শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
গাড়ির ক্ষতির খবরেও হাসিমুখে কাশ্মীরি যুবক, বললেন ‘আল্লাহর ইচ্ছা’ কাল আসছে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি, পৌঁছাবে শনিবার সেপ্টেম্বরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ও সময় জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর হাফপ্যান্ট পরায় মিলল না সাড়া, প্রতিবাদে এলেন মাত্র ৩ জন! শিবপুরে বিকেএমের সদস্য প্রশিক্ষণ মজলিস অনুষ্ঠিত অক্টোবর মাসকে ‘বায়তুল মাল মাস’ ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের আস-সুন্নাহর সহায়তায় নওমুসলিম আব্দুর রহমান এখন ছয়জনের কর্মসংস্থানের উদ্যোক্তা জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া, ১০ অক্টোবর ৮ বিভাগে লিখিত পরীক্ষা আল-আকসায় ১০ হাজারের বেশি ইসরায়েলির তাণ্ডব

প্রিয় তাবলিগি ভাইয়েরা এবার একটু ক্ষান্ত দিন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জহির উদ্দিন বাবর
আলেম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সমস্যার ডালপালা ছড়াচ্ছে অনেক দিন ধরেই। বিভাজন ও বিভক্তির বিষয়টাও এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। কোটি হৃদয়ের স্পন্দন প্রিয় তাবলিগ জামাত আর আগের মতো নেই সেটা এখন সবারই জানা। কিন্তু এখানেও খুনোখুনি, ক্ষমতার মহড়া আর মারদাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা ছিল অকল্পনীয়।

এখানেও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো পেশিশক্তির লড়াই দেখতে হবে সেটা ছিল অভাবনীয়। নিজের মত ও খাহেশ পূরণ করতে গিয়ে সন্ত্রাস ও গুণ্ডামির ঘটনা এখানেও ঘটবে সেটা কেউ কোনোদিন চিন্তাও করেনি।

কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, যা ছিল অকল্পনীয়, যা ছিল ভাবনারও অতীত সেটাই এখন ঘটছে প্রিয় তাবলিগের আঙিনায়। ঘটনাগুলো শুধু বিব্রতকরই নয়, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে অনবরত।

গত বিশ্ব ইজতেমার সময় থেকে নিয়ে এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যা তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য অনেক বড় কষ্টের কারণ। আমরা যারা তাবলিগের সঙ্গে উৎপ্রোতভাবে জড়িত নই কিন্তু দূর থেকে এই কাজকে ভালোবাসি তাদের জন্যও কম কষ্টের নয়।

যে তাবলিগের ইখলাস ও লিল্লাহিয়াত নিয়ে একসময় গর্ব করতাম সেই তাবলিগে আজ চলছে ক্ষমতার মহড়া, লৌকিকতার প্রতিযোগিতা। নিজেদের মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য যা খুশি তাই করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

যে তাবলিগি ভাইয়েরা একসময় নিজেদেরকে এবং নিজেদের কাজকে আড়াল করার শত চেষ্টা করতেন তারা এখন বাহারি প্রদর্শনের আয়োজন করছেন। শত চেষ্টা করে যে তাবলিগের কোনো তথ্য জানা যেত না সেই তাবলিগে এখন সাংবাদিক ডেকে সমাদর করে পরস্পরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।

যে তাবলিগে প্রচলিত রাজনীতি, রাজনৈতিক পরিভাষা সযতনে পরিহার করা হতো সেই তাবলিগে আজ চলছে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও ফায়দা লুটার চেষ্টা।

তাবলিগে এখন স্পষ্টত দুটি পক্ষ। কার দোষ কতটুকু, কে বেশি দোষী আর কে কম দোষী সেটা বিবেচনা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। প্রত্যেকের বক্তব্য শুনলে মনে হবে তারাই সঠিক অবস্থানে। নানা মত-পথের মানুষের সম্মিলিত এই বিশাল কাজে মতপার্থক্য হওয়াটা অসম্ভবও কিছু নয়।

এক পক্ষের সঙ্গে আরেক পক্ষের মত ও পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্য মারামারি আর খুনোখুনি পর্যায়ে যাবে সেটা ভাবনারও অতীত। কারণ এখানে নেই বৈষয়িক কোনো স্বার্থ। ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা ক্ষমতায় ফেরার কোনো বিষয়ও এখানে নেই। সামাজিক বা অর্থনৈতিক বড় কোনো প্রাপ্তিও এখানে সম্ভব নয়। নিজের অর্থ ও শ্রম খরচ করে যে কাজটি শত বছর ধরে চলে এসেছে সেই কাজে ছন্দপতন