168997

দেয়ালিকা নিয়ে আওয়ার ইসলামের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই

শফিকুর রহমান ।। পাঠক

মাদরাসায় ভাষা নিয়ে দেয়ালিকা চর্চার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—এটা সাম্প্রতিক কোন ঘটনা নয়। বহু পুরনো। মহা আয়োজন, উল্লাস করে এই পত্রিকা করা হয়। রাতভর জেগে থেকে, নানা উত্তেজনায় দেয়ালিকা ছাত্রদের সামনে উন্মোচন করা হয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও ক্লাসের পড়ার বাইরেও কবিতা, গল্প লেখেন। বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেন। নিয়মিত দেয়ালিকা বের করে থাকেন। বলাইবাহুল্য, ‘দেয়ালিকা বা দেয়াল পত্রিক’ যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালের ভেতর সাহিত্য চর্চার একটি মাধ্যম। বহু মাদরাসা ছাত্রের লেখালেখির হাতেখড়ি দেয়ালিকা দিয়েই হয়।

আমি দেখেছি, দেশের অধিকাংশ বড় বড় কওমি মাদরাসগুলোতে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, ঈদুল আজহা, সিরাতের মাস রবিউল আউয়াল, শিক্ষাবর্ষের সমাপনী জলসা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কিংবা কোথাও প্রতি মাসে দেয়ালিকা বের করা হয়। নানা রঙের বিভিন্ন ছবি এঁকে দেয়ালিকার শোভাবর্ধনও করা হয়। দেয়ালিকাগুলোয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায় থেকে শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থীদের নানা রকম সৃজনশীল রচনা সুন্দর হস্তাক্ষরে উপস্থাপন করা হয়।

ইসলামি ঘরানার অনলাইন নিউজপোর্টাল আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম ‘দেয়াল পত্রিকার বিকাশ ও মানউন্নয়ন’ বিষয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানে দেশের কয়েকজন খ্যাতনামা লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দেয়ালিকার সম্পাদকরা এক টেবিলে বসে দেয়ালিকা নিয়ে ভাবনা বিনিময় করবেন। আওয়ার ইসলামের এই উদ্যোগকে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাই।

তৃণমূল পর্যায় থেকে লেখক উঠে আসার শক্তিশালী মাধ্যম দেয়ালিকা। আওয়ার ইসলাম এই লেখালেখির শক্তিশালী এ মাধ্যমকে আরও বেশি শাক্তিশালী করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সত্যিই তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমি মনে করি, আওয়ার ইসলামের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা অনেকগুণ বেড়ে যাবে। আমি প্রত্যাশা করছি, দেয়াল পত্রিকার মানন্নোয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে আওয়ার ইসলামআরও নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ব্যতিক্রমধর্মী এসব আয়োজনে আমরা নিজেরাও শরিক হব… ইনশাআল্লাহ!

আমি মনে করি, বর্তমানের এমন অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক আছেন—যাদের প্রথম লেখাটি কোনো দেয়ালিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে থেকেই তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। আমারও প্রথম লেখাটি দেয়ালিকায় প্রকাশ হয়। লেখা প্রকাশের সেই আনন্দ আজও আমার চোখেমুখে লেগে আছে। আর সেই প্রেরণা আমাকে কখনো থামতে দেয়নি, সেদিন থেকে লিখেই চলেছি— আর কখনো থামিনি।

আমাদের মাদরাসায় আমরা কয়েকজন সাহিত্যপ্রেমী ছাত্র মিলে শিক্ষার্থীদের চাঁদার অর্থে দেয়ালিকার করতাম। সময়ের অভাবে প্রতিমাসে বের করতে না পারলেও তিন মাস অন্তর একটি দেয়ালিকা করার চেষ্টা থাকত। আমাদের উদ্যোগে শুরু হওয়া আমাদের মদরাসায় দেয়ালিকা বের হওয়ার সেই প্রচলন আজও চালু আছে।

সবচে’ খুশির বিষয় হলো, বর্তমানে ছাত্রদের পাশে পরামর্শদাতা, মুরুব্বি, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সহায়তা সবই আছে। ছাত্ররা চাইলে অনিমিয়ত দেয়ালিকা আবারও নিয়মিত করতে পারে। অসুখে ধরা দেয়ালিকাগুলোকে সাহিত্যসমৃদ্ধ করতে পারে। আশা করি, ছাত্রদের পাশে আওয়ার ইসলামের মতো সাবই এগিয়ে আসবে। ইনশাআল্লাহ …!

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.