168952

তাবুকের আদ-দাঈসাহ: তপ্ত মরুর বুকে এক টুকরো স্বর্গোদ্যান

বেলায়েত হুসাইন । । 

চারিদিকে ধুধু মরুভূমি। শুষ্কতাই এই ভূমির স্বভাবজাত পরিচয়। পানি নেই।  লতাগুল্মের নামগন্ধও নেই। রৌদ্রে সুদূর মরুপ্রান্তরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেও পিপাসায় হাহুতাশ দশা সৃষ্টি হবার উপক্রম। এককথায় রসকষহীন সুবিশাল এক রাজ্য—আমাদের চিন্তায় এই হলো আরবের কাল্পনিক ছবি।

অন্যদিকে–তাবুক আরবের একটি প্রাচীন শহর। আরবি অঞ্চল হলেও এখানে সবুজ আছে। সবুজের ছায়াও আছে। এখানে শাকসবজি ও লতাগুল্ম জন্মায়। আমাদের দেশের মতো মতো তাবুকেও বিভিন্ন ফলমূলের ক্ষেত নজরে পড়ে।

তাবুকের আদ-দাঈসাহ উপত্যকায় লেবু, কলা, আম, টমেটো, তুলসী ও পুদিনাসহ অসংখ্য কৃষিপণ্যের চাষ হয়। বলা যায়,আদ-দাঈসাহ সবুজে আচ্ছাদিত অপরূপ এক ভূমি;কল্পনার ‘আরব’এর বাইরের ভিন্ন এক সবুজাভ আরব অঞ্চল।

শুষ্ক মরুসাগররের মাঝে তাবুকের আদ-দাঈসাহ পিপাসায় কাতর ব্যক্তির সম্মুখে যেন এক পেয়ালা বরফ ঠান্ডা পানি!

আদ-দাঈসাহ উপত্যকা সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবুকে অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম পর্যটনস্থল। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই উপত্যকা পর্যটকদেরকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। এখানের পাহাড়শ্রেণী, পাহাড়ের পাদদেশের অপরূপ উপত্যকা পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।

সৌদি আলোকচিত্রী মুহাম্মাদ শরীফ আদ-দাঈসাহর ৪০০ মিটার উপর থেকে ছবি তুলেছেন-ছবির উপত্যকাকে মনে হয় –যেন, প্রবহমান কোন স্রোতস্বিনী! আদ-দাঈসাহর ব্যাপারে আলোকচিত্রী মুহাম্মাদ শরীফ মন্তব্য করেন, অল্প শব্দে এটাকে ‘অপরূপ মরুদ্যান’ আখ্যা দেয়া যায়।

সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ শরীফ আল আরবিয়া ডটকমকে বলেন, আদ-দাঈসাহর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং এখানকার মিঠা পানি পান করার জন্য অবসরের দিনগুলোতে পর্যটকরা প্রচন্ড ভীড় করে এখানে। প্রাকৃতির স্বচ্ছ বাতাসের শ্বাস নিতে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসে প্রকৃতিপ্রেমী অসংখ্য মানুষ। আদ-দাঈসাহ এখন সৌদিআরবের উল্লেখযোগ্য একটি পর্যটনস্থলে পরিণত হয়েছে।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.