২০১৯-০১-১০

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

প্রস্তুতি সম্পন্ন; তাবলিগ ইস্যুতে দেওবন্দ যাচ্ছেন যারা

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: তাবলিগে চলমান সঙ্কট নিরসন ও নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিতর্কিত বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের অবস্থান জানতে ১৫ জানুয়ারি ভারতে সফর করবে প্রতিনিধি দল।

এ বিষয়ে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই প্রতিনিধি দলের সদস্যদের তালিকা ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ক প্রস্তাব এখনো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদন হয়ে আসেনি বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক সচিব মো. আনিছুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) মুঠোফোনে ধর্মসচিব আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আজ তিনি স্বাক্ষর করলে সেটি রোববার হাতে পাবো। রোববার স্বাক্ষর করলে সোমবার পাবো।

এদিকে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, মোট ১০ সদস্যের টিম ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ যাচ্ছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিমে রয়েছেন, বর্তমান সরকারের নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, ধর্মসচিব মো. আনিসুর রহমান ও এডিশনাল ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।

তাবলিগের উভয় গ্রুপের পক্ষ থেকে মহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা রবিউল হক, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, মাওলানা নূরুল আমিন, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা আশরাফ আলী।

তাবলিগের চলমান সঙ্কট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত বছর কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারির বৈঠকে মাওলানা সাদ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে প্রতিনিধি প্রেরণে তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

জানা গেছে, প্রতিনিধি দল দেওবন্দ থেকে ফিরলেই চূড়ান্ত হবে বিশ্ব ইজতেমার দিনক্ষণ।

উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ১৯৬৭ সালে শুরুর পর একবারে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা হয়ে এলেও দিন দিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২০১১ সাল থেকে তিন দিন করে দুই ভাগে ছয় দিনে ইজতেমার আয়োজন করা হয়।

নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বেশ কিছু বক্তব্য নিয়ে তাবলিগে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দসহ উলামায়ে কেরাম তার বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ দিলেও সেটি মানতে নারাজ তার পক্ষের অনুসারীরা। তাই বাংলাদেশে তারাও আলাদাভাবে কাজ করতে অনড়।

কিন্তু মাওলানা সাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নিরসন না হলে তা বাংলাদেশেও ছড়াবে এবং একসময় এটি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে এ ভয়ে উলামায়ে কেরাম তাদের কার্যক্রম চালাতে দিতে চান না।

২০১৮ সালে মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এসেও ইজতেমায় অংশ নিতে না পেরে ফিরে যান। তবে তিনি কাকরাইল মসজিদে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে পরবর্তী ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন এ বছরের ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি।

অন্য দিকে বিশ্ব ইজতেমা থেকে তারিখ নির্ধারণ করেন ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি এবং ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি।

বিষয়টি সুরাহা করতে ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত হয় ১৫ জানুয়ারি প্রতিনিধি দলকে দেওবন্দ পাঠানোর।

আরআর