২০১৯-০১-১২

রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯

আপনার মেয়ে কতটা নিরাপদ?

OURISLAM24.COM
news-image

মাওলানা মাহমুদ হাসান সিরাজী
প্রিন্সিপাল, জামিয়া ওসমান ইবনে আফফান রা

দিন কয়েক আগে আমাদের থেকে ২/৩ কিলোমিটার দূরে শাহজালাল রোডে ৪/৫ বছরের দুটা অবুঝ শিশু নির্মমভাবে নিহত হয়। পত্রিকায় নিউজ হয়েছে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এদের হত্যা করা হযেছে। একই দিন বা এর আগে পরে আরো একটা শিশু এমন নির্মমতার স্বীকার হয়।

আমার প্রতিষ্ঠানের পাশের রাস্তা দিয়েও স্কুলের অনেক কোমলমতি শিশু আসা যাওয়া করে। বয়সের কারণে এদের আসলে কোমলমতি বলেছি। নতুবা ওরা যে এতটা রোমান্টিক নিজ চোখে না দেখলে এটা বুঝতেও পারতাম না।

আমি শুধু রোমান্টিক বলেছি। আসলে রোমান্টিকতার মাঝে কিন্তু তেমন চরিত্রহীনতা নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে এদের যে দৃশ্যগুলো নিজে দেখতে হয় তা দেখার চেয়ে মরে যাওয়াটাই ভালো।

এত ছোটো বাচ্চা। বয়স ১১/১২ হবে। ফাইভ / সিক্সে হয়তো পড়ে। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যা করে তা আমরা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বিবাহ বয়সেও কল্পনা করতে পারিনি। আর এ সময় এমন দৃশ্যগুলো দেখতে হবে বা এগুলো দেখে দেখে সমাজে বাস করতে হবে তাও ভাবতে পারিনি।

একটা সমাজ কতটা নোংরা হলে ৪/৫ বছরের মেয়ে ধর্ষিতা হতে পারে? একটা সমাজ কতটা অধপতিত হলে শিশুরা প্রাইমারিতে থাকতেই প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খেতে পারে? একটা সমাজ কতটা নীচে নামলে সে সমাজে অবাধ যৌনতা বিরাজ করতে পারে?

আমার প্রতিষ্ঠানে যেসব ছেলে প্রাইমারি শেষ করে এসে ভর্তি হয়েছে এদের একজনকেও কোনো গার্লফ্রেন্ড ছাড়া পাইনি। হ্যাঁ, এরা এগুলো আবার সহজভাবেই স্বীকারোক্তি দেয়। এক ছেলেতো কিছু দিন আগে বলল, তার স্কুলের এক মেডামই নাকি তাকে প্রেম করতে উৎসাহিত করেছে।

আরো বলেছে, ‘এগুলো কর সমস্যা নাই। আমরাও ছোটো সময় এগুলো করেছি।’

আমি আমার ৭ বছরের মেয়েটাকে নিয়ে এ সমাজে নিরাপদ না। আমি আমার ৭ বছর বয়সের মেয়েটাকে নিয়ে সবসময়ই আতঙ্কিত থাকতে হয়। এমন আতঙ্ক তো শুধু আমার না, এ সমাজের প্রতিটি মেয়ের বাবার। এ সমাজের প্রতিটি মেয়ের বাবাকে আমার মত শঙ্কা আর আতঙ্ক নিয়ে বাস করতে হয়।

আপনারা যারা মেয়ের বাবা, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আপনি আপনার মেয়ের ব্যাপারে কতটা নিরাপদ? আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে কতটা সস্তিতে আছেন? আপনার মেয়ে যে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে সে প্রতিষ্ঠান কতটা নারী বান্ধব? অথবা আপনি যে সমাজে বাস করেন সে সমাজ কতটা নারী বান্ধব?

আজ সকাল থেকেই মনটা খারাপ। আল্লামা আহমাদ শফী মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে যা বলেছেন তা মিডিয়ায় সম্পূর্ণ বিকৃত করে প্রচার করায় এখন আমাদের রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে। হজরত কী বলেছেন আর ওরা কী বুঝাচ্ছে?

আজ সকাল থেকে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তাক্বওয়ার কথা রাখেন। বাকি মানুষ হিসাবে ইজ্জত নিয়ে তো বাঁচতে চান! তো বলুন, মেয়ের উচ্চ শিক্ষা বড় না কি ইজ্জত নিয়ে বেচে থাকা বড়? সবার একই জবাব, ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে চাই।

আপনারা সমাজে ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকতে চান আবার নিজ সন্তানকে চরিত্র বিধ্বংসীর দিকেও ঠেলে দিতে চান?

যে কথাগুলো দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাহসের সাথে বলা উচিৎ ছিল, সে কথাগুলো বৃদ্ধ বয়সে একজন আল্লামা শফীকে দায়িত্ব নিয়ে বলতে হচ্ছে। যে কথাগুলো সকল নারীবাদী সংগঠনগুলো সুউচ্চ কণ্ঠে বলা উচিৎ ছিল সে কথা দেশের একজন প্রবীন সমাজ সেবককে বলতে হচ্ছে।

আমি মনে করি তিনি নারীদের ইজ্জত রক্ষার জন্যই বলেছেন। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নাই। তার বক্তব্যটাকে মিডিয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই প্রচার করে যাচ্ছে।

তিনি যদি নারীদের উচ্চ শিক্ষার বিরুদ্ধেই থাকতেন তাহলে আমাদের শিক্ষাবোর্ডে মহিলাদের জন্য দাওরা মেশকাত রাখার কোনো যৌক্তিকতাই থাকতো না। তিনি তো ঐ বোর্ডের চেয়ারম্যানও।

সুতরাং তার বক্তব্য বুঝতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা উপলব্ধি করতে হবে। তিনি বর্তমান সময়ে এ দেশের মুসলমানদের জন্য একজন বড় অভিভাবক। আমরা আমাদের জন্য তাকে খোদাপ্রদত্ত নেয়ামত মনে করি। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য গডগিফটেড বড় নেয়ামত।

চলে যাওয়ার একজন শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর যেমন শূন্যতা অনুভব করি, একজন সিংহপুরুষ মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. এর যেমন শূন্যতা অনুভব করি ঠিক তেমনি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শফী দা. বা. ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা. বা.দের শূন্যতাও অনুভব করতে হবে।

সবশেষে প্রতিটি মেয়ের নিরাপত্তা চাই। মেয়েদের জন্য ইজ্জতবান্ধব সমাজ চাই। মেয়েদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা নারী শিক্ষকসহ ক্যাম্পাস চাই।

আরআর