All posts by ourislam2

কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল চাদ

সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশের অনুসরণ করে এবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কাতারকে চাদ ও তার আশপাশের দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সব রকম তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

কাতারের রাজধানী দোহা থেকে নিজের সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়ার পাশাপাশি কাতারকে চাদ থেকে তার সব কূটনীতিককে ফেরত নিতে ১০ দিনের সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এসব দেশের অভিযোগ, কাতার তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে। দোহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশ জুন মাসেই কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে।

মুসলিম দেশগুলোর ওপর তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবের ব্যাপক প্রভাব থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল আরো বহু দেশ কাতার বিরোধী পদক্ষেপে যোগ দেবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দুই মাস পর একই পদক্ষেপ নিল চাদ।

সূত্র: পার্সটুডে

আজ থেকে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ

আওয়ার ইসলাম : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে সংলাপের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সঙ্গে প্রথম সংলাপ হওয়ার কথা থাকলেও দলটি সংলাপে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিকেলে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) সঙ্গে ইসির সংলাপ হবে।

ইসি সূত্র জানায়, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্য থেকে নিবন্ধনক্রম অনুযায়ী শেষের দিক থেকে পর্যায়ক্রমে দলগুলোকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

২৪ আগস্ট সকালে বিএনএফ, বিকেলে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট),
২৮ আগস্ট বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ও খেলাফত মজলিস,
৩০ আগস্ট বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা,
১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,
১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ঐক্যজোট,
১৪ সেপ্টেম্বর কল্যাণ পার্টি ও ইসলামিক ফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

-এজেড

হাফেজদের কল্যাণে কাজ করছেন হাফেজ নায়েব আলী; আজ সংবর্ধনা সভা

হাফেজদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছে জাতীয় হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সংগঠনটির উদ্যোগে আজ রাজধানীতে ৫ প্রবীন ও ১১ তরুণ হাফেজকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। ২০১১ সালে যাত্রার পর সংগঠনটি এবার সাত বছরে পা দিয়েছে। এ পর্যন্ত চারবার শ্রেষ্ট হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির পেছনে যিনি শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি হাফেজ মাওলানা নায়েব আলী। ২০০৮ সালে দাওরা (মাস্টার্স) শেষ করেন জামিয়া সিদ্দিকিয়া দারুস সালাম মিরপুর থেকে। এর আগে জামিয়া আরাবিয়া মিরপুর ১২ থেকে হাফেজ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শ্যামলীর সড়ক জনপদ বিভাগের মসজিদের দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তার স্ত্রীর পরিচালনায় একটি মহিলা মাদরসা এবং কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে রয়েছে একটি হিফজখানা। এগুলোতেও সময় দেন তিনি।

আওয়ার ইসলামের সঙ্গে কথোপকথনে গতকাল তিনি হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে জানালেন বিস্তারিত।

আওয়ার ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক রোকন রাইয়ানের সঙ্গে মুঠোফোনে তিনি বলেন, হাফেজদের দেখভাল, দরিদ্র হাফেজদের ব্যয়বহন, অসহায় হাফেজদের চিকিৎসাসহ আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হাফেজদের কল্যাণে কাজ করা সংগঠনটির লক্ষ। গত ৭ বছর ধরে তিনি এটি নিয়ে মেহনত করছেন। বছরে একটি বড় প্রোগ্রাম করলেও সারা বছর হাফেজদের আরও কল্যাণে ছোট ছোট কাজ করেন বলে জানালেন।

হাফেজদের কল্যাণে সংগঠনের কেন প্রয়োজন এমন প্রশ্নে হাফেজ নায়েব আলী বলেন, আইনুল আরেফিন নামের এক হাফেজ দুবাইয়ে কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পর একটা পত্রিকায় সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন আমি বিশ্বে প্রথম হলাম অথচ এয়ারপোর্টে আমাকে নেয়ার মতো বা অভিনন্দন জানানোর মতো কেউ আসেনি।

এই সাক্ষাৎকার পড়ার পর আমার কষ্ট হয়। এসব ছাড়াও হাফেজদের আরও নানারকম সমস্যা রয়েছে। মেধাবী হাফেজদের তেমন একটা কদর করা হয় না। সব চিন্তাকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রথম ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করি আমরা। যা এখন হাফেজদের কাছে বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

হাফেজ নায়েব আলী বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৪০-৪৫ জন পুরস্কারপ্রাপ্ত মেধাবী হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছি। এটি একটি উৎসাহ যা একজন হাফেজকে তার উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করে। এছাড়াও হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রবীণ হাফেজদের জন্য কাজ করে। তাদের অবদানের স্বীকৃতিই এর উদ্দেশ্য।

হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন আছে তারাও হাফেজদের নিয়ে কাজ করে, এরপরও আরেকটি সংগঠনের প্রয়োজন কেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিফজের বিশাল পরিসর রয়েছে। প্রতিটি মাদরাসায় আছে হিফজখানা। সবার জন্য কাজ করা একটা সংগঠনের পক্ষে সম্ভব নয়। আরেকটা ব্যাপার হলো কল্যাণমুখী কাজ যতো করা যায় তত ভালো। এর জন্য একাধিক সংগঠন হতে পারে। তবে কারো সাথে আমাদের কাজের সাংঘর্ষিক অবস্থা নেই আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সবার সঙ্গে মিলে মিশেই কাজ করি।

বিশ্বসেরা ও প্রবীণ ১৬ হাফেজকে সংবর্ধনা দেবে হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন

মান্নার পাসপোর্ট ফেরত দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার জন্য ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদেশে বলা হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ করে তাকে দেশে ফিরতে হবে। দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে ওই পাসপোর্ট পুনরায় সিএম আদালতে জমার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মান্নার পক্ষে আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান ও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি করেন।

এর আগে পৃথক দুটি ফোজধারী মামলায় পাসপোর্ট জমা দেয়াসহ কিছু শর্তে মান্নাকে জামিন দিয়েছিল আপিল বিভাগ।

‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে রায় দিয়েছে তা সঠিক নয়’

আওয়ার ইসলাম : ষোড়শ সংবিধান সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে রায় দিয়েছে তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্রলীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সেই রায় আমরা সমর্থন করি না। এই রায় সঠিক না। বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান করেছে তার সঙ্গে এ রায় সঙ্গতিপূর্ণ না। এ রায় তার থেকে বিচ্যুতি। আমরা সুপ্রিম কোর্টকে শ্রদ্ধা করি। এটা একটা প্রতিষ্ঠান। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধান বিচারপতি যে সকল কথা বললো এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কথা বলছে, পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রয়েছে। জাপান, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আমেরিকা সব জায়গায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট মেম্বার, মন্ত্রী প্রাইম মিনিস্টার সকলেই পার্লামেন্টের নিকট দায়বদ্ধ। সকলকে জবাদিহী করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম হয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাসের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান প্রমুখ।

-এজেড

১৫৩ কেজি ওজনের সমুচা

আওয়ার ইসলাম : লন্ডনে ১৫৩.১ কেজি ওজনের সমুচা তৈরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে মুসলিম এইড ইউকে। মঙ্গলবার বিকালে সংস্থাটির চ্যারিটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী বিশাল এ সমুচা তৈরি করেন।

পরে পূর্ব লন্ডন এলএমসি হলের ভ্যাটে সেটি ডিপ ফ্রাই করা হয়। সেই সময় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তদারকি করে সমুচাটিকে বিশ্বের বৃহত্তম সমুচা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

এর আগের রেকর্ডটি ছিল ব্র্যাডফোর্ড কলেজের দখলে। তারা ২০১২ সালের জুন মাসে উত্তর ইংল্যান্ডে ১১০.৮ কেজির সমুচা বানিয়েছিল।

সমুচা তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, ‘আমরা চিন্তিত ছিলাম এ ভেবে যে, সমুচাটা ভেঙে যাবে কিনা। কিন্তু কোনো সমস্যা ছাড়াই ১৫ ঘণ্টা ধরে বৃহৎ সমুচাটি বানাতে সফল হই।’

মুসলিম এইডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূলত কোরবানির ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এ আয়োজন। গত বছর মুসলিম এইড প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেয়। এবারের টার্গেট প্রায় ৩ লাখ। এজন্য কমিউনিটির সবার সহযোগিতা কামনা করে মুসলিম এইড। পরে সমুচাটিকে গৃহহীন মানুষদের ভাগ করে খেতে দেয়া হয়।

-এজেড

হজযাত্রীদের সুবিধায় খুললো ২৭ বছর বন্ধ থাকা সৌদি-ইরাক সীমান্ত

মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই প্রথম খুলে দেওয়া হলো ইরাকের ‘আরআর’ সীমানা-ক্রসিং। ১৯৯০ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণ করলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয় সৌদি আরবের। এরপর বন্ধ হয়ে যায় সৌদি-ইরাক সীমান্ত।

এখন উভয় দেশের মাঝে হাজিদের আসা-যাওয়া সহজ করার জন্য এটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। এতে উভয় দেশের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হবে।

‘আরআর’ সীমান্ত ক্রসিংটি ইরাকি সীমান্তের পনের কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ‘উত্তর আরআর’ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্রসিংটি দ্বিতীয়ত উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে বন্ধ থাকায় প্রতি বছর হজযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হত। এ বছর সীমান্ত খুলে দেওয়ার কারণে হাজিদের জন্য খুবই সুবিধা হচ্ছে।

সৌদি এবং ইরাকের সরকারি কর্মকর্তারা সোমবার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। গত ২৭ বছরে হজ যাত্রী আসা-যাওয়ার জন্য শুধু হজের সময় সৌদি-ইরাক সীমান্তের কেবলমাত্র একটি দরজা খুলে দেওয়া হতো। এ বছর তা পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।

ইরাকের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের গভর্নর শোয়াইব আল-রাঈ কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ‘আরআর’ সীমান্ত-ক্রসিং পরিদর্শন করেন এবং তারা হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, এই মরু এলাকা রক্ষার জন্য ইরাকের সরকার সেনা মোতায়েন করে রেখেছিল। তবে সীমান্ত খুলে দেওয়ার ফলে বাগদাদ ও রিয়াদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা হবে। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপটি সৌদি ও ইরাকের মাঝে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি উপায়।

মূলত ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্য ও প্রভাব কমানোর জন্য সৌদি আরব ও আরব আমিরাত তাদের এই প্রতিবেশিকে দীর্ঘদিন হুমকির মুখে রেখেছিল। তিনি আরও বলেন, ইরাক এবং সৌদি আরবের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার জন্য এটা শুভ সূচনা।

জানা গেছে, ইরাকের সঙ্গে যৌথ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে সৌদি মন্ত্রিসভা সোমবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

২৫ বছর পর ২০১৫ সালে সুন্নিদের দেশ সৌদি আরবের বাগদাদে তাদের দূতাবাস চালু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-যুবাইর বাগদাদ সফরে যান।

১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ ২৭ বছরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাগদাদ সফর করেন। ওই সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জুন মাসে এসে দুটি দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে। তারই ফল হিসেবে সীমান্ত খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশ দু’টি।

সৌদি সার্জ দ্যা এফেয়ার্স আব্দুল আজিজ সাম্মারি বলেন, সৌদি আরব ও ইরাকি কর্তৃপক্ষের মধ্যে হজ যাত্রা সহজ করার জন্য দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হয়। সাথে বাণিজ্যিক উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও থাকে।

সূত্র : আল আরাবি আল জাদিদ (ইংরেজি সংস্করণ)

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা খুব চ্যালেঞ্জ হবে

আওয়ার ইসলাম : টানা ভারি বর্ষণ, বন্যায় দেশে ৩৯ জেলার এক হাজার ১৭৭ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলার এসব সড়কের পিচঢালাই উঠে গেছে।বন্যায় ১৮টি সড়ক পয়েন্ট ভেঙে ভেসে গেছে। আরও ২৩টি পয়েন্টে রাস্তার ওপর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে ১২ থেকে ১৫ ফুট এলাকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এসব গর্তে গাড়ি নিচের অংশের সঙ্গে রাস্তায় ঘষা লাগছে। এতে অনেক সময় গাড়ির স্প্রিংসহ যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ও ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কিছু কালভার্ট ও ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। গন্তব্যে পৌঁছতে প্রতি ট্রিপে ২-৭ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। কমে গেছে ট্রিপের সংখ্যা। পরিবহন মালিকরা বলছেন ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, রাস্তায় গাড়ির চাপও বাড়বে। অবস্থার উন্নতি না হলে ঈদে সড়ক যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ভয় থেকে তারা এবার ঈদের ৩৩-৫০ শতাংশ টিকিট আগাম বিক্রি করেছেন।

রোববার পর্যন্ত সড়ক ও জনপথের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। যানবাহনের মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যাত্রী পরিবহনের বিষয়গুলো। ইট, সুরকি ও বালুর বস্তা ফেলে আপাতত সড়ক রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সওজের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এসব সড়কে ভারি মেরামতের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোতে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঈদের আগেই সড়ক গাড়ি চলাচলের উপযোগী করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যদি বৃষ্টি-বাদল না হয়, আমরা আশা করছি ঈদের আগে রাস্তাগুলো ব্যবহারযোগ্য করা যাবে। তবে বৃষ্টি-বাদল যদি অব্যাহত থাকে তবে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা খুব চ্যালেঞ্জ হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ দেশের ৬৪টি জেলাকে ২০টি সার্কেলে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। শুধু বন্যার কারণে ২০টি সার্কেলের মধ্যে ১১টি সার্কেলের আওতাধীন ৩৯ জেলার ১ হাজার ১৭৭ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে ২২৮ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার, আঞ্চলিক সড়ক ১৮৪ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ৭৬৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার। বাকি ৯টি সার্কেলের আওতাধীন সড়কে ক্ষয়ক্ষতি পায়নি সওজ।

ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাবনা সার্কেলের। পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলা মিলে গঠিত হয়ে পাবনা সার্কেল। অর্থাৎ এ তিন জেলায় ৪১২.৭ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গেছে। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর সার্কেলে ২৬০.৪ কিলোমিটার এবং শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর সার্কেলে ১৫৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী সড়ক সার্কেলের আওতায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা সার্কেলে ৪৬.৫, ময়মনসিংহ সার্কেলে ২৩.৫, ফরিদপুর সার্কেলে ১০, সিলেট সার্কেলে ৭৮.৪৯, ও বগুড়া সার্কেলে ৭২.৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশ আউটসহ নানান কারণে বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে। এসব এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কগুলো হচ্ছে- নেত্রকোনা-কলমাকান্দা ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়ক, জামালপুরের এলেঙ্গা-ভুঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়ক, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সড়ক, নাগেশ্বরী থেকে লালমনিরহাট সড়ক, ভুরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী সড়ক ও নওগাঁ থেকে আত্রাই-নাটোর সড়ক।

এদিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বন্যার আগেই দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ভাঙাচোরা ছিল। বিশেষ করে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সায়েদাবাদ ও বাবুবাজার ব্রিজের পর থেকে কেরানীগঞ্জের অংশ, টঙ্গী থেকে নরসিংদীর যাওয়ার পথ, টঙ্গী থেকে গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া এবং চন্দ্রা ও কোনাবাড়ী সড়কের অবস্থাও খারাপ। এ কারণে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হতেই কয়েক ঘণ্টা লাগছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় দেশের প্রায় সবকটি জেলায় সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে খানাখন্দ ও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের অন্যতম পথ শিমুলিয়া (মাওয়া)-কাঁঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অবস্থা ভালো নয়। সেখানেও দীর্ঘ যানজট হচ্ছে। এসব কারণে ৬ ঘণ্টার পথ যেতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাগছে। কখনও কখনও এর চেয়ে বেশি লাগছে। সড়কের এ অবস্থায় ঈদে গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এ কারণে ঈদে ট্রিপ সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি করেছেন মালিকরা।

সড়কে ভোগান্তির বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে, পথে কষ্টের ভয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মানুষরা যাতায়াত ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ভাঙাচোরার কারণে গাড়ির ইঞ্জিন, মেশিন ও বডির ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনা হলে গাড়ির ড্যামেজ হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়া ৫ ঘণ্টার পথ যেতে ৮-৯ ঘণ্টা লাগছে। একই হারে অন্য রুটগুলোতে অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে।

একইভাবে কুড়িগ্রাম জেলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সে জেলার সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ জেলার ৮টি মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় ওয়াশ আউট হয়ে ১২ থেকে ১৫ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৩৯তম থেকে ৪২তম কিমি. অংশে বন্যার পানির প্রবল  সড়কের এক পাশের সোল্ডারসহ কিছু রাস্তা ধসে ৪-৫ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের ১১ কিলোমিটার রাস্তা ৫ দিন পানিতে ডুবে থাকায় ওই অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। জামালপুর জেলার তারাকান্দি-এলেঙ্গা-ভুঞাপুর সড়কের ২৪তম কিলোমিটারে কিছু অংশ ওয়াশ আউট হয়ে গেছে। জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়কের ১৮ কিলোমিটার পানিতে ডুবে গেছে। ২৩তম কিলোমিটারে ৪০ মিটার জায়গা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একইভাবে জামালপুর-কালিবাড়ী-সরিষাবাড়ী ও বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী-চররাজিবপুর সড়কের অনেকাংশ পানিতে ডুবে গেছে এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জেলার বাসিন্দা উবায়দুল হক বলেন, সড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে সেখানে মাছ ও ধান চাষ করা যাবে। সুস্থ মানুষ এ রাস্তায় যাতায়াত করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তিন কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে দেবে গেছে। নেত্রকোনা জেলার ৫টি সড়কের ১০ কিলোমিটার পানির নিচে। এসব জায়গায় গর্ত হয়েছে ও মাটি ভেঙে গেছে। নেত্রকোনা-মধ্যনগর মহাসড়কের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই সড়কে ব্রিজ-কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট-ক্ষেতলাল, মোকামতলা-কালাই, হিলি-কালাই ও বগুড়া-ক্ষেতলাল সড়কের অনেকাংশ পানিতে ডুবে থাকায় রাস্তার উপরিভাগ উঠে গেছে। যশোর জেলার রাজারহাট-মনিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগর মহাসড়কের কিছু অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য জেলাগুলো হচ্ছে- সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর।

-এজেড

ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

আওয়ার ইসলাম : সরকার বিচার বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে। একটি দেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগ হলো সুপ্রিমকোর্ট নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কি করতে চান সরকার। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পর্যবেক্ষণকে ইস্যু করে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেয়া সংবিধান পরিপন্থি। তিনি বলেন, এরপূর্বেও আওয়ামী লীগ বিচারালয়কে লাঠি দেখিয়েছিল। এধরণের মানসিকতা পরিহার করা উচিত বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
গতকাল সকালে জামালপুর জেলার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ পূর্ব আলোচনায় তিনি একথা বলেন। এসময় জেলা নেতৃবৃন্দ, যুবনেতা, ছাত্রনেতাসহ উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

মুুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সরকার যেনতেন ভাবে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। জনগণের রক্তের উপর দিয়ে হলেও তারা ক্ষমতায় থাকতে চান। এমনটা ঠিক নয়। ভাল কাজ করলে তো জনগণই আপনাদেরকে আজীবন ক্ষমতায় রাখবে। জোর জবরদস্তি করে কেন ক্ষমতায় থাকতে চান? তাহলে কি আপনাদের প্রতি জনগণের সমর্থণ নেই? আসলেই বর্তমান সরকারের সাথে জনগণ নেই। পারলে প্রমাণ করে দেখান।

সিরাজগঞ্জ জেলায় ত্রাণ বিতরণ : বন্যাদুর্গত সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলা এলাকায় পীর সাহেব চরমোনাই-এর পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করছেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ। সঙ্গে যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুব কল্যাণ ও কর্মসংস্থান সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ নুর-উন-নাবী, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক মু.শরীফুল ইসলাম,শুরা সদস্য শরিফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মুহিবুল­াহ, বেলকুচি উপজেলা সভাপতি আব্দুস সামাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তিনি নগদ টাকা, শুকনো খাবার, শাড়ী, লুঙ্গি, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণ পূর্ব আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, দেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত থাকলে রাষ্ট্রের দায়িত্বে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হতো। এখন মানুষ ত্রাণের আশায় চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে গরীব, অসহায় ও দু:স্থ মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। কেননা এটা ইসলামের নির্দেশ। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। কল্যাণকামীতাই ইসলামের কাজ। মানুষ ইসলাম মানছে না বলেই দেশে ভয়াবহ বন্যা, খরতাপ, ঝড়-বৃষ্টিসহ নানা ধরণের আজাব ও গজব শুরু হয়েছে।

গাইবান্ধার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের নেতৃত্বে গাইবান্ধার কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা কাওছার আহমদ, মহানগর দক্ষিণ নেতা মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদেরসহ দিনাজপুর জেলা নেতৃবৃন্দ। বন্যা কবলিত এলাকার অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ ও শাড়ী, লুঙ্গি বিতরণ করেন।

নীলফামারীর ডোমার অঞ্চলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। তার সাথে ছিলেন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মু. এমদাদুল­াহ ফাহাদসহ নীলফামারী জেলা নেতৃবৃন্দ। এ সময় বন্যা কবলিত এলাকার শত শত অসহায় পরিবারের মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ ও শাড়ী, লুঙ্গি বিতরণ করেন।

-এজেড

রান্নায় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন শেফ মনিরুল

আওয়ার ইসলাম : ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ফুড প্রোগ্রামসহ নানা প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শেফ হিসেবে বাংলাদেশি রান্না উপস্থাপন করে দেশের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন শেফ মনিরুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে তার রেসিপি। তার রান্না।

সম্প্রতি ভারতের আকাশ আট টিভির একটি স্পেশাল রান্না পর্বে অংশগ্রহণ করে এলেন বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পী মনিরুল ইসলাম। ‘একদিন ইউটিউবে ইন্ডিয়ান ফুডের কিছু রেসিপি দেখতে পেলাম আকাশ আট টিভির রাধুনী রান্নাঘরে। তারপর ওদের লিংকে গেলাম। দেখলাম অনেক নামি দামি শেফরা ওদের কিচেনে কাজ করেন। আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তারা আমার প্রোফাইল জানতে চাইলো। আমি দিলাম।
তারা এরপর আমাকে আমন্ত্রণ জানালো। আমি তিনটি ডিশ করেছি সেখানে। শুটিং শেষে পুরো ইউনিট আমার রান্নার প্রশংসা করে হাতে তালি দিয়েছিল।” আকাশ আট টিভির বিশেষ রান্না অনুষ্ঠানটি শেফ মনিরুল ইসলাম করেছিলেন ‘সুইট অ্যান্ড সোউর ফিস অন ফায়ার, মেক্সিকান ওমলেট অ্যান্ড চিকেন স্নিজল।
মনিরুল ইসলামের বর্তমান আর অতীত কিন্তু একরকম ছিল না। শেফ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে তাকে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ২০০৪ সালে নিজের চলার খরচ মেটাতে একটি রেস্টুরেন্টে কিচেন হেলপার হিসেবে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম।  সি ফুড অ্যান্ড স্টেক হাউসে তিনি ‘ডিশ ওয়াশার’ হিসেবে কাজ করতেন। সেই রেস্টুরেন্টেই তার শেফ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। রেস্টুরেন্টে অন্য শেফদের অনুপস্থিতিতে ওভেনে দায়িত্ব পালন করতেন।
এরপর শুরু করেন শেফ বিষয়ক পড়াশোনা। সিডনির কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেন। ২০০৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের টেফ ইন্সটিটিউট এর সম্মানজনক শেফ সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তারপর কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বারিস্তা, ফুড চেইন ডেভিড জোনস-এ। ২০১৫ সালে কলম্বোতে ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্সে ২২টি দেশের মধ্যে মনিরুল ইসলাম একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০১২ সালে দেশে ফিরে  কাজ করেছেন রেডিসনসহ বেশকিছু পাঁচতারা হোটেলে। তারপর নিজের জন্মস্থান চট্টগ্রামে ২০১৪ সালের শেষের দিকে শুরু করেন নিজের হোটেল ‘লেমনগ্রাস’। দুই শতাধিক মেন্যুর এই রেস্টুরেন্টটি ইতোমধ্যেই খাদ্যপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে। নিয়মিত মেন্যুর পাশাপাশি নিজের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ব্যবহার করে খাদ্যপ্রেমীদের নিত্যনতুন চমক উপহার দিচ্ছেন মনিরুল ইসলাম। বর্তমানে চট্টগ্রামে তার নিজস্ব ৩টি রেস্তোরা চালু আছে।
চট্টগ্রাম গলফ ক্লাবে একটি পাঁচ তারকা রেস্তোরার কাজ চলছে। রেস্তোরাটির কিচেন সেটআপ করে দিচ্ছেন মনিরুল ইসলাম। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক তারকার জন্য নিয়মিত রান্না করে থাকেন মনিরুল।
-এজেড