169281

হাটহাজারীতে ‘মুমতাজ’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আওয়ার ইসলাম: বেফাকুল মাদারিসিল আরবিয়া বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া’র ১৪৪০ হি./২০১৯ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ‘মুমতাজ’ প্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জামেয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, বেফাক ও হাইআতুল উলইয়া’র চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা জুবাইর আহমদ চৌধুরী, ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামুদ্দীন নদভি (এম.পি)।

শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মেধাবী ছাত্র আহমদ সালেম নকি ও মাহমুদ সালমান জকিসহ সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় ১০ জন এবং ৮২ জন ‘মুমতাজ’ স্তরে উত্তীর্ণ হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদরাসার সর্বমোট ৩৫৭ মুমতাজ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে তিন লক্ষাধিক টাকার কিতাব ও নগদ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শাহ আহমদ শফি উপস্থিত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা মুমতাজ স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদেরকে আজ পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর যারা হননি তারাও চেষ্টা করেন আগামীতে মুমতাজ হওয়ার। তখন বোর্ডের পক্ষ হতে আপনাদেরকেও এভাবে পুরস্কৃত করা হবে।

এরপর তাদের ভালো করে লেখা-পড়া করার ওয়াদা করিয়ে বলেন, আপনারা লেখা-পড়ার পাশাপাশি নিজেদের আমল সংশোধন করবেন। আমল ছাড়া ইলমের কোনো দাম নেই।

অনুষ্ঠানে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ফারেগীন আলেমদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সীরাতে মুস্তাকীমের উপর অটল থাকবেন এবং ইস্তিকামাতের সাথে কাজ করবেন। কারণ, আপনারা কওমের রাহবর। আপনার বিপথগামী হলে, পুরো কওম বিপথগামী হবে।

বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস আখলাক ও নৈতিকতার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, মানুষের হক নষ্ট করবেন না। মানুষের হকের জন্য তার কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে। ছোট বড় যেকোনো গোনাহ থেকে বেচে থাকবেন।

কেননা, সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। শিক্ষাকে অন্যায় কাজে ব্যবহার করবেন না। বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই আল্লাহ তায়ালাকে বেশি ভয় করে।

আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী (এমপি) অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রেখে শায়খুল ইসলাম আহমদ শফি সাহেবের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শুকরিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি কওমি মাদরাসার ছাত্রদের প্রশংসা করে বলেন, তারাই বর্তমানে ইসলামের উত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট ধারকবাহক। এভাবে প্রতি বছর মেধাবীদের পুরস্কৃত করার প্রতি দায়িত্তশীলদের উৎসাহিত করেন এবং জামেয়ার উন্নতি-অগ্রগতি কামনা করে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা নূরুল ইসলাম জাদীদ ও ড. নূরুল আবছার। অনুষ্ঠানে বেফাকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গসহ উপস্থিত ছিলেন- আল্লামা জুবাইর আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আবু ইউসুফ, মুফতি নূর আহমদ. আল্লামা শেখ আহমদ. মুফতি জসিম উদ্দীন।

মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি হুমায়ুন কবীর, মাওলানা ফুরকান আহমদ, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক নূর, মাওলানা আব্দুল হক, মাওলানা মীর ইদরীস, মাওলানা ছফিউল্লাহ, মাওলানা মীর কাসেম প্রমূখ।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.