রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

প্রবাসীদের ভোটাধিকার দরকার নেই!

OURISLAM24.COM
মে ১৫, ২০১৮
news-image

পলাশ রহমান
ইতালি থেকে

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে ইদানিং বেশ আলোচনা হচ্ছে। সভা, সেমিনার হচ্ছে। কি ভাবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়া যা তা নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ হচ্ছে। অভিজ্ঞজনরা মতামত দিচ্ছেন।

আমি মনে করি প্রবাসীদের ভোটাধিকার দরকার নেই। কারণ যে চার প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়ার কথা আলোচনায় এসেছে এর কোনোটাই আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।

* দেশে বা বিদেশে ব্যক্তিগত উপস্থিতির মাধ্যমে ভোট প্রদান করা। কোনো প্রবাসী যদি ভোটের সময় দেশে গিয়ে ভোট প্রদান করেন বা করতে পারেন তাতে কোনো সমস্যা দেখি না।

কিন্তু বিদেশে দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে ভোট প্রদানের রাস্তায় যাওয়া কোনো ভাবেই ঠিক হবে না। এতে প্রবাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে। সহিংসতা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশি কম্যুনিটি।

* পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়া। এ এক জটিল প্রক্রিয়া। আমাদের মতো অনেক দেশ এই প্রক্রিয়ায় তাদের প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে গিয়ে নাকানি-চুপানির শিকার হয়েছে।

তা ছাড়া ভোটের আগেই পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের কোটি খানেক ভোট সময় মতো পৌঁছে যাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এবং তা ভোটের সময় সঠিকভাবে গণনায় আনা হবে, এতটা সভ্য মনে হয় আমরা এখনো হতে পারিনি।

* প্রক্সি ভোটের কথাও আলোচনায় এসেছে। যেভাবে ভারত চেষ্টা করছে তাদের প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে। এ প্রক্রিয়া ভারতের জন্য সহজ হলেও আমাদের জন্য হবে বলে মনে হয় না।

এতে আমাদের প্রবাসীদের পারিবারিক কলহ বাড়বে। কম্যুনিটিতে দেশের রাজনীতিকদের আনাগোনা বাড়বে। সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে।

* ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া তো এখনো দেশের মধ্যেই চালু হয়নি। তাছাড়া অনেক বড় বড় দেশও এই প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখতে পারে না। আমরা ওই প্রক্রিয়ায় যেতে যাই কোন সাহসে?

আমি মনে করি প্রবাসীদের ভোটাধিকার দরকার নেই। ভোট ছাড়াই প্রবাসীরা যে পরিমাণে আওয়ামী লীগ বিএনপি করে, যে পরিমাণে দেশের রাজনীতিকরা বিদেশে এসে উৎপাত করে, মারামারি, হানাহানি, উত্তেজনা সৃষ্টি করে, এর পরে যদি ভোটাধিকার দেয়া হয় তবে সাধারণ প্রবাসীদের জন্য টেকা দায় হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশি কম্যুনিটি ভয়াবহ বিপদে পড়ে যাবে। সুতরাং যার ভোট দিতে ইচ্ছা হয় দেশে গিয়ে ভোট দেবে, বিদেশে বসে কোনো ভোট প্রয়োগের দরকার নেই।

বিদেশে অনেক প্রবাসী আছেন যাদের স্থানীয় বৈধ কাগজপত্র নেই। অনেকে আছেন যারা বিদেশে বৈধতার জন্য নাম ঠিকানা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। ইচ্ছা করলেই তাদের ভোটাধিকার প্রক্রিয়ায় আনা যাবে না।

সুতরাং অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রীয় খরচ বাড়ানোর কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না।

ইনস্টল করতে ক্লিক করুন এখানে

প্রবাসীদের জন্য যদি কিছু করতে হয় তবে তাদের যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করুন। এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ করুন। প্রবাসীদের পরিবারগুলোকে অযথা নাজেহাল করা বন্ধ করুন। চাঁদাবাজ, মাস্তান এবং প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধ করুন। দেশে বিদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন।

রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বন্ধ করুন। প্রবাসী ব্যাংক সচল করুন। প্রবাসী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রত্যেক প্রবাসীর নামে একটি করে পেনশন স্কিম চালু করুন।

দূতাবাসের নির্যাতন বন্ধ করুন। পাসপোর্ট নবায়ন/ইস্যুসহ দূতাবাস কেন্দ্রিক সকল কাজ সহজ এবং কম খরচে করার ব্যবস্থা করুন। প্রবাসে মারা যাওয়া প্রবাসীদের লাশ সহজে এবং রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

বিদেশে নির্যাতন বা অন্যায্যতার শিকার প্রবাসীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করুন। বিদেশে প্রতিষ্ঠিত এবং যোগ্য প্রবাসীদের প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়ার ব্যবস্থা করুন।

প্রবাসে বড় হওয়া শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের দূতাবাসে চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করুন। বিদেশে এসে রাজনৈতিক মিটিং মিছিল বন্ধ করুন। সংসদে কোটা ভিত্তিতে প্রবাসী প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থা করুন।

লেখক: প্রডিউসার, রেডিও বেইস ইতালি

প্রবাসে বাংলাদেশি ইমামদের সাফল্যগাথা

-আরআর