169073

আহমাদ শাহ আবদালি : মুলতানে জন্ম নেয়া আফগান বাদশাহ

জাবির মাহমুদ ।।

মুলতানে জন্মগ্রহণকারী আফগান বাদশাহর সাথে সিন্ধু প্রদেশের একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে। আফগানীদের আবদাল গোত্রের সর্দার ও আফগানিস্তানে আবদালি রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা, আহমাদ শাহ আবদালির পাকিস্তানের শহর মুলতানের সাথে একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিলো।

তার জন্মপূর্বকালে এক আফগান সৈনিক একটি সশস্ত্র সৌন্যদলের সাথে আফগানিস্তান থেকে মুলতান এসেছিলেন। তিনি মুলতানে অবস্থানকালে এখানকার এক রমনীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আহমাদ শাহ আবদালি ওই রমনীর গর্ভ থেকে মুলতানেই জন্মগ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটেই “মুলতান” আহমাদ শাহ আবদালির জন্মভূন্মি ও মাতুলালয় হিসেবে নানীবাড়ির মর্যাদা রাখতো।

খাঁন জামানের আফগানিস্তান প্রত্যাবর্তনের পর আহমাদ শাহ আবদালিও যুবক হয়ে আফগান সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। ক্রমন্নতি করে আফগান বাদশাহ নাদের শাহের বাহিনীর কমান্ডার বনে যান। নাদের শাহের নিহত হবার পর আফগান বুদ্ধিজীবীদের মাঝে বৈঠক হয়।

সেখানে আহমাদ শাহ আবদালিকে নতুন স্থিতিস্থাপক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকটি শের লাল বাবার মাজারে সংঘটিত হয়েছিলো। তৎক্ষনাত সাবের শাহ মালাঙ্গ গন্দমের একটি খোসা ভেঙ্গে তার মাথায় মুকুটের স্থলে পরিয়ে দিলে, আহমাদ শাহ আবদালিকে বাদশাহরূপে সাদরে গ্রহণ করে নেয়া হয়।

আহমাদ শাহ আবদালির শাসনামলে আফগান রাজত্ব আটাক থেকে কাবুল, কোয়েটা, মস্তুং, কলাত, সিবি, জ্যাকববাদ, শিকারপুর, সিন্ধু, পিশিন, লোরলাই এবং পাঞ্জাবের এলাকা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এ বিষয়টা স্বতঃসিদ্ধ যে, আহমাদ শাহ আবদালির সিন্ধু প্রদেশের সাথে একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিলো। এবং সিন্ধুর শাসকও তার অনুগত ছিলেন।

১১৬০ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি যখন আফগানিস্তানের রাজত্ব সামাল দেন, তখন নূর মুহাম্মদ কালহুড়া ছিলেন সিন্ধুর ক্ষমতাসীন। ১১৬১ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি হিন্দুস্তান পৌঁছেন। ওই সময় তিনি মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়াকে “শাহ নাওয়াজ খাঁন” এর উপাধি দেন। এবং তাকে দিকনির্দেশনা দেন যে, তিনি নাদের শাহকে দিতে থাকা বাৎসরিক ট্যাক্স একই ধারাবাহিকতায়ই যেনো কান্দাহারে পৌঁছাতে থাকেন।

Related image

নূর মুহাম্মদ কালহুড়া তাকে ট্যাক্স আদায়ে কোনোরূপ বিলম্ব করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। এ-ও বলেন যে, তিনি তাকে এই ধরাবাহিকতায় কোনো অভিযোগের সুযোগই দিবেন না! কিন্তু যখন তার তরফ থেকে পতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটল, আহমাদ শাহ আবদালি তার নামে পরোয়ানা জারি করলেন। তাকে সতর্ক করে বললেন- যদি তুমি টেক্স আদায়ে পুনরায় কোনো বিলম্ব বা ভুল করো, তাহলে তোমার রাজ্যকে লুটেরা রাজ্যে পরিণত করা হবে।

মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়া তখন আহমাদ শাহ আবদালির সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকসমূহের নতিস্বীকারের পুরো ব্যাপারটাই তার অবগতিতে ছিলো। এমনকি এটাও জানা ছিলো যে, আহমাদ শাহ আবদালির হাত ওখানকার বাদশাহ, আমির, উজিরদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছে। তাই নূর মুহাম্মদ কালহুড়া প্রথমত রেশম ও মেশক-আম্বরজাতীয় মূল্যমানীয় সামগ্রী উপঢৌকন স্বরূপ এক তোষামোদকারী মারফত কান্দাহার পাঠিয়ে দেন। এবং আহমাদ শাহ আবদালিকে নিজের আনুগত্যের ব্যাপারে পুনঃ আশ্বস্ত করেন।

আহমাদ শাহ আবদালি এই উপহারসামগ্রী ও তোষামোদকারীর তোষামোদি দেখে সীমাহীন খুশি হন। এবং পুনর্বার মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়ার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা নবায়ন করেন। তার কিছুদিন পর মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়া মাহফুজ সারখুশ এবং মুরিদ খাঁনকে কান্দাহার এবং কাবুলে স্থায়ীভাবে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন।

এরপর থেকে মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়া বার্ষিক ট্যাক্স নিয়মমাফিক কান্দাহারে পাঠাতে থাকেন। কিন্তু একবছর তার ট্যাক্স আদায়ে বিলম্ব হয়। তার এই চুক্তিভঙ্গের উপর আহমাদ শাহ আবদালি ক্রোধান্বিত হয়ে নিজের সিপাহসালার জাহান খাঁনকে একদল সৈন্য নিয়ে সিন্ধু যাওয়ার নির্দেশ দেন। যখন মানুষেরা সরদার জাহান খাঁনের আগমনের সংবাদ পান, পেরেশান হয়ে পড়েন।

তখনও তাদের পেরেশানি দূর হয়নি ঠিক ওই সময়ই আহমাদ শাহ আবদালি নিজ সৈন্যদলের সাথে সিন্ধু প্রবেশ করে আবাদ খানের অঞ্চল “রেগিস্তান” (মরুঅঞ্চল)পর্যন্ত পৌঁছে যান। মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়া নিজের জীবন আশঙ্কায় দেখতে পান। তাই তৎক্ষণাৎ নিজের দেওয়ানকে যে কোনো ভাবে আহমাদ শাহ আবদালির সাথে সাক্ষাৎ করে তার প্রতি নিজের আনুগত্যের বার্তা দিয়ে পাঠান।

কালহুড়ার দেওয়ান আবদালির সৈন্যদের ডেরায় গিয়ে পৌঁছান। দু’তিনদিন পর্যন্ত সাক্ষাতের কোনো পথই বেরোয় না! বহু চেষ্টা প্রচেষ্টার পর তাকে আহমাদ শাহ আবদালির সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়। কালহুড়ার দেওয়ান একজন মুদাব্বার এবং লেনদেনের ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞতাসপন্ন ছিলেন। আহমাদ শাহ আবদালির মনের অবস্থা ও রাগের মাত্রা সম্পর্কে পূর্ণ অবগতি ছিলো তার। তাই তিনি আহমাদ শাহ আবদালির কাছে বিনয়ে বিগলিত হয়ে ক্ষমা চান। মাটি দিয়ে পূর্ণ কিছু পাত্র উপঢৌকন স্বরূপও পেশ করেন।

আহমাদ শাহ আবদালি রাগত স্বরে তাকে জিঙ্গেস করেন- “এই পাত্রগুলিতে কী আছে?” তিনি ততধিক নরম স্বরে বলেন- “পাত্রগুলিতে সিন্ধুর আওলিয়ায়ে কেরামের কবরের মাটি রয়েছে! আমরা গরীব। এরচে’ মূল্যবান কি-ই বা আমরা আপনার খেদমতে পেশ করতে পারি!”

কেননা আহমাদ শাহ আবদালির আওলিয়ায়ে কেরামের সাথে আত্নিক সম্পর্ক ছিলো। তিনি তোহফাগুলো পরম ভক্তির সাথে গ্রহণ করেন। এবং পুনর্বার সিন্ধুর বসবাসকারীদের প্রতি কঠিন আচরণ করা থেকে বিরত থাকেন।

মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়া ১১৬৭ হিজরীর ১২ই সফর ইন্তেকাল করেন। সকল আমির মিলে পরামর্শ করে তার ছেলে মিঁয়া মুহাম্মদ মুরাদিইয়াব কে আম্রকোটের সিন্ধুর স্থিতিস্থাপক বানান। আহমাদ শাহ আবদালি তখন নওশেরায় ছিলেন। তিনি মুরাদিইয়াবের বাদশাহীর প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়, এমনকি তাকে “শাহ নাওয়াজ খাঁন” এর খেতাবও প্রদান করেন। ততদিনে শিকারপুর, কালহুড়া, দাঊদপুর, এবং বেলুচের মাঝের এলাকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে গিয়েছিলো।

আহমাদ শাহ আবদালি তাকে সবকিছুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দায়িত্ব আফগান নাযেমের হাতে সমর্পন করে দেন। যার ফলাফল স্বরূপ শিকারপুরের রাস্তায় মাওরায়ান্নাহার এবং খোরাসান পর্যন্ত আফগানিস্তানের ব্যবসা চলতে থাকে। শিকারপুর ততদিনে একটি বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রের রূপ লাভ করে।

পাশাপাশি আহমাদ শাহ আবদালি ইসমাঈল খাঁনকে নিজের মনিটর হিসেবে সিন্ধুতে পাঠান। ইসমাঈল খাঁন মাহমুদাবাদে অবস্থান করে, সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ শাহের তত্বাবধানে তাকে ঠাট্টাহ এবং অন্যান্য এলাকার দিকে পাঠানো হয়। যাতে সে সেখানকার বাৎসরিক ট্যাক্স রীতিমতো উসূল করে কান্দাহার পাঠাতে থাকে।

ওই সময় আহমাদ শাহ আবদালির এক প্রতিনিধি মুহাম্মদ বেগ শামলুও ঠাট্টাহ পৌঁছেন। এবং তিনি মুহাম্মদ সালেহকে ঠাট্টাহ’র পরিচালনারীতি পেশ করেন। তখন এ নিয়ে ইসমাঈল খাঁনের সাথে মুহাম্মদ বেগ শামলুর মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। তাই ঠাট্টাহ’র ব্যাবস্থাপনায় কাজীই পুনর্বহল থেকে যান।

এই পুরোটা সময় জুড়েই কালহুড়ার দেওয়ান আহমাদ শাহ আবদালির দরবারে সিন্ধু প্রতিনিধি এবং কালহুড়ার মনিটর হিসেবে অতিবাহিত করেন। ওই সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন কার্যকর হয়। যদ্দরুন মিঁয়া মুরাদিইয়াব খাঁন টানা তিন বছর অত্যন্ত সফলতা এরং কর্মোদ্দিপনার সাথে ক্ষমতাসীন থাকেন। কিন্তু তার পরপরই কিছু ক্ষমতাসীন আমির তার বিরোধী হয়ে যায়। তারা ১১৭১ হিজরীর ১২ই জ্বিলহজ্জ তাতে তার বাসভবন তথা আম্রকোট থেকে গ্রেফতার করে বের করে দেয়। পরবর্তীতে তার জায়গায় তার ভাই গোলাম শাহ কালহুড়া অধিষ্ঠিত হন।

গোলাম শাহ কালহুড়ার নিজ আসনে সমাসীন হবার পর তাকে নানামাত্রিক পেরেশানির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। তার জন্য সবচে’ বড়ো ব্যাপার এটা ছিলো যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার অধিষ্ঠানটা কান্দাহার থেকে স্বীকৃত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বংশীয় দ্বন্দ্ব গতিশীল থাকবে। এবং এই বংশের দোহাই দিয়েই তার স্ববংশীয় কেউ তার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে যাবে।

এই নাজুক পরিস্থিতিটা মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়ার দেওয়ানই সামাল দেন। তিনি তখন কান্দাহারেই ছিলেন। এবং খুব উত্তমরূপেই স্বীয় দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছিলেন। যে কারণে আহমাদ শাহ আবদালির গোলাম শাহ কালহুড়ার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ ছিলো না। কেননা বিচক্ষণ দেওয়ানের নিপুণ ব্যবস্থাপনা এবং সুকৌশলী সুপারিশের ভিত্তিতে ১১৭৫ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি মিঁয়া গোলাম শাহ কালহুড়াকে “হুনার বর জঙ্গ শাহ ও ইয়ার দি খাঁ” এর উপাধীতে ভূষিত করেন। এবং তার রাজত্বকে আনুগত্যশীল রাজত্বের স্বীকৃতি প্রদান করেন। পাশাপাশি আহমাদ শাহ আবদালি উপঢৌকন স্বরূপ একটি হাতি এবং অন্যন্য উপঢৌকনও প্রেরণ করেন।

Image result for ahmad shah abdali

যখন গোলাম শাহ কালহুড়া “কচ্ছ” (বর্তমান পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি জেলা) রাজ্যকে দূর্বল পেয়ে সেটা বিজয় করে নিজের রাজ্যে ফিরে আসেন। তখন আহমাদ শাহ আবদালি এক ঘোষণার মাধ্যমে তার ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এবং তার নামের সাথে একটা উপাধী “আদ-দাওলাহ” ও যুক্ত হয়।

গোলাম মুহাম্মদ কালহুড়া এই ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টায় ছিলেন যাতে তার সাথে কান্দাহারের এই সুসম্পর্কটা বজায় থাকে। কেননা তার পক্ষ থেকে নিয়মমাফিল বাৎসরিক ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছিলো। অন্যদিকে তিনি রাজ্যের মানুষদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি পূর্ণ নজর রাখছিলেন। যার কারণে সিন্ধুর বাহিরেও তিনি ছিলেন কালজয়ী ক্ষমতাসীনদের কাতারে। তিনি হায়াতের পড়ন্ত বেলায় এসেও অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনা করেন। এবং রাজনীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাঝেও বিধান কায়েমের পথ তৈরি করে যান।

যার ফলে আহমাদ শাহ আবদালিকেও তার বুদ্ধিদীপ্ত সুবিন্যস্ত কাজের প্রশংসা করতে হয়েছে। কারণ ১১৮০ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি ডেরা ইসমাঈল খাঁন এবং ডেরা গাজী খানের এলাকাও তাকে হস্তান্তর করেন। কেননা ওই এলাকায় নিযুক্ত আবদালির প্রতিনিধিরা সেখানে সুবিন্যস্ত রাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন। ফলে মিঁয়া গোলাম মুহাম্মদ কালহুড়াকে স্বশরীরে ওইসমস্ত এলাকায় উপস্থিত হয়ে সেখারকার ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হয়।

মিঁয়া গোলাম শাহ কালহুড়া ১১৮৬ হিজরীর ৩ জুমাদাল উলা মৃত্যবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর মিঁয়া সরফরাজ খাঁন রাজ্যভার গ্রহণ করেন। কেননা তখনো পর্যন্ত সিন্ধু আফগানিস্তানের অনুগত ছিলো। এজন্যই সবসময় কান্দাহারের সমর্থনের মাধ্যমে রাজত্ব নিরঙ্কুশ করার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু এই ধারাবাহিকতায় সেটা লাভ করা যায়নি। সম্ভবও ছিলো না। সরফরাজ খাঁন তখনও পর্যন্ত সেই চেষ্টায়ই ছিলেন।

এমনকি ১১৮৬ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালির ইন্তেকাল হয়ে যায়। তার মৃত্যুসংবাদ শোনা মাত্রই সিন্ধুর রাজনীতির অবস্থা পাল্টে যায়। সিন্ধুতে বসকারীদের প্রথমত এই অনুভবটা জাগ্রহ হয় যে, তারা তো অন্তত আফগানিদের চিন্তাগত দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে! কেননা তারা নির্বাচিত এবং স্বাধীন হওয়ার কারণে কোনো না কোনো ভাবে আফগানিস্তানের শাসনাধীনই ছিলো। এবং সেখানে কান্দাহারের হুকুমই শিরোধার্য হতো।

সিন্ধুর অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবে দম ফেলার পূর্বেই খবর চাওর হয়ে যায় যে, আহমাদ শাহ আবদালির জায়গায় তার ছেলে তাইমুর শাহ গদীনসীন হয়েছেন। তাইমুর শাহ সিংহাসনে আরোহনের কিছুদিন পরই সিন্ধুর দিকে নজর দেন। যেটা আফগান রাজত্বের আমদানির সবচে’ বড়ো মাধ্যম ছিলো। কেননা এখান থেকে বাৎসরিক ট্যাক্স হিসেবে লক্ষ রুপি অর্জন হতো!

সুতরাং তাইমুর শাহ সরফরাজ খাঁনের জন্য সিন্ধুর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত করে, “খোদায়র খাঁন” এর খেতাবে তাকে সন্মানিত করেন। এইপন্থায় আবদালীয়দের পুনর্বার অতিরিক্ত শাসনাধীন এলাকা হিসেবে সিন্ধুকে করতালগত করে রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

ডেইলি জং অবলম্বনে 

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.