাওয়া ভবনের উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সারাদেশের উন্নয়ন হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন বিএনপি নেতারাও বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়ার একটি এনজিও অডিটোরিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে হাসানুল হক ইনু বলেন, গণতন্ত্র মানে এক দল এক জায়গায় বিজয় অর্জন করবে, আরেক দল অপর জায়গায় বিজয় অর্জন করবে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা কে পাবে সেটা বড় কথা।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে এই সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তার মানে এই নয় যে ৩০০ আসনেই বিজয় লাভ করবে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের স্বপ্ন দেখছি, ৩০০ আসনে বিজয়ের স্বপ্ন নয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মুকুল, জাসদ নেতা আখতার হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

এরপর তিনি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিকেল ৩টায় মিরপুর উপজেলার খাদিমপুর গার্লস স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন তথ্যমন্ত্রী।

ভোট কারচুপির অভিযোগে পেরুর প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

আওয়ার ইসলাম: দক্ষিণ আমেরিকার দ্বীপরাষ্ট্র পেরুর প্রেসিডেন্ট ভোট নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করেছেন। অভিযুক্ত এ প্রেসিডেন্টের নাম পেদরো পাবলো কুজেনিস্কি।

খবরে বলা হয়, কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করলেও ‘দেশের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে থাকতে চান না’ উল্লেখ করে বুধবার পদত্যাগ করেন তিনি।

পরে পেরুর কংগ্রেসের কুজেনস্কির দলের নেতারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার একটি অভিশংসন ভোটের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তার।

কুজেনস্কির মিত্ররা এই ভোটে তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করছেন, এমন ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে কুজেনস্কির পদত্যাগের দাবিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কুজেনিস্কি বলেন, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি রাষ্ট্রের সব দলের একতার মধ্যে বাধা হয়ে থাকতে চাই না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার রাষ্ট্রীয় একতা, যেটা আমাকে গ্রহণ করবে না। তাই আমি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

‘জাতীয় নির্বাচনে একাধিক দিনে ভোটগ্রহণের সুযোগ নেই’

আওয়ার ইসলাম :  আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদিনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানালেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।তিনি বলেন, এক দিনেই ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

আজ (রোববার) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দশ আঞ্চলিক ও ৬৪ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ভারতেশ্বরী হোমসে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কয়েক ধাপে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ বিষয়টি উল্লেখ করে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে কথা বলেছেন, সেটা নির্বাচন কমিশন জানে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন সংশোধন ছাড়া একাধিক দিনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট নেয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে এখন অবধি যে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিটিতে ভোট হয়েছে একই দিনে। কেবল গোলযোগের কারণে কোনো এলাকায় বা ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত হলে সেসব কেন্দ্রে পরে ভোট হয়েছে। তবে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধাপে ধাপে ভোট নেয়া হয়েছে।

‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে’

আওয়ার ইসলাম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ। আজ দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব এ কথা জানান।

তিনি আরও জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা ও ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত করতে মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মাঠকর্মীরা কমিশনকে যে প্রতিবেদন দেবে, সে অনুযায়ী কমিশন ব্যবস্থা নিবে।

উল্লেখ্য, শনিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সারাদেশে কয়েক ধাপে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জুলাইয়ে ৫ সিটি নির্বাচন : সিইসি

আওয়ার ইসলাম :  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দেশের পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  আগামী জুলাই মাসের মধ্যে গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় পরিদর্শন শেষে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধেই শেষ হচ্ছে এই পাঁচ সিটি করপোরেশনের বর্তমান নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ।

সিইসি বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি অথবা এই বছরের ডিসেম্বরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । অর্থাৎ ২০১৮সালের ডিসেম্বরের ২০ তারিখের থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখের মধ্যেই এই নির্বাচন হবে। তবে এই মুহূর্তে পাঁচ সিটির নির্বাচন নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন।

এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল দল অংশগ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

খালেদা জিয়ার কারাবাস: নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে শঙ্কা

আওয়ার ইসলাম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের পর আদালতে খালেদা জিয়াজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের ২১তম দিন চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন লন্ডন অবস্থানরত খালেদা জিয়া ছেলে তারেক রহমান।

চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে দলে এখনও কোনও দৃশ্যমান দ্বন্দ্ব দেখা যায়নি। এমনকী বৈঠকে-রাজপথে সমানভাবেই সিনিয়র নেতাদের সামনের সারিতেই দেখা গেছে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দলটিতে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ, সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ইস্যুতে নিরসন হলেও ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একই আশঙ্কা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। একইসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর একাধিক সিনিয়র নেতারও ভাষ্য, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। এর ফলে দলটির পক্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

লাভ-ক্ষতির প্রশ্নে বিএনপি নেতারা আরও সময় নিতে আগ্রহী। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার একদিন পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ২১ দিনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোনও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আসেনি।

এমনকী এই সময়ের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক বারের বেশি বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। বেশিরভাগই গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের ও দল-নিরপেক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে বিএনপি।

বিএনপির দফতর বলছে, ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আছেন।

লাভ-ক্ষতির প্রশ্নের বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষতি হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, আমাদের প্রিয় মানুষ জেলে। এটাই বড় ক্ষতি। ৭৩ বছর বয়সে তার খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা অনেক কষ্ট করে করতে হয়। তিনি একা নির্জন জীবনযাপন করছেন।

আমাদের সঙ্গে তার দেখা হচ্ছে না, দলকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। দল তার প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছে না। আসলে একজন মুক্ত মানুষ আর বন্দি মানুষের পার্থক্য তো আপনারা বোঝেন। আমরা এখন আর তাকে নিয়মিত পাচ্ছি না। আসলে সব দিক থেকে ক্ষতি হচ্ছে।’

লাভের বিষয়ে আহমেদ আযম খানের ভাষ্য, ‘তার জেলে যাওয়ার বিষয়টি আমি একটি উদাহরণ দিতে বলতে চাই। তা হলো, একটি বাড়িতে যখন ডাকাত পড়ে, তখন ওই বাড়িতে মানুষের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব থাকলেও ডাকাত তাড়ানোর জন্য সবাই কিন্তু এক হয়ে যায়।

এই জায়গা থেকে তিনি জেলে যাওয়ার কারণে বিএনপির নেতাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব বা মনমালিন্য ছিল, তা ভুলে গিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তির আন্দোলন শামিল হচ্ছে। এখন আর কারও সঙ্গে কারও বিভেদ নেই। সবাই একমত হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে সব দেশ আওয়ামী লীগকে ধিক্কার দিচ্ছে। কিন্তু এই সরকার তো কাউকে কেয়ার করে না। তারা তো নিজেদের সব কিছুর ঊর্ধ্বে মনে করে। এ মুহূর্তে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ৫০ আসনও পাবে না। তবে এগুলো বিএনপির জন্য আপাতত লাভজনক মনে হলেও আমরা তো চায় না নেত্রী জেলে থাকুক। তাই তার জেলে থাকা আমাদের দলের জন্য ক্ষতিকর।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন