181953

মৃত্যু যেখানে মধুর

মোহাম্মদ হাছিব আহম্মদ।।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের জীবনের পাশাপাশি মৃত্যু দিয়েছেন। মৃত্যু থেকে কেউ নিজেকে আড়াল করে রাখার সুযোগ নেই। পৃথিবীতে সকল মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ মৃত্যু হতে পারে বিভিন্ন ধরনের। তবে কিছু মৃত্যু রয়েছে আনন্দের ও মধুর।

২য় হিজরি সনে ইসলামি রাষ্ট্র তখন সবে মাত্র শিশু। একজন আরব শেখ নবি কারিম সা.-এর কাছে এক দূত পাঠিয়ে বললেন, আমার দলের লোক ইসলাম গ্রহণ করতে উৎসুক, কিন্তু এখানে উপযুক্ত কোন ধর্ম প্রচারক নেই। আপনি যদি কয়েকজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে এই উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন তবে আমরা বিশেষ বাধিত হবো।

আল্লাহর রাসুল সা. কয়েকজন ধর্ম প্রচারক পাঠিয়ে দিলেন। তারা আরব শেখের অঞ্চল সীমায় পৌছা মাত্র সেখানের কয়েকজন গোত্রপতি দলবল নিয়ে তাদের ঘিরে ফেলল এবং আত্মসমর্পন নয় তো মৃত্যু এ দুটোর মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে বললো। খণ্ড যুদ্ধ হলো।

একে একে অনেকেই শহিদ হলেন। বন্দী হলেন হযরত খুবাইব রা. তাকে তুলে দেওয়া হল মক্কার কুরাইশদের হাতে। নৃশংসতম উপায়ে তাকে হত্যা করা হবে ঠিক হলো। নির্দিষ্ট দিনে খুবাইবকে বধ্যভুমিতে নিয়ে যাওয়া হলো। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার জন্য তিনি শেষ অনুরোধ জানালেন।

অনুমতি পেয়ে তিনি একটু তাড়াতাড়ি নামাজ শেষ করলেন। তারপর উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বললেন, জীবনের শেষ নামাজ একটু দীর্ঘতর করতেই মৃত্যুর পথযাত্রীর ইচ্ছা হয়। কিন্তুু আমি তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করলাম, পিছনে তোমরা মনে কর আমি ভীত হয়ে কালহরন করছি।

বধ্যমঞ্চে পাঠাবার পূর্বে তাকে শেষ বারের জন্য বলা হল, এখনও সময় আছে ইসলাম ত্যাগ করে আবার এক নব জীবন লাভ কর। ধীর শান্ত ও দৃঢ় স্বরে খুবাইব বললেন, অসত্যের পথে বেচে থাকার চাইতে মুসলমান হয়ে মৃত্যুকে বরন করা শতগুণে শ্রেয়। ইসলামে আত্মাসমার্পিত জীবনই আমার কাছে সর্বাধিক মূল্যবান।

উঁচু বধ্যমঞ্চে দৃঢ় পদক্ষেপে খুবাইব উঠে গেলেন। চারদিক থেকে নির্মমভাবে বর্শা ও তীর বর্ষিত হতে লাগলো। নির্ভীক খুবাইব নির্বিকার চিত্তে হাসিমুখে রক্তদান করলেন, শহিদ হলেন। দেহ পড়ে রইলো -মৃত্যুঞ্জয়ী অমর আত্মার যাত্রা শুরু হলো – লোক হতে আনন্দ লোকে।

সত্যাশ্রয়ী মানুষ যারা জীবন মৃত্যু তাদের পায়ের ভৃত্য। তাই তারাই বহন করেন সত্যের আলো, সত্যের পতাকা। প্রেরণার আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়েন প্রাণে প্রাণে, সৃষ্টি করেন নব নব প্রাণ লোক।

লেখক – শিক্ষার্থী, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.