All posts by ourislam

রকমারির ইসলামি বইমেলা শুরু, ৭০% পর্যন্ত ছাড়ে বই কেনার সুযোগ

আওয়ার ইসলাম: দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন বুকশপ রকমারি ডটকম পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে অনলাইন ইসলামি বইমেলার আয়োজন করেছে। ২৩ মে থেকে শুরু হওয়া বইমেলা চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। অফার চলাকালীন সময়ে ৭০% পর্যন্ত ছাড়ে বই কিনতে পারবে ক্রেতারা।

সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা পাঠককের কাছে বইকে সহজলভ্য করে তুলতে যাত্রা শুরু করে রকমারি ডটকম। এখান থেকে সহজেই ফোন করে বা ফেসবুকে মেসেজের মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে বই কেনা যায়। শহরের আলিশান বাড়ি থেকে শুরু করে পাড়া গাঁয়ের কুড়েঘরে বসেও এই সুবিধা পেয়ে থাকেন বইপ্রেমী।

রকমারি ডটকম নানা সময়ে তাদের গ্রাহকদের সুবিধার জন্য অফার দিয়ে থাকে। আসন্ন রমজানকে আরও বেশি উপভোগ্য করে তুলতে ইসলামি বই পাঠের বিকল্প নেই। সে দিকটি চিন্তা করেই রকমারি ডকটম ব্যবস্থা করেছে ইসলামি বইমেলার। অফার চলাকালিন সময়ে গ্রাহকরা সব ধরনের ইসলামি বইয়ে বই ভেদে ৭০% পর্যন্ত ছাড় পাবেন।

এ বিষয়ে রকমারি’র ইসলাম বিভাগের প্রধান মাওলানা এহসানুল হক আওয়ার ইসলামকে বলেন, ইসলাম নিয়ে মানুষের মধ্যে নানারকম বিভ্রান্তি রয়েছে। জানার স্বল্পতার কারণে জঙ্গিবাদও ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই সঠিক ইসলামকে মানুষ যাতে সহজে জানতে পারে তার ব্যবস্থা করা। সে জন্য রকমারি ডটকম ইসলামী বইমেলার আয়োজন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে।

শেষ হবে না রকমারির বইমেলা

ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বৃহৎ গবেষণাগার

আরআর

 

নান্দাইলে নির্মাণাধীন নতুন মসজিদ ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড নান্দাইল পাঁছপাড়া জামে মসজিদের নির্মাণাধীন আধাপাকা ঘর আবদুল মজিদের নেতৃত্বে ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আমিনুজ্জামান এলাকা পরিদর্শনের পর জানান, পাছপাড়া গ্রামে হাজী মো. আবদুল করিম মুন্সী (৯৮) মসজিদ নির্মাণ করার জন্য ১২ শতাংশ জমি দান করেন। ওই জমির ওপর টিনের ঘর নির্মাণ করে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই জমিতে মসজিদের জন্য নতুন করে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। হাজী আবদুল করিম মুন্সীর সৎ ভাই আবদুল মজিদ মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন মসজিদটি ভেঙে দেয়।

মসজিদের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধা দিতে গিয়ে হাজী মো. আবদুল করিম মুন্সীর স্ত্রী মুর্শিদা বেগম (৬০) প্রতিপক্ষের আঘাতে মারাত্মক আহত হন।

এদিকে পৌর শহরে মসজিদ ভাঙার খবরে মুসলমানদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি সরদার মো. ইউনুছ আলী বলেন, মসজিদ ভাঙার বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমিটির বাড়ির কাজ না করায় ইমামকে মারধর; মুসল্লিদের জুতামিছিল

রমজান উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পণ্যে ৫০% ছাড় ঘোষণা আমিরাতের

রাকিব হাসান: রমজানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নানারকম উদ্যোগ নিয়ে থাকে। রমজানকে স্বাগত জানাতে ব্যানার ফেস্টুন, রাস্তায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ আরও নানা রকম উপকারী আইটেম। এ মাসকে তারা নাজাতের মাস হিসেবে সবকিছুতেই বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো রমজানের পূর্বেই অনেক কিছু সহজ করার ঘোষণা দেয়।

আসন্ন রমজান উপলক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বানিজ্য অধিদপ্তর রমজানের যাবতীয় পণ্যসামগ্রীর উপর ৫০% ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

আমিরাতের বাণিজ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব এক প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, রমজানে যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে ৫০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। অনেকগুলি বিক্রয়কেন্ত্রে রমজানের এক সপ্তাহ আগ থেকেই এই অফার চালু করেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের নির্দিষ্ট পণ্য ৫০% ছাড়েই বিক্রি করতে হবে। রমজানে বিভিন্ন স্থানে ইজিতিমায়ি ইফতার মাহফিলের আয়োজনও করা হবে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

সূত্র: কুদরত

‘মূর্তি না সরলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত বয়কট করবে জনতা’

উবায়দুল্লাহ সাআদ : গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন প্রধান বিচারালয় সামনে থেকে না সরালে জনতা ঈদের নামাজ বয়কট করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ‘ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি’র নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম অন্যায়ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে, সড়ক থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ায় দিন দিন জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। জনগনের কাছে সরকারের ভাব-মর্যাদা চরম ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী অপবাদ দিয়ে গোটা আলেমসমাজকে হেয় করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরামের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোন কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় এবং দেশব্যপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সত্যেও গ্রিক মূর্তি অপসারণ না করায় জনগণ বিস্মিত। অবিলম্বে মূর্তি সরানো না হলে জনগণ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ বয়কট করবে। সভায় আগামী ২রা জুন শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আজ ২৩ মে (মঙ্গলবার) বাদ জোহর ‘ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি’র এক জরুরি সভা কামরাঙ্গীরচর নূরিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম অন্যায়ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে, সড়ক থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ায় দিন দিন জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। জনগণের কাছে সরকারের ভাব-মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী অপবাদ দিয়ে গোটা আলেমসমাজকে হেয় করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরামের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোন কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় এবং দেশব্যপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সত্যেও গ্রিক মূর্তি অপসারণ না করায় জনগণ বিস্মিত। অবিলম্বে মূর্তি সরানো না হলে জনগণ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ বয়কট করবে। সভায় আগামী ২রা জুন শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা ক্বারী শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, জামিয়া মুহাম্মদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম, কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা মোঃ ফয়সাল, মাওলানা মুশতাক আহমাদ শরীয়তপুরী, মাওয়ালানা সানাউল্লাহ, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, মুফতি আকরাম হুসাইন, মুফতি আহসানুল্লাহ, মুফতি মাহবূবুল্লাহ, মাওলানা আকম আশরাফুল হক ও মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমী প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম পূন:বহাল ও মূর্তি অপসারণসহ ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সকল দাবী মেনে না নিলে তাওহিদী জনতা উত্তাল গণ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এ দাবী আদায়ে আগামী ২রা জুন শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মেকাররমে বিক্ষোভ মিছিল সফল করার আহ্বান জানান।

গ্রিক মূর্তিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলা হাস্যকর: হেফাজতে ইসলাম

মাসজিদুল হারাম ও পবিত্র কাবার পরিচ্ছন্নতার কাজ যেভাবে করা হয়

রাকিব হাসান: মাসজিদুল হারাম এবং পবিত্র কাবা ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজ্বের মৈসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন।

এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও মেশিনারীর সাহায্যও নেয়া হয়ে থাকে।

কিছু আধুনিক যন্ত্র রয়েছে যাতে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে দরজার রাস্তাসমূহ ও আশপাশে ছেটানো হয়। খাদেমগণ বায়তুল্লার হারাম শরিফের মেঝে পরিষ্কারের সাথে সাথে কাবার গেলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

পাঁচওয়াক্ত নামাজের সময় এ কাজগুলো করা হয়। এ সময় কর্মচারীরা আলাদা আলাদা ইউনিফর্ম পরে কাজ করেন।

কুতরত ডটকম থেকে অনুদিত

এটিও পড়ুন: কাবার দরজায় ৮ টুকরো মরমর পাথরের রহস্য কী?

জেলা পরিষদ সদস্য পদে মাওলানা সহল চৌধুরী’র বিজয়

ইমদাদ ফয়েজী: সিলেট জেলা পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড (বিশ্বনাথ) এর নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার ছোট ভাই সহল আল রাজী চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার ভোটকেন্দ্র রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলার ৮টি ইউনয়নের জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৭জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১০৭জন। মোট ভোট কাষ্ট হয়েছে ১০৩টি।

দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হচ্ছে সিলেট

হাওরের বন্যার্তদের সাথে রাষ্ট্রপতির ছেলে তৌফিকের মতবিনিময়

মাহমুদুল হাসান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের হাওরের ফসলি জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাখ কৃষক, ফলে হাওরে দেখা দেয় খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা। এমন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন কিশোরগঞ্জ ৪ আসন ইটনা, মিঠামইন, অষ্ট্রগ্রামের এমপি ভাটি বাংলার রুপকার রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছেলে প্রকৌশলী রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক।

মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় ইটনা থানাধীন এলংজুরী হাই স্কুল মাঠে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়ে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চলে।

মতবিনিময় সভায় হাওরবাসীকে লক্ষ করে প্রকৌশলী রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক বলেন, আজ আমার মন ভালো নেই কারণ আমার এলাকার মানুষের মনে শান্তি নেই। আপনাদের কষ্টকে কিছুটা লাঘব করার জন্য ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণ, এতে যদিও কিছু অভিযোগ আপনারা তুলেছেন তা আসলে থাকবেই।

অভিযোগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আজ যে ইউনিয়নে বক্তব্য দিচ্ছি সেখানে ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার এবং এখানে ত্রাণের কার্ড এসেছে মাত্র ১৮ শ। তাই যত বড় সুফীকে দিয়েই তালিকা করা হোক না কেন অভিযোগ আসবেই।

তিনি বলেন, আপনারা ধৈর্য ধারুন। আমি সরকারি ত্রাণ ছাড়াও আরো বেসরকারি কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা আপনাদের জন্য করার প্রাণপন চেস্টা চালিয়েযাচ্ছি।

মতবিনিময় সভায় বেশ কিছু অভিযোগ এসেছিল। তার মধ্যে উল্লেখ্যোগ্য অভিযোগ এনজিও ঋণ। এ ব্যপারে তিনি বলেন, এনজিওর লোকেরা বাড়িতে এসে টাকা দিতে বাধ্য করলেও আপনারা দিবেন না। কারণ আপনারা এখন অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তাই আগামী ফসল তুলে ঋণ দিয়ে দিবেন।

হাওরে অধিক হারে ডাকাতির ব্যপারে তিনি বলেন, আপনার এ ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন, কোন সমস্যা হলেই দ্রুত থানায় অভিযোগ করবেন।

মতবিনিময় সভায় শতাধিক নেতাকর্মী বক্তৃতা দেন। সভায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানবিক কারণেই হাওরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ: আল্লামা মাহমুদুল হাসান

হাওরে কেন এই ফসলহানি! আল ‍কুরআনের দৃষ্টিতে প্রতিকারের পথ

মঈনুদ্দীন তাওহীদ

আউশের শেষ সময়। কিন্তু কৃষাণদের মুখে এবার হাসি নেই। গত কয়েক সপ্তাহ আগে কাল বৈশাখির প্রলয়-তাণ্ডবে উড়ে গেছে তাদের হাসি।

আশাগুলো সব কাঁচের ঘড়ের মত ভেঙ্গে খানখান করে দিয়েছে আঁধার রাতের সেই হুরকে ঝড়। এ হলো একটি বাহের জনপদের অবস্থা। হাওর অঞ্চলগুলোর দুর্ভোগের কথা না হয় নাই বললাম। যদিও সেখানের ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে চরম মিথ্যাচার।

যেখানে আউশের ধান তোলার সময় ঘরে ঘরে ছোটে সুপ্ত এক খুশির বান। সেখানে আজ সবার হৃদয়ে বইছে আগতপ্রায় দুর্ভিক্ষের ভীতিকর হাহাকার।

অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার বাম্পার ফলন হয়েছিলো ধানের। সেই সাথে আশায় বুক বেঁধেছিলেন মৌসুমি চাষের উপর নির্ভরশীল কৃষকেরা।

তবে কেনো এই ফসলহানি!! আসুন একটু কুরআনের দিকে তাকাই!

পবিত্র কুরআনে সুরা কাহাফের ৩২-৪২ নং আয়াতে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটির সারসংক্ষেপ হলো,
বনী ইসরাঈলের দুজন ব্যক্তি ছিলো। একজন মোমিন অন্যজন কাফের।

আল্লাহ তাআলা তাদের একজনকে এমন দুটি আঙ্গুরের বাগান দান করেছিলেন যা ছিলো খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর উভয়ের মাঝখানে ছিলো বিশাল শস্যক্ষেত্র। উভয় বাগানই অবিরত অথচ প্রচুর পরিমাণে ফল দেয়। উপরন্তু বাগান দুটির ফাঁকে ফাঁকে ছিলো প্রবাহিত নহর।

একবার সে কথা প্রসঙ্গে তার মুমিন সাথীকে বললো, আমার ধন-সম্পদ এবং জনবল তোমার চাইতে বেশি। আর আমার মনে হয় না যে এ বাগান কখনো ধ্বংস হবে। আমি মনে করি না যে কেয়ামত সংঘটিত হবে আর যদি হয়েও যায় তাহলে সেখানে অবশ্যই আমি এর চেয়েও উৎকৃষ্ট কিছু পাবো।

উত্তরে তার সঙ্গী তাকে বললো, তুমি কি সেই সত্ত্বাকে অস্বীকার করবে, যিনি তোমাকে পর্যায়ক্রমে মাটি ও বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমার মানবাকৃতিকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন।

তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন এ কথা বললে না, আল্লাহ যা চান তাই হয়।
আল্লাহর দেওয়া ব্যতিত কোন শক্তি নেই।

আমি আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে তোমার চেয়েও উৎকৃষ্ট বাগান দান করবেন।

আর তোমার বাগানের উপর আসমান থেকে আগুন পাঠিয়ে ভস্ম করে দিবেন। অথবা তার তলদেশে প্রবাহিত পানিকে এমনভাবে চুষে নিবেন যে তুমি আর হাজার চেষ্টা করেও সে পানির নাগাল পাবে না।

ফলাফল তাই হলো। একদিন সকালবেলা সে দেখলো যে তার বাগানের সব ফল ধ্বংস হয়ে গেছে। সে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে আক্ষেপের সুরে বলতে লাগলো, হায়! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম!

তো এর থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে ঐ ব্যক্তি তার সম্পদের প্রকৃত দাতা হিসেবে আল্লাহকে অস্বীকার করার ফলেই তার সম্পদের এই দশা হয়েছিলো।

তাছাড়া শোআবুল ঈমানে হযরত আনাসের রেওয়ায়েতে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন,
কোন পছন্দনীয় বস্তু দেখার পর যদি ما شاء الله لا قوة الا بالله  (মাশা’আল্লাহ লা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ) বলে দেওয়া হয়, তবে কোন বস্তু তার ক্ষতি করতে পারবে না।(অর্থাৎ পছন্দনীয় বস্তুটি নিরাপদে থাকবে।)

কুরআন ও হাদীসের সারাংশ থেকে এ কথাই বুঝা যায়, মহান আল্লাহর প্রদত্ত নেয়ামতরাজির ক্ষেত্রে অন্য কোন বস্তুকে শরীক করার কারণেই খোদাপ্রদত্ত গজবে ফসলহানি ঘটে।

[মিম্বার থেকে ধ্বনিত হোক মাতৃভাষা বাংলার শুদ্ধ উচ্চারণ]

আসুন প্রিয় পাঠক! এবার আমরা আমাদের বর্তমান সমাজের হালচাল নিয়ে একটু আলোকপাত করি।

যতটুকু জানা গেছে, আউশের বাম্পার ফলনে আত্মহারা অনেক কৃষকরই এবার আনন্দের আতিশয্যে বড় গর্ব করে বলেছিলেন, ‘এবার অমুক কোম্পানির সার বা অমুক মার্কা বীজ ব্যবহারের কারণেই এমন ভালো ফসল হয়েছে।’

টিভি চ্যানেলগুলোতে চোখ রাখলেই হরহামেশা দেখা যায়, ফসলের ভালো ফলনে তাদের কৃত প্রামাণ্যচিত্রর পুরোটাই থাকে ভালো বীজ ও সারের প্রশংসায় ভরপুর। যারা সেখানে সাংবাদিকতা করেন বা বক্তব্য রাখেন, তাদের কারো মুখেই খোদার শুকরিয়া জ্ঞাপক কোন শব্দ থাকে না। এটাকি আল্লাহর সাথে শরীক করা নয়!!

প্রিয় পাঠক একটু ভাবুন!

উপরোক্ত ঘটনার সাথে কি আমাদের সমাজের সামঞ্জস্যতা নেই!! অবশ্যই আছে।

সুতরাং এখনো সময় আছে সতর্ক হওয়ার। এই ভূকম্প, অতিবৃষ্টি কিবা অনাবৃষ্টি সবকিছুই আমাদের কর্মের প্রতিফল এবং খোদার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। আসুন এর থেকে বড় কোন বিপর্যয় আসার পূর্বেই আমরা শোকরগুজার হৃদয় নিয়ে মহান প্রভূর দিকে ধাবিত হই।

আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন। আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামীন!!!

হাওরের মানুষের পাশে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী

মিম্বার থেকে ধ্বনিত হোক মাতৃভাষা বাংলার শুদ্ধ উচ্চারণ

রাকিব হাসান: আপনি কি লেখালেখি ও বক্তৃতায় পারদর্শী হতে চান? কিংবা সাংবাদিকতা দিয়ে সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী।

আপনার জন্য আওয়ার ইসলাম ব্যবস্থা করেছে লেখালেখি, বক্তৃতা ও সাংবাদিকতা কোর্স। স্বপ্নচারী লেখক ও অনুবাদক মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন এর পরিকল্পনা, কলাকৈশল ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে আমাদের এই কোর্স।

বছরব্যাপী এই কোর্সের লক্ষ্য, আপনাকে লেখক হিসেবে গড়ে তোলা, আপনার বক্তৃতায় সাবলীলতা উপহার দেওয়া, সর্বোপরি একজন যোগ্য আলেমে দীন তৈরি করা।

মাদরাসা সিস্টেমেই দীনি পরিবেশে আবাসিক ব্যবস্থাপনায় এই কোর্স শুরু হবে আগামী শাওয়াল মাসের শুরুতে। স্থান, ঢাকার মুগদা থানার মদিনাবাগ এলাকায় অবস্থিত জামিয়াতুস সালাম। আগামী ৩ জুন (৭ রমজান) থেকে শুরু হবে ভর্তি।

আপনি যা শিখবেন
১ম সেমিস্টার
বাংলা শব্দের প্রমিত উচ্চারণ , কথা বলার মার্জিত স্টাইল ও বক্তৃতার শিল্পের প্রাথমিক অনুশীলন, ছোট ছোট রচনা, রচনা পর্যালোচনার প্রাথমিক নিয়ম , লেখালেখির প্রাথমিক নিয়মকানুন, অনুবাদের অনুশীলন, কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান, সংবাদ লেখার প্রাথমিক নিয়মকানুন, প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কাজের অনুশীলন, হিফজুন নুসুস।

২য় সেমিস্টার
আবৃত্তি, উপস্থাপনা, বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা, বিষয়ভিত্তিক রচনা, রচানার উপাদান সংগ্রহের নিয়মনীতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমানদের রচনা পরিচিতি, আধুনিক ও সমকালীন রচনার অনুবাদ, হিফজুন নুসুস ।

৩য় সেমিস্টার
শিল্পময় উপস্থিত বক্তৃতা , বিষয়ভিত্তিক দীর্ঘ বক্তৃতা, গ্রন্থরচনা, গ্রন্থ অনুবাদ, সংবাদপত্রের সামগ্রিক ধারণা, সম্পাদনা।

বি. দ্র. – কোর্সে অংশগ্রহণকারী দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ হতে হবে

ভর্তির জন্য যোগাযোগ

১৩৫/৮/১ ক, উত্তর মুগদাপাড়া, মদিনাবাগ ঢাকা। পরিচালক : ০১৮১৯ ১৭৪৫৬০, সম্পাদক ০১৯১৭ ৩৭৫২৯৯, নির্বাহী সম্পাদক ০১৭১৭ ৮৩১৯৩৭ বার্তা সম্পাদক ০১৫১৫ ৬০৪১৫৫ অফিস ০১৮২১ ৯৯৪৯৯৮

 

‘৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার কুরআনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করে মানুষের কুরআন শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের স্বপ্ন’

১০ মে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার কুরআনি মক্তব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ড। এরপর আপন লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সারা দেশে কুরআন শিক্ষাবোর্ডের পরিচালিত মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। বোর্ডের নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ৩ হাজারের উপরে।

চরমোনাইয়ের মরহুম পীর মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কুরআন শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক তারই সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্জ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল করীম। মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মরহুমের সুযোগ্য খলিফা ও দেশ বরেণ্য আলেম আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজি

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ডের বিস্তৃত কাযক্রমের একটি অংশ দেশব্যাপী মুআল্লিম বা শিক্ষক প্রশিক্ষণ। ১৬ কেন্দ্রে বছরজুড়ে চলে প্রশিক্ষণ। মহিলাদের জন্য রয়েছে ৪ টি পৃথক কেন্দ্র। আসন্ন রমজানে মুআল্লিম প্রশিক্ষণের নতুন ব্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে। শুরু হতে যাওয়া কোর্স সম্পর্কে কথা হয় বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সচিব মুফতি আবদুস সাত্তারের সঙ্গে। তার আলাপচারিতায় উঠে আসে মুআল্লিম প্রশিক্ষণের আদ্যপান্ত। আওয়ার ইসলামের পক্ষে তার সঙ্গে কথা বলেন, আতাউর রহমান খসরু

আওয়ার ইসলাম : কোন লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আপনাদের এ আয়োজন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : আমাদের স্বপ্ন হলো, বাংলাদেশের আপামর মুসলিম জনসাধারণকে কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শেখানো। শুধু তেলাওয়া নয়; বরং মানুষের জীবনে কুরআনের আমল প্রতিষ্ঠা করা, কুরআনি জীবন ছড়িয়ে দেয়ায় আমাদের লক্ষ্য।

এজন্যই বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ড একদিকে কুরআনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছে এবং অন্যদিকে মুআল্লিম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক তৈরি করছে। আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার কুরআনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করে মানুষের কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আওয়ার ইসলাম : সারা দেশে আপনাদের কতোগুলো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে?

মুফতি আবদুস সাত্তার : সারা বাংলাদেশে কুরআন শিক্ষাবোর্ড পরিচালিত মুআল্লিম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা ২০টি। ১৬টি পুরুষ এবং ৪টি মহিলা।

প্রতি বছর এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার পুরুষ এবং ৩শ মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

আওয়ার ইসলাম : কোন প্রক্রিয়ায় আপনারা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : আমাদের প্রশিক্ষণ কোর্সটি ২০ দিন ব্যাপী। আমরা এ কোর্সের জন্য তাদেরই নির্বাচন করি যাদের কুরআন তেলাওয়াত বিশুদ্ধ। ২০ দিন প্রশিক্ষণ দেয়ার পর যদি যারা দক্ষতার পরিচয় দেন, আমরা তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেই। যদি তাদের চাকরি না থাকে।

[কমিটির বাড়ির কাজ না করায় ইমামকে মারধর; মুসল্লিদের জুতামিছিল]

আর যদি ২০ দিনে তারা যোগ্য হয়ে না ওঠে, তবে তাদের আমরা আবার প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ দেই। এভাবে একটি প্রশিক্ষণার্থী ৩ বার প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পান।

আওয়ার ইসলাম : বাংলাদেশে আপনাদের কতোগুলো মাদরাসা রয়েছে এবং সেখানে শিক্ষক চাহিদা কেমন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : বাংলাদেশে আমাদের প্রায় ২ হাজার মাদরাসা রয়েছে। এতে প্রচুর শিক্ষক প্রয়োজন হয়। আমরা যাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করি তাদের দিয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বরং সব সময় চাহিদা অনুযায়ী আমরা শিক্ষক দিতে পারি না। বলতে পারেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে অধিকাংশেরই আমরা চাকরির ব্যবস্থা করতে পারি।

আওয়ার ইসলাম : প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আপনারা কেমন সুযোগ সুবিধা দেন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : আবাসন সুবিধার বাইরে আমরা ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে থাকি।

আওয়ার ইসলাম : মৌলিকভাবে আপনার কী কী শেখান?

মুফতি আবদুস সাত্তার : মৌলিকভাবে আমরা চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেই। তাহলো, ক. পাঠদান পদ্ধতি, খ. শিক্ষকসূলভ আচরণ, গ. হাতের লেখা, ঘ. ব্লাকবোর্ডের ব্যবহার।

কুরআন শিক্ষাবোর্ডর শিক্ষা পদ্ধতিতে ব্লাকবোর্ডের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ব্লাকবোর্ডের ব্যবহার ও হাতের লেখার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করি।

আওয়ার ইসলাম : আপনাদের প্রশিক্ষণের রূপরেখাটা যদি তুলে ধরতেন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : আমরা মুআল্লিমদের ৬টি প্রশ্নের উত্তর শেখাই। তাহলো, কী পড়াবে?, কেনো পড়াবে?, কে পড়াবে?, কাকে পড়াবে?, কোথায় পড়াবে?, কিভাবে পড়াবে?

কী পড়াবে? এর উত্তর হলো, ছাত্রদের আকায়েদ, মাসায়েল, কুরআন, দোয়া, হাদিস ও আমল শেখাবে। সাথে প্রয়োজনীয় সাধারণ শিক্ষা।

কেনো পড়াবে? উত্তরে ইসলামি শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পুরস্কার এবং ইসলামি শিক্ষা ত্যাগের পরিণতি শেখানো হয়।

কে পড়াবে? এর উত্তরে আমরা আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলী শেখাই।

কাকে পড়াবে? এর উত্তরে ছাত্রদের মেধা, বয়স, যোগ্যতা ও যাচাইকরণ পদ্ধতি শেখাই। সাথে সাথে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হবে তাও শেখাই।

কোথায় পড়াবে? এ অধ্যায়ে আমরা শিক্ষকদের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও উন্নতি কিভাবে করতে পারবে তা শেখাই।

কিভাবে পড়াবে-তে থাকে কুরআন শিক্ষাবোর্ডের সহজ ও কাযকর কুরআন শিক্ষা পদ্ধতি।

আওয়ার ইসলাম : প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন?

মুফতি আবদুস সাত্তার : আল হামদুলিল্লাহ! অনেক ভালো। ছাত্রদের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়। তারা অল্প সময়ে কুরআন শিখতে পারে। অভিভাবকরাও অত্যন্ত খুশি।

আওয়ার ইসলাম : কুরআন শিক্ষাবোর্ডের অন্য কোনো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে কী?

মুফতি আবদুস সাত্তার : কুরআন শিক্ষাবোর্ডের একটি বিশেষ কার্যক্রম বয়স্ক কুরআন শিক্ষা। এ কার্যক্রমের অধীনে ২০ দিনে ২০ ঘণ্টায় হরফ চেনে না এমন মানুষদের কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়া শিক্ষা দেই।

আল হামদুলিল্লাহ! বাংলাদেশের ৫০টি কেন্দ্রে ৫০ জন মুআল্লিম বয়স্কদের কুরআন শেখান। এবং এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে কুরআন শিখেছে।

 

যেখানে যেখানে হচ্ছে মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্স; দেখতে ক্লিক করুন