বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


তাখাসসুস নিয়ে জরুরি কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আশরাফ উদ্দীন খান
আলেম, গবেষক

সম্প্রতি কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে দ্বিতীয়বারের মতো দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় সারা দেশের মোট এক হাজার ৩৮টি কওমি মাদরাসার মোট ২০ হাজার ৭৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন।

দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পরে, কেউ খেদমত শুরু করেন আবার কেউ ‘তাখাসসুস’ বা গবেষণাধর্মী শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করে থাকেন।

বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাখাসসুস এর বিষয়টি বেশ আগ্রহ ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। দেখা যায় দাওরায়ে হাদীস শেষ করার পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোন একটি বিষয়ে তাখাসসুধর্মী শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করে থাকেন, আবার তাখাসসুসধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এখন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশী।

এটি ইতিবাচক বিষয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার প্রতি আমাদের অধিক আগ্রহই প্রকাশ পাচ্ছে। দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত যে শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে তাকে ইসলামী বিভিন্ন শাস্ত্রের বুনিয়াদি শিক্ষা হিসাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

এই শিক্ষা সঠিকভাবে শেষ করার পরে একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে উলুমে-ইসলামীর বিভিন্ন শাস্ত্রে মোটামুটি একটি স্তরের জ্ঞান অর্জিত হয়ে থাকে, এবং এর মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে উচ্চতর শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি হয়ে থাকে।

শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মনে এই ধারণার সৃষ্টি হয় যে, মানুষের আসল অবস্থা হচ্ছে অজ্ঞতা, তাই জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া মানুষ অজ্ঞই থেকে যায়। তাই জ্ঞান অর্জনের জন্যে তাকে অবশ্যই অধ্যায়ন করতে হবে, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ধারা অবশ্যই তাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত যে সকল বিষয় মাদরাসাসমূহে পড়ানো হয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে- তাফসিস, হাদীস, ফিকাহ, উসুলে ফিকাহ, আকিদাহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামী ইতিহাস, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামী রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি।

দাওরাহ পর্যন্ত এসব বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আর দাওরার পরে এখান থেকে কোন একটি বিষয় নির্বাচন করে সেই বিষয়ে উচ্চরত জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে।

সাধারণ অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরবী সাহিত্য, ফিকাহ, তাফসির ও হাদীস এই কয়েকটি বিষয়ে তাখাসসুস ধর্মী শিক্ষা ধারা চালু হয়েছে।

তাখাসসুসের জরুরত

তাখাসসুসধর্মী শিক্ষা যেহেতু বর্তমানে প্রচলিত, তাই সেই বাস্তবতার আলোকে দাবী করা যায়, তাখাসসুসের জরুরত অনুভব করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের শিক্ষা চালু করা হয়েছে।

তাছাড়া দাওরায়ে হাদীসের আগ পর্যন্ত যে সকল কিতাব পড়ানো হয়ে থাকে, তা নিজ নিজ বিষয়ের প্রাথমিক কিতাব হিসাবে বিবেচিত, ফলে