All posts by ourislam05

‘র‌্যাপ হওয়া একটা মেয়ে ৩ দিন পাহাড়ে পড়ে ছিল’

প্রায় ছয় মাস ধরে মিয়ানমার থেকে লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত রোহিঙ্গা  নাগরিক বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। তাদের সময়টা কাটছে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে। আতঙ্ক আর হতাশা তাদের নিত্য সঙ্গি।

রোহিঙ্গা শিবিরে আলো ছড়াতে, রোহিঙ্গাদের মানবিক-মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সরকারের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দাতা ও এনজিও সংস্থা।

বাংলাদেশের বেসরকারি প্রাচীন এনজিও সংস্থা ‘মারকাযুল ইসলামী’ শুরু থেকেই কাজ করছে এই সংকট মোকাবিলায়। রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে নিরন্তর সেবা দিয়ে যাচ্ছে মারকাযুল ইসলামী।

বিশুদ্ধ পানি, নবজাতকের পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রসুতি মায়েদের ডেলিভারি এবং সেনিটেশন, ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ যাবতীয় সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই সেবা সংস্থাটি।

রোহিঙ্গা শিবিরে সেবা কার্যক্রমের বিস্তারিত জানার জন্য মারকাযুল ইসলামী’র মুখোমুখি হয়েছিলেন আওয়ার ইসলাম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব। কথা বলেছেন মারকাযুল ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হাসান খান ফয়সাল’র সঙ্গে।

রোহিঙ্গা শিবিরে মারকাযুল ইসলামীর কার্যক্রম, লক্ষ্য উদ্দেশ্য, সরকারের করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসছে আলাপচারিতায়।

আওয়ার ইসলাম: মারকাযুল ইসলামী কবে থেকে কাজ শুরু করে? শুচনালগ্নে কোন ধরনের স্ট্রাগল করতে হয়েছে আপনাদের?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: কুরবানীর ঈদের ঠিক পর থেকেই আমাদের কার্যক্রমের শুরু। আমি তখন হজ্বে ছিলাম। মারকাযুল ইসলামের চেয়ারম্যান তলহা শুরু থেকেই টিম নিয়ে এসেছেন।

শুরুতে আমাদের একটা গ্রুপ শাহপরী দ্বীপে যায়। সেখান থেকে আগতদের রিসিভ করে প্রথমে নৌকা ভাড়া মিটিয়ে সিএনজি করে নিয়ে আসা হয় শাহপরী মাদরাসায়। তারপর সেখান থেকে ট্রাক ভাড়া করে আর্মি ক্যাম্পে।

এরপর আর্মি ক্যাম্প থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তাদের থাকার ক্যাম্প করা হয়েছে। ক্যাম্পে পৌঁছানো, তারপর সেখানে থাকার জন্য ঘর বানানো এসবই করতে হয়েছে আমাদের।

অসুস্থদের জন্য শুরু থেকেই একটা মেডিকেল টিম কাজ করেছে সার্বক্ষণিক। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মেডিসিন দিয়েছি।

তারা খুব পেরেশোন ছিলো। কারণ অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। কেউ দু’তিনদিন পাহাড় টপকে এসেছে। নদী সাতরে এসেছে। অধিকাংশই প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত ছিলো। অনেকেই ভয়ের কারণে ডিসেন্ট্রিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আমরা প্রথমে বালু খালি ক্যাম্পে মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা সেবা দেই। তারপর তাদের থাকার জন্য ত্রিপল দিয়ে ঘর করে দেই।

আওয়ার ইসলাম: এ পর্য ন্ত মৌলিক কোন কোন কাজ করেছেন আপনারা?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল:  মোটামুটি সবগুলোই মৗলিক বিষয়ে কাজ করেছি। অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা। আমরা প্রথমেই তাদের খাবারের ব্যাবস্থা করেছি। মায়েদের বুকের দুধ ছিলো না সেজন্য শিশুদের খাবারের বিভিন্ন উপকরণ কিনে দিয়েছি, বায়োমিল্ক দুধ দিয়েছি। বস্ত্র দিয়েছি। ঘর তৈরি করে দিয়েছি।

প্রথমে ঘর তৈরি করতে ত্রিপল দিয়েছি তারা নিজেরাই তৈরি করেছে। আমরা সহযোগিতা করেছি। পরবর্তীতে আমাদের লোকবল যোগ দেয়ার পর আমরাই পুরো দায়িত্ব নিয়ে ঘর করে দিয়েছি। চিকিৎসার জন্য শুরুতেই সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম করেছি। যারা শুরু থেকেই কাজ করেছে।

অসুস্থদরে মধ্যে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো তাদের আমার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এজন্য আমাদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এখনো করছে।

আওয়ার ইসলাম: এমন একটা দৃশ্যের কথা বলুন যা আপনাকে সবচে বেশি মর্মাহত করেছে?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আমার যেটা মনে পড়ে। প্রথমে এসেই যেটা দেখেছিলাম। সকাল বেলা খাবার বিতরণের জন্য বের হলাম। বুক পরিমাণ পানি টপকে পাহাড়ের উপরে গেলাম। সেখানে দেখলাম একটা মেয়ে শুয়ে আছে অচেতনের মতো। সাথে স্বামী বা ভাই হবে বসে আছে।

জিজ্ঞেস করলাম। বলল মেয়েটা র‌্যাপ হয়েছে। সে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তার কোনো অনুভুতি নেই। তার অবস্থা দেখে পরিবারের সবাই শুধু কাঁদছেন। তিনদিন পর্যন্ত মেয়েটার এই অবস্থা। জানতে পারলাম এই ধরনের আরো অনেক ঘটনা আছে।

দু’দিন পরে জানতে পারলাম মেয়েটা মারা গেছে। আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে করেই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো তাকে। এই ঘটনাটি আমাকে ব্যাপক কাঁদিয়েছে।

হাসপাতাল করে প্রসুতি মায়েদের ডেলিভারি সেবা

আওয়ার ইসলাম: চিকিৎসা সেবায় আপনারা কী কী অবদান রাখছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আমরা কুতুপালং টেবি টাওয়ার মাঠের মধ্যে মেডিকেল টিম বসাই। একজন লেডি মেজর। মেজর সাজেদা আমাদের পরামর্শ দেন ওনার ক্যাম্প ট্যাংকখালি বাজারে। ট্যাংকখালি ৬ তানজিমার গোনা। বললেন, সেখানে অনেক মাহিলা আছে ডেলিভারি রোগী। তারা অনেক অসহায়। ব্যায়বহুল হওয়ায় তারা সাপোর্ট পাচ্ছে না। ওখানে আপনার একটা হাসপাতাল করেন।

আমার তাদের কাছে জায়গা চাইলাম।পাঁচ রুম বিশিষ্ট দুইটা বড় ঘর করলাম ফ্লোর পাকা করে। এটাস্ট বাথরুম। ডেলিভারির জন্য অনেকগুলো বেড করলাম। ২জন নার্স, ৭জন মিড ওয়াইফ, একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়েছি।

প্রায় চারমাস ধরে চলছে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এরকম দুইটা হাসপাতাল আছে। একটা ট্যাংকখালি ৬ ক্যাম্পে আরেকটা হলো হাকিমপাড়া জামতলা। ওখানে এক মেজর।

নারায়ণগঞ্জের মেজর ইরতেজা আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ ব্যাপক সাড়া পড়েছে এতে।

আওয়ার ইসলাম: কতজন ডেলিভারি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: চিকিৎসা তো প্রতিদিনই নিচ্ছে রোগীরা। সংখ্যাটা তো অগণিত। প্রতিদিন গড়ে জেনারেল চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় ৫০০ লোক। দুটো হাসপাতালে ৬০০ উপরে ডেলিভারি করিয়েছি এই পর্যন্ত। অর্থাৎ ৬০০ র উপরে রোহিঙ্গা ‍শিশু জন্মেছে আমাদের হাসপাতালে। গড়ে প্রত্যেক দিন ১০ জন রোগীকে সেবা দিচ্ছি।

আমরা যেটা করছি একটা শিশু জন্মের পর ওয়েট ঠিক থাকে না সবার। আর এখানে যারা বাচ্চা প্রসবের জন্য আসছেন তারা সবাই ক্লান্ত ও শারীরিকভাবে দূর্বল। যার কারণে বাচ্চা জন্মের পর মা ও সন্তান দুজনই পুষ্টিহীনতায় ভোগে।

এজন্য আমরা প্রত্যেক ডেলিভারির পরই নবজাতক ও মায়েরর জন্য পুষ্টিকর খাবারের আলাদা আলাদা দুটো ব্যাগ দেই। নবজাতকের জন্য উন্নমানের হরলিক্স, মশারি, পাম্পার, বায়োমিল্ক দুধ ফ্লাক্স, ফিডারসহ পুষ্টিকর বিভন্ন খাবার দেই।

মায়েদের জন্য খেজুর, চাল-ডাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সেই সাথে জুরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ তিন থেকে চারহাজার টাকা দিয়ে থাকি প্রত্যেককে।

আওয়ার ইসলাম: বাচ্চাদের খৎনা করা আপনাদের এজেন্ডায় ছিলো কিনা?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: খৎনা আমরা কিছু করেছি। আরেকটা গ্রুপ আছে আমাদের পরিচিত আমরা তাদের সহায়তা করেছি। স্পেশালি আমরা ঠোট কাটা রোগীদের খুঁজে কক্সবাজারে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি।

আওয়ার ইসলাম: বাসস্থান?

মারকাযুল ইসলাম: অনেক রোহিঙ্গা প্রথমে এসে রাস্তার পাশে টাবু টানিয়ে থেকেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার তাদের ভেতরে পাঠিয়ে দেয়। তো সেখানে অনেকেই ঘর পায়নি। আর্মিরা আমাদের বড় একটা জায়গা দিয়েছে তানজিমার গোনায় ই ব্লকে।

আমরা তাতে ১৬ শ ফ্যামিলিকে ঘর করে দিয়েছি। টোটাল প্রায় ২ হাজারের মতো ঘর করেছি আমরা। এছাড়া আড়াই হাজারের মতো ত্রিপল রোল দিয়েছি। এক একটা রোলে ২০০ গজ ত্রিপল থাকে।

আওয়ার ইসলাম: এছাড়া আর কী কী সেবা দিয়েছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: অন্যরা যেটা করে; এসে প্রথমে আর্মি বা সংশ্লিষ্টেদের সাথে মিটিং করে বিভিন্ন ক্যাম্পের চাহিদা জেনে নিয়ে তারপর তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। আর আমরা যেটা করি, সার্বক্ষিণিক আমাদের টিম তো এখানে কাজ করছে।

আমরা ঘুরে ঘুরে দেখি কার কী প্রয়োজন। যখন যেটা প্রয়োজন হয় সেটাই ব্যবস্থা করি। যেমন অনেকে লাকড়ি চুলা দিয়েছেন কিন্তু লাকড়ি দেননি। আমরা চুলার সাথে লাকড়ির ব্যবস্থা করে দেই।

আওয়ার ইসলাম: কয়টি চুলা দিয়েছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল:  প্রায় পাঁচ হাজার চুলা দিয়েছি। এখন আমরা যেই চুলাটা দিচ্ছি সেটা খুব ব্যয়বহুল।

সোলার সিস্টেম চুলা। সোলারে মাধ্যমে চব্বিশ ঘন্টা চলে। প্রতিটা চুলার দাম প্রায় ১২ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে আমরা সেগুলো এনেছি।

সেনিটেশন ব্যাবস্থা

আওয়ার ইসলাম: সেনিটেশন ব্যাবস্থায় কতটুকু কী করেছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আমরা উন্নত মানের সেনিটেশন ব্যবস্থাও করেছি। রিমুভাল সেনিটেশন করেছি। প্রত্যেকটা বাথরুমে ৮টা রিং দিয়েছি। ৩২-৩৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে প্রতিটি বাথরুমে। এগুলো চাইলে ট্রান্সফারও করা যাবে।

কিছু স্থায়ী বাথরুমও করেছি। মোবাইল টয়লেটের মতো। যেগুলো ডাবল রিং দিয়ে ওয়ার্কসপে ঝালাই দিয়ে এঙ্গেল দিয়ে করেছি। ডিসি সাহেব আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন ডাবল রিং দেয়ার জন্য যাতে ভেঙে না পড়ে।

১ লক্ষ ২০ টাকা ব্যায়ে ডিপ টিউবওয়েল ও মহিলাদের জন্য গোসলখানা

আওয়ার ইসলাম: বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে আপনারা কী করেছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: প্রচুর পরিমানে নলকুপ দিয়েছি। প্রথম দিকে নরমাল নলকুপ দিয়েছি প্রায় দুই হাজারেরও বেশি। পরে দু’মাস আগে থেকে ডিসি সাহেব আমাদের বলেছেন, এখন তো শীত এসে গেছে পানি নিচে নেমে গেছে আপনার ডিপ টিউবওয়েল করেন। আমরা সেটাই করেছি।

ডিপ টিউবওয়েল দিচ্ছি ৭০০ ফিটের। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সর্বনিম্ন খরচ হচ্ছে প্রতিটি টিউবওয়েল বসাতে। এতে করে নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে।

আমরা ২৪ ঘন্টা ফিল্ডে থাকতাম। দেখতাম কার কী প্রয়োজন। আমরা দেখলাম মহিলারা গোসল করছে কিন্তু শালীনতা বা পর্দার কারণে স্বাচ্ছন্দে গোসল করতে পারছে না।

যেহেতেু এখানে গেদারিং বেশি লোকজনের আনাগোনাও বেশি সেজন্য তারা একটু সেফারেট গোসলের ব্যবস্থা চায়। আমরা টিনসেড দিয়ে একসঙ্গে ৬টি করে গোসলখানা করেছি। এরকম প্রায় ২০০ গোসলখানা করা হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম: তার মানে সরকার বা সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: হ্যাঁ, আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করেই কাজ করছি। এতে করে আমাদের কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসছে না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট মহল থেকেও আস্থার সাথে আমাদের উপর বিভিন্ন দায়িত্ব অর্পন করা হয়। যা আমরা শুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছি

পাহাড়ে পানি সাপ্লাই

এনামুল হাসান খান ফয়সাল : পাহাড়ে গভীর নলকুপ দিয়ে পানি উঠছে না দেখে আমরা জেনারেটর দিয়ে ডিপ টিউওয়েল করে সামার সিবল পাম্প দিয়ে ৩০০/৪০০ ফিট উপরে পানি সাপ্লাই দিয়েছি। উপরে পানি রাখার জন্য টাঙ্কি দিয়েছি। এরকম ২০টি পাহাড়ে পানি দিয়েছি। জেনারেটর চালানোর জন্য মাসিক ব্যাবস্থায় জ্বালানি দিয়েছি এবং নির্দষ্ট লোক দিয়েছি।

কেউ চাইলে আমরা গির্জা-মন্দিরও করে দিবো

আওয়ার ইসলাম: মসজিদ মাদরাসা করেননি আপনারা?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: হ্যাঁ, আমরা মসজিদ মাদরাসা করেছি শুরু থেকেই। মাদরাসা করেছি, মসজিদ করেছি, শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছি। মসজিদ মাদরাসাগুলোতে আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিন, মক্তবের শিক্ষকও নিয়োগ দিয়েছি। তাদের বেতনও দিচ্ছি।

আওয়ার ইসলাম: এখানে মুসলিম ছাড়াও অন্যন্য ধর্মের লোক আছে তাদের জন্য কী করেছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আমরা সবাইকে সাহায্য করেছি। যারা আমাদের কাছে এসেছে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাদ্য, বা ত্রিপলসহ অন্যান্য সাহায্য করেছি।

আওয়ার ইসলাম: কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গির্জা বা মন্দির করেছেন তাদের জন্য?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: এটা স্পেশালি কিছু করিনি তবে যারা এসে বলেছে আমাদের এটা এটা প্রয়োজন আমরা তাদের সেটা দিয়েছি। স্পেশালি কেউ বলেনি আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দিন আমরাও সেটা করিনি।

আওয়ার ইসলাম: কেউ বললে দিবেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: হ্যাঁ, কেউ যদি বলে, আমাদের কাছে এসে চায় তাহলে আমরা করে দিবো।

আওয়ার ইসলাম: এটা আপনারা কেন করছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: হিউম্যান ফর হিউমিনিটি। আমরা সম্পূর্ণ মানবতাবোধ থেকেই এটা করছি। আমাদের প্রতিবেশি মুসলিম ভাই-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে আমাদের দায়িত্ব তাদের জন্য কিছু করা। মানবতার স্বার্থে আমরা এটা করছি। বড় কথা তারা মানুষ এবং আমাদের প্রতিবেশী।

আওয়ার ইসলাম: এই যে ছয় মাস ধরে সেবা দিচ্ছেন, আপনাদের অর্থের উৎস কী?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: এটা একটা প্রাচীন এনজিও সেবা সংস্থা। আমাদের কিছু ডোনার আছে দেশে এবং দেশের বাইরে। বাইরের কিছু এনজিও সংস্থাও আছে যারা সরকারে থ্রোতে এনজিও ব্যুরোর মাধ্যেমে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম: আমি যতটুকু জানি, মারকাযুল ইসলামের স্বপ্নদ্রষ্টা মুফতি শহিদুল ইসলাম? তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: মুফতি শহিদুল ইসলাম আলেমদের মধ্যে একজন আইডল বলা যায়। ওনি যুবক বয়স খেকেই সেবার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। ওনার মুখে শুনা ওনি নিজের পরিবার ও সন্তানদের জন্যও এতো সময় দেননি যতোটা মানব সেবায় দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও সারাদেশে বিভিন্নভাবে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে মারকাযুল ইসলাম। মুফতি শহিদুল ইসলামের স্বপ্ন ছিলো মারকাযুল ইসলাম অনেক বড় হবে। সেজন্যেই আজকে আমাদের এতাদূর আসা। প্রবাসে থেকেও মুফতি শহিদুল ইসলাম সার্বক্ষণিক আমাদের কার্যক্রম তদারকি করেন।

আওয়ার ইসলাম: রোহিঙ্গা ইস্যুতে আপনার কত টাকা ব্যয় করেছেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: কত টাকা হবে সেটা তো বলা যাচ্ছে না তবে সংখ্যাটা যে অনেক বড় হবে সেটা তো বুঝতেই পারছেন।

আওয়ার ইসলাম: এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের কী করা উচিত বলে মনে করেন?

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আসলে এটা একটা মানবিক বিপর্যয়। আমরা এটা বহন করছি মানবিক স্বার্থে। কিন্তু এর একটা স্থায়ী সমাধান অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা মনে করি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এর একটা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছতে হবে।

রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভমিতে পুনর্বাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারকেও আন্তরিক হয়ে আলোচনায় বসতে  হবে।

আওয়ার ইসলাম: ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেয়ার জন্য।

এনামুল হাসান খান ফয়সাল: আওয়ার ইসলামকেও ধন্যবাদ।

আরআর

জা‌মিয়া কা‌রী‌মিয়া রামপুরার ১৫সালা দস্তারবন্দী ও পূন‌র্মিলনী; চলছে রেজিস্ট্রেশন

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: আগামী ২৪ মার্চ শ‌নিবার রাজধানীর জা‌মিয়া কা‌রী‌মিয়া আরা‌বিয়া রামপুরা মাদরাসার ১৫সালা দস্তারবন্দী ও সাবেক ছাত্র পূন‌র্মিলনী সম্মেলনে অনু‌ষ্ঠিত হবে।

মাদরাসা সংলঘ্ন একরামুন্নেসা ডিগ্রী কলেজ মাঠে শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দস্তারবন্দী ও পূনর্মিলনী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জামিয়ার স্বনামধন্য মুহতা‌মিম চরমোনাই এর পীর মুফ‌তি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

জা‌মিয়ার কার্যক‌রি মুহতা‌মিম মাওলানা মকবুল হোসাইন ও শিক্ষাস‌চিব মুফতি হেমায়েতুল্লাহ সূত্রে জানা গে‌ছে, ১৫সালা দস্তারবন্দী ও প্রাক্তন ছাত্র পুন‌র্মিলনী অনুষ্ঠানে দারুল উলুম দেওবন্দের সি‌নিয়র মুহা‌দ্দিস ইবনে হাজার সানী খ্যাত আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী প্রধান অ‌তি‌থি হিসেবে তাশরীফ আনবেন।

পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রেজিসস্ট্রেশনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জা‌মিয়ার প্রধান মুফ‌তি ও পূনর্মিলনী সমন্বয়কারী  মাওলানা জা‌বের হোসাইন জানান, সকল ফারেগীন ছাত্রের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা ক‌রা হয়েছে।

সাবেক ছাত্রদের সংগঠন ‘আবনাউল কারীমিয়া’র পক্ষ থে‌কে অনলাইনেও রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মাওলানা জাবের হোসাইন জানান, পুনর্মিলনী সম্মেলনে সকল ফুযালাদের পাগড়ী  দেয়া এবং সনদ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক‌রা হয়েছে। তিনি সাবেক সকল ছাত্রদেরকে দ্রুত রে‌জিস্ট্রেশন সম্পন্ন ক‌রার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘আবনাউল কারীমিয়া’র সভাপ‌তি জা‌মিয়ার প্রথম দাওরায়ে হাদীসের ছাত্র মাওলানা এয়াকুব হোসাইন এবং সেক্রেটা‌রি এসএম এমদাদুল্লাহ ফাহাদ জানান, ১৫সালা দস্তারবন্দী ও প্রাক্তন ছাত্র পুন‌র্মিলনী সফল করতে উস্তাদগ‌ণের নেতৃত্বে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদের সমন্বয়ে এক‌টি একক বাস্তবায়ন ক‌মি‌টি এবং যোগাযোগ, প্রচার, প্রকাশনা, আপ্যায়ন, দাওয়াত, অভ্যর্থনা ও স্মারকসহ বেশ কয়েক‌টি বিষয়ে সাব-ক‌মি‌টি গঠন করা হয়। ‌সেসব ক‌মি‌টির দা‌য়িত্বশীলগণ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে পুরোদস্তুর কাজ করে যাচ্ছেন।

স্মার‌ক প্রকাশনার যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন ‘আবনাউল কারীমিয়া’র সাংগঠ‌নিক সম্পাদক মাওলানা শওকত হোসাইন ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা নূরুল করীম আকরাম।

তারা জানান, দস্তারবন্দী সম্মেলন উপলক্ষ্যে জা‌মিয়ার সাবেক ছাত্র রায়হান মোহাম্মাদ ইবরা‌হিম এর সম্পাদনায় বৃহৎ কলেবরে এক‌টি সমৃদ্ধ স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হ‌বে। এছাড়াও সম্মেলনে সঙ্গীতসহ বেশ কিছু চমক অপেক্ষা করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক ছাত্র হুমায়ুন কবীর শাবীব।

এছাড়াও সাবেক ক’জন ছাত্রের সঙ্গে কথা ব‌ললে তারা জানান, ১৫সালা দস্তারবন্দী নিয়ে সাবেক-বর্তমান সবার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবাই অধীর অপেক্ষা করছে ২৪ মার্চের সেই মহেন্দ্রক্ষণের।

অনলাইনে এই লিংকে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdcPPdyvjOshoF7BxRkdcNZHYXuGlQrT9BOePE5HXO6da1YPQ/viewform

এইচজে

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ; কানে বাজে সেই চেনা আওয়াজ

শাহনূর শাহীন: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রেসকোর্স তথা আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন যা আজো ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

সে সময়ের পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে না দিলেও বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ এখন বিশ্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে। স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বব্যাপী অধিকার আদায়ে সংগ্রামরত মানুুুষের কন্ঠধ্বনি হিসেবে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অমূল্য বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তা সংরক্ষণ করার এবং বিশ্বব্যাপী প্রচারণার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত বছর ইউনেসকো’র এক ঘোষণায় ঐতিহাসিক এ ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ স্থান দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিলো কার্যত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

সেদিনকার ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘মনে রাখবা-রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো; এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’।

এই একটি মাত্র ভাষণই বাঙালির চেতনার বাতিঘর। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে। পরোক্ষভাবে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সঙগ্রামের প্রচ্ছন্ন ঘোষণা লুকিয়ে ছিলো।

পাকিস্তান সরকার এই ভাষণ সম্প্রচার করতে না দিলেও ইতিহাসে তা মহাকাব্য হয়ে আজো টিকে আছে স্ব-মহিমায়। ৭ মার্চ এলে মাঠে-ঘাটে বেজে উঠে বঙ্গবন্ধুর সেই চিরচেনা দৃপ্ত কন্ঠের ঝাঁঝালো আওয়াজ।

এসএস/

যে ১০টি উপাদান নিমিষেই দূর করবে অ্যাসিডিটি

১. দারুচিনি
যখনই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, তখনই অল্প করে দারুচিনি খেয়ে নেবেন। দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগবে না। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদনটিতে থাকা একাদিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, তেমনি পেটের সংক্রমণের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ঠিক মতো হজম না হওয়ার সমস্যা কমতে সময় লাগে না।

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে অল্প করে দারুচিনি দিয়ে তৈরি চা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

২. অ্যালোভেরা
এতে থাকা নানাবিধ খনিজ একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি হজম ক্ষমতার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, অ্যালোভেরায় থাকা অ্যাসিড, স্টমাকে তৈরি হওয়া অ্যাসিডের কর্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৩. ডাবের পানি
গরমের সময় শরীরে পানির ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ স্বাভাবিক করতেও ডাবের পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, শরীরে থাকা অতিরিক্ত অ্যাসিডকে বের করে দিতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই তো অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

৪. গুড়
শুনতে অবাক লাগলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে বাস্তবিকই এই খাবারটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে গুড়ে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ইন্টেস্টাইনের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে এবং স্টমাকের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কারণেই গরমকালে বেশি করে গুড়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৫. রসুন
অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে রসুনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে এক কোয়া রসুন খেয়ে ফেললেই স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করে। ফলে গ্যাস-অম্বল সংক্রান্ত নানা লক্ষণ ধীরে ধীরে কমে যেতে শুরু করে।

৬. মৌরি
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অ্যাসিডিটির প্রকোপ কমাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে মৌরিতে থাকা বিশেষ এক ধরনের তেল পাকস্থলির কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজম এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না।

৭. লস্যি
শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার পাশপাশি এই পানীয়টি স্টামাক অ্যাসিডের কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গলা জ্বালা করার মতো সমস্যা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে এমন ধরনের অসুবিধা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস বাটার মিল্ক খেয়ে নেবেন। দেখবেন নিমেষে সমস্যা কমে যাবে।

এক্ষেত্রে বাটার মিল্ক বানানোর সময় তাতে দই এবং অল্প করে লবণ মিশিয়ে দিতে ভুলবেন না। আসলে এমনটা করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৮. খাবার সোডা
মাঝে মধ্যেই কি অ্যাসিডিটির সমস্যায় হয়ে থাকে? তাহলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে। এক্ষেত্রে এক গ্লাস পানিতে ১ চামচ খাবার সোডা মিশিয়ে সেই পানি পান করুন।

প্রতিদিন এই মিশ্রনটি পান করলে দেখবেন আর কোনও দিন অ্যাসিডিটি হবে না। আসলে এই পানীয়টি অ্যান্টাসিডের কাজ করে থাকে। এই কারণেই তো এমন ধরনের সমস্যা কমাতে এই উপাদানটিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৯. তুলসি পাতা
একেবারে ঠিক শুনেছেন। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে তুলসি পাতা দারুন কাজে আসে। এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা খুব অল্প সময়ে অ্যাসিডিটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তাই তো নিমেষে এমন রোগের প্রকোপ কমাতে ৩-৫ টি তুলসি পাতা পানিতে ভিজিয়ে, সেই পানি ফুটিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন চোখের পলকে অ্যাসিডিটি কমে যাবে।

১০. বাদাম
আপনি কি প্রায়শই অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগে থাকেন? তাহলে খাবার পরপরই ২-৩ টি বাদাম খেয়ে নিতে ভুলবেন না। কারণ এমনটা করলে এমন ধরনের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা কমে।

আসলে বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং অ্যালকেলাইন কমপাউন্ড, যা স্টমাক অ্যাসিডিটির জন্য দায়ি অ্যাসিডদের ক্ষতি করার ক্ষমতা একেবারে কমিয়ে দেয়। ফলে গ্যাস-অম্বলের কষ্ট কমতে সময় লাগে না।

সূত্র: বোল্ড স্কাই

এসএস/

জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মানবতার সঙ্গে প্রতারণা: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌতায় জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগান।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকার পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌতায় তার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। সেখানে এখনো বেসামরিক নাগরিকদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এর ফলে ব্যাপক সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সংসদীয় বৈঠকে এরদোগান বলেন, ‘পূর্ব ঘৌতায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি হজম করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মানবতার উপযুক্ত নয়’।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে পাস হওয়া ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, ‘যে রেজল্যুশন কখনো কার্যকর হয়নি, মানবতার জন্য তার কোনো অর্থ নেই’।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ‘মানবতার সঙ্গে প্রতারণার’ অভিযোগ এনে বলেন, বিশ্বকে প্রতারিত করার জন্য বিশ্ব সংস্থাটি এই ধরনের প্রস্তাব পাস করেছে। এর মাধ্যমে তারা আসলে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে’।

এর আগে এরদোগান পাঁচ স্থায়ী সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের গঠন কাঠামোর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ‘পাঁচ শক্তির চেয়ে বিশ্ব অনেক বড়।

হোয়াইট হেলমেটস সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পাস হওয়া সত্ত্বেও গত দুই সপ্তাহে পূর্ব ঘৌতায় এলাকায় প্রায় ৭৫৬ জন লোক নিহত হয়েছে।

দামেস্কের শহরতলির পূর্ব ঘৌতায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। গত পাঁচ বছরে শহরটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

গত আট মাসে আসাদ সরকারের বাহিনী এটির দখল নিতে অভিযান জোরদার করেছে। ফলে সেখানকার হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ঔষধ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

সামরিক শক্তিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম

এসএস/

সামরিক শক্তিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম

আওয়ার ইসলাম, ডেস্ক: পৃথিবীর ১৩৩টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তি, বিশেষ করে আঞ্চলিক আধিপত্যের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম।

২০১৭ সালের নানা তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’ (জিএফপি) এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

তালিকায় আগের মতই প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিএফপি’র ১২২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৫৩তম।

ওই তালিকাতেও এবারের মতো শীর্ষস্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিলো। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাশিয়া। এরপরই যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে ছিল চীন ও ভারত।

সামরিক শক্তির দিক থেকে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচিত উত্তর কোরিয়াকে এবারের তালিকার ২৩তম স্থানে রাখা হয়েছে। মিয়ানমার স্থান পেয়েছে ৩১ নম্বরে।

পাকিস্তানের সামরিক শক্তি বেড়েছে এবারের তালিকায়। ২০১৫ সালে  পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৭-তে। এবার ১৩তম অবস্থান নিয়ে প্রথমবারের মতো তারা এসেছে শীর্ষ ১৫ তে।

জিএফপি জানায়, এবার ১৩৩টি দেশের এ তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্রের মজুদ থাকার বিষয়টি এই ক্রম নির্ধারণে বিবেচনা করা হয়নি। তবে এক্ষেত্রে স্বীকৃতি ও সন্দেহকে বোনাস হিসেবে রাখা হয়েছে। এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আঞ্চলিক আধিপত্য। এমনকি মোট অস্ত্রের সংখ্যাও প্রাধান্য পায়নি।

এ তালিকা তৈরিতে দেশগুলোর সক্ষমতা ৫০টি বিভাগে পর্যালোচনা করেছে জিএফপি। বলা হয়েছে, এই বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জাম, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সেনাসংখ্যা ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়।

এ তালিকা সম্পর্কে ইন্ডিয়া টাইমস-এর বিশ্লেষণ ভারত ও চীনের ওপরের দিকে থাকার ক্ষেত্রে সেনাসংখ্যা সহায়ক হয়েছে।

জিএফপি জানিয়েছে, ভারতের মোট মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ১৩ লাখ আর পাকিস্তানের প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার। ভারতের সামরিক বরাদ্দ ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। আর পাকিস্তানের ৭০০ কোটি ডলার। ভারতের দুই হাজার ১০২টি বিমানের বিপরীতে রয়েছে পাকিস্তানের ৯৫১টি বিমান। আর ভারতের চার হাজার ৪২৬টি ট্যাংকের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ২,৯২৪টি ট্যাঙ্ক।

ভারতের ৬৭৬টি জঙ্গি বিমানের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ৩০১টি। ভারতের ৩টি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার ও ১১টি ডেস্ট্রয়ার থাকলেও পাকিস্তানের একটিও নেই ।

তবে  অ্যাটাক হেলিকপ্টার, সেলফ প্রপেল্ড আর্টিলারি এবং নৌপথের সক্ষমতা বিভাগে পাকিস্তান ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৫২টি আর ভারতের ১৬টি।

বিজ্ঞাপন

জিএফএস-এর নিরীক্ষা, ভারত চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে সেনাসংখ্যায়। ভারতের মোট সেনাসদস্য প্রায় ৪২ লাখ আর চীনের প্রায় ৩৭ লাখ। অবশ্য সক্রিয় জনশক্তির সংখ্যায় চীন ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। চীনের মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ২২ লাখ আর ভারতের মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ১৩ লাখ।

এ ছাড়াও ভারতের সংরক্ষিত সেনাসদস্য প্রায় ২৮ লাখ। আর চীনের সংরক্ষিত সেনাসদস্য প্রায় ১৪ লাখ। সামরিক বাজেট বরাদ্দেও ভারতের চেয়ে তিনগুণ এগিয়ে আছে চীন।

ভারত ও চীনের পর সেরা ২০টি দেশের মধ্যে আরও রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, তুরস্ক, জার্মানি, মিসর, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, পেলান্ড ও  থাইল্যান্ড।

২১ নম্বরে রয়েছে ইরান। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭। এরপর পর রয়েছে আজারবাইজান, ইরাক, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, বলিভিয়া, পর্তুগাল, ইয়েমেন, সিংগাপুর ও বেলজিয়াম। তালিকার সবচেয়ে নিচে রয়েছে ভুটান।

বাংলাদেশে সম্পর্কে জানানো হয়েছে, ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮২ জন সংখ্যার এ দেশের জনশক্তি তিন কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার উপযোগী তিন কোটি ৩০ লাখ সামরিক বাহিনীতে রয়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় জনবল এক লাখ ৬০ হাজার। আর রিজার্ভ ৬৫ হাজার।

সুত্র: কালের কন্ঠ।

এসএস/

জামিয়া গহরপুরে শুরু হচ্ছে ৩ দিন ব্যাপী আননূর উৎসব

ইমদাদ ফয়েজী: সিলেটের অন্যতম দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রখ্যাত শায়খুল হাদীস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী রাহ. প্রতিষ্ঠিত জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুরের ছাত্র সংগঠন আননূর ছাত্র কাফেলার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার থেকে জামিয়া ময়দানে শুরু হচ্ছে ৩ দিন ব্যাপী (৭, ৮ ও ৯ মার্চ) ব্যতিক্রমধর্মী আননূর উৎসব।

অনুষ্ঠানে রয়েছে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা (অনুর্ধ ১৫)। এতে ১ম বিজয়ীকে দেয়া হবে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২য় বিজয়ীকে দেয়া হবে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৩য় বিজয়ীকে দেয়া হবে নগদ ১০ হাজার টাকা।

এছাড়া প্রতিযোগিতার  অন্যান্য বিষয় হচ্ছে,আযান, বিষয়ভিত্তিক আরবি বক্তৃতা, বিষয়ভিত্তিক বাংলা বক্তৃতা, আঞ্চলিক ভাষায় বক্তৃতা, হামদ-না’ত ও ইসলামী সঙ্গীত, বাংলা হস্তলিপি, আরবি হস্তলিপি, বাংলা প্রবন্ধ, আরবি প্রবন্ধ, কুইজ, বড়দের বিতর্ক, ক্ষুদে বিতর্ক, টকশো, তামছিল ও সবাই মিলে মান বাঁচাও।

অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন ভারতের প্রখ্যাত নাশিদশিল্পী শায়খ এহসান মুহসিন।

এতে সভাপতিত্ব করবেন জামিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। অনুষ্ঠানে স্পন্সর করেছেন আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মাসুক।

ব্যতিক্রমী প্রচারণাসহ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে জামিয়া গহরপুরসহ সিলেটের ইসলামী অঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এসএস/

মারকাজুল হুফফাজ তালীমুল কোরআন মাদরাসার মাহফিল ৯ মার্চ

আওয়ার ইসলাম: মারকাজুল হুফফাজ তালীমুল কোরআন মাদরাসা, বড়িশুর কেরাণীগঞ্জ এর হাফেজ ছাত্রদের দস্তার বন্দী উপলক্ষে প্রথম বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল আগামী ৯ মার্চ শুক্রবার বড়িশুর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব পীরে কামেল শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মধুপুরের পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ।

এতে তাফসির করবেন, মুফতি হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, হাফেজ মাওলানা মুফতি নাজমুল হক সাকিব।

মাহফিলে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করবে শাহে মদীনা ও সমীরণ শিল্পীগোষ্ঠী। মাহফিল পরিচালনা করবেন আলহাজ্ব মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ।

মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সকলকে মাহফিলে উপস্থিত হয়ে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এসএস/

নোয়াখালীতে ৩৮ শিবির কর্মী আটক; কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালতের

মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহাদাত হোসেন আসামীেদের আদালতের পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, আদালতে হাজির করার পর আসামীরা জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, সোমবার রাতে শহরের মধুসুদনপুরের আমেনা মঞ্জিলের চারতলার একটি বাসায় ছাত্র শিবিরর নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

সেখান থেকে নোয়াখালী শহর ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা-আল রাকিবসহ সংগঠনের ৩৮ নেতাকর্মীকে আটক ও ২১টি পেট্রোল বোমা, আটটি কিরিচ, জিহাদি বই, পোস্টার, ব্যানার ও ১০টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তাররা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী সরকারি কলজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তারা গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

এসএস/

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’; গুম হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী: জাতিসংঘ

শাহনূর শাহীন: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব এন্ড্রু গিলমোর বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এখনো ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ অব্যহত রয়েছে।

প্রতিনিয়ত সেখানকার নারী ও মেয়েরা গুম হচ্ছে। এখনো বহু মানুষ না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। খবর বিবিসি।

বাংলাদেশে চারদিনের সফর শেষে জাতিসংঘের এই দূত বলেছেন, সংখ্যালঘু এই মুসলিম বর্মী জনগোষ্ঠীর উপর এখনো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে এর ধরনের কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।

গিলমর বলেন, বর্তমানে মায়ানমারের যে পরিস্থিতি তাতে সেখানে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করা অসম্ভব।

তিনি বলেন, মায়ানমার সরকার সারা বিশ্বকে এটা বলতে ব্যস্ত যে তারা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু ঠিক একই সময়ে তাদের বিভিন্ন বাহিনী রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।’

যদিও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী শুরু থেকেই বলে আসছে যে তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ সফরকালে এন্ড্রু গিলমোর কক্সবাজারের বিভন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে বলেন, ‘সেখানে আমি যা দেখেছি, যা শুনেছি তা থেকে অন্য কিছু উপসংহার টানা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘হত্যা ও গণ-ধর্ষণের পরিবর্তে এখন সেখানে একটু কম মাত্রায় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে, লোকজনকে ক্ষুধার্ত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে’।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলমান থাকলেও গত সপ্তাহে সীমান্তে বর্মী সৈন্যের সমাবেশ ঘটানোয় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এসএস/