২০১৮-১২-০২

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

আলেমদের সাথে সাদ অনুসারীদের অসম্মানজনক আচরণ কেন?

OURISLAM24.COM
news-image

আরজু আহমদ
আলেম, লেখক

বেশ কয়েক মাস আগে উলামাদের একটা সেবামূলক সংগঠন একটা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পায়। বরাদ্দকৃত অর্থের চেক একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল গ্রহণ করতে গেলে উপস্থিত আলেমদের তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তারা বাংলাদেশপন্থী নাকি পাকিস্তানপন্থী?’

প্রশ্নটা একটু থতমত খাওয়ার মতই। পৃথিবীতে আর কোথাও নাগরিকদের এইভাবে অসম্মান করা হয় আমার জানা নাই। তবে যাই হোক, প্রশ্নটা তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে আরও আলাপে বুঝেন যে, সেই মন্ত্রী জানতে চেয়েছেন ‘তারা সা’দপন্থী না সা’দ বিরোধী’! অর্থাৎ যারা সা’দ বিরোধী তারা পাকিস্তানপন্থী।

এটুকুন পড়বার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, আমি এই রিপালবিকের একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টারের কথা বলছি। যাই হোক, সঙ্গত কারণে তার নাম ও দফতরের নাম প্রকাশ করছি না। এই ঘটনা সেই প্রতিনিধিদলের সবার উপস্থিতিতে পরে এক মিটিংয়ে আমি জেনেছিলাম।

সদ্য সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম একজন নেতৃত্বস্থানীয় আলেমের সঙ্গে আমার একটা প্রোগ্রামে দেখা হয়। একান্তে কিছু বিষয়ে আলাপ ও পরামর্শকালে তিনি জানালেন, প্রশাসনিকভাবে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা।

বিশেষত মাহফিল আয়োজন ও অন্যান্য চিরাচরিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী কখনোই এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি তারা হন নি।

কারণটা খুব অদ্ভূত, প্রশাসনের একজন কর্তাব্যক্তি যিনি সা’দের সমর্থন করেন, তিনি এইসব করছেন। যা করছেন, তা উলামাদের সাথে চূড়ান্ত অসম্মানজনক এবং রীতিমত লড়াই চালিয়ে যাবার শামিল। এটা আমার ব্যক্তি অভিজ্ঞতা।

পরিস্থিতি সারাদেশে হয়ত এটা নয়। তবে এ কথা সত্য এইরকম হিংসা তো ইসলামের শিক্ষা না। এই শত্রুতাও ইসলামের পথ না। জুলুম কখনোই ইসলামের পন্থা না। যখন কোনো কাজ ইসলামের মৌলিক পথের বাইরে গিয়ে করা হয় সে কাজ আর ইসলামের জন্য থাকে না।

সা’দপন্থীদের এই যে, উলামা বিদ্বেষ এটাই ইসলামের মূল ধারার বাইরে।

উলামারা তাবলীগের দখল নিতে চান ব্যাপারটা সেরকম নয়। কেবল একজন ব্যক্তি সা’দ, যাকে উপমহাদেশের উলামারা ঐক্যবদ্ধভাবে বর্জন করেছেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে। তার পক্ষ হয়ে উলামাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবার কি আছে? অথচ চালিয়ে যাচ্ছে একদল।

সা’দপন্থী সেই দলে এমন লোক নেতৃত্বস্থানীয় আছেন যাদের কারও কারও বিরুদ্ধে আরও বহু আগ থেকে থেকে দূর্নীতির অভিযোগ। কেউ কেউ প্রকাশ্যে জুয়ায় বিনিয়োগ করেছেন। তাদের যে খুব বড়ো জনসমর্থন আছে, তেমনও নয়। তবুও তারা টিকে আছে শক্তিশালীভাবে।

এর কারণ তাদের মধ্যে দেশীয় মিডিয়ার সর্বোচ্চ যে কজন আছেন, সেরকম লোক আছেন। আছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতা। ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় কমিটির পদপ্রাপ্ত নেতা।

এদেশের এলিট এস্টাব্লিশমেন্টের অংশ তাদের প্রত্যেকেই। অপরদিকে এই দেশের উলামারা যারা বরাবরই শাসনযন্ত্রের কাছে উপেক্ষিত, অবদমিত সেই অংশ।

তাবলীগকে ইসলামের জন্য নয়, রাজনৈতিক ফায়দা লাভে ব্যবহার করেন, সা’দপন্থী সেইসব নেতৃত্বলোভীদের মধ্যে এমন লোকও আছেন। এর উদাহরণ হচ্ছে, নমিনেশন পেতে প্রকাশ্যে মিডিয়ায় তাদের একজন এও বলেছেন, তার আসনে ‘২০ হাজার তাবলীগের কর্মী আছেন’।

সুতরাং তাবলীগ তাদের কাছে একটা ব্যবহার ও সুবিধালাভের মাধ্যম সুতরাং তাদের তাবলীগে নেতৃত্ব ধরে রাখা দরকার। সেটা যেভাবেই হোক। আর গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, নিজেদের টিকিয়ে রাখতে তারা উলামাদের সাথে সংঘাত জিইয়ে রাখতে চাইছেন।

ইজতেমা মাঠে এই যে সংঘাত, না সেটা সাধারণ তাবলীগের ভাইয়েরা করেছে, না মাদরাসার ছাত্ররা। পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে লোক দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে এতে সন্দেহ নাই। এরপর সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। তাবলীগের মাঠে মাদরাসার ছেলেরা আগে থেকেই ছিল। ছিল সাধারণ তাবলীগের ভাইয়েরাও।

এর মধ্যে সংঘাতের কিছু নাই। এরপরও ফেসবুকে উলামাদের বিরুদ্ধে একটা ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা চলছে। নিঃসন্দেহে এরা শয়তানের অদৃশ্য রজ্জুতে বাঁধা আছে। তবে ইনশাআল্লাহ্‌, হক দ্রুতই প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে ইসলামের জন্য ভাবেন এমন ভাইয়েরাও বেশ বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেকেই। উলামাদের ব্যাপারে অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করে সমালোচনা করছেন। উলামাদের ব্যাপারে সাবধান হওয়া উচিত।

কোরআন বলছে, إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ

আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে উলামাগণই তাঁকে (প্রকৃত) ভয় করে থাকে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।

‘হামলা কখনো তাবলীগী সাথীদের কাজ হতে পারে না’

আরআর