170915

সিলেবাস আধুনিকায়নে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ

আওয়ার ইসলাম।।

ভারতের সাহানপুরের দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ ও এর আওতাধীন অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডেইলি বাসিরাত অনলাইনের বরাতে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে দেশের অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইংরেজি, হিন্দি, গণিত ও সামাজ বিজ্ঞানের মতো সমসাময়িক বিষয় পাঠ্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে তুলা হবে।

দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ উল্লেখ করে বলা হয়, সিলেবাসে এ পরিবর্তন একজন মাদরাসা পড়ুয়া যেনো দেশের প্রতিটি সেক্রটরে কাজ করার সুযোগ পায়। আধুনিক বিষয়ে পাঠদানের সুযোগ পেলে আমাদের বিশ্বাস দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিটা সেক্টরে এগিয়ে থাকবে। তাছাড়া আমাদের উচিত, মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণাধীন এমন প্রতিষ্ঠান থাকা যেগুলো তারা ইসলামিক শরীয়াহ আইন অনুসারে পরিচালনা করবে।

তারা আরো বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানকে ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলিতে অন্তর্ভুক্ত করার ধারণাটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অবশ্যই জাতীয় মূলধারার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এ বিবেচনায় আমরা বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভূক্ত করার চিন্তা করছি।

মূলত গভীর চিন্তা করলে দেখা যায়, বিশ্বে ধর্মীয় ও আধুনিকের বিভাজন অসম্ভভ হয়ে পড়ছে। আধুনিক শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ছাড়াই জীবনধারণ করা খুব কঠিন।

শরিয়তে প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও মহিলার জন্য দ্বীন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা ওয়াজিব। জ্ঞান অর্জন করাও ওয়াজিব, তবে পার্থিব বা আধুনিক জ্ঞান অর্জন করা পাপ নয়।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের বাচ্চাদের এ জাতীয় ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক, যাতে তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে। (ইবনে মাজাহ)

আধুনিক বা পার্থিব শিক্ষা দেওয়া তার উপর কর্তব্য। ফিকহ-উল-আমাত হযরত মুফতী মাহমুদ হাসান গঙ্গোহি রহ. বলেন,  এর উদ্দেশ্য যদি জাতীয় স্বার্থ হয় তবে তা মঙ্গলজনক।

তবে শরীয়াহ নিষেধাজ্ঞাকে অবশ্যই সর্বদা রক্ষা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী উন্নতি অর্জন করতে হবে মুসলিমদের। এটাও বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের একটি বিজয় বলে গণ্য হবে।

এগুলি নিয়তের উপর ভিত্তি করে ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ সমস্ত জ্ঞান এক হিসেবে মুস্তাহাবের পর্যায়েও পরে।

যেহেতু আধুনিক বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজবিজ্ঞানের সাথে যুক্ত হয়েছে। তাই এটি অর্জন করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানের আসল উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা হলে এটা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথ নয়। আধুনিক দেশ ও জাতির সেবা করার অভিপ্রায়ে জ্ঞান অর্জনকেও ফলস্বরূপ বলা যেতে পারে। যেহেতু একজন ডাক্তার রোগীর সেবা করার অভিপ্রায় নিয়ে ডাক্তারের পড়াশুনা করেন, তখন তাকেও অনুমতি দেওয়া হবে যে তুামি উম্মতের খেদমত করার নিয়ত কর তোমার শিক্ষা সাওয়াবে রুপান্তরিত হয়ে যাবে।

আজকাল স্কুল ও কলেজের পরিবেশ বিষাক্ত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাওয়া কঠিন। তাই এ আধুনিক শিক্ষার দিকে নজর দিয়ে ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলিতে পাঠদানের পরামর্শ খারাপ নয়।

কারণ আধুনিক বিজ্ঞান মানব সামাজিক ও সামাজিক জীবন পরিচালনার জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠছে। এটা সত্য যে আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের ধর্মীয় বা পার্থিব জীবনের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারে না, কারণ এ শিক্ষার সমস্ত প্রয়োজনীয়তা এ নশ্বর পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ।

আমাদের বিশ্বাস অনুসারে এই পৃথিবীর জীবনেই যতক্ষণ মানুষ শ্বাস নিচ্ছে ততক্ষণ চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন, বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা। তারপরও এটা যদি ইবাদতের নিয়তে করা হয় পরকালেও এর থেকে উপকার অর্জন করা সম্ভব।

সুতরাং, যদি মুসলমানদের মধ্যে কোনও ধর্মীয় অনুষঙ্গ থাকে তবে তাদের আধুনিক বিজ্ঞানে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত, এটিকে ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়। এ কাজটি জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও করা উচিত।

এই মুহূর্তে, বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশ নিজেদের সমস্যা সামাধানে বিজ্ঞানের ধারস্থ হচ্ছেন। তাই আমাদেরও উচিত ধর্মকে মৌলিক রেখে সেগুলোতে নজর দেয়া। আর এজন্যই দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ সেদিকে পা পাড়াচ্ছে। সিলেবাস তৈরি ও কার্যক্রমে অবশ্যই অনেক সময়ের প্রয়োজন। তবে আমরা চেষ্টা করছি।

বাসিরাত অনলাইন অবলম্বনে আবদুল্লাহ তামিম

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.