শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে পারে বিকেলে মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল, আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে বলাকা কমিউটারের যাত্রা জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল তাপমাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত, সপ্তাহের মাঝামাঝি বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে স্বস্তি আসবে বাজারে: বাণিজ্যমন্ত্রী গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন: কাবার ইমাম সৌদি আরবে দেয়াল চাপা পড়ে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু মুন্সিগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

দেওবন্দে পড়ার আন্দোলন; যে বিষয়গুলোতে নজর দেয়া উচিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আতিকুর রহমান
কাতার থেকে

মুসলিম বিশ্ব বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার যে কোন দেশের মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রদের কার না মানসিক তামান্না থাকবে যে, সে ভারতের দারুল উলুল দেওবন্দে লেখাপড়া করে সেখানের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি হাসিল করুক।

ছোট কাল থেকে নিজের ও খুব ইচ্ছা ছিল দাওরা হাদিস পরবর্তী দেওবন্দে পড়তে যাব। এ ব্যাপারে আম্মার সাথে প্রায়ই কথা বলে রাখতাম। মা’রও খুবই ইচ্ছা ছিল। বলতেন- তোর বাপ বেঁচে থাকলে তোকে দেওবন্দে পাড়ানো তো তেমন কোনো ব্যাপার ছিল না। তোকে সহজেই ভারতের ভিসা করিয়ে সেখানে ভর্তি করে দিতে পারতেন।

বিভিন্ন কারণে উনার ভারতের সাথে ভালই সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই অনায়াসে ভারতে যাতায়াত করে থাকতেন। তাছাড়া আসামের ডিব্লিগড়ে আমার মেজ চাচাও বিবাহ শাদি করে সেখানেই বসবাস করতেন। কিন্তু কাফিয়ার বছর আমার চাচা আর জালালাইনের বছর বাবার ইন্তেকাল হওয়ায় সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রুপ নেয় নি, আজও স্বপ্নই হয়ে আছে।

দারুল উলুম দেওবন্দে লেখাপড়ার সুযোগ পাওয়া শুধু কিছু লোক কেন বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার সব ছাত্রদেরই মনের একান্ত কামনা ও বাসনা। সবাই চায়- দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে তার সরাসরি ইলমি নিসবত হোক। কিন্তু এই কামনা-বাসনাকে দাবি আখ্যা দিয়ে তা আদায়ের জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম যৌক্তিক কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।

দাবি এক জিনিস আর কামনা ও বাসনা আরেক জিনিস। স্বভাবতই কোনো কিছু চাওয়া বা বিশেষ কিছুর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করাকে কামনা বলা হলেও এতে কোথা হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে দেখলে বা এর প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ দাঁড় হলে আদালতে তা উত্থাপন করে বা তা নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে প্রতিপক্ষ বা প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়াসকে দাবি বলা হয়।

সাম্প্রতিক দেওবন্দে পড়াশুনার সুযোগের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে এবং মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপির আগে আমাদের দেখা দরকার দেওবন্দে পড়াশুনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি আছে কিনা? বা বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে নজরদারী করতে নতুন কোনো আইন পাশের চিন্তা করছে কিনা।

কওমি মাদরাসা পড়ুয়ারা দেওবন্দে পড়তে যাওয়া বা তাতে পড়ে দেওবন্দের ডিগ্রী নিয়ে দেশে অবস্থানে বাংলাদেশ সরকারের কোন নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিবন্ধকতা কোন সময়ে ছিল বা আছে বলে আমার জানা নেই। আশা করি এই মর্মে কেউ কোনো প্রুফও দেখাতে পারবে না।

কোনো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা ভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াতে ইচ্ছুক তথা এডমিট হতে হলে প্রথমত উভয় দেশের উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে পারস্পরিক শিক্ষা চুক্তি থাকতে হয়। একে অপরের সাথে মুআদালা তথা সনদের স্বীকৃতি বিদ্যমান হতে হয়। সাথে সাথে উভয় প্রতিষ্ঠান আপন আপন দেশে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিষয়টির রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা নিতে হয়, যাতে করে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর আবেদন করলে ভিসা দিতে কোনো জটিলতার সামনে না পড়ে।

বায়তু্ল্লাহ;র এ যুগের ‘বেলাল‘ আলি আহমদ

তবে এ ক্ষেত্রে একটি কথা লক্ষণীয়, আমরা বাংলাদেশীরা ভারতের দেওবন্দে পড়ার আগ্রহী হলেও দেওবন্দের কোনো ছাত্রের বাংলাদেশের কোনো কওমি প্রতিষ্ঠানে পড়ার আগ্রহ কখনও পরিলক্ষিত হয়নি। অতএব দেওবন্দের সাথে আমাদের দেশের মাদরাসাসমুহের শিক্ষা চুক্তির বিষয়টিতে আমাদের সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের জন্য আমাদের আন্দোলন তো দূর কি বাত কোনো কিছুরই দরকার হয় না।

এখানে শুধু দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ তার দেশের সরকারের কাছে বাংলাদেশি ছাত্রদের পড়ার সুযোগ দেয়া মর্মে ভিসার আবেদন করলে ভিসা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেই হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হল- ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের সঙ্গে আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলার মূলত নিয়মতান্ত্রিক কোন রকমের শিক্ষা চুক্তিই নেই। তো দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ তার সরকারের কাছে চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপের প্রশ্নই আসে না।

ইসন্টল করুন মূল্যবান অ্যাপটি

দারুল উলুম দেওবন্দে লেখাাপড়ার সুযোগ চেয়ে আন্দোলন, মানববন্ধন আর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিয়ে কোনো ফায়দা মনে হয় না আদৌ হবে। এর জন্য চাই শক্ত কূটনৈতিক তৎপরতা।

দেশ ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে একটি কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে একটি শিক্ষাচুক্তি করে নিতে হবে। এর জন্য দেওবন্দ কর্তৃপক্ষের সাথে আলচনা সাপেক্ষ আমাদের দেশের সম্ভব হলে সকল দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা আর না হয় অন্তত উনাদের কাছে পরিচিত মাদরাসাসমূহের সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি করে নিতে হবে।

সাথে সাথে তাদের দিয়ে বিষয়টির ব্যাপারে ভারত সরকার থেকে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থাও করে নিতে হবে। এসব হয়ে গেলে পরে যদি বাংলাদেশ সরকার উল্লেখিত ব্যাপারে ভিসার আবেদন করতে বাধা প্রদান করে তবেই আমাদের আন্দোলনের প্রয়োজন পড়বে, এর আগে নয়।

আর আশা করি ভারত সরকারের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ সরকারের মুখামুখি হওয়ার মোটেও প্রয়োজন হবে না। বিষয়গুলার প্রতি বোদ্ধা মহলের দৃষ্টি কামনা করছি।

[মাওলানা আতিকুর রহমান সিলেট বিয়ানীবাজার জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর হতে ২০০১ সালে দাওরা পাশ করে চট্টগ্রাম দারুল মা'রিফ আল ইসলামিয়া থেকে আরবিতে অনার্স করেন। ২০০৪ সালে হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ জামিয়া ইসলামিয়া দিনারপুরে দীর্ঘ ৬ বছর শিক্ষকতার পর বর্তমানে কাতারে আছেন।]

দেওবন্দে পড়ার আন্দোলন নিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের কিছু অভিযোগ খণ্ডন

-আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ