২০১৮-১১-০৭

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

‘এখন তাকমিলের সনদ দিয়ে আল আজহারে পড়া যাবে’

OURISLAM24.COM
news-image

সুফিয়ান ফারাবী
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক

জাতি হিসেবে আমরা এটা ভেবে গর্ব করতেই পারি- আমাদের দেশের বহুসংখ্যাক ছাত্র পৃথিবীর নানান দেশে সেদেশের অতিথেয়তা গ্রহণ করে পড়াশোনা করছেন। আমাদের দেশের নাম বিশ্ব দরবারে সুনামের সাথে তুলে ধরছেন। সাথে সাথে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিও উপস্থাপন করছেন তারা।

আরো একটু গর্ব হবে এই ভেবে, তাদের মাঝে বেশির ভাগই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছেন। সবদেশের ছাত্রদের পেছনে ফেলে বরাবরই তারা হয়েছেন ক্লাস টপার। ১০০ মার্কে ১০০ পেয়েছেন এমন নজিরও বিদ্যমান।

দেশের বাইরে সুনাম অর্জনকারী একজন শিক্ষার্থী মুহিব্বুর রহমান। তাকে নিয়েই আজকের এ আয়োজন।

কৃতীত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থী মুহিব্বুর রহমান জামেয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী থেকে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ জামাত দাওরায়ে হাদিস পড়ে জামেয়া আল আজহারে উসুলুদ্দিন নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

শিক্ষানুরাগী এ মানুষটির জীবন থেকে ২৬ বছর কেটে গেল শুধু অধ্যায়নেই। অধ্যায়নের পর্ব এখনো শেষ করতে চান না তিনি। আরো কমপক্ষে পাঁচ, সাত বছর কাটাতে চান ছাত্র হয়ে।

সূর্য পিরামিড থেকে উপরে উঠার সাথে সাথে গন্তব্য করেন জামেয়ার দিকে। ঠিক দুইটা পর্যন্ত অধ্যায়ন করে ফিরে যান নিজ আবাস্থলে। ছাত্র জীবনের একটু সময়ও অপচয় করতে চান না এ বিদ্যান্বেষী।

দুপুরের পর তিনি বেশি ইস্তেফাদার জন্য হাজার বছরের ঐতিহ্য মসজিদে আজহারের তালিমী হালকাগুলোতে উপস্থিন হন। সন্ধ্যা নামার পর বসে যান ব্যক্তিগত মুতাআলায়। সময়ের ব্যাপারে চরম হিসেবি এ মানুষটি কিরাত বিষয়েও বেশ পারদর্শী। দেশের সুনাম অর্জন করে এরই মধ্যে দুটি সম্মাননাও লাভ করেছেন।

মাওলানা হওয়ার পর নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আরো সময় দেয়া দরকার বলে মনে করেন এ জ্ঞান পিপাসু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রদের জন্য আদর্শ স্থান হতে পারে আল আজহার। দাওরা পড়ে এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন ছাত্ররা।

আল আজহারের পড়াশোনার ধরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে পড়ানোর নিয়ম ভিন্ন রকম। শুরুতে মৌখিক দরস দেওয়া হয়। তারপর কিতাব দিয়ে বুঝিয়ে দেন আমাদের টিচাররা। আর দরসটাও এতো সুন্দর হয় যে ক্লাসের সবচে মেধাবী ছাত্র যেমন পড়া বুঝে ঠিক দুর্বল ছাত্রও বুঝা থেকে বাদ পড়েন না। বিষয়টা এমন যে না বুঝে উপায় নেই।

আল আজহারের কোন বিষয়টি আপনার বেশি ভালো লাগে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজহারের সবচে বেশি ভালো লাগে মসজিদের হালকাগুলো। এখানে ভিবিন্ন বিষয়ের ওপর ক্লাস হয়। যার যে বিষয়ে আগ্রহ সে সেবিষয়ের ক্লাসে বসে যান। আমার বালাগাতের প্রতি ঝোঁক থাকায় আমি বালাগাতের ক্লাসে বসি।

তাছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতেও নানান দরসের আয়োজন হয়। যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ডক্টর এবং ফকিহগণ এসব দরস প্রদান করে থাকেন। যা থেকে প্রচুর জ্ঞান আহরণ করা যায়।

মাজহাব বিষয়ে আল আজহারের মত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা প্রসিদ্ধ আছে যে মিশরীয় ও আজহারীগণ মাজহাব মানেন না। আসলে ব্যাপারটি একদমই অমূলক। তারা মাজহাবের অনুসারী। মাজহাবকেই সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করেন।

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসার বর্তমান সরকার স্বীকৃত সনদ দিয়ে আজহারে পড়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল আজহার পৃথিবীর অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। নিয়ম অনুযায়ী সেরারাই এখানে পড়েন। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এতোদিন কওমি ছাত্ররা এখানে পড়ার সুযোগ ছিল না। এখন সে পথ কংকর মুক্ত হয়েছে।

তবে এখনই পড়তে পারবেন না কওমি শিক্ষার্থীরা। দেশের কওমি মাদরাসাগুলোকে আগে মুআদালা করতে হবে৷ তারপর আল আজহার কওমিদের স্কলারশিপ দেবে।

তবে সুসংবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের দেশীয় বড় ভাইরা মুআদালার কাজ হাতে নিয়েছেন। আশাকরি এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে মুআদালা হয়ে যাবে। আর এই মুআদালা করার জন্য আল হাইআর অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই বিষয়টি সহজ হবে।

‘১৫ হাজার কওমি মাদরাসা জাতিকে সুনাগরিক উপহার দিচ্ছে’

আরআর