শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

অস্ট্রিয়াতে ৭ মসজিদ বন্ধ; ৬০ ইমামকে বহিষ্কারের ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

অস্ট্রিয়ার সাতটি মসজিদ বন্ধ এবং এই মসজিদগুলোতে নিযুক্ত ৬০ জন ইমামকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছে চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুরজ। শুক্রবার তিনি এই ঘোষণা দেন।

দেশটির ভাইস চ্যাঞ্চেলর হেনজ-ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাচ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রী গর্নট ব্লুমেলের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে কুরজ বলেন, এই পদক্ষেপটি 'রাজনৈতিক ইসলাম' এর বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। বিবিসি ও আনাদুলু এজেন্সির।

ভাইস চ্যাঞ্চেলর বলেন, বিভিন্ন মসজিদ এবং সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করেছে সংস্কৃতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তদন্তের ভিত্তিতে সাতটি মসজিদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি সংস্থা হলো তুর্কিশ-ইসলামিক সাংস্কৃতিক অ্যাসোসিয়েশন (এটিআইবি)। এছাড়া যেসব ইমামদের বরখাস্ত করা হয়েছে তারা বিদেশি তহবিল থেকে অর্থ পেতেন।

ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে অষ্ট্রিয়া জোট সরকারের অংশীদার ডানপনন্থী ফ্রিডম পার্টির কিকল আরও বলেন, আমরা ৬০ ইমাম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে দেড়শ ব্যক্তি দেশটিতে বসবাসের অধিকার হারাতে চলেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

অস্ট্রিয়া সরকার ঐ সাতটি মসজিদের সাথে তুরস্ক সরকারের যোগসাজোশ আছে বলে সন্দেহ করে। তবে এসব মসজিদ বন্ধের বিষয়ে অস্ট্রিয়ার নড়েচড়ে বসার পিছনে আছে গো এপ্রিলের এক ঘটনা। সে সময় অস্ট্রিয়ার একটি মসজিদে শিশুদের একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে শিশুরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গ্যালিপোলি’র যুদ্ধ নিয়ে নাটক প্রদর্শন করে। আর এতেই নড়েচড়ে বসে অস্ট্রিয়া সরকার।

গ্যালিপোলি যুদ্ধের নাটকটি আয়োজিত হয় গ্রে ওলভস গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায়। তুরস্ক ভিত্তিক এই গ্রুপের অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদী মতামত বিশিষ্ট হওয়ার জনশ্রুতি আছে।

এই নাটক প্রদর্শনের পর অস্ট্রিয়ার ২৬০ জন ইমামের মধ্যে ৬০ জন ইমামের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দেশটির সরকার। এদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন ইমাম তুরস্ক সরকারের ঘনিষ্ঠ এটিআইবি গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে সরকার।

তবে অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের দপ্তর থেকে মসজিদ বন্ধ করার অস্ট্রিয়ার সিদ্ধান্তকে “ইসলাম ভীতি, জাতিবিদ্বেষী ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালীন এক টুইট বার্তায় বলেন, “ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করার আরেকটি উদাহরণ এটি”।

এর আগে অন্য মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ইসলামের ওপর কঠোর আইন পাস করেন। এছাড়া ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিদেশি তহবিলকে নিষিদ্ধ করেন। সূত্র : বিবিসি, আন্দালু এজেন্সি।

আরও পড়ুন : শেখ জায়েদ মসজিদের ইফতার-তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ