All posts by ourislam2

অবশেষে ঘুষের দায়ে শ্যামল কান্তি জেলে

আওয়ার ইসলাম : অবশেষে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জেলে গেলেন আলোচিত স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি। তার এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ দুপুরে আদালত এ মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামল কান্তি আজ বিকেলে আইনজীবীর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম অশোক কুমার দত্তের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মোর্শেদা বেগম।

আর ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে শ্যামল কান্তিকে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের নির্দেশে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় গত বছরের মে মাসে। এর দুই মাস পর মামলাটি করেন ওই শিক্ষিকা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের চাকরি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে তাঁর কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু তাঁকে এমপিওভুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুলাই তিনি আদালতে মামলা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আদালত বন্দর-থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। এ বছরের ১৭ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

শ্যামল কান্তির আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আদালত যেহেতু শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

এবারও অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামল কান্তি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে যে ঘুষের অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি কখনো এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। যে সময় ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তখন শীতলকালীন বন্ধ ছিল বিদ্যালয়।’

গত বছর ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে শ্যামল কান্তিকে সেলিম ওসমানের নির্দেশে শারীরিক নির্যাতন ও কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটে। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারা দেশে তোলপাড় হয়।

নজরুল আমাদের প্রাণের কবি: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ার ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রাণের কবি উল্লেখ করে বলেন, নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮ম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বাংলা গানের বুলবুল কবি নজরুল ছিলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে ছিলেন গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ও অনুবাদক। কবি তাঁর অনন্যসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক। অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তিনি আমাদের বিদ্রোহী কবি। তাঁর শিকল ভাঙার গানে জেগে উঠেছিল ঝিমিয়ে পড়া বাঙালি জাতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর লেখনী এ উপমহাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল। সংগ্রাম করে প্রগতির পথে এগিয়ে চলার সাহস যুগিয়েছিল। বিদ্রোহী কবির অগ্নিঝরা কবিতা ও গান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল অনন্ত প্রেরণার উৎস। শৌর্য-বীর্য ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত কবির গান ‘চল চল চল’ বাংলাদেশের রণসংগীত ।

বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ ও মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা নজরুলকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কবির কৈশোর কাটে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। তিনি কুমিল্লা ও ঢাকায় থেকেছেন। এদেশের মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ ও প্রীতিপূর্ণ আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

 

শেখ হাসিনা ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে কবির অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে উজ্জীবিত করে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। ’

-এআরকে

হচ্ছে না বাহাস : পারস্পারিক অভিযোগ (ভিডিও)

আওয়ার ইসলাম : প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম বিষয়ক বহুল আলোচিত বাহাস আর হচ্ছে না। ২৫ মে ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোথাও হচ্ছে না বলেই খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, আলোচিত ২৫ মের বাহাস না হওয়ার পেছনে বেশকিছু মতানৈক্য কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ ভিডিও কনফারেন্স করেছে।

প্রথম পক্ষ মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর অভিযোগ আল্লামা মাহমুদুল হাসান পরিচালিত যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় বাহাসে প্রশাসন রাখার অনুমোদন না দেয়ায় তারা নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছেন। তবে ওই কনফারেন্সে ঘোষণা দেয়া হয়, বাহাস হবে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ২য় তলায় ভিআইপি লাউঞ্জে।

গতকাল নারায়ণগঞ্জে আব্বাসী মঞ্জিলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন স্বয়ং এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। যদিও সাংবাদিক সম্মেলনের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। প্রথমে এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল প্রেসক্লাবে। 

অপর দিকে প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম বিরোধী ২য় পক্ষ আজ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সাংবাদিক সম্মেলনের জবাবে বিকালে ফেসবুকে লাইভ প্রোগ্রাম করেন। সেখানে কথা বলেন, মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজি।

আব্বাসীর সাংবাদিক সম্মেলনকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে মাওলানা ফরায়েজি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী স্থান ঠিক করতে হবে উভয়ের সম্মতিতে অথচ তিনি একাই ঘোষণা দিলেন বাহাস হবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ২য় তলায় ভিআইপি লাউঞ্জে। আর তা আমাদের জানানো হলো, আজ (২৪ মে) সকাল ১১টার পর।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় স্থান ঠিক করি। আমরা সকল শর্ত মেনে বাহাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করি। আমরা এখনো প্রস্তুত। কিন্তু তারা একের পর অজুহাত বের করছে এবং বাহাস থেকে নিজেদের একের পর এক গুটিয়ে নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাহাসের স্থান প্রথমে পল্টনের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হলরুমে করার কথা থাকলেও একই দিন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর ভিন্ন একটি প্রোগ্রামের জন্য হলের আবেদন করায় কাউকেই হল বুকিং দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরপর জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীতে বাহাসের স্থান নির্ধারণ করা হলেও প্রশাসন রাখা হবে না অজুহাতে সেটিও বাতিল করেন আব্বাসী গ্রুপ। ফলে অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকতে থাকে বাহাস।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন : ২৫ তারিখের বাহাস নিয়ে নতুন সংশয়

২৫ মে বাহাসের অনুমতি প্রদানে আল্লামা মাহমুদুল হাসানের শর্ত এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

বাহাস এড়াতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর নতুন কৌশল

২৫ মে বাহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ও কিছু কথা

বাহাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষ ভিডিও কনফারেন্স করেন। নিচে দেখুন সেই ভিডিও।

কথা বলছেন, মাওলানা লুৎফর ফরায়েজি

বাহাস বিষয়ক আলোচনা

Posted by Lutfor Faraji on Wednesday, May 24, 2017

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সাংলাদিক সম্মেলন

কাসেম বিন আবু বকর নিজের উপন্যাসকে ইসলামী বলতে নারাজ, আমরা কেনো বলবো?

সাঈদ কাদির : কাসেম বিন আবু বকর বাংলাসাহিত্যে সিরিয়াস ধারার কোনো গ্রন্থ রচনা করেন নি, এটি করার কথাও তাঁর নয়। কারণটা খুবই পরিষ্কার, তিনি যেহেতু সিরিয়াস ধারার লোক নন, সেহেতু এ ধারায় তাঁর রচনাও থাকবে না; এটাই নিয়ম।

এইটা বুঝতেও কিছু মানুষের জলঘোলা করতে হচ্ছে, বিষয়টা দুঃখজনক। বিষয়টি পরিষ্কার করে বোঝাতে হলে, লেখক ও পাঠকের শ্রেণিবিভক্তিটা আপনাকে বুঝতে হবে।

যারা সিরিয়াস ধারার লেখক তাদের লেখা সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা পাবে না, এটাই স্বাভাবিক। কারণ সব ধরনের পাঠক তাঁদের লেখা গিলতে পারবে না। সিরিয়াস সাহিত্যের পাঠকরাই তাঁদের লেখা পড়বে। এই শ্রেণির কাছেই তাঁরা সমাদৃত হবেন, পাঠকপ্রিয়তা পাবেন। অর্থাৎ লেখকদের তারতম্যে পাঠক ও পাঠকপ্রিয়তার-ও শ্রেণিবিভাজন থাকবে।

সুতরাং যারা সাধারণ ভাষায়, সাদামাদা উপস্থাপনায়, ধর্মীয় বাস্তবতা অবলম্বনে সমাজের হালচিত্র তুলে আনবেন, তারা মধ্যশিক্ষিত ও মধ্যধার্মিকদের কাছে জনপ্রিয় হবেন, এটা বিচিত্র কিছু নয়। এর মানে এই নয়, কাসেম বিন আবু বকরের উপন্যাসকে আপনার ‘ইসলামী উপন্যাস’ বলতে হবে।

মনে রাখতে হবে, উপন্যাস কখনো ইসলামী হয় না, উপন্যাস হয় মানুষের জীবন নিয়ে। আর মানুষ যদি মুসলিম হয় আর ধর্মকর্ম পালন করে, তবে তাকে নিয়ে রচিত গল্প-উপন্যাসে ইসলাম ধর্মের নানান প্রসঙ্গ চলে আসবে; এটি স্বাভাবিক।

পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ইহুদী ও খ্রিষ্টান ধার্মিকদের জীবন নিয়ে বহু উপন্যাস লিখেছেন। কই তাদের সেসব উপন্যাসকে তো কেউ ইহুদী বা খ্রিষ্টান উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করে না! তাহলে কাসেম বিন আবু বকরের বোরকা পরা সেই মেয়েটিকে কেন ইসলামী উপন্যাস বলতে হবে? বুঝতে হবে, এখানে একটা একপেশে ও একচোখা নীতির চর্চা হচ্ছে।

এটি স্রেফ মূর্খতা আর বিভ্রান্তির টোপ। এখানে আমাদের সাফল্য খোঁজার কিছুই নেই। হয়েছে ব্যক্তি কাসেম বিন বকরের অর্জন। সমষ্টিক কোন অর্জন এখানে নেই। স্বয়ং তিনিই তার লেখককৃতিকে ইসলামের কোন অনুসঙ্গ বা অর্জন বলতে নাখোশ। কারণ তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানেনই কম।

কাসেম বিন আবু বকর নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর রচনা সাদামাটা হলেও একদম ফেলনা নয়। তিনি গল্প তৈরিতে বৈচিত্র্য আনতে না পারলেও মধ্যবিত্ত, সাদামাটা ও স্বল্পধার্মিকদের জীবনালেখ্য রচনায় বিশেষ ক্ষমতা তার রয়েছে।

তাঁর গল্পগুলোয় কাল্পনিকতা কম; তাঁর কিছু কিছু গল্প পাঠে বুঝে আসে, তাঁর রচিত গল্পগুলো যেন ঠিক গল্প নয়, বরং আমাদের সমাজের বাস্তবচিত্রকে তিনি উপন্যাস আকারে গ্রন্থিত করেছেন। সমাজে যা ঘটে, তার বাস্তবরূপ তুলে ধরতে তিনি বেশ রক্ষণশীল। তিনি উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েদের প্রেমভালবাসাজনিত ব্যাপরগুলো সাহিত্যকলা ঠিক রেখে বর্ণনা করতে না পারলেও সাদামাদা ভাষায় সেগুলোকে তুলে এনেছেন।

আমাদের দেশে সমাজের বাস্তবচিত্র অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় বলে চলচ্চিত্র নির্মারা বলে বেড়ান। আমরা লক্ষ্য করেছি, দেশের বানিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রগগুলো একেতো মানসম্পন্ন নয়, অন্যদিকে সেগুলোতে সমাজের বাস্তবতাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয় ।

-এআরকে

ট্রাম্প প্রকৃত খ্রিস্টান নন: পোপ ফ্রান্সিস

আওয়ার ইসলাম : প্রথম সাক্ষাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ট্রাম্প প্রকৃত খ্রিস্টান নন। ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য নিয়েও ক্ষুব্ধ হন তিনি।

এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হওয়ার আহবান জানান।

বুধবার (২৪ মে), দুইজনের মধ্যকার প্রথম বৈঠকে পোপ এ আহবান জানান।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় একে অপরকে নিয়ে তিক্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন ট্রাম্প ও পোপ। প্রচারণাকালীন নিজেকে ‘গর্বিত খ্রিস্টান’ দাবি করে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত মেক্সিকো কংক্রিটের দেয়াল গড়ে তুলতে হবে।

আর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে পোপ বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রকৃত খ্রিস্টান নন। যিনি সেতু নির্মাণের কথা না ভেবে দেয়াল গড়ে তোলার কথা বলেন,তিনি কখনওই খ্রিস্টান হতে পারেন না। খ্রিস্টের জীবন দর্শন সম্পর্কেও তার কোনও ধারণা নেই। ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন পোপ।

একে অপরকে নিয়ে তিক্ত বাক্য বিনিময়কারী ও দুই ব্যক্তির মধ্যকার বৈঠক তাই অনেকের মধ্যে বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে।

ফিলিস্তিন ‘শান্তি চুক্তি’র ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি

কাসেম বিন আবু বকর নিজের উপন্যাসকে ইসলামী বলতে নারাজ, আমরা কেনো বলবো?

বুধবার পোপের সঙ্গে দেখা করার জন্য ট্রাম্প ভ্যাটিকান প্রাঙ্গণ সুইস গার্ডে প্রবেশ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ছোট্ট একটি এলিভেটরে করে অ্যাপস্টলিক প্যালেসের তিন তলায় পৌঁছে যান ট্রাম্প। অভ্যর্থনা নিতে নিতে করিডোর পার হয়ে পোপের দেখা মেলে। সেখানে দুজন করমর্দন করেন। এরপর দোভাষীর উপস্থিতিতে একান্তে ৩০ মিনিটের বৈঠক করেন তারা।

বৈঠক শেষে পোপ ফ্রান্সিস ট্রাম্পকে একটি জলপাই গাছের ভাস্কর্য উপহার দেন। একে শান্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বলেন, ‘আমি চাই আপনি (ট্রাম্প) জলপাই গাছের মতো করে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।’

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শান্তিকে অবলম্বন করতে পারি।’

-এআরকে

 

ঈদে রাস্তায় নামবে বিআরটিসির ৯০০ বাস

আওয়ার ইসলাম : ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের সেবা দিতে নয়শ’ বাস নামাচ্ছে বিআরটিসি। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদ টার্মিনালে আরও পঞ্চাশটি বাসও প্রস্তুত রাখা হবে। আর যাত্রীসেবা তদারকিতে খোলা হবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

এছাড়া ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিআরটিসি’র জন্য ছয়’শ বাস এবং পাঁচ’শ ট্রাক সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাস ও ট্রাকের বহর ঢাকায় আসতে শুরু করবে।

বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব তথ্য জানান।

কী লিখেছে হিন্দু মাদরাসা ছাত্রী যা নিয়ে ভারতে তোলপাড়

কমলাপুর বাস ডিপোতে বিআরটিসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটির চেক বিতরণ এবং আসন্ন ঈদে বিআরটিসি’র সেবার মান বৃদ্ধি বিষয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিসি’র তিনটি মনিটরিং টিম নিয়মিত কার্যকর রাখা হবে। এছাড়া সড়কে যানবাহনের কোনও রকম সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কারিগরি টিম টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর এবং কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।’

-এআরকে

 

স্বীকৃতি বাস্তবায়ন কমিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে আবারও পরিবর্তন

আওয়ার ইসলাম : সরকার স্বীকৃত কওমি শিক্ষা কমিশন আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে আবারও পরিবর্তন। এবার ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাওলানা ইসমাইল বরিশালী।

মাওলানা ইসমাইল বরিশালী দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড  বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গীর চরসহ বিভিন্ন মাদরাসায় হাদিসের দরস দিয়েছেন।

আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের এক পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা নুরুল আমিন, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

কওমি স্বীকৃতি বাস্তবায়ন কমিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে পরিবর্তন

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি ঘোষণার পর ১৬ এপ্রিল স্বীকৃতি বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম বৈঠকে গঠন করা হয় পরীক্ষা উপ কমিটি। কমিটির প্রধান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ পান মাওলানা শামসুল হক। তবে নিয়োগ পাওয়ার এক মাসের মাথায় তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন করা হয়।

এরপর অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দেয়া হয় মুফতি আবু ইউসুফকে। এখন স্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে মাওলানা ইসমাইল বরিশালীকে। মাওলানা শামসুল হক সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন।

-এআরকে

রমজানে প্রতিদিন চলবে মোবাইল কোর্ট

আওয়ার ইসলাম : শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, রমজান মাস জুড়ে প্রতিদিন মোবাইল কোর্টের অভিযান চলবে।

গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিজ প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইর কার্যক্রম অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, আকস্মিকভাবে পরিচালিত অভিযানগুলোতে বিশেষ করে রোজাদারগণ সচরাচর যেসকল খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন, যেমন মুড়ি, কলা, খেজুর, আম, সফ্ট ড্রিংক পাউডার, কার্বোনেটেড বেভারেজ, ফ্রুট সিরাপ, ফ্রুট জুস, ভোজ্যতেল, সরিষার তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, লাচ্ছা সেমাই, সেমাই, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেট ইত্যাদির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।

কী লিখেছে হিন্দু মাদরাসা ছাত্রী যা নিয়ে ভারতে তোলপাড়

নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণে: চরমোনাই পীর

ঢাকা মহানগরীর বাইরে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ইফতার ও সেহিরতে অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত ২৪৯টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই ল্যাবে পরীক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিস প্রেরণ করা হচ্ছে। যেসব পানির কারখানা অবৈধভাবে ড্রিংকিং ওয়াটারের নামে পানি বাজারজাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে বিএসটিআই’র নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে দেশে ফলমূলে ফরমালিনের ব্যবহার অনেকাংশে কমে এসেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় মৌসুমি ফল আম এবং লিচুতে ফরমালিনরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

-এআরকে

রোহিঙ্গাদের ছাড়াই সুচির শান্তি সম্মেলন

আওয়ার ইসলাম : মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে গত পাঁচ দশক ধরে চলমান সংঘাত দূর করতে আলোচনা শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর শত-শত প্রতিনিধি সরকার ও সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনার জন্য রাজধানী নাইপিদোতে জড়ো হয়েছেন।

তবে এ সম্মেলনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বুধবার থেকে শুরু হওয়া শান্তি সম্মেলনে তাদের ডাকা হয়নি এবং সে বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনাও হবে না।

সম্মেলনে যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠী যোগ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো- কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং আরাকান আর্মি।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তার প্রধান লক্ষ্য হবে। কিন্তু তার দল ক্ষমতাসীন হবার পরে উল্টো সহিংসতা বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠী মিয়ানমারে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন চায় এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর তাদের অংশীদারিত্ব পেতে আগ্রহী। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বরাবরই সেটি উপেক্ষা করেছে।

রোহিঙ্গা হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বার্মিজ সেনাবাহিনীর দায়মুক্তি

রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের সবচেয়ে সক্রিয় বিদ্রোহী গ্রুপ নর্দার্ন অ্যালায়েন্স শেষ পর্যন্ত এ আলোচনায় যোগ দিয়েছে। ধারণা করা শেষ মুহূর্তে চীনের হস্তক্ষেপের কারণে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী সম্মেলনে আসতে রাজী হয়েছে।

সম্মেলনে সুচি বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটির ফলাফল এখন দৃশ্যমান হয়েছে।’

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে না। সেসব অঞ্চলের মানুষ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষজন বলছেন, সুচি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন না। বরং তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

তবে সুচি চেষ্টা করছেন যাতে এসব জাতি-গোষ্ঠীর সাথে সরকার একটি শান্তি চুক্তি করতে পারে। কিন্তু এ সম্মেলনে সেটি হবার কোন আশা নেই। তবে মিয়ানমারের স্বাধীনতার লাভের পর বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে অনেক বিশ্লেষক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

১৯৮০’র দশক থেকে মিয়ানমারের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সংঘাতের কারণে হাজার-হাজার মানুষ তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকে সীমান্তের অপর পাশে চীনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের সম্মেলনকে সফল বলা যায় না।

সূত্র : বিবিস

এআরকে

কী লিখেছে হিন্দু মাদরাসা ছাত্রী যা নিয়ে ভারতে তোলপাড়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে সম্প্রতি। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রশমা শাসমলের। ৭২৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছে ওই কিশোরী। গোটা রাজ্যের মধ্যে তার স্থান অষ্টম।

মেয়ের এই সাফল্যে বাবা মা তো খুশি বটেই, খুশি শিক্ষকরাও। একা প্রশমা নয়, এ বছর হাই মাদ্রাসায় প্রায় ৫২ হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় তেইশশো জন হিন্দু পড়ুয়া।

ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এক অসাধারণ লেখা সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করেছে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ওই কিশোরী। পড়ুন সেই লেখা—

“আমার প্রিয় দেশবাসী…
আমি প্রশমা শাসমল, আপনারা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ধূলাগড় এর নাম অনেক শুনেছেন… আমি সেই জেলারই উদয়নারায়নপুর ব্লকের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। বাবা মা ও ছোটো ভাই কে নিয়ে আমাদের পরিবার। এতটুকু পড়ার পর আপনারা নিশ্চয় বিরক্ত হয়ে ভাবছেন এইসব অপ্রয়োজনীয় কথা বলার জন্য এত ঘটা করে দেশবাসীকে চিঠি লেখার কী প্রয়োজন।

এরকম সাধারণ মেয়ে কয়েক কোটি এদেশে আছে। একদম ঠিক ভেবেছেন, আমি খুব সাধারণ মেয়ে আর তাই নিজের কিছু অনুভুতি, ভালো লাগা, ভাবনা, জিজ্ঞাসা,কৌতূহল আপনাদের সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাঁই। আপনাদের কিছুটা মুল্যবান সময় আমাকে দেবেন এই আশা রাখি।

আমি প্রাইমারী স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে এলাকার আর পাঁচটা সাধারণ ছাত্রীর মতন পঞ্চম শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছিলাম স্থানীয় গড়ভবানীপুর উষারানী করাতি বালিকা বিদ্যালয়ে।  ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনো আমার ভীষন প্রিয়,দিনের অনেকটা সময় আমি কাটিয়ে দিতাম বই খাতা নিয়েই।

বাবা মাও আমাকে উৎসাহ দিতেন। স্কুলের রোজকার পড়াশোনর বাইরে বাবাকে ব্যাস্ত করতাম নানা জাগতিক বিষয়ে প্রশ্ন করে।  ক্লাস ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করার পর একদিন বাবা হঠাৎ অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আমায় বললেন ” মা তুই খলতপুর মাদ্রাসায় ভর্তি হবি?  শুনেছি ওখানে খুব ভালো পড়াশুনো হয়, তুই এত ভালো রেজাল্ট করেছিস।

ওখানে মাস্টার মশাইরা খুব যত্ন নিয়ে পড়ায়, আমি শুনেছি। প্রথমে আমি একটু অরাজি ছিলাম কারন পুরোনো স্কুলের বন্ধুদের ছেড়ে যেতে হবে, তারপর আমি একজন হিন্দু ঘরের মেয়ে। মাদ্রাসার সম্পূর্ণ অজানা অচেনা পরিবেশ,মাদ্রাসা মানেই একটা অজানা আশঙ্কা। আমি কী মানিয়ে নিতে পারবো।

কিন্তু, সব আশঙ্কা ছাপিয়ে খলতপুর মাদ্রাসায় ভালো পড়াশুনো হয়, মাস্টার মশাইরা খুব যত্ন নিয়ে পড়ায়। বাবার এইসব কথাগুলি আমায় বেশি আকৃষ্ট করেছিলো। ভর্তি হয়ে গেলাম খলতপুর মাদ্রাসায়।

খুব অল্প দিনেই অনেক নতুন বন্ধু পেয়ে গেলাম। আনোয়ারা , ফতেমা, শামিমা, রেশমা, পূর্নিমা। খলতপুর মাদ্রাসা আমার কাছে মন্দির হয়ে উঠলো। নুরুল স্যার,আরিফুল স্যার, কলিম স্যারেদের সস্নেহ প্রশ্রয়ে আমরা মাদ্রাসা দাপিয়ে বেড়াতাম, খেলা ধুলো সহ সবেতেই আমরা মেয়েরা এগিয়ে থাকতাম। তবে মন দিয়ে পড়াশুনোটাও করতাম।

এক মুহুর্তের জন্য কখনো মনে হয় নিই আমি কোনো অপরিচিত পরিবেশে পড়াশুনো করছি। আমি যেমন স্বছন্দে ঈদের দিন আনোয়ারা, ফতেমা , শামিমার বাড়িতে ওদের সাথে উৎসবে মিশে যাই তেমন ভাবে ওরাও সরস্বতী পূজোর দিন আমাদের বাড়িতে সারাদিন আমার সাথে মিলে পূজোয় আনন্দ করে প্রতি বছর।

[ভারতে হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের আশ্রয় দিলো মাদরাসা]

সামান্যতম সময়ের জন্য কোনোদিন মনে হয় নিই ওরা মুসলিম আমি হিন্দু। মাদ্রাসায় আমার পড়াশুনো , ভালো রেজাল্ট আর স্যারেদের আমার প্রতি যত্ন নেওয়া দেখে বাবা -মা আমার ছোটো ভাই কেও আমার মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন তিন বছর আগে।

এবছর আমি হাই মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষায় ৭২৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেয়েদের মধ্যে তৃতীয় ও রাজ্যের মদহ্যে অষ্টম স্থান পেয়েছি। বাবা মা, স্যারেরা সবাই খুব খুশী। আজকে আমার মাদ্রাসার সব ছাত্র ছাত্রী ও স্যারেরা মিলে আমায় সংবর্ধনা দিলো।

আমি এই মাদ্রাসার ছাত্রী হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। শুধু আমি নই, এবছর হাই মাদ্রাসায় মোট ৫২,১১৫ জন ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিলো পশ্চিম বঙ্গে এবং তার মধ্যে ২,২৮৭ জন হিন্দু ছাত্র ছাত্রী।

চারিদিকে অসহিষ্ণুতার বিষাক্ত ছোবল, আমি শুনতে পাই হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা, অশান্তি কত কিছু। কিন্তু বিশ্বাস করুণ, কখনো একটি হিন্দু মেয়ে হিসেবে মাদ্রাসার ছাত্রী হয়ে নিজেকে বিপন্ন মনে হয়নি। কখনো আমার কোনো বন্ধুর চোখে আমি এক মুহুর্তের জন্য আমার প্রতি অবিশ্বাস দেখিনি।

বিশ্বাস করুণ, পাশের এলাকা ধুলাগর নিয়ে কত কথা শুনেছি, কিন্তু সেই মুহূর্তেও আমি আনোয়ারার বাড়িতে বসে একসাথে পড়াশুনো করেছি। পড়ার শেষে আনোয়ারার বাবা রহিম কাকু আমাকে বাড়ি পৌছে দিয়েছে। বাবা মা নিশ্চিন্তে আমার অপেক্ষায় থাকতেন।

আমি আমার মতন করে এই পরিবেশে নিজেকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করেছি। হ্যা, এই বাংলার মাটিতেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ এই বাংলার পবিত্র মাটির প্রতি।

আজ আমার এই সাফল্য তাই আমি এই বাংলার অখ্যাত খলতপুর গ্রামের হাই মাদ্রাসা কেই উৎসর্গ করতে চাঁই।

ওহ! আর একটি কথা জানাতে ভুলে গেছি আমি এই মাদ্রাসাতেই একাদশ শ্রেনীতে পড়াশুনো করবো। আপনাদের সবার আশির্বাদ চাঁই। সবাই খুব ভালো থাকবেন।

ইতি বাংলার এক সাধারণ মেয়ে
প্রশমা শাসমল।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা। কলকাতা।

এসএস/