বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

গণমাধ্যমের স্বেচ্ছাচারিতাকে রুখতে পারে ধর্ম: উবায়দুর রহমান খান নদভী

OURISLAM24.COM
মে ৩, ২০১৮
news-image

আজ ৩ মে। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটিকে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অথবা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনদানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এই দিবসটিতে।

দিবসটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আওয়ার ইসলাদের প্রতিবেদক কাউসার লাবীব কথা বলেছেন দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী সঙ্গে।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসকে আপনি কীভাবে দেখেন? একটি দিবস কি গণমাধ্যমকে মুক্ত প্লাটফর্ম এনে দিতে পারবে বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিবস পালন আসলে কখনোই অধিকার আদায় করে দিতে পারে না।

আর দিবস পালনও অধিকার আদায়ের জন্য করা হয় না। দিবস হলো একটি চেতনা। কাঙ্খিত এ দিনটি উপলক্ষে সে বিষয়ে আলোচনা হয়, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সে দিক থেকে দিবসটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি।

তিনি বলেন, মুক্ত প্লাটফর্ম গণমাধ্যমের জন্য একটু কষ্টসাধ্য বিষয়। কেননা গণমাধ্যম একটি সেন্সিটিভ জায়গা। তারা দেশ ও নাগরিকদের দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, কলুষতাসহ নানান বিষয় তুলে ধরে। সে জন্য অনেকেই তাদের মুক্তভাবে চলতে দেওয়ার পক্ষ নয়।

তবে আমি মনে করি, একটি জাতির মুখ উজ্জ্বল ও ভবিষ্যত প্রসারিত করার জন্য মুক্ত গণমাধ্যম দরকার।

তিনি আরো বলেন, তবে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টরেই যেহেতু কলুষতা বিদ্যমান। তাই গণমাধ্যমে এটি থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কেননা গণমাধ্যম তো তাদের নিয়েই পরিচালিত।কিন্তু দেশের আবহমান পরিস্থিতির সঙ্গে গণমাধ্যমের এ স্বেচ্ছাচারিতাকে রুখে দিতে পারে ধর্ম।

কেননা গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ যখন বিশ্বাস করবে, আমার সব কর্মের জবাব আল্লাহর কাছে দেওয়া লাগবে এবং মন্দকর্মের জন্য ভোগ করতে হবে শাস্তি। তখন সে প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনা করে করবে।

‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলেছে, দেশটিতে সরকারের সমালোচনা করছে এমন স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো এখন মারাত্মক চাপে রয়েছে’।বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আসলে অ্যামনেস্টি কাজ করে মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার নিয়ে। তারা বিশ্বের অনেক অপরাধ নিয়ে জোর গলায় কথা বলে থাকে।

হিজামার সুন্নাহ ডেটের প্রথম দিন ৪ মে

কিন্তু তারা এমন অনেক বিষয়ই আছে যা দেখেও দেখে না। অনেক বড় বড় ত্রুটিও তাদের প্রতিবেদনে জায়গা পায় না। তাই তাদের প্রতিবেদন নিয়ে আহমরি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।তাছাড়া সরকার তাদের প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আমি তো বাংলাদেশের প্রায় গণমাধ্যমেই দেখি রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালতসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রের দূর্নীতিই বিস্তরভাবে তুলে ধরছে। সরকারের অপরাধগুলোকে ভালোভাবেই ফলাও করছে। সরকারকে তো তাদের তেমন বাধা দিতে দেখি না। তবে একটি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তো নির্দিষ্ট কোনো গণমাধ্যমের অধিকারে লাগাম টানতেই পারে। এটা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু হার্ডলাইনে যেতে হয়। না হয় তো তারা যা কিছু তাই ছাপবে।

তাছাড়া আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো অধিকাংশই কোনো না কোনো পক্ষের মুখপত্রের কাজ করে। তারা সাদা চোখে কিছুই দেখতে চায় না। ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলার মানসিকতা তাদের তেমন নেই। তারা ভালো কিছুর স্বীকারোক্তি কমই দিয়ে থাকে। সবদিক বিবেচনা করে ্অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার এর ওপর ভিত্তি করে কঠিন কিছুও বলা যায় না।

সিনিয়র এ সাংবাদিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে। এ বিষয়টি কি উদ্যেগজনক নয়?

এ প্রশ্নের প্রেক্ষীতে তিনি বলেন, দেখুন! সরকারের অধিকার আছে, কোনো সংবাদপত্রের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাদের কাজ-কারবারে আলাদা দৃষ্টি দেওয়া। তাদের গতিরোধ করা।

কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে যেমন সরকার জিজ্ঞাসাবাদের অধিকার রাখে, গতিরোধ করার অধিকার আছে, তেমনি সংবাদপত্রের ক্ষেত্রেও এ অধিকার আছে। তবে সরকারের এ কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবশ্যই দরকার। বিষয়টি যেন উদ্যেশ্য প্রণোদিত না হয়।

যেমন সরকারের বর্তমান আইসিটি আইন নিয়ে সাংবাকিতগণ কিছুটা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া তো এ আইন তাদের কাজের গতিরোধ করে দেবে বলেই বিশ্বাস করছেন। তাই সম্পাদক পরিষদ বারবারই চাইছে এ আইনটি নিয়ে  সরকারের সঙ্গে বসতে।

আশা করছি সরকার সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে বসে আইসিটি আইনটি এমনভাবে সাজাবেন, যা হবে স্বচ্ছ, সঠিক, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য।

স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত

-আরআর