All posts by ourislam

বেফাক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের সংবাদ সম্মেলন; পুনর্বহালের দাবি

আওয়ার ইসলাম: বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১০ কর্মচারী। তারা নিজেদের  তাদের অব্যহতিকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা  এমন দাবি করেন।

তারা অভিযোগ করে বলেছেন,  কোনও ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ বা অব্যাহতিপত্র ছাড়াই বিনা অপরাধে আমাদের চাকরিচুত্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলালা জোবায়ের আহমদ। তিনি অফিস সহকারী হিসেবে বেফাকে কর্মরত ছিলেন।

জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমি১২ বছর ধরে বেফাকে কাজ করছি। হঠাৎ করেই আগস্ট মাসে মৌখিক নির্দেশে আমাকে চাকরিচুত্য করা হয়েছে। আমার কী অপরাধ, কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে— জানানো হয়নি।’

মাওলানা ওহিদুজ্জামানও অফিস সহকারী হিসেবে বেফাকে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত ৯ বছর ধরে কাজ করে আসছি। কোনও কারণ ছাড়া আমাকেও চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

চাকরিচ্যুত কর্মীদের দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তারা সিনিয়র কর্মীদের ব্যাপারে নানারকম অভিযোগও করেন।

চাকরিচুত্যদের মধ্যে আরও আছেন— মাওলানা আব্দুল জলিল (সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক), মাওলানা মিজানুর রহমান (অফিস সহকারী), মাওলানা ফারুক আহমদ (অফিস সহকারী), মাওলানা শাকির আহমদ (অফিস সহকারী), মো. রকিব (অফিস সহকারী), মাওলানা মনিরুজ্জামান (অফিস সহকারী), মাওলানা সাইফুল (অফিস সহকারী, উচ্চ), মো. মোজাম্মেল (পিয়ন)।

তবে এর আগে বেফাকের কর্মকর্তারা আওয়ার ইসলামকে বলেছিলেন উল্লেখিত কর্মীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

বেফাককে ঢেলে সাজানো হচ্ছে; ময়মনসিংহে বেফাকের নেতৃবৃন্দ

‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৬ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী’

আওয়ার ইসলাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ হাজার নারী গর্ভবতী।

তিনি বলেছেন, “এ পর্যন্ত প্রশিক্ষিত নার্স ও মিডওয়াইফারদের হাতে ১৭৩টি নরমাল ডেলিভরির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে। এছাড়া আশ্রয় নেয়া রেঙ্গিাদের মধ্যে এখনো ১৬ থেকে ১৮ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মিয়ানমারে তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেত না। রোহিঙ্গা নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নাই। তাই পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের দিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে তিন ধরনের (কনডম, খাবার বড়ি ও তিন মাসমেয়াদী ইনজেকশন) জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের ৫০ শয্যার হাসপাতালে আরও ৫০টি করে অস্থায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে।”

তাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অধীনস্থ সব সংস্থার চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনে বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

 

আমি এবার দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জাতিসংঘে এসেছি; রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান করুন

বেফাককে ঢেলে সাজানো হচ্ছে; ময়মনসিংহে বেফাকের নেতৃবৃন্দ

সাজ্জাদ শরিফ: আপনি বাসট্যান্ডে নেমেই যখন দেখবেন, একজন বিনয়ী স্বরে সালাম দিয়ে বলছে, ‘আপনি কি বেফাকের প্রোগ্রামে এসেছেন? আমাদের অটো কিংবা সিএনজি প্রস্তুত রয়েছে আপনাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।’

স্বাভাবিকভাবেই একটু অবাক হবেন। গতকাল এমনই দৃশ্য দেখা গেছে ময়মনসিংহের মাসকান্দা, টেকনিক্যাল মোড় ও বাইপাস মোড়সহ জেলা সদরের প্রবেশপথের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে। আগত মেহমানরা এমন আয়োজন দেখে যতোটুকু বিস্মিত হয়েছেন তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন আয়োজকদের বিশেষ এই ব্যবস্থাপনায়।

হ্যাঁ, ময়মনসিংহের আলোচিত দীনি প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম নিযামিয়া মোমেনশাহী গতকাল আগত মেহমানদের স্বাগত জানানোর জন্য এমনই আয়োজন করেছিলো।

গতকাল বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত ‘তালিম-তরবিয়তের মানোন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় দারুল উলূম নিযামিয়ায়। উক্ত অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলার বেফাক্তভুক্ত মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষাসচিবদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কুরআনের সুরে মুর্ছনায় সবাইকে মোহিত করেন নন্দিত ক্বারী আবু সালেহ মুহাম্মদ মুসা।

এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন বেফাকের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি আহমদ আলী।

স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রতিবেশী দেশে নীপিড়ীত রোহিঙ্গা মুসলিম ভাইদের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। তাদের সহযোগিতার জন্য সবাইকে আহবান জানান। তিনি বর্তমান উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে উলামায়ে কেরামের করণীয় সম্পর্কেও সারগর্ভ আলোচনা করেন।

একইসঙ্গে বর্তমান মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় সমস্যা, সংকট ও সমাধান নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। সকাল দশটা থেকে শুরু হয় এবং আসরের নামাযের সময় শেষ হয়।

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের নন্দিত ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম বালিয়া মাদরাসার স্বনামধন্য প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা আইনুদ্দীন। আলোচনা সভায় বক্তারা মাদরাসা শিক্ষাকে আরো বেগবান ও যুগোপযুগী করে তোলার ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বাগত বক্তব্যের পর লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বেফাকের তালীম-তরবিয়ত বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুফতি এনামুল হক।

তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে যে, মাদরাসার মধ্যে দুইটি বস্তু সঠিকভাবে বিদ্যমান সেখানে আল্লাহর বরকত ও উন্নতি থাকে এর মধ্যে ১. মুসলমানদের দেয়া টাকা-পয়সার আমানত ২. মুসলমানদের সন্তানের আমানত এ দুটি আমানতের রক্ষা হলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানে বরকত হয়। অভাব দেখা দেয় না। উন্নতি কিভাবে হয় বলা যায় না, ছাত্র কিভাবে আসে চিন্তা করে পাওয়া যায় না।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ গঠনের মূল লক্ষ্যই হলো, দেশের মাদরাসা সমূহের তালীম ও তারবিয়াতের মানোন্নয়ন। একইসঙ্গে মাদরাসাসমূহের সমস্যাবলি দূরীকরণে মনোযোগী হয়ে একদল দক্ষ এবং দেশ-জাতির কল্যাণে নিবেদিত যুগ সচেতন নাগরিক গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

আপনারা সবাই এ ডাক দেয়াকে অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং স্বতঃস্ফুর্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের বাধিত করেছেন।

এরপর বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তার বক্তব্যে বলেন, আমরা বেফাকের নতুন  দায়িত্ব পেয়েছি। নতুন করে পথযাত্রা শুরু করেছে বেফাক। আমাদের শুরু পর্যায়ের কারণে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। যা মাদরাসাগুলোর পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। এক্ষেত্রেও আমরা আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি আরো বলেন, একটা বিষয় আপনাদের স্পষ্ট করে দেই, আমরা সরকারে কাছ থেকে স্বীকৃতি নেইনি। বরং দাওরা হাদিসের মানকে মাস্টার্সের সমমানের দাবি করেছি। যা সরকার প্রধান ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন। স্বীকৃতি নিলে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিতে হয়। যা আমরা কখনোই চাই না।

আমরা চাইনা, স্বীকৃতির দেয়ার দোহাই দিয়ে মাদরাসার স্বকীয়তার ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করুক। যা হোক, আমরা নতুন করে বেফাককে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি।

এছাড়াও থানা প্রতিনিধি বিশিষ্ট আলেমগণ আলোচনা করেন প্রথম অধিবেশনে। থানা প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন সাহেব, মুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলূম, মাসকান্দা। মাওলানা মুহাম্মদ, নায়েবে মুহতামিম জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলূম, তালতলা। মাওলানা আজিজুল হক; মুহাদ্দিস, জামিয়া ফয়জুর রহমান রহ। মাওলানা শওকত আলী; মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া, সেহড়া, ময়মনসিংহ।মাওলানা আবুল কালাম; মুহতামিম, রাহাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসা, মাওলানা আবু হানিফা; মুহতামিম, ভালুকজান মাদরাসা, ফুলবাড়িয়া; মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মুহতামিম, ফাতিমাতুয যাহরা, ত্রিশাল; হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান সালমানী, মুহতামিম, দুগাছিয়া মাদরাসা, গফরগাঁও; মাওলানা ইবরাহীম সাহেব মুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া আহাদিয়া বারইগ্রাম, নান্দাইল; মাওলানা নূরুল আলম, মুহতামিম, জামিয়া গাফুরিয়া, ঈশ্বরগঞ্জ।

প্রথম অধিবেশন শেষে বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আইনুদ্দীন মোনাজাত করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ৩টা থেকে। দ্বিতীয় অধিবেশনে ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বশীলগণ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যগণ আলোচনা করেন।

বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার শাহ বেফাককে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, এতোদিন বেফাক যেভাবে পরিচালিতি হয়েছে, তাতে মাদরাসা ও মাদরাসা শিক্ষার অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করি। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন আমরা চাই বেফাক আরো গতিশীল হয়ে মাদরাসাসূহের হাল ধরবে। পতন্মোখ মাদরাসাগুলোর লেখাপড়ার মানোন্নয়নে মনোযোগী হবে। যেসব জায়গায় ত্রুটি রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।

বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু পড়াশোনার মানোন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জোর তাগিদ দিয়ে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। শুরুতে তিনি ময়মনসিংহের মাাটি ও মানুষের সাথে তার আত্মিক সম্পর্কের কথা আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেন।

এরপর বলেন, একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আমি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। আপনারা জানেন, বেফাক আমাদের আকবিরদের রেখে যাওয়া আমানত। এর আগে অনেকবার বেফাককে কলুষিত করার জন্য একদল কুচক্রী মহল বার বার তাদের বিষাক্ত থাবা বসিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও একটি গ্রুপ আবারো চেষ্টা করেছে। আমাদের কাছে সংবাদ আছে, আপনাদের এই ময়মনসিংহে বসেই অনেকেই প্লাস-মাইনাসের খেলায় মেতে উঠেছে। অনেক মাদরাসার দায়িত্বশীলদের ‘নতুন কিছু করার’ প্রলোভন দেখিয়ে দিকভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা তা পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না।

আমরা আশা করব, আপনারা বরাবর আমাদের সাথে ছিলেন এবং আগামীতেও থাকবেন। আমরা আপনাদেরকে সাথে নিয়েই ওইসব কুচক্রী মহলকে প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ।

দারুল উলূম নিযামিয়া মোমেনশাহী’র মুহতামিম মাওলানা আমিনুল হক বলেন, আজ অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বলতে হয়, আমরা আকাবিরে উম্মাহর দেখানো পথ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি। এজন্যই আমাদের এত করুণ অবস্থা। আমি ধরে নিলাম, বেফাক একটি অযোগ্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেটাও তো হয়েছে আমাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে। অসেচতনা-অমনোযোগিতার কারণে।

তিনি বরেন, আজ আমরা ভুলে গেছি, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ভুলে গেছি মাদরাসায় পড়া ও পড়ানোর লক্ষ্য। আজ আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে বন্ধন হচ্ছে নিয়ম সর্বস্ব সম্পর্ক, শুধুই পড়া ও পড়ানোর সম্পর্ক। আমাদের মাঝে আত্মিক সেই সম্পর্ক আর নেই। আমাদের এই দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। একইসঙ্গে আকাবিরের রেখে যাওয়া পথ অনুসরণ করে আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ জেলা শাখার পক্ষ থেকে কতিপয় প্রস্তাবাবলি পেশ করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি আহমাদ আলী।

বেফাককে রাজনৈতিক বলয়মুক্তকরণ, কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা, ইফতা বিভাগকে বেফাকের নিয়ন্ত্রণাধীন করা, মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট গড়ে তেলা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও হিসাবের অডিট রিপোর্ট মাদরাসাগুলোতে প্রেরণ এবং বিভাগ কেন্দ্রিক বেফাকের অফিস চালুসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয় ওই প্রস্তাতাবলিতে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা অধ্যাপক যুবায়ের আহমদ। সভাপতিত্ব ও আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন পীরে কামেল মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী।

আমি এবার দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জাতিসংঘে এসেছি; রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান করুন

আওয়ার ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে মিয়ানমারে রাখাইনে ধর্ম ও জাতি নিরপেক্ষভাবে সাধারণ নাগরিকদের রক্ষায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে দ্রুত একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যান্য উদ্যোগও নিতে বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রথমেই মিয়ানমারকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে সহিংসতা ও জাতিগত নিধন দ্রুত এবং চিরকালের জন্য বন্ধ করতে হবে।

তিনি মিয়ানমারে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গঠনে বাংলাদেশের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শর্তহীনভাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে ফেরা নিশ্চিত করতে বলেন। তিনি বলেন, “এসব মানুষকে অবশ্যই নিরাপদে ও নিরাপত্তায় সম্মানের সঙ্গে স্বদেশ ফিরতে দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি সাধারণ অধিবেশনে চতুর্দশবারের মতো এসেছি। কিন্তু এবার আমি এসেছি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে। আমি ক্ষুধার্ত, উদ্বাস্তু ও আশাহীন রোহিঙ্গাদের দেখে এসেছি, যারা নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিজ দেশে জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছে, যেকানে তারা কয়েক শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছিল।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনকে জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে আট লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। বাসস

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সমাজপতি ইমামদের প্রতি এ মুহূর্তের জরুরি আবেদন

এ এস এম মাহমুদ হাসান

মিয়ানমারের হিংস্র সামরিক জান্তা ও বৌদ্ধ মগ গোষ্ঠির নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মুসলিম রোহিঙ্গারা। জীবন্ত অবস্থায় ধারালো চাপাতি দিয়ে বিকলাঙ্গ করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে হত দরিদ্র এসব মুসলিম শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ বনিতাকে। মগদস্যুরা মুসলিম রোহিঙ্গাদের বক্ষ চিরে কলিজা ছিড়ে বিভৎসতা ছড়িয়েছে পুরো আরাকান জুড়ে।

পৈশাচিক কায়দায় হত্যা, খুন, ও ধর্ষনের মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ নিরিহ রহিঙ্গারা বিতাড়িত হয়ে বাঁচার তাগিদে ছুটে আসছে বাংলাদেশ সীমানায়।

এ মুহূর্তে আতঙ্কগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্ব মোড়ল গোষ্ঠি এগিয়ে না আসলেও আমাদের জাতী ভাই, প্রতিবেশী ও মানবিক স্বার্থে অনেক কিছুই করণীয় আছে।

এ দেশের ওলামায়ে কেরাম ও ইমামদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক রাখেন অনেক ধনাঢ্য ও শিক্ষিত সমাজ। সঙ্গত কারণে ওঠা বসা করেন অনেক এলিট শ্রেণীদের সাথে। দ্বীনি ওয়াজে, জুমাবারে মসজিদে বয়ান করে মুগ্ধ করে দেন ইসলাম প্রিয় আধুনিক পরিবারের সন্তানকেও।

যেহেতু এ দেশের ওলামায়ে কেরাম বিশেষত প্রতিটি মসজিদের সন্মানিত ইমামগণ সমাজ ও জাতীর পথ প্রদর্শক। জাতীর বিবেককে পরিচালিত করার রোল মডেল। সেহেতু জাতীর সেবক, পথ নির্দেশক ও সমাজের চালিকাশক্তি এ দেশের সকল ইমামদের নিকট রোহিঙ্গা মুসলিম ভাইদের সাহায্যার্থে এ মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি ৩টি বিষয়ে আবেদন করছি।

আবেদন- ১। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জনমত গড়তে আপনি ইমাম হিসেবে আপনার অনুসারী ও হিতাকাঙ্ক্ষিদের সাথে যোযোগ রাখুন। বয়ানে হিংস্র বৌদ্ধ গোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচন করুন। কুরআন হাদিসের আলোকে মায়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম নিধনের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করুন।

আবেদন- ২ ।এ মুহূর্তে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মাঝে সবচেয়ে করুন পরিস্থিতিতে আছে নিষ্পাপ রোহিঙ্গা শিশুরা। অভূক্ত মায়ের বুকের দুধের শূন্যতা ও শিশুখাদ্যের অভাবে আজ মৃত্যু পথযাত্রী হাজার হাজার শিশু।

সুতরাং এ দিকটি বিবেচনা করে প্রতি শিশু পরিবারের জন্য শিশু খাদ্যের ব্যবস্থা করুন। আপনার পরিচিত ও শুভাকাঙ্খীদের এ ব্যাপারে দান সাদকা করার প্রতি উৎসাহিত করুন। মুসলিম শিশুদের বাঁচিয়ে রাখতে তাদের থেকে অনুদান গ্রহণ করে শরণার্থী শিবিরে জরুরি ভিত্তিতে পৌছে দিন।

আবেদন-৩ প্রায় ১৫ হাজার অন্তসত্বা রোহিঙ্গা নারী বর্তমানে উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়া উগ্র বৌদ্ধগোষ্ঠীর বিভৎস কায়দায় ধর্ষণের শিকার অনেক অবিবাহিত নারীও গোপনাঙ্গের ইনফেকশনে ভূগছে। কিন্তু এসব নির্যাতিত ও ধর্ষিতা নারীদের সঠিক পরিচর্যা ও সুচিকিৎসার অভাবে রোগাক্রান্ত হওয়া ও অবাঞ্চিত গর্ভধারণ করার মত মারাত্বক ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ক্যাম্পে মহিলা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের যথেষ্ট কমতি রয়েছে।
তাই এ মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আপনি ইমাম হিসেবে আপনার সমাজে পরিচিত ধনাঢ্য ও মহিলা ডাক্তার পরিবারে যোগাযোগ করুন। এ সকল প্রসূতী মায়েদের চিকিৎসাসেবা দিতে মাহরাম/আত্মীয় নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করুন।

এটি একটি মানবিক আবেদন। মানুষ হিসেবে আমাদের এ দায়িত্ব পালন করা আমাদের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। আসুন উপরোল্লিখিত ৩টি আবেদন সমাজে ছড়িয়ে দেই। মানবিক আবেদ রক্ষায় সক্ষমদের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠাবার ব্যবস্থা করি।

তারুণ্যদীপ্ত কওমি লেখকরাই ফিরিয়ে আনবে সোনালি যুগ

হামিম আরিফ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের তারুণ্যোদ্দীপ্ত কওমি লেখকরাই ফিরিয়ে আনতে পারে সোনালি যোগ। আপনারা লিখুন, সমাজের ন্যায় ও অন্যায় চিহ্নিত করুন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসায় কুরআন ও হাদিস শেখানো হয়। তারা সঠিক ইসলাম শেখে। আমি বাংলাদেশের বহু মাদরাসায় ঘুরেছি। তাদের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তারা কখনো অন্যায় কাজের মদদদাতা হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমি লেখকদের অনেক প্রোগ্রামে গিয়েছি। কিন্তু এত লেখককে একসঙ্গে কখনো পাইনি। আপনারা ভালো কিছু করবেন বলেই আমি আশাবাদী। আমি আপনাদের কাজের সহযোগী হবো ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সহসভাপতি মাসউদুল কাদির ও সহ সাধারণ সম্পাদক রোকন রাইয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কবি ও নজরুল গবেষক মহিউদ্দিন আকবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুফতি গোলাম রব্বানি, কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, আল নূর কালচারাল সেন্টার কাতারের চেয়ারম্যান মাওলানা ইউসুফ নূর ও সংগঠনের বাংলাদেশ শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি সালমান আহমদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইস্কান্দার মির্জা শামীম, বিশিষ্ট রাজনীতিক ইমতিয়াজ আলম, লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা নাসিম আরাফাত, মাসিক আদর্শ নারীর সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, ভাষাবিদ আইয়ুব বিন মঈন, লেখক রায়হান মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগটনের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর।

এর আগে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছড়া পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী লেখক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন ইকবালের পরিচালনায় প্রায় ২০ জন ছড়াকার ছড়াপাঠে অংশ নেন।

সন্ধ্যায় ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম মামুন, আবু রায়হান, ইয়াসিন হায়দারসহ আহবান, সমাধান, শাহে মদীনা, রঙধনু ও কুহুতান শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন সাইদুজ্জামান নূর।

সঙ্গীত সন্ধ্যা পরিচালনায় ছিলেন, সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক আবদুল মুমিন ও প্রচার সম্পাদক ওমর ফারুক মজুমদার।

অনুষ্ঠানে কেরাত পাঠ করেন বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। অনুষ্ঠানে হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী ও তার উস্তাদ কারী নেছার আহমান আন নাছিরীকে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের সবশেষে ছিল দর্শকপর্ব। সংগঠনের সাধারণ সম্পদক মুনীরুল ইসলামের পরিচালনায় মনোমুগ্ধ এ পর্ব দর্শক উপভোগ্য হয়ে উঠে। শেষে ৬ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সদস্যসহ তিন শতাধিক লেখক সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সংগঠনের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর ও সাধারণ সম্পাদক মুনীরুল ইসলাম সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আরআর

মিয়ানমারে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারে ভারত

আওয়ার ইসলাম : মিয়ানমারের কাছে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে। মিয়ানমারের নৌপ্রধানের নয়া দিল্লি সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিয়ানমারের নৌবাহিনী সদস্যদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওই সব প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।

এমন একটি সময়ে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যখন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচনা চলছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের উপর দমন-পীড়নে সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমারের প্রতি নয়া দিল্লির জোরাল সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে

মিয়ানমার নৌবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ অ্যাডমিরাল তিন অং সান বুধবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।দুই পক্ষের মধ্যে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় টহল নৌযান সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে একজন সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া চার দিনের এই সফরে মিয়ানমারের নৌপ্রধান মুম্বাইয়ে ভারতের নৌজাহাজ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ভারতের ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “মিয়ানমার আমাদের পূর্বমুখী নীতির একটি স্তম্ভ এবং সম্পর্কের একটি বড় জায়গা প্রতিরক্ষা।”

নয়া দিল্লি ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভারতের প্রতিবেশী নীতি বিশেষজ্ঞ কে ইওমে বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছে সে সময় উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের আনছে ভারত সরকার, এটা একটি বার্তা দিচ্ছে।

“বার্তাটি হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আছে।”

গত মাসে রাখাইনে এই সংকট শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির পাশে দাঁড়ায় নয়া দিল্লি। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানায় তারা।

পরে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক মহল উচ্চকিত হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত।

এ বিষয়ে চীনও মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় মিয়ানমারের পদক্ষেপকে সমর্থন এবং রাখাইনে সহিংস হামলার প্রতিবাদ জানায় তারা।

আরএম

রোহিঙ্গা নারী সদ্যজাত মেয়ের নাম রাখলেন ‘শেখ হাসিনা’

আওয়ার ইসলাম : মিয়ানমারের আরাকান ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী খাদিজা। শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। খাদিজা তার মেয়ের নাম রেখেছেন ‘শেখ হাসিনা’। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের সাথে মিল রেখে তিনি তার মেয়ের এই নাম েরেখেছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযান’র নামে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নারকীয় নির‌্যাতন চালাচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত চার লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে।

অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশেচলে আসেন খাদিজাও।তার সামনেই হত্যা করা হয় তার স্বামীকে। সে সময় তিনি আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে সন্তান প্রসবের সময় পাশে ছিলেন মা আলুম বাহার।

নীল রঙের স্কার্ফ আর কালো বোরকা পরা খাদিজা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। আমার বাড়িটাও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসেছি। বাঁচার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে গেছি শুধুমাত্র গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।’

তিনি আরও বলেন, নিজ দেশে স্বামীকে হারিয়েছি। আমার দেশের সরকার আমাকে আশ্রয় দেয়নি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রেখেছি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭-১৮ হাজার গর্ভবতী রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের দেখভাল এবং সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

খাদিজার মা আলুম বাহার বলেন, অনেক কষ্টে বাংলাদেশে এসেছি। আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিল। এখানে এসে সে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি ‘শেখ হাসিনা’। সে আমাদের বেঁচে থাকার আশা। তাকে পেয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

আলুম বাহারও তার স্বামী নুরুদ্দিনকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেছেন। এখন ‘শেখ হাসিনা’র জন্যই তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমানুভূতির কারণেই রাখাইন ছেড়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেয়েছে, এখনও বেঁচে আছে। এমনকি খাদিজার মেয়ে পৃথিবীর আলো-বাতাস পাচ্ছে শেখ হাসিনার কারণেই’- বলেন আলুম বাহার। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

আরাকানে সহস্রাধিক আলেম হত্যা, শতাধিক মসজিদে আগুন

আওয়ার ইসলাম: মিয়ানমারের আরাকানে চলমান গণহত্যায় নারী ও শিশুদের পাশাপাশি সহস্রাধিক আলেম ওলামাকেও হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আহমদ হোছাইন (৯০)। এছাড়া পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে কয়েকশ’ মসজিদ-মাদরাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা।বিছিন্নভাবে কিছু মসজিদ টিকে থাকলেও সেগুলোতে আজান দেয়া ও নামাজ আদায়ের কেউ নেই। জীবন বাঁচাতে সবাই পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা আরাকান থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে দিতেই পরিকল্পিতভাবে মুসলমান রোহিঙ্গাদের গণহত্যা শুরু করেছে। রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বশূন্য করতে বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে আলেম ওলামা ও পীর মশায়েখদের।বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

উখিয়ার বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া হাফেজ আইয়ুব এর বরাত দিয়ে নয়া দিগন্ত জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনা ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে, নারী, শিশু ও পুরুষদের হত্যা করে এবং যুবতীদের ধর্ষণ করেই থামছে না। তারা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে আরাকানের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এপর্যন্ত তারা দুই শতাধিক মসজিদ, অর্ধশত মাদরাসা ও অসংখ্য খানাকাহ পুড়িয়ে দিয়েছে।

কিছু আলেম-ওলামা সেনা-পুলিশ ও উগ্র বৌদ্ধদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারলেও অধিকাংশ বয়স্ক আলেম-ওলামা ও পীর মশায়েখকে হত্যা করেছে তারা। এতে করে গত ২৪ আগস্ট থেকে আজান ও নামাজ বন্ধ হয়ে গেছে জনশূন্য আরাকানের বাকি মসজিদগুলোতে। আরাকানের ২০টি দাওরায়ে হাদিস (কামিল) মাদরাসার সাথে মাধ্যমিক স্তরের আরো ৩০টি মাদরাসা এখন বিরান।

সায়দুল্লাহর চর এলাকার বড় মাদরাসার মুহাদ্দিস প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোছাইনকে (৯০) বর্মী সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি ছিলেন ওই মাদরসার মুহাদ্দিস ও পরিচালক। গত ৬০ বছর ধরে তিনি হাদিসের দরস দিয়ে আসছিলেন।

গত ৩০ আগস্ট সেনা-পুলিশ ও মগদের একটি দল সায়দুল্লাহর চর এলাকা ঘেরাও করে ওই মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের কাউকে গুলি করে আবার কাউকে ধারালো ছুরি দিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। কেউ বা পাশের বনে জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে পরে বাংলাদেশে পালিয়ে চলে আসেন।

সবার শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোছাইন কোথাও যেতে পারেননি। তিনি মাদরাসায় থেকে যান।
সেখান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, তারা দূর থেকে দেখেছেন সেনা-পুলিশ ও মগরা তাকে প্রথমে গুলি করে হত্যা করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়। পরপর কয়েকটি গুলি করলেও একটিও তার শরীরে না লাগায় তারা ক্ষেপে যায়। এরপর দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করে।

একইভাবে টেকিবনিয়ার কোয়াইংচিবং মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুর আহম্মেদকে নামাজরত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। তার পুরো পরিবারকের হত্যা করেছে সেনা ও উগ্রপন্থী মগরা।

মৌলভী ইউসুফ নামের পালিয়ে আসা একজন রোহিঙ্গা বলেন, কোনো আলেম ওলামাকে তারা জীবিত রাখেনি। কোনো কোন আলেমকে হাত-পা কেটে পুরো শরীর টুকরো টুকরো করা হয়েছে।

আরএম

রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণসহ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের স্বাস্থসেবা কার্যক্রম

রকিব মুহাম্মাদ : মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চলে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য বেশ  কিছু সেবা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অধিপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিং উল্লেখযোগ্য।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো  ্এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয়,  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগ ব্যাধি চিকিৎসার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মোট ১০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চিকিৎসকদের উখিয়া ও টেকনাফে মেডিকেল টিমে কাজ করার জন্য সংযুক্ত প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে উক্ত টিমগুলো কাজ করছে।

মেডিকেল টিমগুলো ৮/১০ প্রকার ওষুধ এবং তিন ধরনের অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম, খাবার বড়ি, তিন মাস মেয়াদি ইনজেকশন) বিতরণ করছে। যেহেতু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কোনো জ্ঞান নাই এবং এ বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ, বিধায় শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান তথা কাউন্সেলিং এর জন্য ৮৬ জন (বেতনভুক্ত স্বেচ্ছাসেবী) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিং ছাড়াও গর্ভবর্তী মায়েদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপ ও নিরাপদ প্রসব সেবা নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করবেন।

শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে  মেডিকেল টিম ছাড়াও (ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার) এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পরিবার পরিকল্পনাকর্মীদের মাধ্যমে অস্থায়ী তিন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালককে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং কক্সবাজারে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, কক্সবাজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।এসব সেবা দেওয়ার জন্য বাড়তি ওষুধ এবং তিন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এবং আরো ওষুধ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেখানে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে একটি কন্ট্রোল সেল খোলা হয়েছে। উক্ত সেল থেকে সার্বক্ষণিক কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে মনিটরিং ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

আরএম