২০১৯-০২-১১

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

‘মুহাম্মদ সা.কে শেষনবি না মানায় কাদিয়ানীরা কাফের’

OURISLAM24.COM
news-image

আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানীরা ইসলাম ও মুসলমানদের বেশ ধরে সাধারণ মুসলমানদের ইমান, আক্বিদা নষ্ট করে চলছে। তারা বেশ অনেক দিন ধরে পঞ্চগড়ের আহমদ নগর এলাকা থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

কাদিয়ানীরা যেন মুসলমানদের ইমান, আক্বিদা নষ্ট করতে না পারে যে জন্য আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়াত বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

সম্প্রতি কাদিয়ানীরা পঞ্চগড়ে ৩দিন ব্যাপি ইজতেমা করার আয়োজন করেছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়াত বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে গতকাল প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

আওয়ার ইসলাম এর সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব এ নিয়ে কথা বলেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়াত বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি শ্রুতিলিখন করেন আব্দুল্লাহ আফফান

কাদিয়ানীদের নিয়ে আপনাদের মূল দাবী কয়টি?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: ১. বিভিন্ন দলিল প্রমানের ভিত্তিতে কাদিয়ানি সম্প্রদায় (আহমদিয়া মুসলিম জামাতকে) অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের সরকারকে তাদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষনা করতে হবে।

২. অনতি বিলম্বে পঞ্চগড়ে তাদের আগামী ২২, ২৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত ‘জাতীয় ইজতেমা’ বন্ধ করতে হবে।

৩. কাদিয়ানী সম্প্রদায় কুরআন হাদিসের দৃষ্টিতে অমুসলিম হয়েও মুসলমানদের পথ ভ্রষ্ট করছে বিধায় তাদের জন্য ইসলামি পরিভাষা যথা নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, মসজিদ, মাদরাসা আজান, ইমাম, মোয়াজ্জিন ইত্যাদি পরিভাষা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করতে হবে।

৪. কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের যাবতীয় বইপুস্তক, লিটারেচার, লিফলেট, পাক্ষিক ও মাসিক পত্র পত্রিকা প্রচার, সংরক্ষন ও বিতরন সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ কারতে হবে।

এ দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমানে আপনাদের কার্যক্রম কী?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়াত বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে আগামী বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) দেশব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচী রয়েছে। তার পাশাপাশি পঞ্চগড়ে ৪দিন ব্যাপি (২১, ২২, ২৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি) ইজতেমা হবে।

কাদিয়ানীদের ইজতেমা বন্ধ করতে চান কেন?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: কাদিয়ানী সম্প্রদায় (তথাকথিত আহমদিয়া জামাত) সারা বিশ্বের সর্বস্তরের ওলামা মাশায়েখ, মুফতিয়ানে কেরাম তথা সকল মুসলমানের ঐক্যমতে কাফের।

কেননা তারা হযরত মুহাম্মদ সা. কে সর্বশেষ নবি মানে না, তারা মির্জা গোলাম আহম্মদ কাদিয়ানিকে নবি হিসাবে বিশ্বাস করে।

আর ইজতেমা এটা মুসলমানদের পরিভাষা, তাই তারা মুসলমানদের পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা এদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে ঘরোয়া ভাবে অনুষ্ঠান করতে পারে। এমনকি তারা ওয়াদাও করেছিলো, তারা ঘরোয়া ভাবে অনুষ্ঠান করবে। কিন্তু তারা ওয়াদা রাখেনি। বর্তমানে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কাদিয়ানীদের উল্লেখযোগ্য ভ্রান্তিগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: কুরআনের আয়াত ও বিশুদ্ধ হাদীস সমুহ অস্বীকার করার কারনে কাফের হয়ে গিয়েছে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

মির্জা গোলাম আহম্মদ কাদিয়ানীর রচনা সমগ্র ‘রূহানী খাজায়েন’ নামক বই থেকে তার উদ্বিৃত সহকারে ৭২টি ভ্রান্ত দাবি সমূহ হতে মাত্র কয়েকটি দাবি আপনাদের সামনে উল্লেখ করা হল,
১. আমি রাসূল। -খন্ড -১৮ পৃষ্ঠা -২৩১

২. আমি খাতেমূল আম্বিয়া।-খন্ড -১৮ পৃষ্ঠা -২১২
৩. আমি শরীয়তধারী নবী। -খন্ড -১৭ পৃষ্ঠা -৪৩৫
৪. আমি সকল নবী হতে শ্রেষ্ঠ। -খন্ড -২২ পৃষ্ঠা -৫৭৪

৫. আমি আঁহযরত সা. হইতে শ্রেষ্ঠ। -খন্ড -১৯ পৃষ্ঠা -১৮৩
৬. আমি খোদার অনূরুপ। -খন্ড -১৭ পৃষ্ঠা -১৫৮
৭. আমি খোদার প্রতিচ্ছবি। -খন্ড -২২ পৃষ্ঠা -১৫৮

আরো বিস্তারিত জানার জন্য কাদিয়ানি সম্প্রদায় কর্তৃক প্রকাশিত ‘রূহানী খাজায়েন’ নামক পুস্তক থেকে সংগৃহিত মোট ৭২টি ভ্রান্ত দাবি সম্বলিত ‘কাদিয়ানের বহুরূপী ভন্ডনবী’ নামক বইটি পড়তে পারেন।

আপনারা ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়াত বাংলাদেশ এর অনেক কার্যক্রম দেখলেও বর্তমান সময়ে আমরা তেমন কর্যক্রম দেখতে পাইনি। এর কারণ যদি বলতেন?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: নির্বাচনসহ দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আমরা অন্য সংগঠনের ন্যয় আমরা মাঠ পর্যায়ে মিছিল, মিটিং সমাবেশ করিনি।

তবে আমাদের কর্যক্রম বন্ধ ছিল না, আমরা ঘরোয়া ভাবে কাজ করছি। তবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। আমরা মাঠে সরব ছিলাম না বলে কাদিয়ানীরা এ ইজতেমা করার সাহস করেছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে কাদিয়ানীদের পরিকল্পনা সুদূর প্রসারি। তারা আগেও গাজীপুরে ৫০-৬০ হাজার কাদিয়ানীকে একত্রিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু এদশের মুসলমানদের বাঁধার মুখে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ এখনও পারবে না।

আপনাদের এ দাবী সরকার মানবে বলে আপনি মনে করেন কী?
মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: আমাদের কর্তব্য কাদিয়ানীদের এ বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা, সরকারের কাছে এর সংবাদ পৌঁছানো।

সরকারের ওপর দেশী-বিদেশী অনেক চাপ রয়েছে, তবে আমরা আশাবাদী সরকার বড় বড় অনেক কাজের পাশাপাশি আমাদের এ ছোট কাজটিও করে দিবেন।

-এটি