মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

ঢাকায় বিশুদ্ধ পানির হাহাকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম : রাজধানীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির  তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় সাপ্লাই পানিতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় পানি একদমই থাকে না। এব্যাপারে ওয়াসার তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে।

ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্রে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশন, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার বাসাবো, মুগদা, মান্ডা, দোলাইরপাড়, দনিয়া, গোপীবাগ এলাকায় পানির সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে দুর্গন্ধের সমস্যা।

গতকাল সোমবার দুপুরে বাসাবোর কদমতলী সংসদ পানির পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশের এলাকাবাসী পানি সংগ্রহে ব্যস্ত। এলাকায় টানা এক মাসের বেশি বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। কদমতলী প্রাথমিক স্কুলের গলির বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা লুৎফুর রহমান বলেন, তাঁর বাসায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসে। ফলে বাধ্য হয়ে পাম্প থেকে পানি নিয়ে যান। এখানে কার্ড ব্যবহার করে পানি কিনতে হয়। প্রতি লিটার ৪০ পয়সা দরে।

‘ড্রিংক ওয়েল’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ওয়াসা বিশুদ্ধকরণ যন্ত্রের সাহায্যে গভীর নলকূপের পানি শোধন করে বিক্রি করে। এ জন্য গ্রাহকদের নিবন্ধনও নিতে হয়। কদমতলী সংসদ পাম্পের অপারেটর মাহমুদুর রহমান জানান, সকালে ও সন্ধ্যায় প্রচুর ভিড় হয়।

ড্রিংক ওয়েলের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান জানান, এখানে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার লিটার পানি শোধন করে এভাবে বিক্রি হয়। এখান থেকে পানি কেনার পর বিভিন্ন বহুতল ভবনের বাসিন্দারা একযোগে ভ্যান ভাড়া করেও পানি নিয়ে যাচ্ছেন। এতেও তাঁদের বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।

মুগদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওয়াসার ২ নম্বর পানির পাম্পে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে মানুষের ভিড়। দক্ষিণ মুগদার বাসিন্দা শামসুন্নাহার বেগম জানান, কলে যে পানি আসে তা কালো, ফোটালে ফেনা বের হয়।

মান্ডায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র বসেনি। সরবরাহ অপ্রতুল। স্থানীয় হায়দার আলী স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, এলাকায় পানি কম আসে বলে ওয়াসার একশ্রেণির কর্মীর সহায়তায় অনেক বাড়িওয়ালা আলাদা লাইন নিয়েছেন। যাঁরা নিতে পারেননি, তাঁরা পানি পান না।

বেলা আড়াইটার দিকে বালুর মাঠ এলাকায় ওয়াসার পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৩০ জন লোক পানির জন্য লাইন দিয়েছেন। দক্ষিণ কমলাপুর বাজার এলাকা থেকে আসা আবদুল লতিফ জানান, বাসার লাইনে পানি কম আসে। গন্ধও থাকে। পাম্পের অপারেটর আবদুল হামিদ বলেন, দিনে-রাতে এক হাজারের বেশি মানুষ পানি নিতে আসে।

ওয়াসার কাগুজে হিসাবে সায়েদাবাদ, চাঁদনী চক, নারায়ণগঞ্জ পানি শোধনাগার এবং ৮২৩টি গভীর নলকূপের সাহায্যে প্রতিদিন পানির উৎপাদন ২৪৫ কোটি লিটার। পানির চাহিদা ২৩৫ কোটি লিটার। বাস্তবে উৎপাদন কম হচ্ছে।

পাম্পের উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়া, পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ-বিভ্রাটজনিত কারণে পানির উৎপাদন অনেক কম। অন্যদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বাড়ে। সে হিসাবে পানির চাহিদা বাড়ার হারও ধরা হয় ৫ শতাংশ। তাই পানির চাহিদাও অনেক বেশি।

আরো পড়ুন : মাওলানা সাদের ব্যাপারে আবারো অবস্থান স্পষ্ট করলো দেওবন্দ

এসএস


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ