All posts by ourislam

হারামাইন পরিচালনা-পর্যবেক্ষণে কমিটি করবে মালয়েশিয়া

মুজাহিদুল ইসলাম: মালয়েশিয়ায় মক্কা, মদিনা ও ইসলামের ঐতিহাসিক স্থান সমূহের পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণে একটি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড জানায়, রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমি যাতে ব্যবহার না হয় সেই জন্যই তারা চেষ্টা করবে।

এই কমিটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, সৌদিতে সম্প্রসারণের নামে মক্কা-মদিনায় ইসলামী পরিচিতিমূলক নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা রোধে তারা চেষ্টা করে যাবে। এই কমিটি এটা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাবে, যাতে করে সকল ইসলামি রাষ্ট্র হজ ও ওমরায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইনসাফভিত্তিক ভাগ পায়।

কমিটি জানায়, সৌদির গত একশ বছরব্যাপী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই পবিত্র ভূমির ব্যবহারে এক জরিপ চালানো হবে এবং সে অনুসারে সৌদিকে তারা সুপারিশমালা দেবে।

সূত্র: আলজাজিরা

‘দাওয়াতের কাজ হলো শরীর উলামায়ে কেরাম হলেন মাথা’

‘দাদা বলতেন, তখন দেওবন্দের শাইখুল হাদিস থেকে চৌকিদার সবাই ওলি ছিলেন’

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিক প্রকাশ হচ্ছে ইনশাল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি শনিবার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো ৩য় কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মাওলানা  উমর ফারুক ইবরাহীমী।]

পূর্বপ্রকাশের পর: আমার দাদা মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াসিন রহ.দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার একবছর পূর্বে ১২৮২হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসেবে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রায় সমবয়স্ক। দাদাজানের এই উক্তি আমি আব্বাজানের মুখে অসংখ্যবার শুনেছি, তিনি বলতেন- ‘আমি দারুল উলুম দেওবন্দের সেই স্বর্ণযুগ দেখেছি, যখন দেওবন্দের শাইখুল হাদিস থেকে নিয়ে চৌকিদার পর্যন্ত সবাই সাহেবে নিসবত আল্লাহর ওলি ছিলেন।’

আমাদের দাদা হজরত রশিদ আহমাদ গাংগুহি রহ. এর খাস মুরিদ ছিলেন এবং হজরত আশরাফ আলী থানবি রহ. এর সহপাঠী ছিলেন। জীবনভর তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের ফার্সি ভাষা এবং গণিতের শিক্ষক ছিলেন।কয়েক যুগ ধরে দেওবন্দের ছাত্ররা তাঁর শিষ্যত্ব লাভে ধন্য হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে আব্বাজান রহ. ‘মেরে ওয়ালিদ মাজিদ’ নামক কিতাবে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।

শৈশবকালে আব্বাজানের ইলমি, আমলি উৎকর্ষতার মূল্যায়নক্ষমতা আমার কতটুকুইবা ছিলো? বস্তুত সেটা আজও নেই! তবে এতটুকু তো অবশ্যই ছিলো যে, আমার ছোট্ট এ ভূবনে তিনিই ছিলেন আমার একমাত্র অগাধ আস্থা, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার আকর। আমার প্রতিও ছিলো তাঁর সীমাহীন মমতা, ভালোবাসা।

আমার বড় ভাইদের সবাইকে কমবেশ আব্বাজানের ভালোবাসার সাথে বকুনিও সইতে হয়েছে। কখনো বা মৃদু পিটুনির স্বাদও আস্বাদন করতে হয়েছে। কিন্তু আমি অহর্নিশ শুধু তাঁর স্নেহ, ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি।

আমার বয়স যখন বারো বছর ছুঁই ছুঁই, তখন একবার আমি আমার আম্মার সাথে লাহোরে বড় ভাইয়ার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন আব্বাজান, ভাইজান বরাবর চিঠি লিখলেন- ‘মুহাম্মদ তকি (সাল্লামাহু) কে ছাড়া আমার দিনকাল সহজে যাচ্ছে না।’

অসংখ্য বয়ান ও কিতাবের অ্যাপ ইসলামী যিন্দেগী ইনস্টল করুন

দেওবন্দ থাকাকালে আব্বাজানের শুধু মাদরাজের একটি সফরের কথা আমার এখনো মনে আছে। তখন তাঁর বিচ্ছেদ, শূন্যতা আমার জন্য যারপরনাই বিরহের ছিলো। সফর থেকে ফেরারকালে আমি বায়না ধরে ভাইয়াদের রাজি করিয়ে ফেললাম, আমিও রেলষ্টেশন যাবো আব্বাজানকে রিসিভ করার জন্য।

সবচে বড় আগ্রহের ব্যাপার তো এটাই ছিলো, আব্বাজানকে ইস্তিকবাল করবো। এছাড়াও রেলস্টেশন যাবার মধ্যে আরো দুটি আনন্দের ব্যাপার ছিলো। একটি হচ্ছে- স্টেশনে যাওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়িতে চড়া ছিলো আবশ্যকীয়।

মহল্লাজুড়ে শুধুমাত্র একজন হিন্দু লোকের কাছে ঘোড়ার গাড়ি ছিলো। সবাই তাকে ফাগু বলে ডাকতো। তার সেবা পেতে হলে আগে ভাগেই তাকে বুকিং দিয়ে রাখতে হতো। আমরা তাই করেছিলাম। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার উপলক্ষ্য আমাদের খুব একটা হতো না। কারণ কাছে ধারে তো পায়ে হেঁটেই চলে যেতাম।

কিছুটা দূরের পথ হলে আম্মাজানের সাথে পালকিতে চড়ে যেতাম। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কোথাও যাওয়ার উপলক্ষ্য খুব কমই হতো। সুতরাং স্টেশনে যাওয়ার জন্য রাজাধিরাজ বাহনে চড়ার মজাই ছিলো আলাদা! যার কল্পনাটাও আমার কাছে বড় আনন্দের ব্যাপার ছিলো।

দ্বিতীয়ত, রেলস্টেশনটা আমাদের জন্য পর্যটনকেন্দ্রের চেয়ে কোন অংশে কম ছিলো না। সেখানে যেয়ে আমাদের আনন্দ স্ফূর্তির সুযোগ খুব অল্পই হতো। বিভিন্ন দিক থেকে রেলস্টেশন ছিলো আমাদের জন্য পরম সুখের জায়গা।

কিন্তু ঠিক যাবার মুহূর্তে কিভাবে যেন আমার হাত পুড়ে গিয়েছিলো। তাই চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে আমাকে ঘরেই থাকতে হলো।দুুঃখজনকভাবে স্টেশন যাওয়া থেকে মাহরুম হয়ে গেলাম। এই না যেতে পারার আক্ষেপ আজও আমার মনে আছে!

তবে এরপরের আনন্দঘন মুহূর্তটাও আমি ভুলতে পারি না! যেই না আব্বাজান ঘরে প্রবেশ করলেন, অমনি অন্য কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ করার পরিবর্তে সবার আগে আমাকে ডেকে কোলে তুলে নিলেন। কেরোসিন ল্যাম্পের রশ্মিতে তাঁর মুখভর্তি ঘন কালো শ্মশ্রু এবং ভালোবাসাযুক্ত সহাস্যবদনের স্মৃতি আজও আমার কল্পনাবিলাসী মনে এভাবে গেঁথে আছে- কেমন যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি!

চলবে ইনশাআল্লাহ…

আগের দুই পর্ব: ১. ‘নিজেকে দেওবন্দের অনুসারী বলে প্রচার করতে সংকোচবোধ করি’ ‘জন্মের পরই আমার বিছানায় একটা সাপ এসে পড়েছিল’

আ.লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আতিকুল ও তমিজি হক

আওয়ার ইসলাম: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। চলছে প্রচার প্রচারণা। এর মধ্যেই আজ মেয়র পদে আওয়ামী লীগের হয়ে ৩জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে।

এরা হলেন, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম, হক গ্রুপের চেয়ারম্যান আদম তমিজি হক ও রাসেল আশেকী।

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। যা চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসময়ের মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন। পরে ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাস ভবন গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ জন ফরম কিনেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিটি মনোনয়ন ফরম ২৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

‘দাওয়াতের কাজ হলো শরীর উলামায়ে কেরাম হলেন মাথা’

আওয়ার ইসলাম: টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার ৩৫ তম বছরে প্রথম আরবি ভাষায় আম বয়ান করেছেন জর্ডান মারকাজের আমির শায়খ ওমর আল খতিব। আরবি ভাষাভাষি এ প্রাজ্ঞ আলেম, সারা পৃথিবীতে দাওয়াতি কাজ নিয়ে সফর করছেন।

গতকাল শুক্রবার বাদ এশা ইজতেমা মাঠে অবস্থিত তার নিজ কামরায় বসে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন আওয়ার ইসলামকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলাম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব। সঙ্গে ছিলেন মুহাম্মদপুর মারকাজ মসজিদের শুরা মুফতি মোশাররফ হোসাইন

প্রথমেই বাংলাদেশে তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ আপনার কাছে কেমন লাগছে? বিশেষ করে দাওয়াতের কাজের যে পরিবেশ একে আপনি কিভাবে দেখেন?

তিনি খুব আপ্লুত আবেগঘন এবং উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশে দাওয়াতি কাজের অসাধারণ পরিবেশ রয়েছে। এদেশের মানুষের আখলাক, ঈমান এবং আথিথিপরায়নতা মুগ্ধ হওয়ার মতো।

জর্ডানসহ তার দেশের দাওয়াতি কাজের কারগুজারি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানি, জর্ডানের প্রতিটি অঞ্চলে দাওয়াতি কাজের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। দেশের সরকার উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষের মাঝে দীনি কাজ কর্মের শক্তিশালী প্লাটফরম হলো দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত।

দীর্ঘ ৫৩ বছর পর টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় এবারই প্রথম আরবি ভাষায় আম বয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বয়ানকে উপলক্ষ করে এদেশের আলেম উলামা মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। বিষয়টি আপনি কিভাবে ‍মূল্যায়ন করবেন?

উত্তরে তিনি নিজেকে খুবই বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, বয়ান তো কাকরাইল ও নেজামুদ্দিনের উলামা মাশায়েখগণ করবেন, আমি সেখানে খুবই নগন্য মানুষ। দুর্বল এবং কমজোর। যে দুই কথা বলেছি ও সুযোগ হয়েছে তা সবই আল্লাহর মেহেরবানি। আল্লাহর হুকুম ও দয়া না হলে আমি কিছুই বলতে পারতাম না। যা বলেছি আল্লাহ পাকই বলিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে তাবলিগ এর মারকাজের শুরা সদস্যের উপদেষ্টা মনোনীত হয়েছেন, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

উত্তরে তিনি বলেন, মাথা আর দেহ একসঙ্গে হলেই শরীর বোঝা যায়। মাথা থেকে দেহ আলাদা হয়ে গেলে শরীরে কোনো মূল্যায়ন থাকে না। দাওয়াতের কাজ হলো শরীর উলামায়ে কেরাম হলেন মাথা। যতদিন উলামায়ে কেরামের নেগরানি দাওয়াতের এ কাজের মধ্যে থাকবে ততদিন কাজ ছহিহভাবে পরিচালিত হবে।

আল্লাহর মেহেরবানি, এ উপমহাদেশের স্বর্ণতূল্য সন্তান হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর ইখলাসের বরকতে উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধান এবং আন্তরিকতা পেয়ে আসছে। আগামী দিনও উলামায়ে কেরামের আন্তরিকতা মহব্বত ও দরদ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আলেম উপদেষ্টা কমিটির যোগাযোগ সমন্বয়ের জিম্মাদার মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করন এবং বাংলাদেশের উলামার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

চলমান তাবলিগের সঙ্কট ও মাওলানা সাদের বিষয়ে জানতে চাইলে জর্ডান মারকাজের এ আমির কৌশলি জবাব দিয়ে বলেন, আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. কে যখন বিশেষ একটি উপলক্ষে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তখন অন্যান্য বিবিগণ অনেক কথাই শুনেছেন কিন্তু মুখে রোজার আমল করেছেন, চুপ থেকেছেন।

ওহি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। চলমান সঙ্কটের বিষয়েও মুখে রোজার আমল করছি। উলামায়ে কেরাম আন্তরিকতার সঙ্গে মহব্বতের সঙ্গে সমাধান করবেন, এ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।

তিনি আওয়ার ইসলামের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সকল সাথীকে এখলাস ও লিল্লাহিয়াত দরদওয়ালা অন্তর এবং মহব্বতের সঙ্গে কাজের উপদেশ দেন।

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০১; শায়খ ওমর খতিব

তাবলীগ: দ্বীনের সুসংহত প্রচারকদল

মুফতি ইউসুফ সুলতান
আলেম, লেখক ও গবেষক

মাঝেমধ্যে কিছু ভালো মানুষের দেখা পাই। পরিবারে, কিংবা এলাকায়। তাঁরা আমানতদার, বিশ্বস্ত, সৎ ও সাদা মনের মানুষ। তাদের কোনো মিডিয়া কভারেজ নেই, তারাও মিডিয়াবিমুখ। নিজে না খেয়ে তারা অন্যকে খেতে দেন। নিজে না পরে অন্যকে পরানোর চেষ্টা করেন।

বিপদে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ান। ভালো পরামর্শ দেন, ভালো বন্ধু হন। তারা নামাযের ব্যাপারে খুব সতর্ক, আল্লাহর আমানত রক্ষায় তারা আপোষহীন। মসজিদের কাতারে তাদেরকেই বেশি দেখা যায়। শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখে তারা কালেমার দাওয়াত দেন। দ্বীন ইসলামের কথা বলেন। ব্যথাতুর হৃদয়ে ঘোরেন এ ঘর থেকে ও ঘরে, এ গলি থেকে ও গলিতে।

পকেটের টাকা খরচ করে দ্বীনের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন। লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ –র দীক্ষায় দীক্ষিত করেন নিজেদেরকে, পয়গাম পৌঁছে দেন পরিবার, এলাকাসহ পুরো বিশ্বে।

ঘরে বসে যে কোনো বই কিনতে ফোন করুন রকমারি ডটকমে

সমাজের এ মানুষগুলোকে আমরা তাবলীগের সাথী বলে জানি। তাবলীগ মানে প্রচার, দ্বীনের প্রচার। প্রচারেই প্রসার, কথাটি প্রসিদ্ধ। যে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে একটি প্রচারক দল থাকে, যাদেরকে মার্কেটিং টিম বলা হয়। তারা বিভিন্ন উপায়ে প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার বিষয় অন্যের কাছে প্রচার করে থাকেন। মানুষ তাদের মাধ্যমেই পণ্যের বিষয়টি জানেন, এর গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত হন।

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানুষের চলার জন্য এক অসাধারণ ম্যানুয়াল পাঠিয়েছেন। মানুষ কীভাবে বাঁচবে, কী খাবে, কীভাবে উপার্জন করবে, কী উপার্জন করবে, কীভাবে ব্যয় করবে, কী ব্যয় করবে, বিবাহ কীভাবে করবে, কাকে করবে, সমাজ কীভাবে পরিচালনা করবে, কে করবে –ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় এতে বলা আছে। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যে ব্যাপারে ম্যানুয়ালটিতে মৌলিক নির্দেশনা নেই।

কল্পনা করুন, পৃথিবীর কোনো এক জায়গায় বিজ্ঞানীরা মাটি খুঁড়ে এক প্রাচীন বইয়ের সন্ধান পেল। বিশেষ ভাষায় লেখা বইটি পড়তে বিশেষজ্ঞ টিম আনা হলো। দেখা গেল, হাজার বছর আগে লেখা হওয়া সত্ত্বেও বইটিতে এমন অনেক তত্ত্ব ও বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীরা জেনেছেন এই গত কয়েক শতাব্দীকালে। আবার এমন অনেক ভবিষ্যতবাণী রয়েছে, যা বর্তমানের সাথে মিলে যাচ্ছে। এতে শান্তির পথ বলে দেয়া আছে।

পৃথিবীর সমস্ত মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়বে সংবাদটি কভারেজ দেয়ার জন্য। বড় বড় রঙিন হরফে শিরোনাম হবে, ‘হাজার বছরের পুরনো রহস্যজনক নথি উদ্ধার’ বা এমন কিছু। এর বিষয়বস্তু ধারাবাহিকভাবে অনূদিত হবে, পৃথিবীর তাবৎ ভাষায়।

আফসোস আমাদের, মাটির নিচের সেই কল্পিত বইয়ের চেয়ে হাজার গুণ বেশি বিশেষায়িত, বরং অতুলনীয়, এক মহাগ্রন্থ, বা মহাম্যানুয়াল, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবীব রাসূল স. এঁর মারফতে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমরা শেলফের ভেতর, আলমারির ওপরে বা মসজিদের তাকে তা সাজিয়ে রাখছি, বছরের পর বছর। এতে আমাদের জীবনের চূড়ান্ত সফলতা, মহাসত্য ইত্যাদি কত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তা কখনো ভেবেও দেখছি না।

এই বইটিতে যে এসব মূল্যবান বিষয় রয়েছে, তা অন্যকে আমাদের জানাতে হবে। যে কোনো কাজের চূড়ান্ত সফলতা একটি ভালো ফলাফল প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে আসে। শেষ বিচার দিবসে সেই ব্যক্তিই সফলকাম হবেন, যিনি এই কিতাবানুসারে, রাসূলের স. দেখানো পথানুসারে, তাঁর জীবনকে সাজিয়েছেন, বিশ্বাসকে গড়েছেন। অন্যকে জানানোর এ দায়িত্বটি আমাদের সবারই। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ,তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর,যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর”। [আল-কুরআন ৬৬:৬]

অনুরূপভাবে প্রিয় রাসূল স. বলেন, “সাবধান! জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) প্রশ্ন করা হবে”। [সহীহ বুখারী: ৮৯৩] তিনি আরো বলেন, “তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে, সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে; সম্ভব না হলে মুখের ভাষায় প্রতিবাদ জানায়; নতুবা অন্তত অন্তরে ঘৃণা করে (বা প্রতিহতের পরিকল্পনা করে), আর এটি ঈমানের সবচেয়ে নিচের স্তর”। [সহীহ মুসলিম: ৪৯]

কাজেই এই ম্যানুয়ালের কথা, ঈমানের কথা, অন্যকে জানানোর দায়িত্ব সবারই। সবাই নিজ নিজ পরিমণ্ডলে প্রচারক হিসেবে কাজ করবেন। এরপরও একটি সুসংহত প্রচারকদলের প্রয়োজন, যারা নিজেদের পুরো সময়টাকে এই প্রচারকাজেই উৎসর্গ করবেন, ঠিক কোনো প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং টিমের মতো। এমন কোনো দল না থাকলে দ্বীনের সৌন্দর্য হয়ত অনেকেরই অজানা থেকে যাবে। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দরদ নিয়ে বলেন, “তাই তাদের (মুমিনদের) প্রতিটি দলের কিছু মানুষ কেন বের হয় না,যেন তারা দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে, এবং ফিরে এসে স্বজাতিকে সতর্ক করে, যেন তারা (আযাব থেকে) বাঁচতে পারে।” [আল-কুরআন ৯:১২২]

বর্তমানকালে মুসলিমদের অনেকেই অনেকভাবে দ্বীনের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দিলেও, এ ব্যাপারে কারো সংশয় নেই যে, সুসংহতভাবে ও দলীয়ভাবে ইসলাম প্রচারে তাবলীগ জামাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। রাসূলুল্লাহ স. এঁর হাতে গড়া এ জামাতটিকে গত শতাব্দীর শুরুর দিকে যুগোপযোগী সিলেবাসে বিন্যস্ত করেন মাওলানা ইলিয়াস রহ.। ক্রমান্বয়ে এ জামাতটি বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে প্রবেশ করে। অনেক অমুসলিম তাদের হাতে ইসলামের ছায়াতলে আসার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. এ জামাতটির সিলেবাস একই সাথে একটি ভ্রাম্যমান মাদ্রাসা ও একটি প্রচারকদলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তৈরি করেন। ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলীকে সাধারণ মানুষ যেন সহজে মনে রাখতে পারেন, সেভাবে তিনি ছয়টি মূলনীতি প্রণয়ন করেন। মূলনীতি ছয়টি হলো, কালিমা বা ঈমান, সালাত বা নামায, ইলম ও যিকির তথা জ্ঞানার্জন ও আল্লাহর স্মরণ, ইকরামুল মুসলিমীন বা অপর মুসলিমকে সম্মান করা, ইখলাসে নিয়ত বা নিয়ত পরিশুদ্ধ করা এবং দাওয়াত ও তাবলীগ বা ইসলাম প্রচার।

এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলীকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করেই এই ছয়টি মূলনীতিতে তুলে ধরা হয়। কালিমা বা ঈমান ইসলামের একেবারে মৌলিক বিষয়। ঈমানের পর মুমিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নামায। এরপর আল-কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানার্জন মুমিনের অপরিহার্য বিষয়। জ্ঞানার্জনের প্রেক্ষিতেই আসবে আল্লাহর স্মরণ, যা সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।

ইসলামের বাহ্যিক সৌন্দর্য হলো, মানুষের সাথে ওঠাবসা ও চলাফেরার শিষ্টাচার। হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, অহংকার ইত্যাদি দমন, এবং ক্ষমা, নম্রতা, বিনয় ও অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা – এগুলোই শিষ্টাচারের মূল কথা। ইকরামুল মুসলিমীন শিরোনামে এসবই আলোচ্য। এরপর রয়েছে নিয়ত পরিশুদ্ধিকরণ। মূলত একজন মুমিনের সকল আমলই যাচাই হবে তার নিয়ত ও একনিষ্ঠতার মাপকাঠিতে। সবশেষে রয়েছে দাওয়াহ ও তাবলীগ। প্রথম পাঁচটি মূলনীতি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। এই পাঁচটি শেষে অন্যকে পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব আসবে। অর্থাৎ, নিজে যা জানল, তা অন্যকে জানাতে হবে। দ্বীনের আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে।

সামান্যতম দ্বীনী জ্ঞান যার আছে, তিনি বুঝবেন, তাবলীগ জামাতের এ সিলেবাসে যা কিছু আছে, তার সবই ইসলামের সিলেবাস। কেবল সাধারণ মানুষের উপযোগী করে সিলেবাসটি প্রণয়ন করা, এই যা। শৈশবে সবার হয়ত কোনো দ্বীনী মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব হয় না। বড় হয়ে নানা ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়তে হয়। এই মানুষগুলো কেন দ্বীনী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে? মাস্টার্স পর্যায়ের না হোক, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা তো অন্তত প্রত্যেক মুসলিমের থাকতে হবে। হাদীসে আছে, “প্রয়োজনীয় (দ্বীনী) জ্ঞানার্জন সব মুসলিমের ওপর ফরয”। [সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৯]

সমাজে এমন মুসলিম অসংখ্য, যারা কালেমাটা পর্যন্ত জানেন না। ঈমানের সাথে পরিচিত নন। কবরের আযাব বিশ্বাস করেন না। পুনরুত্থান অবিশ্বাস করেন। রাসূলের স. পরিচয় জানা নেই। নামায তো পড়েনই না। কিংবা এখনো মুসলিম নন। তাদের কি দ্বীন সম্পর্কে জানার অধিকার নেই? জীবনের চূড়ান্ত সফলতার প্রার্থিতার সুযোগ কি তাদের থাকবে না?

আশ্চর্য হতে হয়, যখন দেখা যায়, আমাদেরই কিছু ভাই তাবলীগের ইজতিমাকে ব্যঙ্গ করেন ‘ইস্তিঞ্জা’ বলেন। সমালোচনা করেন, তারা তো জিহাদে অংশ নেন না, রাজনীতি করেন না, তাদের ইসলাম নতুন ইসলাম ইত্যাদি। প্রিয় ভাই, ভ্রাম্যমান স্কুলে কেন ডাক্তারি পড়ানো হয় না, সে প্রশ্ন কি কখনো করা হয়েছে? কিংবা প্রাইমারী স্কুলে কেন অর্থনীতি পড়ানো হয় না, সে প্রশ্ন কি কখনো এসেছে? তাহলে কেন একটি জামাত, যারা মূলত ইসলামের একেবারে মৌলিক কিছু বিষয় পাঠে ও পাঠদানে শ্রম দিচ্ছেন, তাদের প্রতি সমালোচনার তীর ছোড়া হচ্ছে?

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শুধু ঈমানের পরিচয় না জানা থাকাতে কত মুসলিম অমুসলিম হয়ে যাচ্ছেন, তা আমরা জানি কি? কত মুন্সী বাড়ী আজ ঈমানহারা তার হিসাব আছে কি? তাবলীগ জামাত দ্বীনের একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং ভ্রাম্যমান প্রতিষ্ঠান। এখানে কেন ওটা পড়ানো হয় না, কেন এটা হয় না, এসব প্রশ্ন অবান্তর। কী পড়ানো হচ্ছে, তা কতটুকু দরকার, তা-ই তো বিবেচ্য।

তাবলীগ জামাত যেন নির্বিঘ্নে পুরো পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারেন, সেজন্য প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এর সাথে রাজনীতির সম্পৃক্ততাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুরুব্বীরা অত্যন্ত দূরদর্শী হয়েই তা করেছেন। বর্তমানকালে রাজনীতি মানুষে মানুষে বিদ্বেষ বুনে দেয়, অথচ তাবলীগ জামাত মানুষকে কাছে টানতে চায়। ‘হা’ এবং ‘না’ তো একই সময় এক সাথে হতে পারে না।

হ্যাঁ, এই জামাত থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে কেউ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এরকম নজির অসংখ্য, যেখানে কেউ তাবলীগ জামাতের সংস্পর্শে আসার পর দ্বীনী মাদ্রাসায় পড়েছেন, বড় আলেম হয়ে দ্বীনের খিদমত করে যাচ্ছেন। কিংবা তাবলীগের সংস্পর্শে এসে নিজের সন্তানকে মাদ্রাসায় দিয়েছেন, সন্তান বড় আলেম হয়ে দ্বীনের খিদমত করে যাচ্ছেন।

বর্তমানকালে ইসলামের সবচেয়ে সুসংহত ও উৎসর্গিত প্রচারকদলের প্রতি এ নেতিবাচক সমালোচনা কার স্বার্থে, বা এর দ্বারা লাভবান কারা হচ্ছে, বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। তাই আসুন, আমরা জামাতটির সাথী হই, দ্বীন-প্রচারের এ গুরু দায়িত্বে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের সেবক ও প্রচারক হওয়ার তাওফীক দিন। আমীন।

ইজতেমা উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ইজতেমা প্রতিদিন’: ৩১/০১/২০১৪

তাবলিগের ছোঁয়ায় নতুন জীবনে ১২ ক্রিকেটার

৩৮ দেশের শুরার সদস্য ও আলেমের পদভারে মুখরিত টঙ্গীর প্রান্তর

রোকন রাইয়ান: আরব আমিরাত, ইউরোপ, আমেরিকা, ফ্রান্স ও মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৮ দেশের শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, মারকাজের জিম্মাদার এবং দেশ বিদেশের আলেম উলামার পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে টঙ্গীর তুরাগ প্রান্তর।

বিদেশি জামাতের খিদমতে থাকা মাওলানা মুশাররফ হোসাইন আওয়ার ইসলামকে জানিয়েছেন, এবার বিশ্ব ইজতেমায় আরবিদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মাটি চাটাইয়ের এ প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর ছেলেও।

জর্ডান মারকাজের আমির শায়েখ ওমর আল খতিব সৌদি আরবের শায়খ ওমর হাশেমিসহ দেশ বিদেশি আলেমদের অংশগ্রহণও ব্যাপকভাবে লক্ষ করা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, আরবিদের জন্য বানানো নিচতলা, দুতলা, তিনতলা প্রতিটি কামরায় বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতি। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, আফ্রিকাসহ প্রায় সকল মারকাজের শুরার সদস্য এবং মুরব্বি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।

আছেন বাংলাদেশের আলেমরাও

এদিকে বাংলাদেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের উপস্থিতও ব্যাপকভাবে লক্ষ করা গেছে। গতকাল বাদ আসর থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত মাঠে অবস্থান করেছেন, কাকরাইলের শুরার আলেম উপদেষ্টাদের জিম্মাদার, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর মুহাতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানসহ শতাধিক আলেম।

উপস্থিত ছিলেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও তাবলিগের শুরার উপদেষ্টা সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস,  মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, কাওরান বাজার আম্বরশাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জামিয়া ইদারাতুল উলুম আফতাবনগর মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুহাম্মদ আলী, জামিয়া ইমদাদিয়া ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নূরুল আমিন, জামিয়া নুরিয়া টঙ্গীর মুহতামিম মাওলানা মাসউদুল করীম, আল মানহাল কওমি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারী প্রমুখ।

ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার বিকেলে আল্লামা মাহমূদুল হাসান তাবলিগের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদের কামরায় পৌঁছান। বেশ কিছু সময় তার সঙ্গে মত বিনিময় করে আলেম উপেদেষ্টাদের জন্য নির্ধারিত কামরায় যান তিনি।

সেখানেই আল্লামা মাহমূদুল হাসানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন থাইল্যান্ড, সোমালিয়া, জর্ডান, সৌদি আরবসহ একাধিক বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ মেহমান।

এদিকে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই মাঠে উপস্থিত রয়েছেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সিনিয়র সহসভাপতি ও তাবলিগের শুরার উপদেষ্টা সদস্য আল্লামা আশরাফ আলী। তিনি তার নির্ধারিত কামরায় অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। সেখানে বিদেশি মেহমান ও উলামাগণ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০২; ১ম দিন বাদ আসর; মাওলানা আবদুল বারী 

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০২; ১ম দিন বাদ আসর; মাওলানা আবদুল বারী

জুনাইদ শোয়েব
ইজতেমা মাঠ থেকে

এবারের বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের প্রথম দিন বাদ আসর বয়ান করেন মাওলানা বাদুল বারী। বয়ানে তিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে উত্তম মানবের গুনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।

রাসুল সা.এর এক হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের জবাবে রাসুল সা. বলেছেন আল্লাহ পাক যাকে দীর্ঘ হায়াত দান করেছেন এবং এই দীর্ঘ হায়াত পেয়ে যে আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ করেছে এবং সেই পছন্দনীয় কাজ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে, সমস্ত মানুষের মধ্যে সেই আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান। আর এই মর্যাদাবান ব্যক্তির উপর আল্লাহ পাক তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।

পছন্দনীয় কাজ করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে সব সময়ই বড় বড় কাজ করতে হয় না। আল্লাহ তায়ালা ছোট কাজের দ্বারাও সন্তুষ্ট হয়ে যান। উদাহরণ দিয়ে তিনি হাদিস উল্লেখ করেন,

আল্লাহ তায়ালা মিসওয়াক করার কারণেও খুশি হন। এটা রাসুল সা.এর সুন্নত। তিনি সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মিসওয়াক করতেন। ঘুমানোর সময় ও ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করতেন। এমনকি ওফাতের সময়ও তিনি মিসওয়াকের দিকে তিনি আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।

হযরত আয়েশা রা. বলেন, তখন আমি মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দিলাম আর রাসুল সা. তা দ্বারা মিসওয়াক করেন এবং তৃপ্তিবোধ করেন।

রাসুল সা. এর সর্বদা পালনীয় সুন্নতের জন্যই আল্লাহ তায়ালা এই আমলটি দ্বারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। রাসুল সা. কে আয়েশা রা. জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনি এতো বেশি মিসওয়াক করেন কেনো?

রাসুল সা. বলেছিলেন আমার সাথে সবসময় ফেরেস্তাদের কথা হয়। জিবরাইল আ. কুরআন নিয়ে আসেন। ফেরেশতারা মানুষের মুখের দুর্গন্ধে কষ্ট পায়। তাই আমি সর্বদা মুখ পরিষ্কার রেখে ফেরেশতাদের কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকি। আর আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মিসওয়াকের প্রতি যত্নবান থাকি।

ঈমানি দাওয়াতে মেহনত কারিদের গুনাবলী ও গুরুত্ব বর্ণনা করে মাওলানা আবদুল বারী বলেন, ইসলাম শিক্ষা দেয়ার জন্য ঈমানের দাওয়াত দেয়ার জন্য নিজের আমিত্ব ও বড়ত্ব পরিহার করতে হবে।

হজরত ওমর রা. এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি, একবার ওমর রা. তার খেলাফতকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতা কালে এক যুবক খলিফাকে দেখতে আসে। কুশলাদি শেষ করে যখন যুবক ফিরে যাচ্ছিলো তখন হজরত ওমর রা. তাকে ডাকলেন!

يا اخي ! (হে আমার ভাই) ! ওমর রা. এত্তো বড় একজন খলিফা হয়েও এক সাধারণ যুবককে ভাই বলে সম্বোধন করলেন। তাকে বললেন( ارفع ثيابک !) তোমার টাখনুর নিচে নেমে যাওয়া কাপড় উপরে উঠিয়ে নাও ।

দাওয়াত ও তালিমের ক্ষেত্রে এভাবেই নমনীয়তা অবলম্বন করতে হয়। এভাবে আবু বকর সিদ্দিক রা.। তিনিও ছিলেন খুব বিনয়ী।

দাওয়াতী কাজের জন্য আল্লাহ তায়ালা খুব ভাগ্যবান বান্দাদের নির্বাচিত করেছেন। দোকানি ফল গুছিয়ে রাখার পরও ক্রেতারা যেভাবে খুব সন্তুর্পনে সেখান থেকে ফল বেছে নেয় তেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা সব মানুষ সৃষ্টির পর দাওয়াতি মেহনতের জন্য কিছু মানুষ বেছে নিয়েছেন।

মহান রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেন, وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ ۗ ُ

এ আয়াত তেলাওয়াত করে আলোচক বলেন আল্লাহ তায়ালা যাকে যেভাবে ইচ্ছা মনোনীত করেন।

দেশে এই প্রথম আধুনিক চিকিৎসার সমন্বয়ে নববি চিকিৎসা হিজামা

যেভাবে আল্লাহ তায়ালা জমিনকে বাছাই করেছেন মানবজাতির জন্য, মানবজাতিকে বেছে নিয়েছেন ঈমানের জন্য, মক্কা নগরী বেছে নিয়েছেন কাবার জন্য, সপ্তম আসমানের উপর জান্নাতুল ফেরদাউসকে নির্বাচিত করেছেন নবীদের জন্য।

তেমনিভাবে পছন্দনীয় বিশেষ বান্দাদের তিনি সৃষ্টি করেছেন ঈমানের দাওয়াত প্রচারের জন্য।

আল্লাহ তায়ালা নবীদের বাছাই করেছেন ঈমান প্রচারের জন্য, আর উম্মতে মুহাম্মদিকে নির্বাচিত করেছেন সেই নবী আ. এর রেখে যাওয়া কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।

এমনকি যখন এই কাজ স্তিমিত হয়ে আসবে তখন আল্লাহ তায়ালা নবী হজরত ইসা আ. কে উম্মতে মুহাম্মদের মর্যাদা দিয়ে আসমান থেকে নামিয়ে আনবেন ঈমানের দাওয়াতের জন্য।

তাই যারা উম্মতে মুহাম্মদি হয়ে সম্মানিত হয়েছি সবারই এই দাওয়াতি মেহনতে কাজ পরিপূর্ণভাবে কাজ করতে হবে এবং দাওয়াতি সাথীদের গুনাবলী অর্জন করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি হাসিল করতে হবে।

তিনি তার মূল আলোচনায় বলেন, দীনের পূর্ণতা আসে দাওয়াতের দ্বারা। আর দাওয়াতের পূর্ণতা আসে ইজতেমায়ি ও ইনফেরাদি আমালের সমন্বয়ে।

দাওয়াত তালিম ইবাদত খেদমত মানুষের সাথে করা সামাজিক কাজ এগুলো ইজতিমায়ী আমল। আর ইনফিরাদি আমল হলো, তাহাজ্জুদ-ইশরাক, চাশত-আওয়াবিন, যিকির-তেলাওয়াত, সুন্নাহর পাবন্দি, রোনাজারি ইত্যাদি।

যেগুলো প্রত্যেক উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য পালন করা উচিত। এইসব ইজতেমায়ি বা ইনফেরাদি আমলের ঘাটতি হলে দাওয়াত পরিপূর্ণতা আসে না। অন্যদিকে কোন আমলই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পূর্ণতা পায় না! আর আমলের পরিপূর্ণতা ছাড়া আল্লাহর সাহায্যও পাওয়া যায় না।

তাই দাওয়াত ও দীনের পরিপূর্ণতার জন্য আমলের পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে। আর আমলে পূর্ণতা আসলেই আল্লাহর সাহায্য আসবে।

ইসা আ. সম্পর্কে খৃস্টানরা বলে তাকে শুলিতে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বলেন তাকে হত্যা করা হয়নি। তাকে আমি নিজ হেফাজতে আসমানে তুলে নিয়েছি। তিনি আসমানে আছেন। এই নবীর উম্মত হয়ে তিনি আগমন করবেন।

এই নবীর উম্মতের মধ্যে যখন দাওয়াতের মেহনত কমে যাবে তখন তাদের নিয়ে দাওয়াতি মেহনত বৃদ্ধি করতে তিনি আসবেন। তিনি দাওয়াতি কাজ নিয়েই আসবেন তবে এই নবীর উম্মত হিসেবে।

নবীর কাজ আর শান সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ* قُمْ فَأَنذِرْ *

‘হে নবী আপনি রাতে আমার দরবারে কিয়াম করুন। আর দিনে মানুষকে আমার প্রতি সতর্ক করেন।’

নবীর এক কাজ দিনে আরেক শান রাতে। দিনে নবী দাওয়াতি কাজ নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যান। মানুষের ঈমানি দাওয়াত নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

আর রাতে যাদের ঈমানের দাওয়াত দেয়া হয়েছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে রোনাজারি করেন। এ আয়াত নাজিলের পর রাসুল সা. দীর্ঘ দিন সারারাত কেদে কেদে কাটাতেন। সারা রাত নামাজ আদায় করতেন। একদমই ঘুমাইতেন না।

তখন কাফিররা বলতে লাগলো মুহাম্মদের উপর কেমন কিতাব নাজিল হলো? যে কিতাবের হুকুম মুহাম্মদের নাওয়া খাওয়া সব বন্ধ করে দিলো?

তখন আল্লাহ তায়ালা নবী সা. এর কাছে আবার অহি নাজিল করলেন ﻃﻪ * ﻣَﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﺘَﺸْﻘَﻰ * *

আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আমি আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কিতাব নাজিল করিনি। কাফিররা আপনার তিরষ্কার করবে এজন্য কিতাব নাজিল করিনি!’

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ. قُمِ اللَّيْلَ إِلاَّ قَلِيلا. نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلا. أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ .

আপনি রাতের কিছু অংশে জাগেন। অর্ধেক রাত জাগেন, বেশি রাত জাগেন, যতোটুকু শরীরে কুলানো যায় ততোটুকুই জাগেন!

নবীজির দিনের কাজ আর রাতের শান ছিলো দীনের দাওয়াতি কাজ আর রাতে আল্লাহর কাছে রোনাজারি।
আল্লাহ তায়ালা রাতের রোনাজারি এজন্যও গুরুত্ব দিয়েছেন যাতে করে উম্মতের মুহাম্মদি গুনাহমুক্ত থাকতে পারে। আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃত গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ *

এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা নবীদের কাজের সম্মানও দিলেন সাথে নবীদের মতো গুনাহ মুক্ত থাকার সুযোগও করে দিলেন।

তাই রাসুল সা. এর উম্মতের উপরে এটা বিশেষ সম্মানিত কাজ যা নবীগণের মতো করেই দাওয়াতি কাজ করে যাওয়া।

নবী সা. যেভাবে দিনে দাওয়াত, রাতে রোনাজারি করতেন সেভাবে আমল করা। ফলে আল্লাহ তায়ালা নবীগণকে যে শান দিয়েছিলেন; মুহাম্মদ সা. এর উম্মতদেরও সে মর্যাদা দেয়া হবে।

এই দীন ও দাওয়াতি কাজ পরিপূর্ণতা আসবে ইনফিরাদি ও ইজতিমায়ি কাজের সমন্বয়ে।

দাওয়াত তালিম ইবাদত খেদমত জিকির তিলাওয়াত মুয়ামালাত ইত্যাদি এগুলো ইজতিমায়ি আমল। আর ইনফিরাদি আমল হলো তাহাজ্জুদ ইশরাক চাশত আওয়াবিন যিকির তেলাওয়াত ইত্যাদি।

উভয় প্রকারের আমল পালন করা প্রত্যেক উম্মতে মুহাম্মাদির উপর জরুরি । এইসব ইজতেমায়ি বা ইনফেরাদি আমলের ঘটতি হলে দাওয়াত পরিপূর্ণ হয় না। আর দাওয়াত পরিপূর্ণ না হলে দীনেরও পূর্ণতা আসে না।

কারণ কোন কাজই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পূর্ণতা পায় না! আর দ্বীনের পরিপূর্ণতা আল্লাহর সাহায্যও পাওয়া যায় না। তাই দাওয়াত ও দীনের পরিপূর্ণতার জন্য আমলের পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বীনের পূর্ণতা পেলেই তখন আল্লাহ তায়ালা তার ওয়াদাকৃত সাহায্য পাঠাবেন। إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ *

‘নিশ্চয় আমি আমার রাসুলকে সাহায্য করবো দুনিয়াতে এবং যারা ইমান এনেছে তাদের সাহায্য করবো এবং কিয়ামতের দিনও তাদের সাহায্য করা হবে।’

এইজন্য আমাদের যে জিম্মাদারী দেয়া হয়েছে তা পালন করতে হবে। এ জিম্মাদারী দু প্রকার প্রথমত ব্যাক্তিগত
(ذاتي) জিমাদারী পুরা করা দ্বিতীয়ত ইজতেমায়ি জিম্মাদারি।

তাহলো মানুষের মাঝে দাওয়াত ও তালিম এবং উম্মতকে আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্ক গভীর করে দেয়া।

আমরা এই মাঠে একত্রিত হয়েছি দাওয়াতি মেহনত শিখতে বুঝতে এবং মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য।
জীবনের শেষ পর্যন্ত এই দাওয়াতি মেহনত আমরা ধরে রাখবো বলে সকলেই রাজি আছি তো ইনশাআল্লাহ।

এই কাজের মাধ্যমেই আল্লাহর সাহায্য মিলবে, দীন পরিপালনে পূর্ণতা আসবে, নবীদের কাজের মর্যাদা প্রাপ্তি হবে, এবং এ কাজগুলোই আল্লাহ তায়ালার কাছে পছন্দনীয় হয়ে তার সন্তুষ্টি অর্জন হবে। ইনশাআল্লাহ

মাগরিব পূর্ব মুহূর্তে দুয়া কবুলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এবং সকলকে দূরুদ ও দুয়া’র প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তার আলোচনা শেষ করেন ।

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০১; শায়খ ওমর খতিব

যারা ব্যাটারি চালিত টমটম তৈরি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের বিচার নেই

খতিব তাজুল ইসলাম
আলেম, স্কলার

অত্র এলাকার জনপ্রতিনিধি আমি হলে বুলডোজারের সামনে গিয়ে দাঁড়াতাম! পুলিশকে সময় দেয়ার কথা বলতাম।

তাদের সকলকে ডেকে এনে সমাধানের পথ খুঁজতাম। ব্যাটারি চার্জের জন্য সরকারি ভাবে বিভিন্ন পয়েন্টে মিটার সিস্টেম চারজিং পয়েন্ট বসাতাম। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির প্লান নিতাম। গরিবের জন্য রাষ্ট্র কিছুই করবে না! আবার বুলডোজার দিয়ে তাদের কোমর ভেংগে দিবে তা কোন ক্রমেই মেনে নিতে পারি না।

হ্যাঁ আমাদের ইসলামি রাজনীতিবিদগণ অবশ্য বলবেন যে, এখানে তো কুরআন সুন্নাহর কোন বরখেলাপ হচ্ছে না অতএব আমাদের করার কিছু নেই। এই মানসিকতা থেকে বের হতে পারলে ইসলামি রাজনীতি সফল হবে তার আগে নয়।

এটা কেমন বিচার? যারা ব্যাটারি চালিত টমটম তৈরি করার সামগ্রী বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের কোন বিচার নেই অথচ যারা কোন রকম ধার-দেনা করে সংসার চালানোর জন্য অতি কষ্টে একটি টমটম ক্রয় করে তা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাতো তাদের উপর চালানো হলো রোলার।

যারা দায়িত্ববান তারা কি জানে না গরিবের টমটম না ভেঙ্গে যারা এগুলো তৈরি করার সামগ্রী বিক্রয় বা আমদানি করে তা বন্ধ করে দিলেই তো হয়। তাতে গরিবের কষ্টের টাকাগুলো তারা অন্য কাজে ব্যবহার করে অন্তত সংসার চালানোর চেষ্টা করবে।

অযথা গরিবের পেটে লাথি না মেরে যারা মূল নাটের গুরু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ!

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান ০১; শায়খ ওমর খতিব

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল

আওয়ার ইসলাম: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন তা সবাই জানে এবং তা প্রমাণিত।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উন্নয়ন মেলা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের অনন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আজকের বাংলাদেশে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এ বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল প্রমুখ।

মিয়ানমারে ৬ মন্ত্রীর পদত্যাগ

আওয়ার ইসলাম: মিয়ানমারের বিভিন্ন ইস্যুতে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন। গতকাল দেশটির দুজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলে এ নিয়ে ৬ জনে দাঁড়ায় পদত্যাগকারী মন্ত্রীর সংখ্যা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাগো অঞ্চলের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় আয়িয়াওয়াদি ও মধ্যঞ্চলীয় মগওয়ে অঞ্চলের মন্ত্রীরা পদত্যাগের পর তারা সরে দাঁড়ালেন। খবর সিনহুয়ার।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, পদত্যাগ অনুমোদন করা দুই মন্ত্রী হচ্ছেন প্রাকৃতিক সম্পদ, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মন্ত্রী ইউ কিয়াও মিন সান এবং উন্নয়ন ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী ইউ মংসং লইন।

ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকার দেশটির ১৪টি অঞ্চলিক বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়েছে। দলটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।