২০১৯-০১-০৫

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

পরিস্থিতি এলে জানুয়ারিতে আনা হবে কওমিতে ভর্তি কার্যক্রম: বেফাক মহাপরিচালক

OURISLAM24.COM
news-image

জানুয়ারি মাস। স্কুল-আলিয়া শিক্ষায় ভর্তি মৌসুম। অপরদিকে কওমি শিক্ষায় এখন শিক্ষা বর্ষের মাঝপথ। স্কুল-আলিয়া শিক্ষা বর্ষ সমাপনী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ কওমি মাদরাসাতেও ভর্তি হতে আসে। কিন্তু বাণিজ্যিক ও ক্যাডেট টাইপের মাদরাসা ছাড়া মূলধারার কওমি মাদরাসায় এ মওসুমে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। শিক্ষা সেশনও ছুঁয়ে যায় অর্ধ বছর।

তাই কওমিতে পড়তে আগ্রহী স্কুল-আলিয়ার সমাপনী শিক্ষার্থীদের কওমিতে ভর্তি হতে পড়তে হয় সংকটে। এসব বিষয়ে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী কথা বলেছেন আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আল মাহমুদ

আওয়ার ইসলাম: স্কুল-আলিয়া সমাপনী শিক্ষার্থীদের কওমি সেশনের এ মুহূর্তে ভর্তি নেওয়ার সুযোগ নাই কেন?

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: দেখুন, আমাদের মাদরাসাগুলোতে এখন ভর্তির সময় না। আমাদের ভর্তি তো শাওয়ালে, রমজানের পর। তখন মাদরাসাগুলোর এখতিয়ার রয়েছে, তারা ভালো মনে করলে ভর্তি নেবে।

আওয়ার ইসলাম: স্কুল-আলিয়া সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে যেসব শিক্ষার্থী কওমি পড়তে চায়, তাদের জন্য তাহলে কওমি সেশন পেতে সেই শাওয়াল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে?

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: হ্যাঁ, তাতো থাকতেই হবে।

আওয়ার ইসলাম: এতো দীর্ঘ মাস অপেক্ষায় থাকলে তো এ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাবিহীন থাকতে হবে অথবা তাদের অভিভাবক তাদের অন্য লাইনেতেও তো দিয়ে দিতে পারে।

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: এতে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শাওয়ালেই ভর্তি নেবো।

আওয়ার ইসলাম: অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবক পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর কওমিতে দিয়ে থাকে…

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: আমাদের শিক্ষা বর্ষের চলতি সেশন শেষ না হওয়া অবস্থায় তো ওসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া যায় না। আমাদের শিক্ষা বর্ষতো মেইনটেইন করতে হবে।

তাছাড়া নিলে তাদেরও সমস্যা, আমাদেরও সমস্যা। আমাদের সমস্যা হয়, আমাদের শিক্ষা বর্ষের শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটে। তাদের সমস্যা হয়, তারা পূর্ণ সেশন পাবে না।

আওয়ার ইসলাম: ওসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলেতো কওমি মাদরাসায় এখন যে দেশের জনগণের মাত্র ১ কি আড়াই পার্সেন্ট শিক্ষার্থী আছে, এতে তো ছাত্রসংখ্যা বাড়বে না।

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: দেখুন, কওমি মাদরাসা ছাত্রপাগল নয়, শিক্ষার পাগল। ছাত্রসংখ্যা দেখানো কওমি মাদরাসার উদ্দেশ্য না।

আর যে এক-দেড় পার্সেন্ট ছাত্রের কথা বললেন, সে ছাত্রগুলোকে তো আগে লাইনে রাখতে হবে। তাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। যারা আছে তাদের শিক্ষার উন্নতি না করে ছাত্রসংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে শিক্ষা সেশনের নিয়মতান্ত্রিকতা ভাঙ্গা যাবে না।

হ্যাঁ, কেনো মাদরাসা উপযুক্ত বিবেচনা করলে ওসব শিক্ষার্থীদের এই মধ্য সেশনেও ভর্তি নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে স্কুল-আলিয়ার সমাপনী কোনো শিক্ষার্থী এ সেশনেই বেফাকের তাইসির (পঞ্চম) শ্রেণিতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নাই, যেহেতু রেজিস্ট্রেশন পূরণ হয়ে গেছে।

এজন্য, কোনো মাদরাসায় ওসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিলে, তাদের প্রতি মেহনত করে, পরবর্তী বছর চাইলে বেফাকের পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দেওয়াতে পারে।

আওয়ার ইসলাম: আচ্ছা, শাওয়ালেই ভর্তি এবং শিক্ষা সেশনের নিয়মতান্ত্রিকতার যে কথা বললেন, শাওয়ালেই ভর্তি নিতে হবে এরকম নিয়ম কেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষা সেশন জানুয়ারি থেকে হতে পারলে কওমি মাদরাসার সেশনও জানুয়ারি থেকে হতে সমস্যা কোথায়?

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: ব্যাপারটা হল, আমাদের কওমি মাদরাসাগুলো চলে দারুল উলুম দেওবন্দের আদলে। আমরা সে অনুযায়িই আমাদের মাদরাসাগুলো চালাই। সারা বিশ্বের কওমি মাদরাসাগুলোর শিক্ষা বর্ষ চলে শাওয়াল টু শাবান।

আপনি জানেন, আমাদের কওমি স্বীকৃতিও হয়েছে এ শর্তে, এ মাদরাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দের নিয়ম অনুযায়ি চলবে।

তারপরও আমরা দেখব, ভবিষ্যতে যদি এরকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে আমাদের মুরব্বিরা মনে করলে, শিক্ষা সেশনের মাস পরিবর্তন করে জানুয়ারিতে আনব। এ নিয়ম তো কুরআন না যে, পরিবর্তন করা যাবে না।

আওয়ার ইসলাম: এখন কি সে পরিস্থিতি চলছে বলে মনে করছেন না?

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: সেরকম কোনো পরিস্থিতি চলছে বলে আপাতত ভাবতে পারছি না।

আওয়ার ইসলাম: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

যোবায়ের আহমদ চৌধুরী: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

আরআর