All posts by ourislam2

সাজেকে ইউপিডিএফের দুইপক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ৩

আওয়ার ইসলাম: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের করল্যাছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ দুইপক্ষের গোলাগুলিতে মূল ইউপিডিএফের তিন কর্মী নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভোর চারটার দিকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— সুশীল চাকমা, স্মৃতি চাকমা ও অটল চাকমা। এ ঘটনায় আহত কানন চাকমাকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।

সাজেক থানার ওসি নুরুল আনোয়ার জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূল ইউপিডিএফ এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবস্থান করছিলো।

আজ ভোররাত চারটার দিকে উভয় পক্ষের মাঝে গোলাগুলি শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইফতারে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে টাকা লুট

আওয়ার ইসলাম: যানজটের ঢাকায় অনেকেই ইফতারের আগে বাসায় ফিরতে পারেন না। রাস্তায় কিংবা যাত্রাপথে ইফতার করতে হয়। আবার কেউ কেউ কর্মব্যস্ততার কারণেও রাস্তায় ইফতার করেন।

ফুটপাত ও বাসের মধ্যে থেকে কেনা এসব খাবারের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে রাখেন আগে থেকেই। তারাই হকারের বেশে সেগুলো বিক্রি করছেন।

এসব খাবার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরপরই তার সর্বস্ব লুটে নেয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। এই চক্রের সদস্যরা বাসে, বাস টার্মিনালে, রেলস্টেশনসহ জনবহুল স্থানে হকার বেশে খাবার বিক্রি করে।

গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত অজ্ঞান ও ছিনতাই পার্টির ৬১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, শনিবার গোয়েন্দা পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ বিভাগের কয়েকটি টিম শ্যামলী, জুরাইন, কমলাপুর ও নিউমার্কেট থেকে ৩২ জন অজ্ঞান পার্টির এবং সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কয়েকটি টিম গুলিস্তান, নিউমার্কেট, শাহবাগ থেকে ২৯ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯২টি লেক্সোটেনিল ও ৪০টি চেতনানাশক ট্যাবলেট এবং ২টি ঝান্ডুবামসহ একাধিক মলমের কৌটা উদ্ধার করা হয়।

অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সরল ও নিরীহ যাত্রীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে কৌশলে আলাপচারিতার মাধ্যমে ইফতারির খাদ্যদ্রব্যসহ চা, ডাব, পানি ও জুসসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেন।

রাজি হলে যাত্রীদের ট্যাবলেট মিশ্রিত চা, ডাব, পানি ও জুস ইত্যাদি খাওয়ান। খাবার খেয়ে অজ্ঞান হলে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

আরো পড়ুন- রোজা হচ্ছে গোপন ইবাদত

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আর নেই

আওয়ার ইসলাম: বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও চিফহুইপ, হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এমপি ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা এবং বহু আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের পারিবারিক এবং বিএনপি দলীয় সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের হাটহাজারী থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা পল্টন বিএনপি অফিসের সামনে ও বাদ আছর চট্টগ্রামের জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে এবং ২৯ মে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় হাটহাজারী পার্বতী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও একই দিন বাদে জোহর লালিয়ারহাট মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হবে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানী ঢাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ১৩৮৪ জন

অাবদুল্লাহ তামিম: রাজধানী ঢাকায় তালিকাভুক্ত ১৩৮৪ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন।

৪৯টি থানা এলাকায় নিজস্ব জোন ভাগ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তারা। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে টেকনাফ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে মাদকের বড় বড় চালান চলে আসছে প্রতিনিয়ত।

সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথ দিয়েও রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক পৌঁছায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে রাজধানীতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত উৎকোচ নিচ্ছেন কিছু রাজনীতিক নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা।

এ কারণে এসব ব্যবসায়ী ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে এসব ব্যবসায়ীরা। তাদের কারণে রাজধানীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় অবাধে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য।

এবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ১৩৮৪ জনের তালিকা ধরে মাদক নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে। পুলিশ, গোয়েন্দা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ এই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।

রাজধানীতে অভিযানের আগাম তথ্য অনেক পুলিশ সদস্য আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয়। শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

গতকাল কাওরান বাজারে অভিযান চলাকালে এক পুলিশ সদস্য ফোন করে মাদক ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দেয়। অভিযানের আগাম তথ্য পাচার হওয়ায় অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী নিরাপদে পালিয়ে যায়।

রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থাকায় রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীরা খুবই ক্ষমতাধর। তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নগরীর ৬ শতাধিক স্পটে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে।

কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, মাদকের টাকা থানার কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনীতক ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পাচ্ছেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভাগ না দিয়ে মাদক ব্যবসা করা অসম্ভব। তারা আরো বলেন, রাজধানীর অনেক পুলিশ সদস্যের বাসা ভাড়ার টাকা মাদক ব্যবসায়ী বহন করেন।

শুধু তাই নয়, পুলিশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার মাদক ব্যবসায়ীরা বহন করেন। তাহলে দোষ শুধু আমাদের কেন?

মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল । তিনি বলেন, ‘আমরা মাদকের বিষয়ে অলআউট প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি। এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।

 

সৌদি থেকে দেশে ফিরলেন ৪০ নারী

আওয়ার ইসলাম :  সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে নারী কর্মীদের আসা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (২৭ মে) আরও ৪০ নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। রাত ৮টার দিকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে করে ওই ৪০ নারী কর্মী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

এই ৪০ জন নারী শ্রমিকের ফেরতের ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এর আগে গত ১৯ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন ৬৬ জন নারী শ্রমিক। আর ২০ মে ফেরেন ২১ জন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাস কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সৌদি আরব থেকে সম্প্রতি দফায় দফায় নারী কর্মীদের ফিরে আসায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমালোচনাও করছেন অনেকেই। আবার অনেকেই এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেদেশে নারী কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তবে সরকার থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন : সৌদি আরবে ৯ নির্যাতিতা নারীকে দেশে ফিরতে বাধা

পরকীয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাকে মুসল্লিদের গণধোলাই

আওয়ার ইসলাম :  লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতার আপত্তিকর অবস্থার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। রোববার সারাদিন ফেসবুকে তোলপাড় চলছে এইসব ছবি নিয়ে।

এর আগে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লবকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গণধোলাইয়ের শিকার ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লব কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জানা গেছে, রাকিব হোসেন বিপ্লব ছাত্রলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে তোরাবগঞ্জ বাজারে তার বাসায় ভাড়া থাকত টেইলার্স ব্যবসায়ী আবদুল জাহের ও স্ত্রী এবং তার দুই সন্তান। এরপর থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সাথে রাকিব হোসেন বিপ্লববের অবৈধ সর্ম্পক গড়ে উঠে।

এসব বিষয়ে জানাজানির পর তার বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় তারা। কিন্তু তাদের সর্ম্পক এক বিন্দুও ভাটা পড়েনি। বরং আরো সর্ম্পক গভীর হয়। এ বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত বিপ্লব। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে সে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতে না বলে জানান অনেকে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান, ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায়িত্ব ছাত্রলীগ নিবেনা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,রাকিব হোসেন বিপ্লব ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন : স্বামীকে পরকীয়া থেকে মুক্ত রাখতে মেনে চলুন ৮ নিয়ম

ভারত নাকি হিন্দুস্তান?

আওয়ার ইসলাম : হিন্দুস্তান বা হিন্দুস্থান, বর্তমান Indian Subcontinent (ভারতীয় উপমহাদেশ) এর ঐতিহাসিকভাবে জনপ্রিয় নামগুলির একটি। এই নামের আক্ষরিক অর্থ “সিন্ধু নদের দেশ”। সিন্ধু নদ বা সিন্ধু দরিয়া (ইংরেজিঃ Indus river) এই অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক নদীর নাম।

হিন্দুস্তান নামটি বেশ প্রাচীন, যা এসেছে আদি ফার্সি শব্দ “হিন্দু” থেকে। ফার্সি ভাষায় সিন্ধু নদকে বলা হতো হিন্দু নদ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় “স্তান” অনুসর্গটি (ফার্সি ভাষায় যার অর্থ “স্থান”)।

ইংরেজি “India” শব্দটিও এসেছে সিন্ধু নদের আদি ফার্সি নাম হিন্দু থেকে। এছাড়াও প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের “ইন্দোই” (Ινδοί; অর্থঃ Indus (সিন্ধু) নদী অববাহিকার অধিবাসী) নামে অভিহিত করতো। আগে হিন্দুস্তান বলতে গোটা উপমহাদেশকেই বোঝাত।

অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে “হিন্দু” কোন ধর্মের নাম নয় বরং সিন্ধু নদের পাড়ে বসবাসরত মানুষদেরকে বোঝাতো তারা যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন। অন্যদিকে, বর্তমান হিন্দুধর্মের মূল নাম হচ্ছে সনাতন ধর্ম (সংস্কৃতঃ सनातन धर्म) যা কালের বিবর্তনে এখন হিন্দুধর্ম নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছে।

mughal_historical_map-copy

১৮শ শতকের শেষভাগে ইউরোপীয় বণিক ও ঔপনিবেশিক শাসকেরা হিন্দুস্তানের সকল ধর্মের অনুসারীদের একত্রে হিন্দু নামে অভিহিত করে।

তবে ধীরে ধীরে এই শব্দটি যারা আব্রাহামীয় ধর্মসমূহ (ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম এবং ইসলাম) অথবা অবৈদিক ধর্মসমূহের (যেমন জৈনধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও শিখধর্ম) অনুসারী নন, বরং সনাতন ধর্ম নামক ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এমন সকল বংশোদ্ভুত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে পড়ে।

ইংরেজি ভাষাতে এ অঞ্চলের স্থানীয় ধর্মীয়, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলি বোঝাতে “হিন্দুইজম” বা “হিন্দুধর্ম” কথাটি চালু হয় ১৯শ শতকে।

১৯৪৭ এ স্বাধীনতার পর সনাতন ধর্মের অনুসারী অধ্যুষিত নতুন দেশটির সংবিধানে ও লোকমুখে “ভারত” নামটিই প্রচলিত হয় যা মূলত এই অঞ্চলের দীর্ঘ ইসলামী শাসনের ইতিহাসকে মুছে দিয়ে সনাতন ধর্মের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা।

অন্যদিকে “ভারত” নামটির উৎপত্তি চন্দ্রবংশীয় পৌরাণিক রাজা “ভরত” এর নামানুসারে। সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্য হচ্ছে মহাভারত এবং রামায়ণ। “মহাভারত” এর অর্থ হলো ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। কথিত আছে এই বর্ষ বা অঞ্চলটি রাজা ভরতকে দান করা হয়েছিল বলে এর নাম “ভারতবর্ষ”।

সারা বিশ্বের মুসলিমগণ অতীতে এই উপমহাদেশকে (এবং এখনও) “আল-হিন্দ/হিন্দুস্তান” (আরবীঃ الهند — Al-Hind, ফার্সিঃ هندوستان — Hindustan) বলেই ডাকতেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, রাসূল ﷺ এর সময়ও এই উপমহাদেশকে বুঝানোর জন্য আল-হিন্দ (الهند) নামটি ব্যবহৃত হয়েছে যা সহীহ হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায়। এই ওয়েবসাইট এর মূল ইংরেজি আর্টিকেলগুলোতে India বলতে বুঝানো হয়েছে গোটা উপমহাদেশ, যা মূলত হিন্দুস্তান।

ঐতিহাসিকভাবে ইসলামের হারানো ইতিহাস এর ক্ষেত্রেও তাই আমরা “হিন্দুস্তান” নামটিই ব্যবহার করব।উৎস : লস্ট ইসলামিক হিস্টোরি।

আরও পড়ুন : ভারতে হিন্দু পণ্ডিতের মুখে মহানবির প্রশংসায় কবিতা

‘রোযাদারের খাবারের হিসাব হবে না’, এ কথার সত্যতা আছে?

আওয়ার ইসলাম :  কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, রোযাদারের খাবারের কোনো হিসাব হবে না। এটি একটি ভুল কথা।

খাবারের হিসাব বলতে সাধারণত খাবারের অপচয় বোঝায়। আর কুরআন হাদীসে এমন কোনো কথা নেই যে, রোযাদার যদি খাবারের অপচয় করে তাহলে তার কোনো হিসাব হবে না।

যে ব্যক্তিই খাবার বা যেকোনো বস্ত্তই অপচয় করুক আল্লাহর দরবারে তাকে এর হিসাব দিতে হবে। সুতরাং রোযাদার হোক বা যেই হোক খাবার বা যেকোনো বস্ত্তর অপচয় থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

আর পানাহারের ক্ষেত্রে হারাম থেকে বেঁচে থাকা ফরয- তা তো সব সময় এবং সর্বাবস্থারই বিধান। হিসাবের প্রশ্ন আসে হালালের ক্ষেত্রে; নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার হল কি না এবং তার শোকর আদায় করা হল কি না।

হারামের উপর তো সরাসরি শাস্তি হয়। তাই প্রচলিত এ বাক্য শুনে এরূপ মনে করা যে, হারাম খেলেও কোনো হিসাব নেই তা আরো ভয়াবহ।

মাসিক আল-কাউসারের নিয়মিত বিভাগ প্রচলিত ভুল থেকে নেওয়া। 

আরও পড়ুন : ‘রোজার মাসে বলছি, জড়িতদের কাউকে ছাড়ব না’

ইফতারিতে চেতনা নাশক মিশিয়ে ছিনতাই, আটক ৬১

অাওয়ার ইসলাম : রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির ৬১ সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঈদ সামনে রেখে এই চক্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু চেতনা নাশক ওষুধ ও মলম উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, জুরাইন, শ্যামলী ও নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩২ জন অজ্ঞানপার্টির সদস্যকে আটক করা হয়।

অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে ট্যাবলেট বা নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে যাত্রীদের কাছে থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, গুলিস্তান এলাকা, কমলাপুর- এই সমস্ত এলাকায় তারা এই কাজগুলো করে থাকে। ইফতার অফার করে, তারাও সাদরে গ্রহণ করে। সেটি গ্রহণ করে যখন সে একেবারেই নেশাসক্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার টাকা পয়সা নিয়ে চলে যায়।’

ঈদকে সামনে রেখে রমজান মাস জুড়েই এ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে করে পবিত্র রমজান মাসে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে।’

রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট ও শাহবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

আরও পড়ুন : সম্প্রীতির ইফতার মাহফিল অায়োজন করে মিসরের বিশ্বরেকর্ড

চলতি বছরে মালয়েশিয়ায় সাড়ে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটক

আওয়ার ইসলাম : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার বাংলাদেশিসহ ১৭ হাজার ৮৬৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। দেশটির অভিবাসন বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের কাজ দেওয়ার জন্য ৪৫৫ নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।

দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোস্তাফার আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীবিরোধী মোট ৬ হাজার ১৯টি অভিযান পরিচালিত হয়।

আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, মিয়ানমার, ভারতসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় বহু অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে চলতি বছর ৪ লাখ ৮২ হাজার বাংলাদেশি, বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।