[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি সপ্তাহে দুদিন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে। আজ প্রকাশ হলো ২৩ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মাওলানা উমর ফারুক ইবরাহীমী।]
পূর্ব প্রকাশের পর: আমাদের পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি বৈচিত্রময় সংস্কৃতিপূর্ণ ছিলো। হজরত আব্বাজান মুফতি মুহাম্মাদ শফি রহ. মর্যাদা মাফিক সকল প্রতিবেশির হক আদায়ের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।
আমাদের শৈশবে যখন খেলাধুলা ছাড়া অন্যসব ব্যাপারে অনুভূতিশূন্য ছিলাম তখন আমরা এই বৈচিত্রময় সংস্কৃতি থেকে আমোদিত হতাম। তবে আমাদের সংস্কৃতি ও কালচারে বিস্তর ফারাক থাকলেও সবার মাঝে এমন ভাতৃত্বের বন্ধন ছিলো যে সবাই পরস্পরের দুঃখে সুখে সঙ্গী হতাম।
আমার মনে আছে, একবার একটি তুলার গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। গোডাউনটি আমাদের বাসা থেকে অন্তত তিনমাইল দূরত্বে ছিলো। কিন্তু সেই অগ্নিকাণ্ডের ভয়ঙ্কররকম ধোঁয়া দেখে মনে হচ্ছিলো এর উৎপত্তিস্থল যেনো আমাদের সামনের বাসার পেছনেই।
ধোঁয়া দেখে আমাদের বিল্ডিংয়ের যুবকের দল ধোঁয়ার উৎপত্তিস্থলের দিকে দ্রুত ছুটে গেলো।আমাদের বড়ভাই জনাব মুহাম্মদ রাজি সাহেব রহ. ও তাদের সঙ্গী হলেন। খানিকক্ষণের ব্যবধানে আমি আমাদের বাসার জানালা দিয়ে লক্ষ করলাম, প্রতিটি নিকটস্থ বিল্ডিং থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি বড় অংশ সেই অগ্নিকাণ্ডের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
কয়েকঘন্টা পর ভাইজান ফিরে এসে বললেন,এই অগ্নিকাণ্ড এখান থেকে যথেষ্ট দূরে সিটি স্টেশনের তুলার গুদামঘরে লেগেছিলো। এলাকার সর্বস্তরের লোকজন সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করেছেন। এবং সেখানে সহায়তা করতে গিয়ে তুলার একটি জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ ভাইজানের পায়ে এসে পড়েছিলো। ফলে বেশকিছুদিন তার পায়ে জখম ছিলো।
সেকালের মানুষের মাঝে ভালোবাসা ও মানবতার এমন অসংখ্য চিত্তরঞ্জন ও মনোজ্ঞ দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যেতো যেগুলো দেখার জন্য আজ দুচোখ অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকে!
তবে আমাদের বাবা-মা এই দিনগুলোতে বড় ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছেন! হিজরতের পর তিনমাস পর্যন্ত তো হযরত আব্বাজান রহ., এ