মুসা আল হাফিজ। প্রজ্ঞাচর্চা ও বুদ্ধিজীবিতার যে ধারা ইসলামের সোনালি মনীষীরা রচনা করে গেছেন, সে ধারার অন্যতম প্রতিনিধি তিনি। লেখা ও গবেষণায় তার হাত ধরে বেরিয়ে আসছে অজস্র মুকুল। তিনি ইতিহাস ক্ষুদাই করে তুলে আনছেন মিল্লাতের খোরাক।
সম্প্রতি তিনি দেশ, সমাজ, দেশের রাজনীতি, উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেন আওয়ার ইসলামের সঙ্গে।
তিনি একদিকে যেমন মুসলিমদের নিয়ে বললেন, মুমিন পরিচয় থাকা সত্তেও আমরা অনবরত হেরে যাই, আবার দেশ-সরকাকে বুঝালেন, উন্নয়ন মানেই রাস্তাঘাট, সেতু আর ওভারব্রিজ বানানো নয়।
তিনি যেমন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে বললেন বৃটিশের ‘কেরানি তৈরির’ ব্যবস্থাপনা, অপরদিকে তিনি দেখালেন, ভারতবর্ষে ১৮৬৬ তে শুরু হওয়া দেওবন্দের শিক্ষাই কেবল ইসলামি শিক্ষা নয়।
কবি, গবেষক মুসা আল হাফিজের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক হামিম আরিফ।
আওয়ার ইসলাম : কেমন আছেন? কী ভাবছেন?
মুসা আল হাফিজ: ভালো, আল্লাহর শুকরিয়া। খোদার প্রতি বিশ্বাসে যে শক্তি, তা ভালো থাকাকে বিশ্বাসীদের ভবিতব্য বানিয়ে দেয়।
জীবনের কোনো বৈরী তরঙ্গ ‘ভালো থাকা’ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। সকল ঝড়ে, জলোচ্ছ্বাসে, খরায়, কালো রাতে, দুঃসহ দুপুরে ঈমান এক ইতিবাচক জীবনবাদিতার শান্ত, স্নিগ্ধ ঝর্ণা হয়ে মুমিনের জীবনে বইতে থাকে। ফলে তাকে কোনো পরিস্থিতি পরাজিত করার কথা নয়। জীবনের কোনো যুদ্ধে মর্দে মুমিনের হেরে যাবার কথা নয়।
কিন্তু আমরা হেরে যাই, মুমিন পরিচয় থাকা সত্তেও অনবরত হেরে যাই। ঈমানের যে জীবনবাদী দর্শন, তা কেন আমাদের চিত্তকে বিকশিত করছে না? ঈমানের যে প্রবল ও প্রশান্ত মুখ, তা কেন দৃষ্ট হচ্ছে না আমাদের জীবনে? আমরা কেমন মুমিন? - বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম।
আওয়ার ইসলাম : সমাজ- সংস্কৃতি নিয়ে কী ভাবছেন?
মুসা আল হাফিজ: সমাজ-সংস্কৃতি একটি প্রবল ভাঙ্গনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজজীবনে দগদগে ক্ষত তৈরি করেছে। সেখান থেকে পঁচা রক্ত ঝরছে, পুঁজ ঝরছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সমাজ তার বহু মূল্যবোধ হারিয়ে চলছে। শ্রেয়োবোধ হারাচ্ছে। ঐতিহ্য হারাচ্ছে। সুকৃতী হারাচ্ছে। বহিরাগত যে সব অসুখ এতোদিন শক্তিশালী ছিলো না, তারা এখন আধিপত্য করছে। এ সব অসুখকে প্রতিরোধ করতে পারছে না একটি জীর্ণ, পঁচা, বার্ধক্যকবলিত, আড়ষ্ট সমাজদেহ।
ফলে পরিবার ভাঙছে, তছনছ হয়ে যাচ্ছে, সমাজ ভাঙছে, কৌমবোধ ভাঙছে। এবং এসব ভাঙ্গন গাসওয়া মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। একে উস্কে দিচ্ছে দেশি,