168901

নান্না প্রফেসর খ্যাত কে এই বিস্ময়বালক হাম্মাদ সাফি?

নাজমুল ইসলাম কাসিমী ।। 

হামমাদ সাফি! ১২ বছর বয়সী এক বিস্ময়বালক। যে স্বপ্ন দেখে একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর। ইতোমধ্যে তার বিস্ময়কর-ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি আর প্রতিভা অনেককে বিস্মিত করেছে। বয়সে সর্বকনিষ্ঠতম শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার, মোটিভেশনাল স্পিকার, টিভি অ্যাংকর এবং লেখক হওয়ার সুনাম অর্জন করে ফেলেছে।

ছোট্ট হামমাদ এখন ৭ম শ্রেণির ছাত্র। তার পরিপূর্ণ অভিভাবকত্ব এখন তার শিক্ষক ও পরামর্শদাতাদের হাতে। সার্বক্ষণিক তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে। যাদের হাত ধরেই হামমাদ আজ এ আসনে সমাসীন।

হামমাদ সাফি আল্লামা ইকবালের চিন্তা-চেতনা ও দর্শনে প্রভাবিত এবং সেগুলো নিজের মধ্যে লালন করে। সে যখন লেকচার দেয়, ছোট-বড়, অধ্যক্ষ প্রফেসর সবশ্রেণির মানুষ শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।

হামমাদ সাফি তার কর্মজীবন শুরু করে স্পোকেন ইংলিশ এবং কমপিউটার বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই মূলত তার অসাধারণ যোগ্যতাগুলো একের পর এক প্রকাশ হতে থাকে। যার নৈপথ্যে কাজ করছেন তার শিক্ষকরা।

তার শিক্ষকদের মতে, সে প্রতিটা সময় পড়াশোনাতে কাটাতেই বেশ পছন্দ করে। বিস্ময়করভাবে অসাধারণ সব বিষয় কিছুটা ভিন্নভাবে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার চোখে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এমন স্পার্ক রয়েছে, যা তাকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে শিখিয়েছে দৃশ্যমান একটি কথাই—‘আমি করতে পারি’ মনোভাব।

হামমাদ সাফি এমন এক বিস্ময়প্রতিভা, যার মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। সে নিবিড়চিত্তে পার্টটাইম অধ্যয়ন করে সংবাদপত্র, বই, ম্যাগাজিন এবং কেইস স্টাডিজ। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য কমপিউটার এবং ইন্টারনেটের সাথে সে খুব পরিচিত।

এক প্রশ্নের উত্তরে সে বলে—‘আমি বিশ্বাস করি, পর্যায়ক্রমে শিক্ষার সর্বশেষ মানদণ্ড পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত বিপ্লব সম্ভব নয়। আমি আরও বিশ্বাস করি, যদি আমাদের পুরো সিস্টেম পুনর্বিন্যাস করা হয়, যেখানে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক; তাহলে শিগগিরই যুবকদের সর্বোত্তম শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান পুরো বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করবে। আজকের শিশু-কিশোররাই হবে এই দেশের ভবিষ্যৎ।’

সে আরও বলে, ‘পাকিস্তান প্রতিভাবানদের দেশ; যেখানে রয়েছে সব বৈশিষ্ট্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরিবেশের প্রতিকূলতায় সব প্রতিভা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যায়। তাই প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশ অপরিহার্য।’

সে আল্লামা ইকবাল রাহ.-এর একটি পঙক্তি উল্লেখ করে বলে, “মাতৃভূমির ভঙ্গুর দশা নিয়ে ইকবাল মোটেও আশাহত নন; বরং তিনি জানেন, তাঁর এই জন্মভূমি বড়ই উর্বর, সুফলা।”

পেশোয়ার ফুলের শহর। পাশাপাশি আতিথেয়তার জন্যও অনেক বিখ্যাত। তবে শিক্ষাব্যবস্থা সেখানকার এতটা ভালো বলে মনে হয় না। হামমাদ সাফি বলে, ‘আমি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যা শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাই দেবে না; নীতি-নৈতিকতা এবং আচরণগত আদর্শও শেখাবে। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানের ছাত্ররা ব্যর্থতা কিংবা পুরস্কারের লোভে পড়বে না; তারা একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার উদ্দেশ্যে অধ্যয়ন করবে।

ভালো মানুষ তো সে, যে তার কাজের মাধ্যমে এই দুনিয়াতে ভালো কিছু সংকলন করে। ভালো কিছু সৃষ্টি করে। মানুষকে উপকৃত করে। এবং অন্যদেরকে তারচেয়েও ভালো কিছু করার জন্য উৎসাহ দেয়—শান্তি, সহানুভূতি এবং মানবতাবিশ্বাস।’

তার বক্তৃতা শুধুমাত্র ইংরেজি বা ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সঙ্গে সঙ্গে আল্লামা ইকবালের একজন ভক্ত। যে আল্লামা ইকবাল তার রহস্যময় কবিতার মাধ্যমে এ উপমহাদেশে বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন।

হামমাদ সাফি; যে বলে—যেকোনো দেশ অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভালো। এটি সকলের জন্য একটি প্রকৃত অনুপ্রেরণা। সে চায় এমন একটি শিক্ষাপদ্ধতি, যা কেবল স্নাতকোত্তর করেই উচ্চতর শিক্ষিত হতে সাহায্য করবে।

হাম্মাদ সাফির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য-  আল্লামা ইকবালের দর্শন ও মতবাদকে পুনরুজ্জীবিত করা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রত্যেকের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপন করার জন্য সর্বশেষ প্রযুক্তির প্রবেশ নিশ্চিত করা, এ অবধি তার শিক্ষার্জন, ইংরেজি ভাষার উপর ডিপ্লোমা। ৫ আগস্ট ২০১৭ ঈসায়ি, স্পোকেন ইংলিশ অ্যান্ড কমপিউটার বিজ্ঞান, পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ডিপ্লোমা। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ঈসায়ি, স্প্যানিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপিউটার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা।

পাশাপাশি নবিযুগ, খুলাফায়ে রাশেদার খেলাফতকাল, উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষত ইসলামের ইতিহাসের সফল সিপাহসালারদের জীবন-বৃত্তান্ত ইত্যাদি নিয়েও নিয়মিত পড়াশোনা করছে সে।

যেসব ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত মোটিভেশনাল লেকচার দিচ্ছে –  শহিদ বেনজির ভুট্টো মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, সিইসিওএস বিশ্ববিদ্যালয়, পেশোয়ার, পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিয়া কলেজ, রাজনৈতিক এজেন্ট অফিস মমন্ড এজেন্সি, কথ্য ইংরেজি এবং কমপিউটার বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তার জীবনমুখী বক্তৃতার ফিরিস্তি দিয়ে শেষ করা কঠিন। হাম্মাদ সাফিকে নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী জার্নালে আর্টিকেল ছাপা হয়েছে। বিগত বইমেলায় বাংলাদেশেও লেখক ও অনুবাদক নাজমুল ইসলাম কাসেমী সাফিকে নিয়ে রচনা করেছেন ‘বিস্ময়বালক হামমাদ সাফি’ নামের একটি অনন্য গ্রন্থ। বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Comments are closed.