All posts by ourislam

একটি অবৈধ সম্পর্ক, ভয়ংকর শেষ পরিণতি

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গ্রাম্যপঞ্চায়েতের রায় মেনে নিতে না পেরে সাবিনা বেগম (১৯) নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে বসতঘরের তীরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সাবিনা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

সে কাগাপাশা ইউনিয়নের লোহাজুরি গ্রামের দিনমজুর নিবরসা মিয়ার মেয়ে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গতকাল হবিগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রেমিক ঝুম্মন মিয়াকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।

ঝুম্মন একই গ্রামের নান্দু মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্র বলেছে, ঝুম্মন ও সাবিনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশায় সাবিনা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে প্রেমিক ঝুম্মন চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সাবিনা তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে।

এ নিয়ে গত ১৩ই জুলাই লোহাজুরি গ্রামে এক সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে সাবিনাকে ৬০ হাজার টাকা প্রদানের রায় দেন সালিশানরা। এদিকে সালিশের ৪ দিনের মাথায় সাবিনা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ আলী জানান, দরিদ্র পরিবারের মাতৃহীন সাবিনা। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ঘরে অসহায় বৃদ্ধ বাবা ছাড়া পরিবারে আর কেউ নেই। লোকমুখে তিনি শুনেছেন, সাবিনা গ্রাম্যপঞ্চায়েতের রায় মেনে নিতে পারেনি বলে অতি দুঃখে আত্মহত্যা করেছে।

বানিয়াচং থানার এসআই ওমর ফারুক জানান, পঞ্চায়েতের রায় মেনে নিতে না পেরে সাবিনা ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

আত্মহত্যায় প্রধান প্ররোচনাকারী প্রেমিক ঝুম্মনকে পুলিশ মঙ্গলাবর রাতে আটক করেছে।

বানিয়াচং থানার এসআই (তদন্তকারী কর্মকর্তা) ফিরোজ জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মিডিয়া নিয়ে আমাদের আক্ষেপ ও কিছু বাস্তবতা

আরআর

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ মুসলিম ব্যক্তিত্ব; জরিপ

মাওলানা মিরাজ রহমান

দ্য ওয়ার্ল্ডস ফাইভ হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লুনসিয়াল মুসলিম-জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার দ্বারা পরিচালিত একটি আয়োজন। যারা মূলত বিশ্বব্যাপি প্রতিবছর প্রভাশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা। প্রতি বছরের মতো ২০১৭ সালে পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম। ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম নির্বাচন করার পর আরো দুই ধাপে দুটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়।

২০১৭ সালের নির্বাচিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্ব কারা নির্বাচিত হয়েছেন? চলুন জেনে নেই বিশ্বের সবেচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

১. অধ্যাপক ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল-তৈয়ব: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার প্রথমে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তার দেশ মিশর। জন্ম- ১৯৪৬ সালে। মূলত প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে তিনি প্রভাশালী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। বর্তমানে তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ড শায়খ এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের গ্রান্ড ইমাম হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। এরপূর্বে তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় সাত বছর এবং মিশরে সবচেয়ে শক্তিশালী ধর্মীয় নেতা বা গ্র্যান্ড মুফতি হিসাবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) ইবনে আল হুসাইন: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি প্রথম ছিলেন। তার দেশ জর্ডান। জন্ম- ১৯৬২ সাল অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স ৫৪ বছর। রাজনীতি এবং ঐতিহ্যবাহী বংশের বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী নির্বাচিত। তিনিও একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম নেতা। বর্তমানে তিনি জর্ডানের হাশেমাইট কিংডমের রাজা এবং জেরুজালেমের বিভিন্ন অঞ্চলের জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। মুসলিম বিশ্বের দুটি বিরাট দ্বন্দ্ব নিরসনে ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হন।

৩. কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ কিন আল সৌদ: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তার দেশ সৌদি আরব। জন্ম- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ মোতাবেক তার বয়স ৮০ বছর। রাজনৈতিক ক্ষমতার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ মর্ডারেট সালাফি মুসলিম নেতা। বর্তমানে তিনি রয়েল সৌদি আরবের বাদশাহ এবং সৌদি আরবে অবস্থিত পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি এই পদে আসীন হন। এর পূর্বে তিনি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে সৌদি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৪. সাইয়্যেদ আলী খোমেনি: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি চতুর্থ স্থানের অধিকারী ছিলেন। তার দেশে ইরান। ১৭ জুলাই ১৯৩৯ সালে জন্ম মোতাবেক তার বয়স এখন ৭৭ বছর। রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী শিয়া মুসলিম। পাশাপাশি একজন বিপ্লবী শিয়া নেতা। তিনিই বর্তমানে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সবোর্চ্চ নেতা।

৫. কিং মুহাম্মাদ (ষষ্ঠ): বিশ্বের সবেচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার পঞ্চম ব্যক্তিত্ব তিনি। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি পঞ্চম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার দেশ মরক্কো। ২১ আগস্ট ১৯৬৩ সালে জন্ম মোতাবেক তার বয়স ৫৩ বছর। রাজনীতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং উন্নয়নের বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মালেকি মাজহাবের অনুসারী হিসেবে একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। বর্তমানের তিনি মরক্কোর বাদশাহ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিং মুহাম্মাদ (ষষ্ঠ) সরাসরি হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর এবং তার পরিবারের সদস্যরাই বিগত ৪০০ বছর যাবত মরক্কো শাসন করছেন।

৬. বিচারপতি শায়খ মুহাম্মাদ তাকি উসমানি: বিশ্বের সবেচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে আছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি ২২তম স্থানে ছিলেন। তার দেশ পাকিস্তান। ০৩ অক্টোবর ১৯৪৩ সালে জন্ম মোতাবেক তার বর্তমান বয়স ৭৩ বছর। পাণ্ডিত্যপূর্ণতা এবং বংশধারার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছেন। হানাফি মাজহাবের অনুসারী হিসেবে তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। ইসলামিক আইনশাস্ত্র ও ইসলামিক অর্থনীতি বিষয়ে তিনি বিশ্ববিখ্যাত স্কলার। ১৯৮২ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারকও ছিলেন তিনি।

৭. সাইয়্যেদ আলী হুসাইন সিস্তানি: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি টপ টেন তালিকাতে ছিলেন না। তবে ২০১৪/১৫ সালের জরিপে সপ্তম স্থানের অধিকারী ছিলেন। তার দেশে ইরান। তিনি ০৪ আগস্ট ১৯৩০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বর্তমান বয়স ৮৬ বছর। পাণ্ডিত্যপূর্ণতা এবং বংশধারার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব বিবেচিত। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী শিয়া মুসলিম। তিনি ইরানের একজন বিপ্লবী নেতা হিসেবে পরিচিত।

৮. প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়িপ এর্দোগান: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার অষ্টম ব্যক্তিত্ব তিনি। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি অষ্টম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার দেশ তুরস্ক। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ সালে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার বয়স ৬২ বছর। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আধিপত্যের বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমানে তিনি তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। এর আগে তিনি টানা ১১ বছর তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সারা বিশ্বব্যাপি তিনি একজন সমাদৃত মুসলিম নেতা হিসেবে বিবেচিত।

৯. শায়খ আবদুল্লাহ বিন বায়াহ: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার নবম স্থান অধিকার করে আছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি ২৩তম স্থানে ছিলেন। পাণ্ডিত্যপূর্ণতার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন। তার দেশ মরিতানিয়া। তিনি ১৯৩৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৮১ বছর। তিনি বর্তমানে ফোরাম ফর প্রোমোটিং পিস ইন মুসলিম সোসাইটি নাম বিশ্ব্যব্যাপী সমাদৃত সংস্থার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মালেকি মাজহাবের অনুসারী হিসেবে তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। তিনি পূর্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র মৌরিতানিয়ার হাইকোর্ট বিচার বিভাগের শরীয়াহ বিষয়ক প্রধান বিচারক ছিলেন।

১০. আমির হাজি মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহহাব: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন তিনি। ২০১৫/১৬ সালের জরিপেও তিনি দশম স্থানের অধিকারী ছিলেন। তার দেশে পাকিস্তান। তার জন্ম ১৯২৩ সালে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার লিডার হিসেবে তিনি প্রভাবশালী মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তাবলীগ জামাতের পাকিস্তান অধ্যায়ের আমির। এছাড়া আন্তর্জাতিক তাবলীগ জামাতের গুরুত্বপূর্ণ মুরুব্বি। পাশাপাশি তিনি একজন ধর্মীয় রক্ষণশীল ও আধ্যাত্মিক নেতা। হানাফি মাজহারে অনুসারী হিসেবে তিনি ঐহিত্যবাহী সুন্নি মুসলিম।

সূত্র : দ্য ওয়ার্ল্ডস ফাইভ হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লুনসিয়াল মুসলিম। প্রিয় ডটকম

জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর নতুন শিক্ষাবর্ষের দরস শুরু

আজ (১৯ জুলাই) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র আল-জামিয়ায়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র নতুন শিক্ষাবর্ষের (১৪৩৮-৩৯হিঃ) দরস শুরু হয়েছে।

দরস উদ্বোধন করেছেন জামিয়ার মহাপরিচালক সর্বজন শ্রদ্ধেয় শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)। এ সময় জামিয়ার সুপ্রশস্ত দারুল হাদীস মিলনায়তন ও বারান্দায় ছাত্রদের জমায়েতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

উদ্ভোধনী দরস শুরু হওয়ার পর জামিয়ার শিক্ষাসচিব ও প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী নূর আহমদ ছাত্রদের উদ্দেশ্যে সূচনা বক্তব্য পেশ করেন।

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দুনিয়ার সকল লোভলালসা ত্যাগ করে এখানে এসেছেন দ্বীনি ইলম অর্জন করার জন্য। সুতরাং নিয়্যাতকে খালেস করে এবং অন্তরে তাকওয়া ও আল্লাহর ভয় নিয়ে নিজেদের পড়ালেখায় আত্মনিয়োগ করবেন।

এরপর জামিয়ার সহযোগী পরিচালক ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক হিদায়াতী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি উলূমে নবুওয়াতের ফযীলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার উপর বক্তব্য রাখেন।

ছাত্রদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আপনারা দ্বীনের বৃহৎ পরিসরে খেদমত করার মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়েই দুনিয়াবী শিক্ষা ও খ্যাতির সম্ভাবনাকে পরিত্যাগ করে মাদরাসা শিক্ষাকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে সফলতা আসতে হলে অবশ্যই আপনাদেরকে পূর্ণ মনোযোগ ও কঠোর অধ্যাবসায়ের সাথে দরসে নিয়মিত হাজির থাকতে হবে এবং অন্য সময়ে কিতাব মুতালায়া করতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করার জন্য এবং দ্বীনি বিষয়ে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ইসলাম নির্মূলবাদি চক্র বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা শুরু করেছে। নতুন নতুন নানা ফেরকার উদ্ভব ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ফেরকা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হলে যোগ্য আলেম হয়ে আপনাদের গড়ে ওঠতে হবে। এই জন্য পবিত্র কুরআন-হাদীস ও ইলমে ফিক্বাহর মৌলিক জ্ঞানসহ অন্যান্য সকল বিষয়েও পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। ইলমে দুর্বলতা থেকে গেলে এটা উপকারীর চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং এ বিষয়ে সকলকে সযত্ন ও সতর্ক থাকতে হবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, সকল শিক্ষার্থীদের জামিয়ার আভ্যন্তরীণ সকল আইন ও নিয়ম-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এ ব্যাপারে কোন শিথিলতা করা যাবে না। যথারীতি দরসে সকল ছাত্রকে হাজির থাকতে হবে এবং দরসের বাইরে সময়ের উত্তম ব্যবহার করে পূর্ণ মনোযোগের সাথে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে।

তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনামূলক বয়ানে আরো বলেন, জামিয়ার সকল উস্তাদ, কর্মকর্তাসহ যিম্মাদারগণের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে আপনাদেরকে চলতে হবে। আপনাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা ও চলাফেরায় পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে। দোকানপাট ও বাজারে ঘোরাফেরা করবেন না এবং কোথাও আড্ডা দিবেন না। এসব বিষয়ে জামিয়ার পক্ষ থেকে কঠোর তদারকী করা হবে। আমরা চাই, আপনারা এখানে এসেছেন সহীহ দ্বীনি ইলম অর্জন করতে এবং দ্বীনি বিষয়ে উম্মাহ’র পথপ্রদর্শক হয়ে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে। আমরা আপনাদের সেভাবেই গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো ও সাহায্য করবো, ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মনে রাখবেন- কুরআন-হাদীস ও ইসলামের মৌলিক ইলম হাসিল করার জন্য আমাদের আকাবির ও পূর্বসূরীগণ সীমাহীন মেহনত-পরিশ্রম ও সাধনা করে গেছেন। নানা বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা চিনতে ও বুঝার যোগ্যতা অর্জন করে সহীহ ইলমে দ্বীন হাসিল করতে হলে অক্লান্ত মেহনত- পরিশ্রম ও সাধনা করতে হবে। আর ইলম অর্জনের পাশাপাশি এখন থেকেই নিজেদের আমল-আখলাকের মধ্যেও তার অনুশীলন শুরু করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, নিয়মিত জামাতে নামায আদায় করবেন, প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করবেন। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে গভীর রাতে ওঠে তাহাজ্জুদ পড়ে ফজরের আগে ১-২ ঘণ্টা কিতাব পড়বেন। চলাফেরার সবপর্যায়ে সুন্নাতের পাবন্দীর উপর গুরুত্ব দিয়ে চলবেন। এভাবে যদি মেহনত-সাধনা করে এবং জামিয়ার সকল আইন মেনে নিজেকে আদর্শ ও পরিশুদ্ধতা নিয়ে চলতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আপনারা এখান থেকে শিক্ষাউত্তীর্ণ হয়ে কওম-মিল্লাতের যোগ্য রাহবার ও খাদেম হয়ে সম্মান-শ্রদ্ধার্জনের সাথে দ্বীনের বহুমুখী কাজ আঞ্জাম দিতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলাম ও মুসলমানদের নানামুখী সংকট ও দুর্দিনে কওম আপনাদের নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছে। আর আপনারা যোগ্য আলেম রূপে গড়ে ওঠতে সক্ষম হলে তবেই কওমের পীপাসা নিবারণ করতে পারবেন।

উদ্ভোধনী দরসে জামিয়ার সকল মুহাদ্দিস, মুফতী ও উস্তাদবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন স্মরণে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্য ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনও করা হয়েছে।

সকাল থেকে ভক্তদের ভিড় বাড়তে শুরু করে নুহাশ পল্লীতে। হিমু পরিবহনে চড়ে হলুদ পাঞ্জাবী পরিহিত হিমুরাও চলে আসেন।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রিয় লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে যান অনেক ভক্ত।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তাঁর ভাষা আর বর্ণণার যাদু আর চরিত্র নির্মাণের দক্ষতায় পাঠকের মোহাবিষ্ট হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। উপন্যাস বা গল্প, মাধ্যম যাই হোক না কেন, পড়তে শুরু করলে থামা দায়।

হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর শেষ ইচ্ছা ও পারিবারিক সিন্ধান্তে নিজের প্রতিষ্ঠিত গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতেই তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।

ছোটগল্প: কল্পনায় হুমায়ূন

ইলমে দ্বীন হাসিলের জন্যে নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হবে: আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন, চট্টগ্রাম

উম্মুল মাদারিস জামেয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর সহকারী পরিচালক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র উস্তায হাফেজ মাহবুব অক্সিজেনস্থ মাদরাসা দারুল আফকার আল ইসলামিয়ার মিশকাত জামাতের সবক উদ্বোধন করেছেন।

মঙ্গলবার ১৮ জুলাই এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মিশকাত শরীফের প্রথম হাদীস নিয়ে আলোচনায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এই হাদীস মূলত বিশুদ্ধ নিয়ত ও ফাসেদ নিয়তের মাঝে পার্থক্য বিবরণের জন্যে সবার প্রথমে আনা হয়েছে।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্রদের ইলমে দ্বীন হাসিল করার জন্যে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মুজাহাদা আর পরিশ্রম করতে হবে পড়ালেখার পেছনে। সময় ব্যয় করতে হবে কিতাব বুঝার জন্যে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকদেরও দরস-তাদরীসের ক্ষেত্রে নিয়তকে বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। শুধুমাত্র ক্লাসের দরস দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাড়তি সময় নিয়ে ছাত্র গড়ার পেছনে সময় ব্যয় করতে হবে। আজকাল আমাদের ছাত্রদের মেহনত কমে গেছে ভীষণভাবে। তাই তাদের মাঝে মেহনতের জঝবা তৈরি করতে হবে।

মিডিয়া নিয়ে আমাদের আক্ষেপ ও কিছু বাস্তবতা

আরআর

মিডিয়া নিয়ে আমাদের আক্ষেপ ও কিছু বাস্তবতা

জহির উদ্দিন বাবর
আলেম ও সাংবাদিক

বর্তমান সময়ে মিডিয়ার প্রভাব কতটা বেশি সে সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। আজকের যুগ পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মিডিয়া। এজন্য এই সময়ে মিডিয়াকে অনেকে ‘দ্বিতীয় খোদা’ বলে অভিহিত করেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে বরাবরই মিডিয়া ইসলামপন্থীদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করে থাকে। তাদের গায়ে রঙ লাগানো, ভিন্নভাবে উপস্থাপন মিডিয়ার রুটিন কাজ। ইসলামপন্থীরা মিডিয়ার একটি কাটতি আইটেম। আমরা চাই আর না চাই মিডিয়া ইসলামপন্থীদের পেছনে লাগবেই। কারণ অনেকের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হচ্ছে এর মাধ্যমে। আর বাস্তবতা হলো আমরা চাইলেও মিডিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারবো না। তাই বাস্তবতা মেনে নিয়ে মিডিয়াকে নিজেদের করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

একটা সময় আমরা এ ব্যাপারে উদাসীন থাকলেও এখন আর নই। আমাদের মুরব্বিরা অনেকেই মিডিয়া নিয়ে ভাবছেন। মিডিয়া করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন। মাদরাসায় পড়াশোনা করে মিডিয়ার মতো ভিন্ন জগতে যুক্ত হওয়াকে আগে বাঁকা চোখে দেখলেও এখন আর সেটা দেখা হচ্ছে না। আগে মাদরাসাগুলোতে বাংলা চর্চা নিষিদ্ধ থাকলেও এখন অনেক মাদরাসার তত্ত্বাবধানে নিয়মিত বাংলা চর্চার ব্যবস্থা হচ্ছে। সবমিলিয়েই লেখালেখি, সাহিত্য ও মিডিয়ার ব্যাপারে আলেম-ওলামার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

মাতৃভাষা চর্চায় আমরা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিলাম। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার পর এখন মাশাআল্লাহ মাতৃভাষা চর্চার পরিমাণ একটা আশানুরূপ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সময় সচেতন প্রত্যেক আলেমই এখন কোনো না কোনোভাবে মাতৃভাষা চর্চা করছেন। আর কিছু না হোক, অনন্ত মাতৃভাষায় লিখে মনের ভাবটুকু প্রকাশের মতো সামর্থ্য নবীন আলেমরা অর্জন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো উন্মুক্ত প্রান্তরে লেখালেখির অবারিত সুযোগ পেয়ে এখন প্রত্যেকেই কমবেশি লিখছেন, নিজের চিন্তাগুলো লিখিত আকারে প্রকাশ করছেন। বাংলা ভাষা চর্চায় এটাও একটি ইতিবাচক দিক।

আমাদের অনেকেই এখন মূলধারার মিডিয়ায় কাজ করছেন। নতুন করে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন। মিডিয়ায় মাদরাসাপড়–য়াদের অংশগ্রহণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই উত্তরণ অবশ্যই আশা জাগানিয়া। তবে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার মতো কোনো অবস্থানে আমরা এখনো পৌঁছাইনি। কারণ আমাদের যারা মিডিয়ায় কাজ করছেন তার এখনো মিডিয়ার ‘বারান্দা’য় অবস্থান করছেন। মূল ঘরে নিজের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে আরও অনেক বাকি। মিডিয়ায় চাকরি করে কেউ কোনোদিন মূল ঘরে শক্তিশালী অবস্থান গড়তে পারবে না। মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ চাইলে অবশ্যই পলিসি মেকারদের মধ্যে যুক্ত হতে হবে। আমাদের অমুক অমুক আছেন মিডিয়ায়, তারা অমুক অমুক জায়গায় কাজ করেন এটা ভেবে যারা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

মনে রাখতে হবে, মিডিয়ার নিজস্ব ক্ষমতা বলে কিছু নেই। মিডিয়া হলো কাঠের পুতুলের মতো, এটা যেভাবে চালাবেন সেভাবেই চলবে। একই মিডিয়া দ্বারা আপনি অসৎ ও অনৈতিক কাজ যেমন করতে পারেন তেমনি অনেক ভালো কাজ করারও সুযোগ আছে। সবই নির্ভর করে পলিসি মেকারদের ওপর। আর মিডিয়ার মূল পলিসি মেকিং করে মালিকপক্ষ। তাদের নির্ণয় করে দেয়া পথে চলতে গিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পলিসি ঠিক করে নেন মিডিয়া হাউজগুলোর দায়িত্বে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিরা। সুতরাং প্রতিটি মিডিয়া তার মালিকের আদর্শ ও বিশ্বাসের বার্তাবাহক। যিনি টাকা খরচ করে মিডিয়া হাউজ করেছেন সেই মিডিয়ায় তার আদর্শ ও বিশ্বাস প্রচার হবে এটাই স্বাভাবিক।
আমাদের অনেকেই বিভিন্ন সময় মিডিয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করি। অমুক পত্রিকা, অমুক টেলিভিশন আমাদের বিরুদ্ধে এই করেছে, ওই করেছে ইত্যাদি অভিযোগ তুলি। যারা টাকা খরচ করে পত্রিকা আর টেলিভিশন করেছে তাদের উদ্দেশ্যই আপনার বিরুদ্ধে কাজ করা; সুতরাং তারা তাদের উদ্দেশ্যে অবিচল আছে। আপনি যদি তাদের বিপরীতে দাঁড়াতে চান তাহলে আপনাকে আরেকটি মিডিয়া নিয়েই দাঁড়াতে হবে।

একটি উদাহরণ দিই। দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি শিল্প গ্রæপের নিজস্ব কোনো পত্র-পত্রিকা ছিল না। প্রতিদ্ব›দ্বী গ্রæপের মালিকানাধীন পত্রপত্রিকা যখন তাদেরকে নানাভাবে খুঁচাতে লাগল তখন তারাও মিডিয়ায় বিনিয়োগ শুরু করলো। এখন সেই গ্রæপটি সবধরনের মিডিয়া করে ‘মিডিয়া মুঘল’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এখন আর তারা যত অপকর্মই করুক কেউ চোখ তুলে তাদের দিকে তাকানোর সাহসও পায় না। কারণ সবাই জানে তাদের দিকে ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হবে।

ইসলামপন্থীদের অভিযোগ মিডিয়া তাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করে। এই অভিযোগ বছরের পর বছর শুনে এসেছি। অথচ যথার্থ উপায়ে এর সমাধান খোঁজার কোনো চেষ্টা তাদের মধ্যে দেখি না। জনকণ্ঠ আর প্রথম আলোর বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল আর পত্রিকা পোড়ানোকেই তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করছে। অথচ এর দ্বারা কোনো দিন মিডিয়ার গ্রাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না ইসলামপন্থীরা। মিডিয়া বৈরিতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে তাদেরও মিডিয়ার মালিক হতে হবে। মিডিয়া খাতে নিজেদের বিনিয়োগ করতে হবে। নিজেরা বিনিয়োগ না করে পরের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা মিডিয়ায় নিজেদের প্রচার চাইবেন কিংবা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আক্রমণ থেকে বাঁচতে চাইবেন তা কখনও সম্ভব নয়।

কোটি টাকার ওপরে বছরে ব্যয় হয় এমন মাদরাসার সংখ্যা দেশে অনেক। আলেমদের তত্ত্বাবধানে শত কোটি টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণের খবরও আমরা পাই। অথচ কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ছোটখাট কিছু মিডিয়া হাউজ গড়লে বা যেগুলো গড়ে উঠেছে তাদের সহায়তা করলে অবস্থার অনেক উন্নতি হতো। দেশের বৈরী মিডিয়াগুলো ইসলামপন্থীদের নিয়ে খেলা করতে একটু হলেও ভয় পেতো।

ইসলামপন্থীদের মধ্যে এখন মিডিয়া উদ্যোক্তা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এককভাবে না হোক অন্তত অনেকে মিলে হলেও বিভিন্ন আঙ্গিকের ভালো কিছু মিডিয়া হাউজ গড়ে তুলতে পারলে তাদের আর ফাঁকা মাঠে গোল খেতে হতো না। কিন্তু মিডিয়ায় বিনিয়োগ করার মতো কোনো আলামত আপাতত দেখা যাচ্ছে না। অনেকে মৌখিকভাবে মিডিয়ার প্রয়োজনের কথা স্বীকার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে সেটার কোনো প্রমাণ মিলে না। কেউ কেউ বলতে পারেন, সামর্থ্যরে অভাবে সেটা হচ্ছে না। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ ইসলামপন্থীদের সামর্থ্যরে মাত্রা এখন অনেক বেড়েছে। যারা আলেম-ওলামা, যারা ধর্মকর্ম করেন, যারা একটি সত্য ও সুন্দর আদর্শে বিশ্বাস করেন এমন মানুষদের মধ্যে এখন টাকাওয়ালা অনেক। প্রচুর টাকা তারা নড়াচড়া করেন। মিডিয়ায় বিনিয়োগ করতে চাইলে খুবই সম্ভব। কিন্তু প্রয়োজনবোধ, পরিকল্পনা এবং মানসিকতা কোনোটাই নেই।

কোটি টাকার ওপরে বছরে ব্যয় হয় এমন মাদরাসার সংখ্যা দেশে অনেক। আলেমদের তত্ত্বাবধানে শত কোটি টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণের খবরও আমরা পাই। অথচ কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ছোটখাট কিছু মিডিয়া হাউজ গড়লে বা যেগুলো গড়ে উঠেছে তাদের সহায়তা করলে অবস্থার অনেক উন্নতি হতো। দেশের বৈরী মিডিয়াগুলো ইসলামপন্থীদের নিয়ে খেলা করতে একটু হলেও ভয় পেতো। লেখালেখি, সাংবাদিকতা ও শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে চায় যেসব ছেলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো। কিন্তু সে দিকে নেই কারও কোনো মনোযোগ। সবাই ব্যস্ত নতুন নতুন মসজিদ আর মাদরাসা নির্মাণ নিয়ে। মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণের প্রয়োজন কখনোই অস্বীকার করার নয়। কেয়ামত পর্যন্তই এর প্রয়োজন থাকবে। তবে ইসলামী ধারার মিডিয়ায় বিনিয়োগ করা; উদ্যোক্তা হয়ে কিছু মিডিয়া হাউজ প্রতিষ্ঠা করা এমন আলেমের সংখ্যাও তো দুই চারজন থাকা চাই। না হলে মিডিয়া নিয়ে আক্ষেপ যতই করুক কোনোদিন এর থেকে পরিত্রাণের সুযোগ মিলবে না।

আমরা সবকিছুই একটু দেরিতে করি। মাতৃভাষা চর্চায় আমরা অনেক দেরিতে যুক্ত হয়েছি। এতে আমাদের হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। পত্রপত্রিকার প্রয়োজনও হয়ত আমরা এক সময় বুঝবো। যখন বুঝবো তখন দেখা যাবে এসবের যুগ পেরিয়ে নতুন কোনো যুগে চলে গেছে বিশ্ব। আগে একটি মাসিক পত্রিকাকেই কার্যকরী মিডিয়া মনে করা হতো। পরে সাপ্তাহিক আর পাক্ষিককে। এক পর্যায়ে এলো দৈনিকের যুগ। সেই যুগ পেরিয়ে এখন টেলিভিশন, রেডিও আর অনলাইন মিডিয়ার যুগে আছি আমরা। এর কোনোটিতেই আমাদের কোনো প্রভাব নেই। এগুলোর প্রয়োজন যখন বুঝবো তখন হয়ত তা অকার্যকর হয়ে যাবে। এভাবে পিছিয়ে থেকেই আমাদের চলতে হবে-এই যদি হয় নিয়তি তাহলে তো আর বলার কিছু নেই। তবে যদি মনে করি আমরা সময়কে সঙ্গ দেব তাহলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। যুগের চাহিদা আর সময়ের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কথায় বলে, যে যুগের ভাষা বুঝে না সে গাফেল গাফেল!!

সভাপতি: বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, এবারের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পদ আমেরিকায় থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি কোনো মার্কিন নাগরিক তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে এই কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে যে, দেশটির কথিত ‘উস্কানিমূলক ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী আচরণ’ মেনে নেবে না আমেরিকা।

ইরান ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কংগ্রেসকে নিশ্চিত করার একদিন পর ইরান বিরোধী নয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো কংগ্রেসকে জানায়, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এর তিনমাস পর সোমবার আবারো বিষয়টি নিশ্চিত করল হোয়াইট হাউজ।

ওই সমঝোতায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর উল্টো পথে হাঁটছে আমেরিকা।

আরআর

হজযাত্রীদের সহায়তায় সৌদি গেলেন ৩ হজ অফিসার

আগামী হজ মৌসুমী বাংলাদেশি হাজিদের সেবায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তা মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবে গেছেন।

হজ অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত এ তিন কর্মকর্তা হলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, উপসচিব মো. জহির আহমেদ ও সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।

এদের মধ্যে এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী মক্কায়, জহির আহমেদ মদিনায় ও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জেদ্দায় দায়িত্ব পালন করবেন।

মূলত বিমানবন্দরে ভিসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে, পাসপোর্ট কিংবা লাগেজ হারিয়ে গেলে, অসুস্থ কিংবা মারা গেলে সর্ব ধরনের সহায়তা করবেন তারা। একইভাবে দেশে ফেরার সময় ওইসব সমস্যা ছাড়াও জমজমের পানি হাজিদের নামে বরাদ্দ করে তা দেশে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া কিংবা কোনো কারণে হাজির ফ্লাইট মিস হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ কাউন্সিলরের (হজ) অধীনে হজ মৌসুমে দায়িত্বশীল থাকবেন তারা। আগামী ২৪ জুলাই থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি নিতেই মৌসুমী হজ অফিসারদের সৌদি পাঠানো হয়েছে।

মক্কা ও মদিনায় নিয়োগপ্রাপ্ত মৌসুমী সহকারী হজ অফিসারদের দায়িত্ব হলো হাজিদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা, বাড়িঘর পরিদর্শন (বিশেষত বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হাজিদের) করে হাজিদের সমস্যার সমাধান করা। এছাড়া মেডিকেল টিমের মাধ্যমে হাজিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান।

‘হজ ফ্লাইট শুরু ২৪ জুলাই, ‘টিকিট নিয়ে সিন্ডিকেট হলে ব্যবস্থা’

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে বাহরাইন ডিস্কভার ইসলামের অভিনন্দন

দেশের খ্যাতিমান হাদীস বিশারদ, লিখক ও গবেষক শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর মত বিদগ্ধ আলেম, বিচক্ষণ ও সুদক্ষ কর্মবীরকে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সহকারীপরিচালক পদে মনোয়ন দেয়ায় মজলিশে শূরাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাহরাইনের আন্তর্জাতিক দাওয়াতি সংস্থা ডিস্কভার ইসলামের বাংলা গ্রুপ।

সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কওমি মাদরাসা দারুল উলুম হাটহাজারীর মজলিশে শূরা সময়ের প্রেক্ষাপটের যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ইতিহাসের পাতায় যুগযুগ ধরে স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সর্বমহলে পরিচিত ও গ্রণযোগ্য একজন বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন।

জীবনের বিরাট একটি অংশ যিনি হাদীসে রাসুলের খিদমতে নিয়োজিত থাকেন। সহীহ বুখারী থেকে নিয়ে হাদীসের প্রায় বিশুদ্ধ গ্রন্থ গুলোর তিনি দরস দিয়ে আসছেন অত্যন্ত সুনামের সহিত।

দেশের শীর্ষ এ আলেমের বিরুদ্ধে আজ যারা মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিউজ পাবলিশ করায় সংগঠনটি তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে।

এ দিকে বাহরাইন ডিস্কভারের দাওয়া বিভাগের প্রধান আল্লামা শায়খ আহমদ খান আল্লামা বাবুনগরীর সহকারী পরিচালক পদে আসীন হওয়ায় আন্তরিকভাবে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং তাঁকে মুবারকবাদ জানিয়েছেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আল্লামা হারুন আযিযি নদভি‘র অভিনন্দন

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নিহত

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক জলদস্যু নিহত হয়েছেন। নিহত আবুল কালাম (২৫) ওরফে ল্যাংরা কামাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জলদস্যু বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নগরের পোলোগ্রাউন্ড মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৭ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, রাতে র‌্যাবের টহল দল পোলোগ্রাউন্ড এলাকায় গেলে কালামের সহযোগীরা সেখানে গুলি চালায়। এ ঘটনায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে কালামকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় খুন ও ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব জানায়।

কোরিয়ায় বাড়ছে হালাল রেস্টুরেন্ট; মুসলিম পর্যটক বেড়েছে ৩৩ ভাগ