All posts by ourislam

সায়ীদ উসমানের অনুবাদে মির্জা গালিব: প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব সম্মিলন

শামস আরেফিন

বিখ্যাত লেখকদের রচনা পড়ে পাঠক আলোড়িত হন। লেখকের মতো পাঠক ভাবতে শেখেন। আর সেই বিখ্যাত পূর্বসূরীর লেখা পড়ে পরবর্তী সময়ে তার পরপুরুষ লেখক সে রকম লেখার চেষ্টা করেন।

আবার অবাক করার বিষয়- সেই বিখ্যাত লেখকের লেখায় প্রভাবিত হয়ে, লেখা পাঠ করে আমরা সাধারণ পাঠকরাও আলোড়িত। তাই অমর কবিতা পড়ে সাধারণ মানুষের মনের খোরাক যেমন জোটে, ঠিক তেমনি অমর কবিতা পাঠ করে একজন লেখকের লেখার খোরাকও জুটতে পারে।

যেমন গালিবের শের

বিরহের স্বাদ প্রিয় আমার/মিলনের স্বাদ চাই না তাই
কবির জুটুক বিরহ আর/ মিলনের স্বাদ পাক সবাই।

প্রথমত কেন কবি বিরহ পেতে চান? মিলনকে তিনি কেন ভয় পান। কারণ আমরা অনেকেই জানি “ভালোবাসা মিলনে মলিন বিরহে উজ্জ্বল হয়।”

এখন প্রশ্ন হতে পারে কোথা থেকে আমরা এ কবিতা জানলাম। উত্তরটা খুব সোজা। আর তা হলো যে জ্বলে আগুন জ্বলের কবি হেলাল হাফিজ থেকে।

কারণ কবিরা জানে, বিরহের আগুনে পুড়লে তিনি প্রেমিক হিসেবে খাঁটি সোনা হতে পারবেন। তিনি হতে পারবেন খাঁটি প্রেমিক। পাবেন আরও কয়েকটি ভালোবাসার কবিতা।

তাই হেলাল হাফিজের এই কবিতার ভাবার্থকে যদি সারংশ হিসেবে দাঁড় করানো চেষ্টা করি- তবে তা সত্য হবে গালিবের এই রুবাইয়াৎ এ।

অথবা বলুন প্রিয়াকে চাঁদের সাথে তুলনা করা, পূর্ণিমা হিসেবে মেয়েদের নাম রাখা, বা জোৎস্না হিসেবে মেয়েদের নাম রাখা বা কবিতায় এবং গানে বলা “লোকে বলে আমার ঘরে চাঁদ উঠেছে/ নাগো না আমার বন্ধু এসেছে” এই যে উপমা তা কিন্তু এই গালিবের হাত দিয়ে প্রথম এসেছে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনাই প্রকট। যেমন

প্রভুর এ কোন কারিশমা সে/আমার ঘরে আজ এসেছে
এসো এসো দেখো সবাই/ আমার ঘরে চাঁদ উঠেছে।

মির্জা গালিব প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব সম্মিলন। তার এ প্রেম ও আধ্যত্মিকতা আমাদের এক অনন্য ভালোবাসার জোয়ারে ভাসতে সাহায্য করে। মিলন ও বিরহ এ দুইয়ের যে চিত্রায়ন তিনি করতে পেরেছেন, তা অনন্য। তার উদাহরণ উপস্থাপন অন্য কারও পক্ষে কঠিন।

যেমন গালিব যখন বলেন- লালন তখন বলেন-

মিলন হবে কখন কবে/প্রিয়ার স্মৃতি নেই তো মনে
প্রেমের ফাগুন জ্বাললো আগুন/ছাই হলো সব সেই আগুনে।

মিলন হবে কত দিনে/ আমার মনের মানুষের সনে
মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন/ লুকালে না পায় অন্বেষণ।

কালারে হারায়ে তেমন/ ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে।
আমার মনের মানুষের সনে।

আর এখানে যদি আমরা লালনের “মিলন হবে কত দিনে” গানটিতে এই দুই মহামানব নিজেকের প্রেমিকাকে কাছে না পেয়ে আহত হৃদয়ে কবিতা বা গান লিখেছেন।

একজন দ্বারস্থ হয়েছেন গজলের বা রুবাইয়্যাতের। আর একজন দ্বারস্থ হয়েছেন গানের। তবে একজনের মনে ফাগুন এলে প্রেমের আগুন জ্বলে, অন্য জনের মেঘের বিদ্যুতের মতো জ্বলে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।

একজন লালন যখন প্রেমিকাকে না পেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, একজন গালিব সেখানে নিজেকে প্রেমের আগুনের পুড়ে ছাই হিসেবে অস্তিত্বহীন খুঁজে পান। আর এভাবে একসাথে লালনের গান ও গালিবের গজল যদি পাঠ করি, তবে তার ভাবের সামাঞ্জ্যসতা উপলব্ধি করতে সহজ হবে।

প্রেমকে গালিব যতভাবে সজ্ঞায়িত করেছেন, ততভাবে খুব কম কবিই সজ্ঞায়িত করেছেন। সম্ভবত এ কারণে যে কোন পৃথিবীর যুগল যদি কোন কবিতা পড়ে প্রেমে পড়ে, তবে সেই কবিতা গালিবের হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।

প্রেম সাধারণ মানুষের আবেগের সর্বোচ্চ প্রকাশ। আর মানুষ যখন আবেগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এ কারণে বলতে হয়, যে প্রেমে পাগলামি নেই, তা প্রকৃত প্রেম নয়।

আর এ পাগলামি যুক্ত প্রকৃত প্রেম কী রকম হতে পারে, তা বোঝা যায় গালিবের রুবাইয়্যাত পাঠ করে। কারণ গালিবই প্রেমের ও বিরহের প্রকৃত অবস্থা সহজ ও সাবলিল ভাষায় উচ্চারণ করতে পারেন।

এ প্রেম রস আস্বাদন করতে গিয়ে বর্তমানে যে কোন কবির পাঠে সাধারণ পাঠক হারিয়ে যান। তবে এক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা ও প্রেমের সংমিশ্রণে মাওলানা রুমি অদ্বিতীয়। তারপর সম্ভবত আমরা গালিবের নাম উচ্চারণ করতে পারি।

এতকিছুর পরেও গালিব এ উপমহাদেশের ও এ অবিভক্ত ভারতবর্ষের। তাই গালিবই বলতে পারেন

প্রেমই নাকি সুখ-ঠিকান/ব্যথার ওষুধ প্রেমেই আছে
প্রেমেই এমন ব্যথা পেলাম/যার ওষুধ নেই কারো কাছে।

প্রেম নিয়ে হায় জোর চলে না/গালিব এ এক অগ্নিদহন
জ্বালিয়ে দিলেও জ্বলে না প্রেম/নিভিয়ে দিলেও নেভে না মন।

প্রথম রুবাইয়্যাতে তিনি বলতে চেয়েছেন, প্রেম রোগের কোন অষুধ নেই। দ্বিতীয় রুবাইয়্যাতে তিনি বলেছেন- প্রেমের আবেগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

প্রেমকে একবার প্রজ্জ্বলন করে সেই প্রেমে নিজেসহ জ্বলে পুড়ে মরতে চাইলে মরা যায় না। এ কথা অন্তত পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক বাংলাদেশিরা করি। কারণ আমাদের শিল্পী আব্দুল আলীমের লোকগীতিতে অনেক জনপ্রিয় গান- “প্রেমের মরা জলে ডোবে না” শুনে আমরা অভ্যস্ত।

আবার প্রেমকে নিভিয়ে দিয়ে মনের আগুনও নেভানো যায় না। কারণ প্রেম মনের দরজায় বারবার করাঘাত করতে চায়। এ তো গেলো প্রেমের বিষয়। কিন্তু যে আধ্যাত্মিকতা ও প্রেম মিলে একাকার তার উদাহরণ বলতে পারি গালিবের এ পঙক্তি-

পারলে না হায় খোদা তাকেই/এনে দিতে আমার কাছে
খোদা তোমার কৃতজ্ঞতা/চেয়ো নাই তাই আমার কাছে।

অর্থাৎ আল্লাহ আপনার অস্তিত্ব আছে এতে বিশ্বাস করি। আপনার ক্ষমতা অসীম তাও ঠিক। আপনি চাইলেই যাকে ইচ্ছা তাকে সম্মান দিতে পারেন। সম্পদ দিতে পারেন, ধনবান করতে পারেন, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে অসম্মান করতে পারেন।

দারিদ্র্যে পরিণত করতে পারেন। আপনার যে অশেষ নেয়ামত, তা স্বীকার করে বান্দার উচিত আপনার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা। তবে সামান্য এ প্রেমিক, যে আপনারই সৃষ্টি, তাকে আমার জন্য কেন করে দিলেন না।

আপনি ইচ্ছে করেই তা করেননি। আপনার ক্ষমতা থাকা স্বত্তেও যেহেতু আপনি করেননি এ সামান্য বিষয়টি, তাই আমি আপনার বান্দা হিসেবে স্বীকার করি। তবে এ ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলাম না।

কারণ খোদা তুমি তাকে এনে দিতে পারলে না আমার জন্য। এ যেন প্রকৃত আধ্যাত্মিক বান্দার শেকওয়া ও জওয়াবে শেকওয়ার মতো তর্ক বিতর্ক।

শুধু তাই নয় প্রেমের বৃষ্টিতে ভেঁজা, প্রেমিকা ফুল যে বাগানে ফোটে তার মালি হওয়া, ঘরে চাঁদ ওঠা প্রেমিকা এলে, প্রেমিকাকে গোলাব বলে চিত্রিত করা, রূপে মজে যাওয়া, এমন চিরন্তন কিছু উপমা তিনি বারবার সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

এখনও কবিরা তাদের কবিতায় এমন পঙক্তি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উপস্থাপন করেন নানাভাবে। আর যে কোন প্রেমিক- তার প্রেমিকাকে ঘায়েল করতে কতোবার যে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে, তার হিসাব রাখা কঠিন।

এমন পঙক্তি লিখে বা পাঠ করে অনেক পাঠক ও লেখক একজন মহৎ কবির কবিতাতে প্রভাবিত হন, আর তা ভেবে আপ্লুত হয়ে তৃপ্ত হন। শুধু তাই নয়, চার পঙক্তির রুবাইয়্যাতে তিনি নারীর মহত্ব ও নারী ছাড়া পুরুষ যে অপূর্ণ, তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন।

তাই নারীর অস্তিত্ব পুরুষের জন্য কতটা অপরিহার্য তা বোঝাতে তিনি বলেছেন

চর্তুদিকে জবর খবর / গালিব হবে চূর্ণ যে হায়
কবি তখন নারীর সুরায়/ ডুবে গিয়ে পূর্ণতা পায়।

আর এ সত্যতা নারী কবিতা সত্যায়ন করেছেন আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কারণ তিনি বলেছেন “নারী বিরহে, নারীর মিলনে, নর পেল কবি প্রাণ ”।

বরং নজরুল তো আরও জোর দিয়ে বলেছেন – “কোন কালে একা হয়নি’ক জয়ী পুরুষের তরবারী/প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়ী লক্ষি নারী।”

এই যে মহৎ কবিদের চিন্তার সম্মিলন ও সমন্বয়, তা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। আমরা নতুন করে ভাবতে শিখি। আর এসব সম্ভব হয়- যখন পাঠক হিসেবে লেখকরা সচেতন হবো।

লেখক হিসেবে যখন সাহিত্যের স্বাদ নেওয়ার জন্য শুধু একটি ভাষায় সীমাবদ্ধ না থেকে, শুধু বাংলা, শুধু ইংরেজি বা শুধু আরবি বা উর্দুতে সীমাবদ্ধ থাকবো না, বরং অন্য ভাষার সাহিত্য রস আস্বাদনে মনযোগী।

আর এক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য স্বাদ গ্রহণে যথার্থ ও প্রকৃত অনুবাদ আমাদের সাহিত্য রুচিবোধকে উন্নত করতে পারে। তাই অনেকে যখন বলেন- অনুবাদ সাহিত্য মৌলিক সাহিত্য নয়, তখন বিষয়টা তর্কাতীত নয়।

যে সাহিত্য প্রকৃত সাহিত্যের প্রসারে সহায়ক ভূমিকা রাখে, প্রকৃত সাহিত্য রচনায় উৎসাহিত করে, তা অবশ্যই প্রকৃত সাহিত্যের শাখা-প্রশাখা। আর যদি অখাদ্য ও কুখাদ্য রচনা করে বই প্রকাশ করা হয় মাতৃভাষায় বা নিজের মতাদর্শ প্রকাশ করা হয়, তবে তা কখনো সাহিত্যের পর্যায় পড়ে না।

মৌলিক হওয়া তো দূরের কথা। তাই একজন প্রকৃত লেখক একইসাথে লেখকও অনুবাদক হওয়া উচিত। কারণ লেখকই প্রকৃত অনুবাদ করতে পারে।

যেমনটা পেরেছেন সায়ীদ উসমান রুবাইয়াৎ-ই-মির্জা গালিব উর্দু থেকে অনুবাদ করে। যখন সংস্কৃত অক্ষরে উর্দুকে উপস্থাপন করে উচ্চবর্ণের সনাতনী পণ্ডিতরা প্রমাণ করতে চাইলেন হিন্দি প্রকৃত ভাষা, উর্দুকে অনুসরণ করে হিন্দি করা হয়নি, তখন এমন অনেক উর্দু ভাষার মহৎ কবির অস্তিত্ব সে ভাষার মানুষের কাছে অপরিচিত হয়ে যায়।

তখন অন্য ভাষার প্রকৃত লেখকরা সায়ীদ উসমানের মতো অনুবাদ করেছেন গালিবকে। যেমন ড. সরফরাজ কে. নিয়াজী রচিত “LOVE SONNETS OF GHALIB” নামের ইংরেজি অনুবাদ উল্লেখযোগ্য।

ঠিক এমনই একটি বাংলা অনুবাদন করে গালিবের কবিতার রস আস্বাদনের সুযোগ আমাদের দিয়েছেন। এধরনের প্রচেষ্টার জন্য সায়ীদ উসমানকে ধন্যবাদ দিতে হয়। ধন্যবাদ দিতে হয় প্রকাশককে যে তিনি বই নির্বাচনে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

লেখক: কবি ও গবেষক

নারীর নকশাকৃত পৃথিবীর প্রথম মসজিদ

মূল: সিমোনি ডনভেং
অনুবাদ: মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল হলো ইউরোপ এবং এশিয়ার সেতু-বন্ধন। শহরটি সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাসের বিভিন্ন বিজেতাদের এবং মনীষীদের পদভারে। শহরটিতে প্রায় তিন হাজার মসজিদ আছে।

ইস্তাম্বুলের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে আজান ভেসে আছে। আজানগুলো বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের মসজিদের মিনার হতে ভেসে আসে।

একুশে বইমেলার যে কোনো বই ঘরে বসে কিনতে ক্লিক করুন

শাকিরিন মসজিদ সেরকমই একটি সুরম্য মসজিদ। এটি স্থাপিত হয় শাকির ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইব্রাহিম এবং সেমিহা শাকিরের স্মরণে।

মসজিদটি ৭ মে ২০০৯ সালে দর্শণার্থী এবং ইবাদতকারীদের জন্য উন্মোচন করা হয়। প্রজেক্টটির মতো দ্বিতীয় কোনো স্থাপনা নেই।

শাকিরিন মসজিদটির নকশা অঁঙ্কন করেন জয়নব ফেদিলিওগলু। তিনি ইব্রাহিম এবং সেমিহা শাকিরের নাতিন। তিনি মসজিদের নকশা অঙ্কনকারী প্রথম নারী।

বাইরের দিক হতে স্থাপনাটি স্লিকি, ধাতব এবং ধূসর বর্ণের, যার মধ্যে সমসাময়িক স্থাপনার ধাঁচ নিয়ে এসেছে।

স্থপতি জয়নবের মতে, মসজিদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো বিশালাকার গম্বুজের নিচে ইবাদত করলে ইবাদতের ভাবগাম্ভির্যতা চলে আসে।

ছাদ থেকে চলে আসা ঝাড় বাতি এবং দেয়ালের পরিবর্তে বিশালাকারের জানালা মসজিদের সোন্দর্যকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। ঝাড় বাতিতে আল্লাহর ৯৯ নাম লেখা আছে, যা এ মসজিদের অনুপম বৈশিষ্ট্য।

এক নারীর কারণে মুসলমান হলো পুরো গ্রাম

আলেমদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ; কাজীর বিচার চেয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হালিশহর ১১ নং ওয়ার্ডের বিয়ের কাজী খলীলুর রহমানের উদ্ধত আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী, স্থানীয় প্রশাসন ও মুসল্লীরা।

এর প্রতিবাদে আজ (জুমাবার) জুমার নামাযের পর এক মানববন্ধন করেছে তারা। এতে স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিসহ উপস্থিত ছিলেন ১১ নং ওয়ার্ড কমিশনার জনাব মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, দেশের পরিচিত মুখ ও এম ই এস ওমরগণী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিভাগের অধ্যাপক, ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন তিনি জুমা পড়ান হালিশহর এ ব্লক বাসস্টেন্ড সংলগ্ন হযরত উসমান গণী জামে মসজিদে।

গত ২৬ জানুয়ারি রোজ জুমাবার তাঁর এক ছেলের বিয়ে ও আকদ (ছেলেটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক) পড়াতে চাইলে স্থানীয় কাজী খলীলুর রহমান আ ফ ম খালিদের সাথে দুর্ব্যবহার করলে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন বলে বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লীরা।

একপর্যায়ে শুধু আকদ পড়াতে চাইলে আবারও একই আচরণ করে খলীল। এটাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসী ও মুসল্লীদের মধ্যে। তারা খলীলকে একজন ইসলামিক স্কলারের সাথে অশালীন আচরণে ক্ষমা চাইতে বলায় সে আবারও বেয়াদবী করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এর বিচারের দাবীতে মুসল্লীপরিষদ সাবেক মন্ত্রী জনাব ডা. আফসারুল আমিন চৌধুরীর শরণাপন্ন হলে তিনি বিচারের ভার স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার জনাব মোর্শেদ আক্তার চৌধুরীকে হস্থান্তর করেনন।

তিনি সুরাহার জন্যে উভয় পক্ষকে ডাকলে কাজী খলীলুর রহমান কমিশনার মোর্শেদ আক্তার ও মসজিদ কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসাইনকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মানববন্ধে মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী বলেন, আমরা এই কাজীকে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানাচ্ছি। এর বিচারের ক্ষেত্রে আইনি পর্যায়ে সবধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদী, ওহিদুল আমিন, সরওয়ার কামাল ও মাওলানা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

কাল জাতিকে নতুন বার্তা দেবে জমিয়ত

রোহিঙ্গা নির্যাতনের চিহ্ন মুছতে রাখাইনে চলছে বুলডোজার

আওয়ার ইসলাম: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের চিহ্ন মুছতে বুলডোজার চালাচ্ছে সরকার। স্যাটেলাইট ক্যামেরায় এমনটাই দেখা গেছে দেশটিতে।

রাখাইনে আগুনে পোড়া ঘরবাড়ি, হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও সবরকম বর্বরতার চিহ্ন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছে ওখানে কলকারখানার কাজও শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এপি’র কলোরাডোভিত্তিক ‘ডিজিটালগ্লোব’ জানিয়েছে, জনমানবহীন কয়েকডজন ঘরবাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যা ধারণারও বাইরে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এক নারী জানান, সবকিছুই শেষ, গাছপালাগুলোও আর অবশিষ্ট নেই। তারা বুলডোজার দিয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিয়েছে… এখানে আমার ঘরবাড়ি ছিলো বুঝতেও কষ্ট হয়েছে।

মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিটের টুইটার অ্যাকাউন্টে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা ছবিতে বিস্তৃত এলাকা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার দৃশ্য প্রথমবার বিশ্ববাসীর সামনে উঠে আসে। যা রাখাইনে নতুন করে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

ডিজিটালগ্লোব’র প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, অন্তত ২৮টি গ্রাম বা ঐতিহাসিক স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মংডু ও আর পার্শ্ববর্তী ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত রোহিঙ্গাদের উর্দু সঙ্গীত

কাল জাতিকে নতুন বার্তা দেবে জমিয়ত

মাওলানা আবদুল গফফার

আগামীকাল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট বিভাগীয় কর্মী সম্মেলন।
এই সম্মলন জাতিকে নতুন বার্তার জানান দেবে।

সম্মেলনের ২ দিন পূর্ব থেকে দূর দূরান্ত থেকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠের দিকে জমিয়তের সাথীরা রওনা হয়ে গেছেন।

ইতিমধ্যে ইউরোপ থেকে এসেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের সিনিয়র সহ সভাপতি শায়খ মাওলানা আবদুল আজীজ সিদ্দীকী, তাকে গতকাল সিলেট বিমান বন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সম্মেনের আয়োজকরা।

একুশে বইমেলার সব বই ঘরে বসে কিনতে অর্ডার করুন রকমারিতে

ইতিপূর্বে পৌছেছেন মাওলানা কারী আবদুল হাফীজ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামনূন মুহীউদ্দীনসহ অনেক।

সিলেটে অবস্থান করছেন ইউকে জমিয়তের প্রধান পৃষ্টপোষক শায়খ মাওলানা আসগর হোসাইন, সভাপতি মাওলানা শোয়াইব আহমদ, সহ সভাপডি মাওলানা আবদুল মুনতাকীম, ট্রেজারার মাওলানা হাফিজ হোসাইন আহমদ প্রমুখ।

গতকাল চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা থেকে কয়েকটি কাফেলা সিলেট পৌছে গেছে। রাস্তায় আছে আরো কয়েকটি কাফেলা।

আজ সকাল থেকে ট্রেনেও অনেক কাফেলা রওনা হচ্ছে। রাতের ট্রেনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটি দল রওনা হবে।

আগামীকাল ভোররাত ৪ টায় ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর রওনা হবে। এ দলে রাহবার হিসেবে থাকবেন সিলেটরত্ন শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

আজ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়ার নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল সিলেট যাওয়ার কথা।

আগামীকাল দুপুরে বিমানে যাচ্ছেন দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ও যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী। তাদের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে বরণ করবে সিলেট জমিয়ত।

এদিকে সম্মেলন সফলে নেতা কর্মীদের চোখে ঘুম নেই। হাটে মাঠে শহরে বন্দরে, গ্রামে গঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় চলছে জমিয়ত, যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়ত নেতা কর্মীদের বিরামহীন প্রচারণা।

সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে গতকাল হয়ে গেল সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়।

এ দিকে সিলেট জেলা ও মহানগর জমিয়তের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিরাট প্রচার মিছিল।
প্রচার উপ কমিটির দায়িত্বশীলরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খুব ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

ঐতিহাসিক এ সম্মেলনকে সফল, স্বার্থক ও স্বরণীয় করে তুলতে প্রচার উপকমিটির দায়িত্বশীলরা দিন রাত মেহনত করে যাচ্ছেন।

আলিয়া মাঠ ঘিরে লাগানো হচ্ছে তিন শতাধিক ফেস্টুন। পেন্ডেলের ভেতরে এবং বাইরে থাকছে জমিয়তের দলীয় পাচ শতাধিক উকাব/পতাকা। তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন শাখা প্রশাখার নামে গেঞ্জি, ক্যাপসহ অনেক আকর্ষণীয় কিছু।

চার স্তরের সু সজ্জিত মঞ্চ ও সু বিশাল পেন্ডেলে বসানো হবে আট হাজার চেয়ার। থাকছে ভিআইপি গ্যালারি, সাংবাদিক গ্যালারি, লাল গালিচা। ফুলে ফুলে সাজানো হবে পুরো মঞ্চ ও পেন্ডেল।

মধ্যখান চারটি রাস্তা কার্পেটিং করা থাকবে। মাঠের পাশে থাকবে মেডিকেল ক্যাম্প।

সম্মলনের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে মাঠে থাকবে অত্যান্ত সু প্রশিক্ষিত, সু সৃংখল, কর্মঠ ও পরিশ্রমী ইউনিফর্মধারী নিজস্ব ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

মেহমান ও নেতৃবৃন্দের নিরাপত্বায় থাকবে ব্যতিক্রম ইউনিফর্ম ধারী অত্যন্ত সু ধক্ষ ও সু কৌশলী অতিরিক্ত ৩০ জন jsf জমিয়ত সিকিউরিটি ফোর্স সদস্য। সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবে সাদা পোশাকে নিজস্ব দলীয় গোয়েন্দাবাহিনী।

শান্তি শৃংখলা রক্ষায় মাঠের পেছনে থাকবে আলাদা মনিটরিং সেল।

সম্মেলনকে সামনে রেখে একটি স্মারক পকাশ হচ্ছে, যাতে দেশ বিদেশের জমিয়তের হাল অবস্থা ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সম্মেলনকে গিরে চতুর্দিকে চলছে সাঝ সাঝ রব। সিলেট বিভাগের এমন কোনো এলাকা নেই যেখান থেকে গাড়ি ভাড়া কর হয়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পোস্টার, ফেস্টুন আর তোরণ দ্বারা সিলেট বিভাগ নতুন সাজে সেজেছে।

সবার চোখ এখন আলিয়া মাদরাসা মাঠের দিকে। কান খাড়া মানুষ শুনতে চায় কী বাণী দেন ছদরে জমিয়ত আল্লামা ইমামবাড়ী, কি শপথ নেন আল্লামা হবিগঞ্জী, কি পরিক্পনা প্রকাশ করেন মুফক্কিরে ইসলাম শায়খ জিয়া, কী কমর্সুচি দেন আল্লামা কাসেমী, কী হুংকার আসে পাশা ও আফেন্দীর জোরালো কণ্ঠে?

লেখক: শিক্ষক ও জমিয়ত নেতা

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বরেণ্য দুই আলেমের বিদায়

দুই মনীষীর ইন্তেকালে আল্লামা শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর শোক

আওয়ার ইসলাম: হজরত হাফিজ্জী হুজুরের বড় ছেলে কারি মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও জমিয়তের সহ-সভাপতি এবং আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল আল্লামা মোস্তফা আজাদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ দুই আলেম আমীরে হেফাজত, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তাঁরা এক যৌথ বিবৃতিতে পরপারে পাড়ি জমানো দুই মনীষীর জন্যে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

আজ বাদ মাগরিব আরজাবাদ মাদরাসার মাঠে মোস্তফা আযাদের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। আসর নামাযের পর আহমদুল্লাহ আশরাফের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

বাতিলের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তারা: খেলাফত মজলিস

আওয়ার ইসলাম: হযরত হাফিজ্জ হুজুরের রহ. বড় ছেলে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ-এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, মাওলানা শাহ আমাদুল্লাহ আশরাফ একজন সংগ্রামী আলেম হিসেবে বাতিলের বিরুদ্ধে আজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন।

একসময় তাঁর সুলতিত কণ্ঠের আজান এদশের মানুষকে মোহিত করত। এ দেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আজ প্রদত্ত এক যৌথ শোকবাণীতে নেতৃদ্বয় মরহুম মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ -এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আলাদা বিবৃতিতে দেশের প্রবীণ আলেমে দ্বীন মিরপুর আরজাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আজাদ -এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, মাওলানা মোস্তফা আজাদ একজন প্রথিতযশা আলেমে দ্বীন হিসেবে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ আবদান রেখে গেছেন।

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।

যৌথ শোকবাণীতে নেতৃদ্বয় মরহুম মাওলানা মোস্তফা আজাদ-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর
সমমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বরেণ্য দুই আলেমের বিদায়

শীর্ষ দুই আলেমের বিদায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শোক

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ আবদুর রহমান ও সেক্রেটারী এবিএম জাকারিয়া এক বিবৃতিতে হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর বড় সাহেবজাদা মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘খেলাফত আন্দোলনের আমীর হিসেবে তিনি ছিলেন সত্য প্রকাশে নির্ভীক। তার মৃত্যুতে জাতি এক প্রথিতযশা আলেমকে হারাল। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচু মাকাম দান করুন।

একই বিবৃতিতে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি ও ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোস্তফা আজাদ এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সেক্রেটারী।

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বরেণ্য দুই আলেমের বিদায়

দেশ দু’জন একনিষ্ট দীনের রাহবারকে হরালো: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

আওয়ার ইসলাম: বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর ছেলে ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেছেন, মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ মাদরাসা মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্নভাবে দ্বীনের খেদমত করে গেছেন এবং ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আন্দোলন র্সগ্রামে অবদান রেখেছেন।

বাংলার জমিনে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ একনিষ্ঠ দিনের একজন রাহবারকে হারিয়েছেন যা অপূরণীয়। নেতৃবৃন্দ তার রুহের মাগফিরাত
কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উভয়ে বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি এবং আরজাবাদ মাদরাসার
প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তফা আজাদের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন
করেছেন।

শোকবানীতে নেতৃদ্বয় বলেন, মাওলানা আজাদ দ্বীনি শিক্ষা সম্প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দেশে বিদেশে তার অসংখ্য ছাত্র ও ভক্ত রয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দিনের রাহবারকে হারিয়েছেন যা অপূরণীয়।

নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবার পরিজনকে সবরে জামিল এখতেয়ার করার তাওফিক ও মরহুমককে জান্নাতে উচু মাকাম দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দুআ করেন।

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বরেণ্য দুই আলেমের বিদায়

শীর্ষ দুই আলেমের ইন্তেকাল: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের শোক

আওয়ার ইসলাম: জামেয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদ মিরপুর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও জমিয়তের সহ সভাপতি, বিশিস্ট লেখক ও গবেষক মুক্তিযোদ্ধা আল্লামা মুস্তফা আজাদ সাহেব, এবং আল্লামা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ- এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

তিনি বলেন, আল্লামা মুস্তফা আজাদ বাংলা ভাষায় অধিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং সহি শুদ্ধভাবে তিনি কথা বলে আমাদের মুগ্ধ করতেন।

তিনি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, হজরত মাওলানা কারী আহমদুল্লাহ আশরাফ এর সাথে ১৯৮০ থেকে আমার পরিচয়। তিনি আমাকে খুবই মায়া, মহব্বত ও শ্নেহ করতেন এবং আমার একজন বড় মুহছেন ছিলেন।

তার আমল, আখলাক ও তবিয়ত নিয়ে তিনি বলেন, তিনি আমল ও আখলাকের প্রতি সবচেয়ে বেশিগুরুত্ব ছিল। খুবই দরদী মানুষ ছিলেন। দুঃখ দুর্দশা গ্রস্হ, গরিব নিঃস্ব, এতিম, অসহায় ও বিপদগ্রস্হ মানুষের প্রতি তার ছিল অধিক পরিমাণ দয়া মায়া ও করুনা।

বিবৃতিতে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, তিনি খুবই সৎসাহসী ব্যাক্তি ছিলেন। তাকওয়া ও পরহেজগারীতে তিনি ছিলেন খুবই অনন্য।

তিনি মহান আল্লাহর কাছে মুনাজাত করে বলেন, আল্লাহ জান্নাতের আ’লা মাকাম দান করুক, এবং তার পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বরেণ্য দুই আলেমের বিদায়