All posts by ourislam2

গ্রিক মূর্তি নিয়ে আদালত যেন কলুষিত না হয় : আইনমন্ত্রী

সুপ্রিমকোর্টের সামনে ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে আদালত যেন কলুষিত না হয় সে আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্স্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ভাস্কর্য আমাদের বলে স্থাপন করা হয়নি। এটা সরানো সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপার। তবে এতটুকু বলতে পারি, আদালত পবিত্র স্থান। এটাকে কেন্দ্র করে যেন এর পবিত্রতা নষ্ট না হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, ভাস্কর্য স্থাপনের সময় প্রধান বিচারপতি আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। তাই এখন ভাস্কর্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও তার ব্যাপার। এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলে কি ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের পবিত্রতা নষ্ট করছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা প্রশ্ন তুলেছে। এ জন্য এটা বলেছি।

এর আগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল ট্রেনিং কোর্স অন দ্যা ইন্টারন্যাশনাল লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড লেবার লেজিসলেশন ফর জাজেস অ্যান্ড জুডিশিয়াল অফিসার্স শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা ফারুখ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস বি রেড্ডি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফিসেল প্রমুখ।

[কওমির ১৪ লাখ শিক্ষার্থীকে ফেলে রেখে আমরা এগুতে পারি না]

[চলছে ‘রকমারি মামাবাড়ি’ অফার]

ভারতে মেট্রো রেলে সিট দেয়া হল না মুসলিম বৃদ্ধকে

ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভেদ চরম মাত্রায় রয়েছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী পার্টি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ও  বিরোধী দলগুলোর।

বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় একটি ভিডিও ফাঁসের পর। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এক মুসলিম বৃদ্ধকে মেট্রোর সিনিয়র সিটিজেন সিটে বসতে না দিয়ে তাকে পাকিস্তানে গিয়ে মেট্রো চড়ার উপদেশ দিচ্ছে দুই যুবক।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনা সামনে আসে। জানা যায়, দিল্লি মেট্রোয় সিনিয়র সিটিজন সিটে বসেছিল দুই যুবক। সেই সময় এক মুসলিম বৃদ্ধ কামরায় ওঠেন। সিনিয়র সিটিজনে অল্পবয়সীদের বসে থাকতে দেখে সিট ছাড়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে পাত্তা দেয়নি দুই যুবক। ফের বৃদ্ধ অনুরোধ করলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এক যুবক।

যুবকটি সিট তো ছাড়েই না, উপরন্তু জানায়, দেশের মেট্রোর সিটে শুধু দেশবাসীরাই বসবে। কোনও পাকিস্তানির বসার অধিকার নেই। ওই বৃদ্ধ যদি মেট্রোয় বসতে চান, তাহলে যেন পাকিস্তানে গিয়ে বসেন।

আশ্চর্যজনকভাবে, মেট্রোর ওই কামড়ার বেশ কয়েকজন যুবককে সে সময় সমর্থনও জানান। যদিও ঘটনার প্রতিবাদে সরবও হন অনেকে।

পরে ওই কামরাতে থাকা এআইসিসিটিইউর নেতা সন্তোষ রায়ের প্রতিবাদে বৃদ্ধের পক্ষে কথা বলা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পরবর্তী স্টেশনে মেট্রো থেকে ওই দুই যুবককে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

তবে মুসলিম বৃদ্ধ তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। যুবক দুটির অল্প বয়সের কথা মাথায় রেখে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন বলেই জানা গেছে।

এই ঘটনায় অল ইন্ডিয়া প্রোগ্রেসিভ ওম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কবিতা কৃষ্ণাণ বলেন, বৃদ্ধ যে যুবক দুটিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তা তার উদারতার পরিচয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে বৃদ্ধকে হেনস্তার শিকার হতে দেখেও তেমন কেউ প্রতিবাদ জানাননি। এ ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।

এসএস/

আল-কারউইন: পৃথিবীর প্রাচীনতম মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়

শাহনুর শাহীন: জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির ক্রমবিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি পেয়েছে জ্ঞান অর্জনের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে। পৃথিবীর প্রচিনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন ঘটেছে মুসলমানদের হাতেই। হাজার বছর ধরে স্বগৌরবে দাড়িয়ে আছে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন’ আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়’।

ইউনেস্কো এবং গ্রিনিজ ওয়ার্ল্ড কর্তৃক বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত মরোক্কর  ‘আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয় ৮৭৯ সালে।

মোহাম্মেদ বিন আব্দুল্লাহ আল ফিহরি ছিলেন  মরক্কোর ফেস নামক শহরের একজন সফল ব্যবসায়ী। তার ছিল দুই কন্যাসন্তান- মারিয়াম এবং ফাতিমা।

দুই বোনই বাবার বিশাল অর্থের ভাগীদার হয়ে উঠেন। দুই বোনের মধ্যে ফাতিমা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া  বিপুল সম্পত্তি দিয়ে এমন কিছু করে যেতে চাইলেন যার দ্বারা সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন, অন্যদিকে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতিও প্রকৃত আনুগত্য দেখানো হবে। অনেক চিন্তা করে তিনি ঠিক করলেন, তার এই বিপুল ধন-সম্পদ দিয়ে তিনি একটি মসজিদ বানাবেন যেখানে সাধারণ মানুষজন সালাত কায়েমের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি তা জ্ঞানচর্চার আশ্রয়স্থল হিসেবেও গড়ে উঠবে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ! মনে মনে শপথ নিলেন যতদিন মসজিদের কাজ সমাপ্ত হবে না, ততদিন তিনি রোজা রাখবেন।

আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

ফাতিমা আল ফিহরি মসজিদে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রচলন করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ইসলাম চর্চা এবং মসজিদে নিয়মিত কোরআন শরিফ পাঠের ব্যবস্থা করা করেন। বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যকলাপের জন্য ধীরে ধীরে এর খ্যাতি চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

ক্রমান্বয়ে জায়গাটিতে ইসলামিক আদর্শ চর্চা, আরবী ব্যাকরণ, গণিত, রসায়ন, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে থাকল। কিছু সময় পরই মসজিদটি শহরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে গড়ে উঠতে লাগল। এর চারপাশ ঘিরে বাজার, স্কুল, থাকার জায়গা, হামাম বিভিন্ন কিছু গড়ে উঠতে লাগল। ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সমাগম বাড়তে লাগল।

ফেজ শহর থেকে অনেক জ্ঞানী-গুণী লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে লাগল যারা আল-কারউইন মসজিদের নাম চারদিকে প্রসারিত করতে লাগলেন। ফলশ্রুতিতে দিনকে দিন মসজিদটিতে দেশ-বিদেশ হতে প্রচুর শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ দেখা গেল। মসজিদটি আফ্রিকার মধ্যে সবচাইতে বড় মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত হলো যেখানে ২২,০০০ এর ওপর মানুষ একসাথে সালাত আদায় করতে পারতো। সেই সময়ে ব্যাপারটা ছিল বেশ আলোচিত একটি ঘটনা। এভাবেই যশ-খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে আজকের আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে মসজিদের যে রূপটি রয়েছে সেটা হলো হাজার বছরের তিল তিল করে গড়ে তোলা একটি সভ্যতার প্রতিমূর্তি। মসজিদটির মূল গঠন ছিল ৩০ মিটার লম্বা। সাথে আছে একটা গোল চত্বর এবং চারটি তির্যক স্তম্ভ পরিবেষ্টিত ঘোরানো গলি। ৯৫৬ সালে মসজিদটির সংস্কার কাজে প্রথম হাত দেন করোডোবার খলিফা তৃতীয় আব্দুর আর রাহমান। নামাজ কক্ষটি আরো বাড়ানো হয় এবং মিনারগুলোকে পুনরায় স্থানান্তরিত করা হয়। এ সময় এটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল যে, ফেজের অন্যান্য মসজিদগুলো আজানের ডাক দিত শুধুমাত্র আল-কারউইন মসজিদে ডাক শোনার পর। মসজিদে একটি আলাদা ঘর ছিল যার নাম ‘দার-আল-মুয়াকিত’ যেখানে নামাজের সময় ঠিক করা হত।

মসজিদের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয় ১১৩৫ সালে সুলতান আলী ইবনে ইউসুফের সময়। তিনি মসজিদের মধ্যকার বারান্দার সংখ্যা ১৮ থেকে ২১ এ করার আদেশ দেন। মসজিদের কাঠামো ৩,০০০ বর্গমিটারে উন্নীত করেন। এভাবেই পালাক্রমে মসজিদটি অনেক ধরনের সংস্থাপন আর পুনঃসংস্থাপনের মধ্যে দিয়ে যায়।

মুসলিম এবং ইউরোপিয়ানদের মধ্যে এক ধরনের যোগসূত্র স্থাপন করতে এই বিশ্ববিদ্যালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চতুর্দশ শতকের দিকে মাগরেব এবং মিশর থেকে প্রায় ৮,০০০ ছাত্রকে ফেজে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১৯৬৩ সালে আল-কারউইন মরক্কোর আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি মরক্কোর শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠছিল এবং শুধুমাত্র সুলতানই শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারতেন।

উপর থেকে আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম একটি আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাবিষয়ক কেন্দ্র। এটি মূলত ইসলাম শিক্ষাবিষয়ক ধর্মভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। মধ্যপ্রাচ্যে আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসলামিক বিশ্ব এবং ইউরোপের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মানচিত্রকার মোহাম্মদ আল ইদ্রিসী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, যার মানচিত্র রেনেসাঁর সময় ইউরোপীয়দের গবেষণা করতে সাহায্য করেছিল।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবী পড়ালেখা করেছিলেন, যারা মুসলিম ও ইহুদি বিশ্বকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা মহাপণ্ডিতের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনে খালদুন, ইবনে রাশেদ আল-সাবতি, মোহাম্মদ ইবনে আলহাজ আল আবদারি আল-ফাসি, আবু ইমরান আল-ফাসি, বিশিষ্ট তাত্ত্বিক মালিকী, বিখ্যাত পর্যটক ও লেখক রাব্বি মুসিবিন মায়মন।

এই বিশ্ববিদ্যালয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল ক্ষমতাধর সুলতানদের কাছ থেকেও। প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে রয়েছে বিশ্বখ্যাত লাইব্রেরি, যেখানে রয়েছে বিপুলসংখ্যক পাণ্ডুলিপি। আজকের দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব মূল্যবান পাণ্ডুলিপি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে হরিণের চামড়ার ওপর ইমাম মালেক (রহ.)-এর লেখা মুয়াত্তার পাণ্ডুলিপি, ১৬০২ সালে সুলতান আহমদ আল মনসুরের দেওয়া কোরআনের কপি, সিরাতে ইবনে ইসহাক, ইবনে খালদুনের বই ‘আল-ইবার’-এর মূল কপি।

৮৫৯ সালে নির্মিত আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়টি সন্দেহাতীতভাবে পৃথিবীর প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, কেননা এর খুব কাছের সময়কার মিশরের আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয় ৯৭০ সালে। ইউরোপীয় সভ্যতার দিকে নজর দিলেও দেখা যায় ইংরেজি ভাষাভাষীদের সবচাইতে প্রাচীন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১০৯৬ সালে।  ইতালির বোলোগ্না বিশ্ববিদ্যালয়, যেটিকে বহু পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ধরা হয়ে থাকে, সেটি  প্রতিষ্ঠিত হয় ১০৮৮ সালে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড এর মতে ফেজের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাচীনতম, কেননা অনেক আগে থেকেই এটি শিক্ষায় ডিগ্রি প্রদান করা শুরু করেছিল।

অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে হাজার বছর ধরে এখনো বীরদর্পে   শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলছে আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র: রোয়ারবাংলা, উইকিপিডিয়া

নয়াপল্টনে হঠাৎ বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

হঠাৎ করেই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর বৈঠকটি শুরু হয়।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২২ মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা । খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১টি মামলা রয়েছে। অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সময়ের আবেদন করলে আজ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ২২মে পরবর্তী দিন ধার্য করে এই আদেশ দেন।

বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হবে তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনার পাশাপাশি  আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিসহ  বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব) রুহুল আলম, সেলিমা রহমান, আহমদ আজম খান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমদ চৌধুরী, আতাউর রহমান ঢালী ও হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নাল আবদিন ফারুক, ভিপি জয়নাল, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু, ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন, শামা ওবায়েদ, এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

সম্প্রতি দলের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে এবং তৃণমূলের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ৫১টি টিম গঠন করেছে বিএনপি। বৈঠকে এসব টিমের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও রয়েছেন।

এসএস

বন্যায় কিশোরগঞ্জের অবস্থা আরো অবনতি

নূরুল জান্নাত মান্না কিশোরগঞ্জ থেকে: অসময়ে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

হাওর এলাকার সমস্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত আছে। এর ফলে তলিয়ে গেছে আরো চার হাজার হেক্টরের বেশী জমির বোরো ফসল। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে অকাল বন্যায় আজ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ২৭ হেক্টর জমির বোরো ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। তবে চাষীদের দেওয়া বক্তব্য ও অন্যান্য সূত্রের খবর অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরুপায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকে তুলে আনছেন নষ্ট হয়ে যাওয়া আধা-পাকা ধান। ইতিমধ্যে ইটনা ও মিঠামইনের প্রায় সবগুলো প্রতিরক্ষা বাঁধই ভেঙে গেছে। বছরের ছয় মাস পানির নিচে থাকা এসব এলাকায় বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। প্রশাসন থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, এ জেলার ১৩ টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো ধানের জমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা।

জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, সরকার আগামী তিনমাস ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজার কৃষক পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কৃষি বিভাগ বলছে, গতকাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে সরকারি হিসাবে চাল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ এক হাজার তিনশ পাঁচ মেট্রিক টন। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে আটশ পাঁচ কোটি বাইশ লক্ষ টাকা।

এসএস/

যেভাবে চুরি হয় পাঁচ বছরের শিশু সুমাইয়া

বারান্দায় বসে খেলা করছিল পাঁচ বছরের শিশু সুমাইয়া। মা ঘরের ভেতর বসে কোরআন তেলোয়াত করছিলেন। এমন সময় আসে ওই বাসার পুরনো ভাড়াটিয়া অথৈ আক্তার বৃষ্টি। খোঁজ করে বাড়িওয়ালা হাছনা হেনার। না পেয়ে বারান্দায় শিশু সুমাইয়ার সঙ্গে বসে কথা বলতে থাকে বৃষ্টি। ঘরের ভেতর থেকে তাদের কথা শোনেন সুমাইয়ার মা মুন্নী আক্তার। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তিনি ভাবতে পারেননি, এই নারী যাওয়ার সময় তার মেয়েকে চুরি করে নিয়ে যাবেন। কোরআন তেলওয়াত করছেন বলে ওই নারী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। তারপর সুযোগ বুঝে সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। গত ২ এপ্রিল বিকেলে কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রামে চুরি হয় পাঁচ বছরের শিশু সুমাইয়া।

সুমাইয়ার মা মুন্নী আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি বিকেলে বিছানায় বসে কোরআন শরীফ পড়ছিলাম। অথৈ আক্তার বৃষ্টি বাড়িওয়ালার খোঁজ করে। পরে বারান্দার মেঝেতে বসে সুমাইয়ার সঙ্গে কথা বলে। আমি বুঝতেও পারি নাই তার মনে এইসব ছিল। মুন্নী আক্তার বলেন, আমি কোরআন পড়ছিলাম বলে বৃষ্টি নিজেই দরজাটা বন্ধ করে দেয়। কোরআন পড়ছিলাম বলে ডিস্টার্ব হতে পারে এজন্য দরজা লাগিয়ে দেয়। আমি কোরআন পড়া শেষে মেয়েকে ডাকাডাকি করি। ওর সাড়া না পেয়ে রাস্তায় গিয়ে খুঁজি। তখনই আমার সন্দেহ হয়।

বাড়িওয়ালী হাছনা হেনা বলেন, ঘটনার দিন বৃষ্টি নাকি তাকে খুঁজতে এসেছিল। কিন্তু সেসময় তিনি মেয়েকে নিয়ে কোচিং সেন্টারে গিয়েছিলেন। বাসায় ফিরে তিনি সুমাইয়ার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। হাছনা হেনা বলেন, সুমাইয়া খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। কিন্তু গলির মুখের বাইরের রাস্তায় বেরোলেও বেশি দূরে যেত না। সবার সঙ্গে মিশতো। সারাক্ষণ সবার সঙ্গে দুষ্টুমি করতো। মিষ্টি চেহারার মেয়েটির জন্য সবার মন খারাপ হয়ে আছে।

শিশুটিকে বাসা থেকে ফসুলিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন শিশুটির বাবা জাকির হোসেন। এরপর প্রায় ২৪ দিন পেরিয়ে গেছে কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধার বা শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া বৃষ্টিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জানতে চাইলে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র‍্যাব, পিবিআই কাজ করছে। সবাই আমরা একযোগে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছি। ওসি বলেন, আমরা হয়তো খুব শিগগিরই ভালো এক খবর দিতে পারবো।

[বাবার কবরের উপর ছেলের ঝুলন্ত লাশ!]

[পাক-ভারত সীমান্তে অতিরিক্ত যুদ্ধ বিমান মোতায়েন]

এসএস/

এবার জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে ভারতীয় গরু

এবার ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের আধার কার্ডের মতো গরুকে ‘ইউনিক আইডেনটিফিকেশন’ নম্বর দিতে সুপ্রিম কোর্টকে প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ প্রস্তাব দেয় বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘গোটা ভারতজুড়ে গরু এবং এর বংশ সম্পর্কে জানতে প্রত্যেকটি গরুকে ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বর প্রদান করা উচিত। শুধু  ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বরই নয়, গরুর সুস্বাস্থ্যের জন্য ভারতের শীর্ষ আদালতের কাছে গরুর ‘অ্যানিম্যাল হেলথ কার্ড’ করারও প্রস্তাব করেছে সরকার।

এমনকি গরুর ‘স্পেশাল কেয়ারের’ কথা মাথায় রেখে দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একটি স্কিম চালুর কথাও ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে বেশি বয়সের গরুর থেকে দুধ আহরণ করার প্রবণতা কমবে, সুস্থ থাকবে গরু।

দ্য ইকোনমিক্স টাইমস পত্রিকার বরাত দিয়ে জিনিউজ বলেছে, পশুপালন বিভাগ ১২ ডিজিটের ‘ইউনিক আইডেনটিফিকেশন’ নম্বর তৈরির কাজে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক প্রযুক্তি কর্মী নিযুক্ত করেছে। ওই নম্বর সেঁটে দেয়া হবে প্রত্যেকটি গরুর কানে।

কেন্দ্রীয় সরকার গরুর ‘ইউনিক আইডেনটিফিকেশন’ নম্বর এবং ‘অ্যানিম্যাল হেলথ কার্ড’ তৈরির জন্য ১৪৮ কোটি টাকার বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্র ২০১৭ সালের মধ্যেই এই গোটা ‘প্রজেক্ট’ সম্পন্ন করতে প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট টার্গেট দিয়ে দেবে।

নিহত হওয়ার ৯ মাস পর লাশ দাফন দাফন

মানুষের চিন্তা পড়তে চায় ফেসবুক!

এসএস/

পাক-ভারত সীমান্তে অতিরিক্ত যুদ্ধ বিমান মোতায়েন

পাকিস্তানকে চাপে রাখতে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাক-ভারত সীমান্তের হালওয়ারা বিমানঘাঁটিতে অতিরিক্ত অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে । ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘ভ্যালিয়ান্ট’ স্কোয়াড্রনে যুক্ত করা হয়েছে এই বিমানগুলো।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কথা মাথায় রেখেই এই অতিরিক্ত সুখোই মোতায়েন বলে জানা গেছে। যা আরও শক্তিশালী করবে সীমান্তের নিরাপত্তা।

এর আগে ১৯৬৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে আক্রমণাত্মক ফাইটার স্কোয়াড্রন হিসাবে অভিষেক হয়েছিল ভ্যালিয়ান্টের৷এতে রয়েছে তিন প্রকারের যুদ্ধ বিমান- ভ্যামপায়ার, স্পিটফায়ার ও সু-৭।

দীর্ঘ ৫৪ বছরের যাত্রায় একাধিক স্থান পরিবর্তন করেছে এই স্কোয়াড্রন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ ও কার্গিলের সময়ও কাজে লাগানো হয়েছিল এই স্কোয়াড্রনকে।  মিগ-২৩এস ছিল এই স্কোয়াড্রনের প্রথম যুদ্ধ বিমান যা কার্গিলের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল।

এসএস/

 

বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ঘূর্ণিঝড়ে ২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২টি মসজিদ ও একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক গাছপালাও উপড়ে গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত মেঘনা উপকূলীয় স্থানীয় চরগাজী ও বড়খেরী ইউনিয়নে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে তালিকা তৈরীর কাজ চলছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুপুরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ ঘূর্নিঝড় শুরু হয়। দুপুর ১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া চলছিল। এসময় রামগতি বি.বি.কে পাইলট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামগতি আছিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদসহ চরলক্ষ্মী গ্রামে শতাধিক কাঁচা ঘর বাড়ী বিধ্বস্ত হয়। একই সময়ে পাশবর্তী বড়খেরী ইউনিয়নের নৌপুলিশ ফাঁড়িসহ রঘুনাথপুর গ্রাম ও বড়খেরী গ্রামেরও শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এসময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে অন্তত পক্ষে ১০ জন আহত হন, তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে মাগুরা সদর উপজেলার পয়ারী ধর্মদাহ, কালুপাড়া ও পথেরহাট গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এসময় ৪০টি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ২০০ একর জমির ধান, একাধিক পানের বরজের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার বিকেল ও রাতে হওয়া ঝড়ে উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক পিলারসহ অসংখ্য গাছপালা।

এলাকাবাসী জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পয়ারী ও পথেরহাট গ্রামে। এ দুটি গ্রামের প্রায় ৩০টি বসতঘর ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া ১১ হাজার কেভির ৪টি বৈদ্যুতিক পিলার উপড়ে পড়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতির খবর শুনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। গ্রাম চারটির ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে। মাগুরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের খবর পাওয়া গেছে।

এসএস/

নিহত হওয়ার ৯ মাস পর লাশ দাফন দাফন

নিহত হওয়ার টানা  ৯মাস পরে লাশ দাফন হলো বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আবু হানিফ হাওলাদারের।

সোমবার বেলা ৪টায় সুতালড়ী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আবু হানিফ হাওলাদার স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। গেল বছরের ৫ জুলাই পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু হানিফকে(৩৮) হত্যা করে একটি কাপড়ের দোকানের মধ্যে রেখে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ৫টি কাপড়ের দোকানসহ হানিফের মৃতদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে যায়।

ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেম করিয়ে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে বাগেরহাটে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে।

ওই সময় নিহত হানিফের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে অভিযোগ দায়ের করলে, কোর্ট লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষা করাসহ লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার নির্দেশ দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় এটি হানিফের লাশ বলে প্রমানিত হওয়ায় গত ২৫এপ্রিল থানা পুলিশ কোর্টে দায়ের করা অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ হানিফের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম খুলনা মেডিকেলের হিমাগার থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিকেল ৩টায় কাপুড়িয়াপট্টিতে তার যানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। যানাজা নামাজে পৌরসভার মেয়র মনিরুল হক তালূকদার, যুবলীগ আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক খান শহিদুল ইসলাম হানিফের হত্যাকারীদের গ্রেফতাদের দাবি জানিয়ে বক্তৃতা করেন। এ সময় নিহত হানিফের স্ত্রী, শিশু পুত্র আসিফ (১১), মেয়ে হেনা আক্তার(১৩) ও বাজারের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

[কওমির ১৪ লাখ শিক্ষার্থীকে ফেলে রেখে আমরা এ]গুতে পারি না]

[যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাবাস]

এসএস/