২০১৯-০২-০৮

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

জেলে খালেদার একবছর: নিয়ম মেনেই চলেন; পড়েন নামাজও

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে একবছর পার করলেন দেশের দুই প্রধান নেত্রীর একজন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনকে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ওই দিন থেকে তিনি রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে আছেন।

কারা সূত্র বলছে, জেলকোড অনুযায়ী আগের মতো খালেদা জিয়াকে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর রাখা হয়েছে। তবে বিএনপি সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা জানান, কারাগারের সব নিয়মই মেনে চলেন খালেদা জিয়া। শেষ রাতের দিকে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পর্যন্ত জেগে থাকেন। ফজরের নামাজ সেরে ঘুমান। দুপুরে খাবার খেয়ে জোহরের নামাজের পর নিয়মিত অজিফা পড়েন তিনি। এরপর যথারীতি আছর ও মাগরিবের নামাজ পড়েন। এশার নামাজ পড়ে রাতের খাবার খেয়ে ৯টার দিকে ঘুমাতে যান।

এ সূত্র আরও জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে গোসল করেন। বিকালে কিছু সময় ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় পায়চারি করেন। সেখানে থাকা একটি চেয়ারে বসেও সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটে তার।

নির্ভরযোগ্য এ সূত্রের ভাষ্য, বিশেষ বন্দি হিসেবে কারাগারে সংবাদপত্র পান সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া; পড়ার জন্য পান বই। এ ছাড়া, তার কক্ষে একটি টেলিভিশনও রয়েছে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। একেবারেই হাঁটতে পারেন না তিনি। তার দুই হাতেই ব্যথা।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের পর খালেদা জিয়াই প্রথম সরকার প্রধান, যাকে দুর্নীতির দায়ে দণ্ড নিয়ে কারাগারে যেতে হয়; যদিও বিএনপির অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলায় এই রায় ‘সাজানো’।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে করা দুদকের এই মামলায় ঢাকার জজ আদালত ৫ বছর কারাদণ্ড দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে। এ মামলায় হাইকোর্টের আপিলে সাজা বাড়ে তার। গত বছরের ৩০ অক্টোবর তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে বিশেষ এজলাসে বসে বিচারক রায় দেওয়ার পর সেদিনই খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের পরিত্যক্ত কারাগারে। সোয়া দুইশ’ বছর পুরনো এই কারাগারের সব বন্দিকে দুই বছর আগে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে এটি খালি পড়ে ছিল।

জেল সুপারের কক্ষটিকে সংস্কারের পর ‘স্পেশাল জেল’ ঘোষণা করে সেখানেই প্রথম দিন রাখা হয় খালেদাকে। পরে দোতলার একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয় তাকে, যা আগে কারাগারে ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহার হতো।

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির প্রশ্নে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দাবি করেন, ‘কেবল সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে’ খালেদা জিয়া কারামুক্ত হতে পারছেন না। বিএনপির চেয়ারপারসনকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের আরেক জন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, চেয়ারপারনের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক’ মামলা এগুলো; যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনের বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতা হবে। এক মামলায় জামিন আবেদন করলে আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখায়। এ ছাড়া, জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয় থেকে সাতবার করে সময় নেয়। এতো দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়া কিছুই না। এভাবে আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি সুদূর ‘পরাহত’। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের বিকল্প কোনও পথ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, জামিনে মুক্ত হতে হলে খালেদা জিয়াকে আইনি মোকাবিলা করেই আসতে হবে। আইনি মোকাবেলা না করে মুক্তি সম্ভব নয়।’

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর খালেদা জিয়া এপর্যন্ত মোট পাঁচ বার গ্রেফতার হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি তিন দফায় গ্রেফতার হন। তবে এসময় তাকে বেশিদিন আটক থাকতে হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় ৩৭২ দিন জাতীয় সংসদ ভবন এলকায় স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে ছিলেন তিনি।

কেপি